ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার আত্মজীবনী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট ২০১৭ শুক্রবার, ০৯:৫৯ পিএম
শেখ হাসিনার আত্মজীবনী

জওহরলাল নেহেরুর ‘অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ শুধু একটি গ্রন্থ নয়, এক অসামান্য আলোকবর্তিকা। যেখানে একজন রাষ্ট্রনায়কের চোখে উঠে এসেছে সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিবর্তন। তেমনি উইনস্টন চার্চিলের ‘মেমোরিস অব সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ার’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক অনবদ্য দলিল। জাতির পিতার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ও একজন মহান নেতার বেড়ে ওঠার অনুপম চিত্র। এজন্যই পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু বলেছিলেন, রাজনীতিবিদদের নিজের কথাগুলো লিখে রাখা উচিত। এতে কেবল সমাজ ও রাষ্ট্রেরই উপকার হয় না। ভবিষ্যতের নেতারাও করণীয় সম্পর্কে জানতে পারেন। আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের রাজনীতিবিদদের লেখালেখির অভ্যাস খুবই কম, আবার আমাদের সৌভাগ্য যে বঙ্গবন্ধুর পর বাঙালির প্রধান নেতা শেখ হাসিনার লেখালেখির অভ্যাস ভালোই। শেখ হাসিনা পড়েন এবং লেখেন। নিজে লিখেছেন একাধিক গ্রন্থ। দুটি অসামান্য গ্রন্থ সম্পাদনা করেছেন। একটি হলো ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ অন্যটি হলো, ‘কারাগারের রোজনামচা’। যেকোনো রাজনীতিবিদদের জন্য বই দুটি অবশ্য পাঠ্য।

এরই মধ্যে জানা গেছে, শেখ হাসিনা তাঁর নিজের আত্মজীবনী লেখার কাজটিও অনেকদূর এগিয়ে নিয়েছেন। প্রেস উইং এর এক নারী কর্মকর্তাকে সময় পেলেই তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তা তা টাইপ করেন। টাইপ করা লেখার ওপর প্রধানমন্ত্রী নানা সংশোধনীর কাজ করেন। এই আত্মজীবনী নিয়ে ইতিমধ্যেই কৌতুহল শুরু হয়েছে। কী থাকছে এই আত্মজীবনীতে। জানা গেছে, আত্মজীবনীর প্রথম ভাগে থাকবে শেখ হাসিনার জন্য বেড়ে ওঠা, বাবা মা ভাই বোনদের নিয়ে তার স্মৃতিচারণ। এ ধরনের কিছু স্মৃতিচারণমূলক  লেখা ইতিমধ্যেই প্রবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু আত্মজীবনীতে থাকবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। আত্মজীবনীর দ্বিতীয় ভাগে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড পরবর্তী শেখ হাসিনাকে পাওয়া যাবে। কীভাবে শোককে বুকে ধারণ করলেন। প্রতিবাদ করলেন। তাঁর দিল্লির জীবন। আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া এবং দেশে ফেরার ঘটনাগুলো থাকবে এখানে। এরপরের অংশে থাকবে আওয়ামী লীগ এবং সরকার পরিচালনায় তাঁর অভিজ্ঞতা, মূল্যায়ন। তিনি যাঁদের সঙ্গে রাজনীতি করেছেন তাঁদের সম্পর্কে তাঁর ভাবনা চিন্তা। বিভিন্ন সংকটে কে কী করেছিল ইত্যাদি।

শেখ হাসিনার আত্মজীবনী নানা কারণে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ দলিল হবে। কারণ, প্রথমত, তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই নেতৃত্ব দিতে গিয়ে দলের মধ্যে নানা চড়াই উৎরাই গেছে। এসব ঘটনাগুলো সম্পর্কে শেখ হাসিনার মনোভাব অনেকটাই অজানা। দলের ভাঙ্গন, আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশাল গঠনের সময় শেখ হাসিনার ভাবনা কী ছিল? ৯১ এর নির্বাচনের পর ড. কামাল হোসেনদের ভূমিকা কী ছিল? ৯৬ এর রাষ্ট্রপরিচালনায় দলের সিনিয়র নেতাদের ভূমিকা। ২০০১ সালের পর তাঁর অবস্থা, ওয়ান ইলেভেনে তাঁর অনুভূতি, নেতাদের সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন- ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আওয়ামী লীগের আপামর কর্মীদের ধারণা ঝাপসা ঝাপসা। শেখ হাসিনার অভ্যাস হলো, তিনি মানুষের কথাই শোনেন বেশিক্ষণ। মানুষের দুঃখ, চাওয়া পাওয়া নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয় তাঁকে সবসময়। এর মধ্যে তাঁর কথা শোনার সময় কই? তিনি যে বক্তৃতা দেন, বৈঠকে বক্তব্য রাখেন- সেখানে তাঁর সব অনুভূতি গুলোর প্রকাশ ঘটে না। তাঁর মনের ভাবনাগুলোর খবর কে রাখে? বিশেষ করে তিনি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন, কার উপর তাঁর আস্থা-ইত্যাদি কোটি টাকার প্রশ্ন। তাঁর আত্মজীবনীতে পাওয়া যাবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, বাংলাদেশের বিকাশের রূপকল্প। এত ব্যস্ততার ভিড়ে তাঁর এই মহামূল্যবান গ্রন্থটি কবে আলোর মুখ দেখবে, সেটা একটা প্রশ্ন?

বাংলা ইনসাইডার