ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গণতন্ত্র রক্ষায় শেখ হাসিনা

তৌহিদ নাজমুল
প্রকাশিত: ১২ ডিসেম্বর ২০২০ শনিবার, ০৯:২৭ এএম
গণতন্ত্র রক্ষায় শেখ হাসিনা

দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র চার বছর পরেই কিভাবে আমাদের দেশ থেকে গনতন্ত্র হারিয়ে গেল। কিভাবে ঠিক পাকিস্তানের মতই আমরা সেনা শাসকের অধীনে শাসিত হতে থাকলাম। অভ্যুত্থানের পর পালটা অভ্যুত্থান চলতে লাগল। 

স্বৈর শাসক এরশাদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই গনতন্ত্রের দাবীতে শুরু হয় সর্বাত্মক আন্দোলন। মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ আন্দোলনের শুরু হলেও তা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ে দেশব্যাপী। এই আন্দোলনে প্রাণ হারায় ছাত্র-জনতা পেশাজীবী সহ অনেকেই। প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহাম্মেদের কাছে পদত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈর শাসনের অবসান ঘটে। 

১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের দ্বিতীয় ধাপের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯১ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন বাংলাদেশের গ্ণতন্ত্রের পথে একটি মাইল ফলক। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার পদ্ধতির পুনঃপ্রবর্তন ঘটে; রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান হন; প্রধানমন্ত্রী হন রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী। সে বছর-ই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্রে যুক্ত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। 

১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং  বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যেতে অসম্মতি জানায় এবং আওয়ামী লীগ সহ অন্যান্য বিরোধী দল নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগকে ছাড়াই বিএনপি নির্বাচন জয়লাভ করে এবং সরকার গঠন করলেও প্রবল গণআন্দোলনে এবং মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নেতৃত্বে আমলারাও সে আন্দোলনে যোগ দিলে বিএনপি নতজানু হয়। অবশেষে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইনে পরিণত হয়। 

১৯৯৬ এ  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে  আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ২১ বছর পর ক্ষমতায় ফেরে আওয়ামী লীগ। চলতে থাকে গনতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা। দেশে গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে শক্তিশালী হতে থাকে। সংসদ হয়ে ওঠে সচল। প্রচারমাধ্যমগুলো স্বাধীনতা পায়। সারাদেশে গনতান্ত্রিক হাওয়া বইতে থাকে। সে সময়টা ছিল বাংলাদেশের গনতন্ত্রের ইতিহাসে স্বর্ণযুগ। বৈশ্বিক বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ। ২০০১ সালে বাংলাদেশের নির্বাচন ও ক্ষমতাবদল হয়।

সংবিধান অনুযায়ী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের সময় ছিল ২০০৬। কিন্তু নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে আবার টালবাহানা শুরু করে বিএনপি জামাত জোট সরকার। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে জটিলতার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি প্রফেসর ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ নিজেই প্রধান উপদেষ্টার পদ গ্রহণ করেন। ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি, অনেক ভোটার এর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া; এতসব বিতর্কের জেরে এবং আওয়ামী লীগের “লগি বৈঠা” আন্দোলনের মুখে ১১ জানুয়ারি ২০০৭ ইয়াজ উদ্দিন আহামেদ প্রধান বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন। এ ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে বলা হয় “ওয়ান ইলাভেন”। 

এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন এম এ আজিজ। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দিন আহমেদ। সেনা প্রধান ছিলেন মঈন ইউ আহমেদ। এ সময় দেশে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়। এ সরকার প্রায় দু বছর ক্ষমতায় ছিল। এ সময়কালে আবার বাংলাদেশের গনতন্ত্র ফিরে যায় হিমাগারে। অবশেষে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। 

পাঠক সেসব তথ্য নিয়ে কথা হবে আগামীকাল। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন বাংলা ইনসাইডারের সাথেই থাকুন।