ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে নারীরা


প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০২০ শনিবার, ০৮:৫৯ এএম
বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে নারীরা

সেনাবাহিনীর মতো চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ সেনাবাহিনীদের নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশের নারী সেনাবাহিনিরা শুধু পেশাদারই নন তাদের ব্যক্তিত্বও অসাধারণ এবং অনুকরণীয়। 

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রথমবারের মত ২০১৩ সালে নারী ছত্রীসেনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০০ সালে সর্বপ্রথম সেনা ক্যাডেট হিসেবে নারীরা যোগদান করেন এবং নারীরা স্বাধীনতার পর থেকেই সেনা চিকিৎসা শাখায় চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিতে পারেন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সেনাবাহিনীতে ২০১৮ সালে প্রথম নারী মেজর জেনারেল পেল সুসানে গীতি। এরপর ব্রিগেডিয়ার পদে তার পদোন্নতি হয়।  ফোর্সেস ২০৩০ বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রথমবারের মতো নারী  সৈনিকদের নিয়োগ দেয়া হয়।  

কেবল পুরুষরাই নয়, নারীরাও শান্তিররক্ষা মিশনে অবদান রেখে চলেছেন। ২০১০ সালে প্রথম ৮১ নারী পুলিশ সদস্য বাংলাদেশ এফপিইউ (ফর্মেড পুলিশ ইউনিট) হিসেবে কঙ্গোয় মিশনে যান। এ পর্যন্ত ৭১০ নারী পুলিশ সদস্য মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। কঙ্গোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিমান বাহিনীর ১৫ জন নারী কর্মকর্তার মধ্যে দুই জন নারী পাইলট রয়েছেন। তারা হলেন— ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাইমা হক এবং ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তামান্না-ই-লুৎফী। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রাতে শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দিতে কঙ্গোতে যান তারা। সেখানে তারা হেলিকপ্টারের চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

শান্তিরক্ষা মিশনের অংশগ্রহণকারী প্রথম পুলিশের নারী কর্মকর্তা ডিআইজি ও বর্তমানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মিলি বিশ্বাস।বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ৪০টি দেশের ৫৪টি শান্তিরক্ষা মিশনে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭ জন শান্তিরক্ষী পাঠিয়ে জাতিসংঘের ইতিহাসে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় একটি রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। তাছাড়া বাংলাদেশ সশস্ত্র ও পুলিশ বাহিনীর এক হাজার ৮২৬ জন নারী শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ মিশনের আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নারীর ক্ষমতায়নে এবং নারী-পুরুষ সমতা বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

সেনাবাহিনীতে নারীদের বর্তমান অবস্থাই বলে দিচ্ছে সেনাবাহিনীর অগ্রগতির পথে নারীরাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বর্তমানে অনেক নারী সেনাবাহিনীতে যোগদানে  আগ্রহী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২৬তম ডিএসএসসি (স্পেশাল পারপাস) এএমসিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

দেখে নেই সেনাবাহিনীতে নারীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনের যোগ্যতা:

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এফসিপিএস/এফআরসিএস/এমএস/এমডি/সমমান যা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত।
উচ্চতা: নারী ৫ ফুট
ওজন: নারী ৪৯ কেজি
বুক: নারী স্বাভাবিক ২৮ প্রসারণ ৩০
নাগরিকত্ব: জন্মসূত্রে বাংলাদেশি
বৈবাহিক অবস্থা: বিবাহিত/অবিবাহিত
বয়স: ০৭ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে অনূর্ধ্ব ৪০ বছর