ঢাকা, বুধবার, ২০ জানুয়ারি ২০২১, ৭ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সাবধান! আপনার সন্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে এসব অপরাধে

মাহমুদুল হাসান তুহিন
প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২১ বুধবার, ০৭:৫৭ এএম
সাবধান! আপনার সন্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে এসব অপরাধে

আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে; সেই খোঁজ-খবর রাখছেন তো? বহু আগে থেকেই আমাদের সমাজে কিশোর অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। তবে সম্প্রতি কিশোর অপরাধের প্রবণতা বেড়েছে বহুগুণে। বাংলাদেশের মেধাবী কিশোররা জড়িয়ে পড়ছে মাদক, সাইবার ক্রাইম, অসামাজিক কার্যকলাপসহ নানামুখী অপরাধে। ধনী, গরিব কিংবা মধ্যবিত্ত; সকল শ্রেণীর কিশোর-কিশোরীরা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধে।

সম্প্রতি ৭ জানুয়ারি ঘটে যাওয়া মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ছাত্রী আনুশকা নূর আমিন (১৭) ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় ইফতেখার ফারদিন দিহানকে (১৮) গ্রেগতার করা হয়। অন্যদিকে, কিশোর অপরাধের বহুল আলোচিত ঘটনা ছিল ২০১৩ সালে ১৬ আগস্ট অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ছাত্রী ঐশী (১৭) তার বাবা-মাকে ৬০টি চেতনানাশক ওষুধ মেশানো কফি খাইয়ে অচেতন করে। পরে তাদের ছুরি দিয়ে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করে। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ঐ বছরই ১৮ আগস্ট ঐশী, সুমি ও রনিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদের সবাই কিশোর।

আপনার সন্তানও জড়িয়ে পড়তে পারে এসব অপরাধে-

কিশোর গ্যাং: বর্তমানে বাংলাদেশে ‘কিশোর গ্যাং’ একটি বহুল আলোচিত শব্দ। দেশের বিভিন্ন শহরে গড়ে উঠা এসব কিশোর গ্যাং পরিকল্পিতভাবে ছিনতাই, হত্যা, মাদক, কিশোরীদের উত্যক্ত ও ধর্ষণসহ একের পর এক অন্যায় কাজে লিপ্ত হচ্ছে। টিকটক, লাইকির মত মানসিক বিকৃত কিছু অ্যাপসের মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে এরা। এভাবেই নিজেদেরকে নিয়ে যাচ্ছে অপরাধের অন্ধকার জগতে।

মাদকাসক্তি: দেশের কিশোরদের একটি বড় অংশ জড়িত এই মাদকের নেশায়। পরিবার থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নিয়ে নষ্ট করছে বিভিন্ন অন্যায় পথে, করছে মাদক সেবন। মাদকের জগতে কিশোররা সিগারেটের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করলেও খুব দ্রুতই এরা জড়িয়ে পড়ে গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল সহ নানারকম ভয়ানক নেশার জগতে।

ফেসবুক হ্যাকিং: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক হ্যাকিং এখন হরহামেশাই ঘটছে। কিশোর-কিশোরীরা নিজেদের অসচেতনতায় এবং আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্টের যাবতীয় তথ্য শেয়ার করে বন্ধুদের সাথে। ফলে খুব সহজেই ফেসবুক একাউন্ট হ্যাকিং করছে কিশোররা, যা একটি সাইবার ক্রাইম। এর মাধ্যমে ভিকটিম কিশোর কিংবা কিশোরীটিও জড়িয়ে পড়ছে অপরাধ জগতে।

সাইবার ক্রাইম: ফেসবুক হ্যাকিং সাইবার ক্রাইমেরই একটি অংশ। এছড়াও কিশোর-কিশোরীরা অসামাজিক ছবি, অশালীন মন্তব্য সামাজিক যোগামাধ্যম ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম সহ বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ করে। এতে করে তাদের মাঝে অপরাধের প্রবণতা বেড়ে যায়।

ব্ল্যাকমেইলিং: কিশোর-কিশোরীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে অশালীন কার্যকলাপে যুক্ত হয়। এসব কার্যকলাপের ভিডিও ধারণ করে তারা। পরে সামাজিক মাধ্যমে এসব ভাইরালেই হুমকি দেখিয়ে ভিকটিম এবং তার পরিবার থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।

পারিবারিক অসাবধানতা, সন্তানের খোঁজ-খবর না নেওয়া, সন্তানের আবদার রক্ষার্থে তাদের হাতে অপরাধ জগতে প্রবেশের বিভিন্ন গ্যাজেট যেমন- মোবাইল, ইন্টারনেট এবং প্রয়োজনের অধীক টাকা-পয়সা দেওয়াই হতে পারে আপনার সন্তানের অপরাধ জগতের প্রবেশের মাধ্যম। কিশোর অপরাধ রোধে এখনই প্রয়োজন পারিবারিক সচেতনতা। সন্তানের প্রতি পদক্ষেপের খোঁজ-খবর নিতে হবে অভিভাবকদের। তাহলেই আপনার সন্তান থাকবে নিরাপদ।