ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিবেন যেভাবে

মেহেরুবা শহীদ
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৮:০৭ এএম
শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিবেন যেভাবে

সুস্থ শিশু বলতে শুধু শারীরিকভাবে সুস্থ শিশুকেই বোঝায় না। শারীরিক ও মানসিক উভয়ভাবে শিশুকে সুস্থ রাখতে হবে। তাই মানসিকভাবে সুস্থ না হলে শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। জেলে বন্দী না থাকলেও করোনার কারণে ঘরে বন্দী শিশুরা। যুবক, বৃদ্ধদের সঙ্গে শিশুরাও এর ছোবল থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। করোনার কারণে স্কুল বন্ধ ও বেশিরভাগ শিশু ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছে। এতে তাদের মানসিক, শারীরিক ও আত্মিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মানসিকভাবে অসুস্থও হয়ে পড়ছে। শিশুরা মনস্তাত্ত্বিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তাদের ভেতরের উদ্যোম, উদ্যোগ ও স্পৃহা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।


করোনার সময় শিশুরা ইন্টারনেট ও ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে। ফলে তাদের সামাজিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও আবেগ কম হচ্ছে। তাই করোনার কারণে ঘরবন্দি শিশুদের প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টার জন্য ঘরের বাইরে, পার্কে কিংবা অন্য কোথাও খেলাধুলা ও ছোটাছুটির জন্য নিয়ে যান।

স্মার্টফোনের পরিবর্তে বিভিন্ন গল্প বা উপন্যাসের বই তুলে দিন। কম্পিউটার ও স্মার্টফোন ব্যবহার করলে সন্তান যেন তা আপনার সামনেই ব্যবহার করে সেদিকে লক্ষ রাখুন। সময় করে শিশুকে নিয়ে বিভিন্ন পার্ক বা কোথাও বেড়াতে যান। খেলার মাঠের প্রতি তাদের উৎসাহ দিন। ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কর্মের প্রতি শিশুদের মনোযোগী করান ।

 এ সময় সন্তানের সঙ্গে গল্প করুন। তার সাথে নানা বিষয়ে আলোচনা করুন। তার প্রতি আপনি আগ্রহ দেখান। বাচ্চার কথাকে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।ব্যস্ততার কারনে অনেক শিশুরাই মা-বাবাকে কাছে পায় না। এ সময়টায় মা-বাবা বাড়তি পাচ্ছেন বলে সময়টাকে শিশুর সঙ্গে আনন্দঘন করার দায়িত্ব মা-বাবারই। এ সময় শিশুদের সঙ্গে ইনডোর গেইম খেলতে পারেন।

প্রয়োজনে তাদেরকে খেলাধুলার জন্য মাঠে নিয়ে যেতে পারেন। খেলার মাঠের প্রতি তাদের উৎসাহ দিন। সময় করে শিশুকে নিয়ে বিভিন্ন পার্ক বা কোথাও বেড়াতে যান। বাচ্চাকে অযথা বকাঝকা করবেন না। অতিরিক্ত বকাঝকার কারণে শিশুকে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তার দুষ্টমিও বেড়ে যেতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে। এ সময় শিশুদের হাতে তুলে দিতে পারেন রংপেনসিল ও আর্ট বোর্ড।

আজকের শিশু ভবিষ্যতের নাগরিক। তাই তার সুন্দর ও নির্ভয় শৈশব নিশ্চিত করার দায়িত্ব মা–বাবাসহ পরিবারের সব সদস্যের। একটি শিশু যখন বড় হয়, তখন চারদিকের পরিবেশ তাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করে। যার প্রতিফলন ঘটে তার ব্যক্তিত্বে। শিশুর সামগ্রিক বিকাশের সঙ্গে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতা নিবিড়ভাবে জড়িত।