ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বেনারসির ভবিষ্যৎ

ফিচার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ বুধবার, ১২:৩০ পিএম
বেনারসির ভবিষ্যৎ হাতের নিখুঁত নৈপুণ্যে তৈরি হচ্ছে বেনারসি শাড়ি। ছবিঃ কেমি

বিয়েতে কনের অভিজাত পোশাক হিসাবে সুখ্যাতি রয়েছে বেনারসি শাড়ির।  এই শাড়ির রয়েছে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বেনারসিতে  জমকালো সুতার ব্যবহার করা হয়।  প্রতিটি শাড়ির পাড়ে দেখা যায় বিশেষ বুননি শিল্প।  থাকে জারদৌসির বিশেষ কাজ।  জারদৌসির কারণে যে কোনো পোশাকই অভিজাত হয়ে ওঠে।  স্বর্ণ রঙের সুতার কাজ হয় জারদৌসিতে। থাকে হাতের কিছু নিখুত নৈপুণ্য। সেই বেনারসি এবং জারদৌসির জন্য বিখ্যাত ঢাকার মিরপুর।

মূলত সম্রাট আকবরের সময় থেকে জারদৌসির কাজের প্রচলন ঘটে। আর ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর মিরপুরে গড়ে ওঠে বেনারসি পল্লী।  দুই দেশ আলাদা হবার পর ভারতের বেনারস থেকে প্রায় ৩৭০টি মুসলিম পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসে। তাদের বেশিরভাগই ছিল পেশায় তাঁতি। শুরুতে এরা বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবাস শুরু করে। তবে তাদের বড় অংশ বসতি গড়ে তোলে ঢাকার মিরপুর এলাকায়। জীবিকা হিসেবে তারা বেছে নেয় শাড়ি বুননের পেশা। সেই সব শাড়িতে জারদৌসির বিশেষ কাজ ও নকশা যুক্ত করা হয়।  জমকালো নকশার কারণে তৎকালীন অভিজাত পরিবারের বিয়ে থেকেই বেনারসি পরার চল শুরু হয়। 

বেনারসির নকশা আরও উন্নত হলেও সেই হাতের নৈপুণ্য কমে যাচ্ছে দিন দিন।  সম্প্রতি সময়ে একদিন বেনারসি পল্লী ঘুরে দেখা যায় তাঁতিদের নির্বাক আহাজারি।  তবুও টুকটাক করে কাজ করে যাচ্ছে হাতে গোনা কিছু বেনারসি কারিগর।

নিয়মিত পশ্চিমা পোশাকের ভিড়ে কমে যাচ্ছে ঐতিহ্যের পোশাক।  সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কম টাকায় চকমকা ইন্ডিয়ান পোশাক।  দু’য়ে মিলে অবলীলায় কমে যাচ্ছে বেনারসি ও জারদৌসির কদর।  আর বিপাকে পড়ছে তাঁতিরা।  অল্প কিছু অর্ডার পেলেও সময় ও শ্রমের উপযুক্ত মুনাফা জোটে না তাদের।  একটি শাড়ি বুনতে সময় লাগে ৪ থেকে ৫ দিন। নকশার ওপর নির্ভর করে কখনো কখনো ৮ দিন পর্যন্ত সময় লাগে একেকটি শাড়ি বোনার কাজ শেষ হতে।  কিন্তু সেই পরিসরে লাভবান হতে পারেনা অধিকাংশ কারিগর। 

প্রযুক্তির ব্যাপকতার কারণে সময়ের হিসাবে অনেক পথ পিছিয়ে পড়েছে বেনারসি পল্লী। দিনে দিনে প্রযুক্তি যতই আধুনিক হচ্ছে পোশাক শিল্পও তত এগিয়ে যাচ্ছে। কেবল পেছন থেকেও পেছনে পড়ে যাচ্ছে বেনারসি কারিগরেরা।  আর এভাবে চলতে থাকলে এক-দুই যুগ পরে অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে বেনারসির।  বেনারসির ভবিষ্যতের মত নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় কারিগরেরা।

বাংলা ইনসাইডার/এএসি/জেডএ

Save

Save

Save