ঢাকা, শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনাকালীন বাচ্চাদের সঙ্গে যা করবেন  

জিনিয়া শেখ
প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২০ রবিবার, ০৮:০৪ এএম
করোনাকালীন বাচ্চাদের সঙ্গে যা করবেন  

করোনাকালীন সময়ে বাচ্চারা দীর্ঘ একটা সময় ঘরে বসে আছে। করোনার কারণে বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছেনা। ঘরে বসে থাকার কারণে বাচ্চাদের মধ্যে অভ্যাসগত পরিবর্তন এসেছে। তাদের অভ্যাসগত পরিবর্তনগুলো যেন ক্ষতিকারী না হয় তাই করোনাকালীন বাচ্চাদের বিভিন্ন কাজগুলো করা না-করা ব্যাপারে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে।    

স্কুল বন্ধ থাকার কারণে এখন দেখা যাচ্ছে, প্রায় সময় বাচ্চারা দেরি করে ঘুম থেকে উঠছে। অনেক বাচ্চাকে দুপুর বারোটার সময়ও ঘুম থেকে উঠতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের অভ্যাস গড়ে তোলা তাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তাদেরকে বাসার মধ্যেই এমন রুটিনে রাখতে হবে যাতে তারা সকালে স্কুলের উদ্দেশ্যে যেই সময় ঘুম থেকে উঠতো সেই সময়ই এখন ঘুম থেকে ওঠে।

করোনার কারণে সে কোথাও যেতে পারছেনা। বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে পারছে না ফলে তাঁর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্য তার সাথে পরিবারকে প্রচুর সময় দিতে হবে। পরিবারের সদস্যদের তার সাথে কথা বলতে হবে, বুঝাতে হবে সেও পরিবারের একটা গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। করানোর সময় তাদের মানসিক অবস্থার অনেক বিপর্যয় হয়েছে কারণ তারা বাইরে যেতে পারছে না। মানসিক বিপর্যয় কাটাতে তার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।  

এছাড়া বাচ্চাদের নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ছাদ অথবা পার্কে ঘুরে আসতে পারেন। এখন যে সমস্যাটি প্রকোপ হচ্ছে তা হল বাচ্চারা বাসায় থাকার কারণে তাদেরকে খাবার দেয়ার পাশাপাশি একটি ফোন দেয়া হচ্ছে যেন তাদের সময়টুকু ভাল করে কেটে যায়। অভিভাবকরা মনে করে এতে করে বাচ্চারা তাদের বিরক্ত করবে না। করোনার মধ্যে বেশিরভাগ বাচ্চাদের এই অভ্যাসটি গড়ে উঠছে যেটি খুবই ভয়াবহ।

একই সাথে তার খাদ্যাভাসের দিকে নজর রাখতে হবে এবং কোন ভাবেই তার ফোন বা গেজেট আসক্তি গড়ে তোলা যাবেনা। এটি অভিভাবকদের নজরে রাখতে হবে।

বাচ্চাদের ফোন আসক্তি যেন না হয় তার জন্য নানারকম কাজে তাদেরকে ব্যস্ত করে রাখা উচিত। তাকে খেলার মধ্যে ব্যস্ত রাখা উচিত। তার সাথে গল্প করা এবং তার আগ্রহ তৈরি হয় এরকম কোন কাজের সাথে তাকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাকে সব সময় বোঝাতে হবে যে সে পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই পরিবারে রাখতে পারে।

কোনোভাবেই তাদেরকে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের উপর আসক্ততা গড়ে তুলতে দেয়া যাবেনা। এর পরিবর্তে তাদের নিয়মিত আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুবান্ধবের সাথে কথা বলার সুযোগ করে দিতে হবে। যেমন-পরিবারের নানা-নানী, দাদা-দাদী যদি বাইরে থাকে তাহলে তাদের সাথে নিয়মিত কথা বলানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। তার মধ্যে কোন প্রকার হতাশা যেন কাজ না করে সেই দিকে লক্ষ্য রাখা বর্তমানে খুবই জরুরী।