ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ৯ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের সাফল্যের গাঁথামালা 

তৌহিদ নাজমুল
প্রকাশিত: ১৩ ডিসেম্বর ২০২০ রবিবার, ০৯:০৪ এএম
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের সাফল্যের গাঁথামালা 

২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আবার ফিরে আসে গনতন্ত্র। শেখ হাসিনা, ‘বিশ্ব মানবতার জননী’ খ্যাত এই মানুষটির জন্ম ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের টুঙ্গিপাড়ায়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।  বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তার রাজনৈতিক কর্মজীবন প্রায় চার দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী বিস্তৃত। তিনি ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ ও ১৯৯১-১৯৯৫ পর্যন্ত বিরোধী দলের নেতা এবং ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮১ সালে থেকে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৮ সালে জনগণের বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরে আসেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার ফলে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি-জামাত জোট নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় ১৫৩ টি আসনে জয়লাভ করে। ক্ষমতায় এসেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নে মননিবেশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদাত্ত আহ্বান, ‘আসুন দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলি’। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি একে একে হাতে নেন বড় বড় প্রকল্প। যার মধ্যে অন্যতম প্রকল্পগুলো হল পদ্মা সেতু প্রকল্প, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, মেট্রোরেল প্রকল্প, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প,পায়রা সমুদ্র বন্দর প্রকল্প, চট্টগ্রাম নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প, যানজট নিরসনের লক্ষে ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে উড়াল সেতু নির্মাণ প্রকল্প সহ আরও অনেক প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সফলতার সাথে একে একে শেষ করছেন এসমস্ত প্রকল্পগুলো । 

এছাড়াও জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার ৭.৮৬ শতাংশে উন্নীতকরণ, ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড ও ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষীদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসা সেবার জন্য সারা দেশে প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালের ৪১.৫ থেকে ২০১৭-২০১৮ বছরে ২১ শতাংশে হ্রাস, ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় এবং মাথাপিছু আয় ১,৭৫১ ডলারে উন্নীতকরণের সাফল্যগাথা। 

লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে দেশের প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট স্থাপনের মধ্য দিয়ে ‘এলিট স্যাটেলাইট ক্লাবের’ সদস্য হওয়া। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘ভিশন ২০৪১’ ধরে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারনামাও। আছে ২১০০ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে এই দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ডেল্টা প্লান ২১০০’।

২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহন করলেও এদেশের জনগন জোট নেতৃত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইতিহাস রচনা করেন।  প্রধান বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জায়গা করে নেয় এরশাদের জাতীয় পার্টি। 

১৫ বছরের স্বৈর শাসনকাল বাদ দিলে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চাকাল তিন দশকের কিছু বেশী। গণতন্ত্র একটি চলমান প্রক্রিয়া। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে একটি দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভুদ্দ বাংলাদেশে গ্ণতন্ত্র বারবার হোঁচট খেলেও এ দেশের মানুষ কখনো গনতন্ত্রবিরোধী কিছু মেনে নেয় নি আর কখনো নেবেওনা। এই ইতিহাস থেকে রাজনৈতিক দলগুলির শিক্ষা নেয়া উচিৎ- জনগণের জন্য সরকার, সরকারের জন্য জনগণ নয়।

গণতন্ত্র রক্ষায় শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু ও গনতন্ত্রে জন্য সংগ্রাম