ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হাইব্রিড খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর

মেহেরুবা শহীদ
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২০ রবিবার, ০৭:৫৯ এএম
হাইব্রিড খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর

দেশীয় শাকসবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস সহ প্রায় সব খাবারই হাইব্রিডের কবলে পড়েছে। বলতে গেলে আমরা এখন হাইব্রিডভোজী। কিন্তু এই সব হাইব্রিড খাবার আসলে কতটা স্বাস্থ্য সম্মত, সেটাই এখন মূল বিষয়।
হাইব্রিড শাকসবজি, মাছ ও পশু চাষে রাসায়নিক সার, কিটনাশক ও কৃত্রিম হরোমন ব্যবহার ছাড়া উৎপাদন করা একেবারেই অসম্ভব বলে মনে করেন চাষিরা।অন্যদিকে আমাদের দেশে এসব ক্ষতিকর রাসায়নিক সার কীটনাশক ও হরমোন ব্যবহারের কোনো নিয়মনীতি নেই বললেই চলে।অনেক চাষিদের যাচ্ছেতাইভাবে অতিরিক্ত সার কীটনাশক ও কৃত্রিম হরোমন প্রয়োগের ফলে  হাইব্রিড খাবার নিয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েছি আমার।

এদিকে হাইব্রিড উৎপাদনে ব্যবহার করা এই অতিরিক্ত সার কীটনাশক ও কৃত্রিম হরমোনের উপর তেমন কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় অতিরিক্ত লাভের আশায় চাষিরা নিজেদের অজান্তেই আরও বেশি ঝুঁকেপূর্ণ করে তুলছে হাইব্রিড চাষের উৎপাদিত খাবারকে। যা খেয়ে নানা রকমের জটিল রোগে ছড়িয়ে পড়ছে মানবদেহে। এসব খাবার খাওয়ার কারণে  মানুষের শরীরে বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এসব খাবার শরীরের ভিতরে ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়াশীল উপাদান তৈরি করার ফলে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো  বিভিন্ন আসুখ বাসা বাঁধতে শুরু করে মানব দেহে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও আবর্জনা নালায় ফেলছেন খামারিরা। যা নালা হয়ে চলে যায় মাছের খামারে মাছের খাদ্য হিসেবে। অনেক মাছের খামারে মাছের খাদ্য হিসেবে মুরগির বিষ্ঠাও ব্যবহার করা হয়। এই মুরগি পালনে নানা রকম এন্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়। এখান থেকে মুরগির বিষ্ঠা মাছের শরীরে প্রবেশ করে। এরপর মাছের মাধ্যমে এসব মানুষের শরীরে প্রবেশ করে স্বাস্থ্যের ক্ষতি ঘটাতে পারে।  এদিকে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা দেছে এসব বিষ্ঠা ব্যবহার করে যে মাছ চাষ নিষিদ্ধ সেটা জানেন না অনেক খামারের মানুষই। অনেক সময় খামারে মাছের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সিপ্রোফ্লক্সাসিনের মতো বিভিন্ন ওষুধও ব্যবহার করেন চাষিরা। অনেক সময় তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো ব্যবহার ও মাত্রা   কিংবা ফিশ ফিড কোম্পানির প্রতিনিধিদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধও ব্যবহার করেন। অনেকের অভিযোগ চাষে ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কোন পরামর্শ তারা পান না। তাই  খাদ্য উৎপাদনে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি জৈবসার বালাইনাশক ব্যবহারে খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরো টেকসই ও অর্গানিক হওয়া প্রয়োজন।