ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আসছে শীতে লড়ুন শীতের সাথে

মাহাবুব মোর্শেদ রিফাত
প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার, ০৮:০০ এএম
আসছে শীতে লড়ুন শীতের সাথে

হেমন্তের শেষভাগ আসতে না আসতেই শুরু হয়ে যায় হিম বাতাসের আগমন, সেইসাথে সকালের রোদ নিয়ে আসে একরকম হিমেল গন্ধ। স্বাভাবিকভাবে আমাদের দেশের শীতের আগমনীবার্তা এমনভাবে হলেও এবছর আগাম শীতের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস থেকে বলা হয়েছে আজ থেকে সামনের কয়েকদিন হালকা থেকে ভারী বৃষ্টি হবার সম্ভাবনার কথা। এই বৃষ্টির ফলেই তাপমাত্রা কমে যেতে পারে এবং ধীরে ধীরে আগমন ঘটতে পারে শীতের। বর্তমানে বিশ্ব মহামারী করোনার প্রকোপ বাংলাদেশেও চলছে। করোনা ভাইরাসের সেকেন্ড ওয়েভ আগাত হানার সম্ভাবনাও রয়েছে শীতে। তাই করোনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শীতকালীন রোগবালাই থেকেও নিরাপদ থাকতে এখনি শুরু করতে হবে প্রস্তুতি।
সাধারণত শীতের সাথে সাথেই ঋতু পরিবর্তনজনিত ঠান্ডা, কাশি এবং জ্বর দেখা দিতে পারে। সেইসাথে করোনা ভাইরাস যেহেতু ঠান্ডা পরিবেশে সক্রিয় থাকতে পারে তাই আগে থেকেই ঠান্ডা, জ্বর আসলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। খুশখুশে কাশি, নিউমোনিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদির আক্রমণ দেখা দিতে পারে। প্রচুর পরিমানে পানি, ফলের রস গ্রহনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রামের মাধ্যমে শীতের সময়টাতে সুরক্ষিত থাকা যাবে।
অ্যাজমা বা হাঁপানির রোগীদের জন্য শীতের এই সময়ে সুরক্ষিত থাকা খুব জরুরী। যেহেতু করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে এখন প্রায় নিয়ম করেই আমরা মাস্ক পরিধান করছি তাই এই অভ্যাস শীতের সময়টাতেও ধরে রাখা জরুরী। এতে ধুলাবালি থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং অ্যাজমাকেও দূরে রাখা যাবে।

টনসিলের প্রদাহ এবং সাইনুসাইটিসের রোগীদের বাড়তে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। লবন গরমপানি দিয়ে কুলকুচি করার পাশাপাশি আদা ও লেবুর চা থেকেও উপকার পাওয়া যেতে পারে, যা আপনাকে সুরক্ষিত রাখবে।

বৃদ্ধ ও শিশুদের দিকে এবারের শীতে বাড়তি নজর দেওয়া খুব জরুরী। কারণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ইমিউন সিস্টেম হওয়ার কারণে খুব সহজেই করোনা, ইনফ্লুয়েঞ্জা সহ শীতকালীন অসুখে খুব সহজেই আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণে শীতের পোশাক এবার আগে থেকেই নিয়ম করে পড়ার অভ্যাস করা জরুরী। এতে শীতের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকার পাশাপাশি শীতের সাথে লড়াইটাও জমবে বেশ। পাশাপাশি গরম পানির ব্যবহারও বেশ উপকারী ভূমিকা রাখবে।

যেহেতু শীতকালে বাতাসের আদ্রতা বেশ খানিকটা কমে যায়, তাই বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগের সম্ভাবনাও থেকে যায় শীতে। হাত পায়ের ত্বকে চুলকানি, খোসপাঁচড়া ও স্ক্যাবিস থেকে রক্ষা পেটে পেট্রোলিয়াম জেলি এবং ময়েশ্চারাইজার আগে থেকেই তৈরী রাখলে জমে উঠবে শীতের সাথে লড়াই।
তবে শীতে যদি রোগাক্রান্ত করেই ফেলে তবে দেরী না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। সেইসাথে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হবার লক্ষণ দেখা দিলে নিজে নিজেই চলে যেতে হবে সেলফ আইসোলেশনে। নিজে সুস্থ থাকার পাশাপাশি সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে পরিবারের সকল সদস্যদের।