ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে’

তৌহিদ নাজমুল
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২০ শুক্রবার, ০৮:০৮ এএম
‘দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান, জীবন বদলে যাবে’

বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি মধ্য আয়ের উন্নয়নশীল এবং স্থিতিশীল অর্থনীতি। এই অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে মধ্যমহারের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, পরিব্যাপ্ত দারিদ্র্য, আয় বণ্টনে অসমতা, শ্রমশক্তির উল্লেখযোগ্য বেকারত্ব, জ্বালানী, খাদ্যশস্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির জন্য আমদানী নির্ভরতা, জাতীয় সঞ্চয়ের নিম্নহার, বৈদেশিক সাহায্যের ওপর ক্রমহ্রাসমান নির্ভরতা এবং কৃষি খাতের সংকোচনের সঙ্গে সঙ্গে সেবা খাতের দ্রুত প্রবৃদ্ধি। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোষাক শিল্প বিশ্বের বৃহত্তম শিল্পের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এসময় পাট রপ্তানি করে দেশটি অধিকাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করত। কিন্তু ২০২০ সালের চিত্রটি পুরপুরিই ভিন্ন। 

করোনায় যখন পৃথিবী স্তব্ধ হয়ে গেল, বাংলাদেশেও সবকিছু ছুটি ঘোষণা করা হলো, তখন ‘আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন, গত সাড়ে ৬ মাস বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একদিনের জন্যও বসে থাকেননি, প্রতিদিন কাজ করছেন। শুধু মন্ত্রীসভার বৈঠক বা একনেক সভা করছেন তা নয়, তিনি বিভিন্ন জেলা ও বিভাগের সাথে অনলাইনে বৈঠক করছেন, অন্যান্য কাজগুলোও করছেন। এই সময় অনেক দেশে এই সমস্ত কাজকর্ম বন্ধ ছিল। আমাদের দেশে সেটি বন্ধ হয়নি। সেই কারণে আজকে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থেকেছে। তারই ফলশ্রুতিতে আজ আন্তর্জাতিক সংস্থা আইএমএফের পূর্বাভাস ঠিক থাকলে ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার এবং হবে ভারতের ১ হাজার ৮৭৭ ডলার। মূলত করোনার এই সময়ে ভারতের অর্থনীতি বেশি মাত্রায় সংকুচিত হবে বলে আইএমএফ বলছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৩ শতাংশ ঋণাত্মক হলে সংকোচনের দিক দিয়ে সারা বিশ্বেই ৩ নম্বরে চলে আসবে ভারত। অপরদিকে সে তুলনায় বাংলাদেশের হবে এবার ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি । 

এশিয়ার প্রায় সমস্ত দেশকে পেছনে ফেলেছে, এই করোনাকালেও এডিবির প্রাক্কলন অনুযায়ী আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫.২ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৮ শতাংশ।  করোনা মোকাবিলার ক্ষেত্রে অনেক আলোচনা-সমালোচনা আছে। কিন্তু এরপরও যদি পরিসংখ্যানের দিকে তাকাই, তাহলে আমরা দেখতে পাই, করোনা মোকাবিলাতেও বাংলাদেশ অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১.৪, ভারতে ১.৬, পাকিস্তানে ২.০৯, যুক্তরাজ্যে ১০.৩৬, বেলজিয়ামে ৯.৪৬, ফ্রান্সে ৬.৭১, জার্মানিতে ৩.৪২ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৩ শতাংশের মতো। বাংলাদেশে আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার আরো কম হতো যদি আরো ব্যাপকভাবে মানুষ পরীক্ষা করতো। শুনলে হয়তো অবাক হবেন  বাংলাদেশে যে পরিমাণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে সেটি প্রায় জাপানের কাছাকাছি। অর্থাৎ করোনা মোকাবিলা করার ক্ষেত্রেও আমরা অনেক দেশের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছি।

কিন্তু তখনই অবাক ও বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই যখন দেখি মানুষ এদেশে থেকে এদেশের খেয়ে এদেশের ভাল কখনই তাদের চখে পড়েনা। যখন দেখি সেই মানুষটি দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি নিয়ে চায়ের কাপে তুমুল নেতিবাচক কম্পন তুলে ফেলেন, যেই মানুষটি সরকারকে কর ফাঁকি দেয়ার সমস্ত আয়োজন করে বসে আছে।  তখনই কিংকরতব্যবিমুঢ় হয়ে যাই যখন দেখি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরাকারের নেয়া স্বাস্থ্য বিধি গুলকে উপেক্ষা করে কিছু কিছু মৃত্যুবরনকারী মানুষের আশেপাশের মানুষ গুল যখন সরকারের করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার ব্যর্থতাকে খুঁজে বেড়ায়। এসকল মানসিকতার মানুষদের জন্য শুধু একটাই কথা আছে বলার, “দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান জীবন বদলে যাবে”