ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ডা. মিলনের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্র সুদৃঢ় হোক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০২০ শুক্রবার, ০৭:৫৬ এএম
ডা. মিলনের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্র সুদৃঢ় হোক

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায় ও ডা. শামসুল আলম খান মিলন এক ও অভিন্ন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র মানেই ডা. মিলনের রক্তে রঞ্জিত রাজপথ। গণতন্ত্রের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকৃত ডা. মিলন হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায়।

আজ শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন দিবস। ১৯৯০ সালের আজকের এই দিনে (২৭ নভেম্বর) স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্বৈরশাসকের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীদের গুলিতে শহীদ হন ডা. মিলন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ডা. মিলনকে হত্যার মাধ্যমে পুরো আন্দোলনকে নস্যাৎ করার পরিকল্পনা করেছিল এরশাদ সরকার। কিন্তু মিলনের রক্তে রঞ্জিত রাজপথে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নতুন গতিবেগ সঞ্চার করে।

মিলনের মৃত্যুর ক্ষোভে আন্দোলনকারীরা রাজপথ দখলে নেয়। স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন দাবানলে রূপ নেয়। ছাত্র-রাজনীতিবিদদের সাথে যোগ দেন চিকিৎসকরাও। ডাক্তাররা শুরু করেন অবিরাম কর্মবিরতি। গণপদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি অবস্থা জারি করে স্বৈর সরকার। কিন্তু সেই জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে আসে ছাত্রছাত্রীদের মিছিল। আন্দোলনের গতির সামনে ক্ষমতা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ।

মৃত্যুর সময় মিলন ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষক। রাজনীতির দিক থেকে ছিলেন জাসদপন্থী। সাংগঠনিক দিক থেকে ছিলেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন এর যুগ্ম-সম্পাদক। ডা. মিলনের জন্ম ১৯৫৭ সালের ২১ অগাস্ট। নটরডেম কলেজের সাবেক এই ছাত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসা পেশায় যোগ দেন।

চলতি বছরে এমন একটা সময়ে বাংলাদেশ ডা. মিলন দিবস পালন করছে, যখন বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার পরিকল্পনা নেমেছে একটি গোষ্ঠী। ধর্মের দোহাই দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণকে বাধাগ্রস্থ করার পাঁয়তারা করছে ধর্ম ব্যবসায়ীরা।

ডা. মিলনের আত্মত্যাগে পাওয়া অবাধ গণতান্ত্রিক সুবিধাকে সমুন্নত রাখতে ধর্মের নামে গণতন্ত্রকে ধুলিস্যাৎ করার পরিকল্পনাকারীদের রুখে দেওয়ার এখনই উত্তম সময়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থাপিত ’নিঝুম স্থাপত্য আজ মিলনের প্রতিবাদী মুখ’ মিলন স্মারক ভাস্কর্য আমাদের প্রতিনিয়তই গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর আত্মত্যাগকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যদিও ডা. মিলন স্মারক ভাস্কর্যের অযত্ন রীতিমত চোখে পড়ার মত। এটা জাতি হিসাবে আমাদের জন্য লজ্জার।

ডা. মিলনের ভাস্কর্যে কেবল শ্রদ্ধাজ্ঞাপন নয়, গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখতে ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে সঠিক পথে রাখতে ডা. মিলন দিবসের প্রয়োজন।

কেবল একদিন নয়, প্রতিদিনই স্মরণ করি ডা. মিলনকে। মিলনের ত্যাগের কাছে আমরা নতমস্তকে কৃতজ্ঞতা জানাই।