ঢাকা, রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিয়ের উপহার মারণাস্ত্র !!

তৌহিদ নাজমুল
প্রকাশিত: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ০৮:০২ এএম
বিয়ের উপহার মারণাস্ত্র !!

বিয়ে বা কোনো অনুষ্ঠানে কী উপহার দেওয়া যায়, তা নিয়ে অনেকেই বিড়ম্বনায় পড়েন। অনেকে প্রিয়জনকে দামি উপহার দেন। আবার কেউ কেউ সাধ্য অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো জিনিসটি দেওয়ার চেষ্টা করেন। আপনি হয়তো জীবনে অনেকবার বিয়ের দাওয়াত পেয়েছেন। সে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশি সহ অনেকের কাছ থেকেই হতে পারে। আর সেই বিয়েতে অনেক দামি ও অনেক সুন্দর সুন্দর উপহার দেয়াটা খুবই স্বাভাবিক ।

বিবাহ হল একটি সামাজিক বন্ধন যার মাধ্যমে দু`জন মানুষের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। স্থাপিত এই সম্পর্ককে সামাজিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য, রীতি অনুসারে আত্মীয় স্বজনসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিভিন্ন রীতি সংস্কৃতি মেনে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। যে রীতির অংশ হিসাবে বর ও কনেকে আশীর্বাদ স্বরূপ আগত অতিথিবৃন্দ প্রদান করে থাকেন বিভিন্ন ধরনের উপহার। যে উপহার হতে পারে হীরা, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ বা নবদম্পতির দাম্পত্য জীবনের প্রয়োজনীয় কোন জিনিস। কিন্তু উপহার যদি হয় মারণাস্ত্র একে-৪৭ রাইফেল, তাহলে বিয়ের উপহার হিসাবে এটাকে আপনি কিভাবে দেখবেন? 

এরকমই এক বিরল বিয়ের উপহারের ঘটনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম নিউজ-২৪ এইচডি। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের ঘটনা। বিয়ের ভিডিওতে উপহার দেখে সবার চোখ কপালে উঠেছে। ৩০ সেকেন্ডের এই ভিডিও ক্লিপসে দেখা গেছে, উপহার হিসেবে একে-৪৭ রাইফেল উপহার নিচ্ছেন বর এবং সেটি তিনি হাসি মুখেই গ্রহণ করছেন। নববধূসহ আশে পাশে যারা ছিলেন তাদের সবার মুখেও ছিল হাসি। 

পাকিস্তানের করাচিতে বসবাসরত সামা টিভিতে কর্মরত সাংবাদিক আদিল আহসান তার মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘বিয়ের উপহার হিসেবে কালাশনিকভ রাইফেল। 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। একজন লিখেছেন, ‘দুঃখিত, এটি পাকিস্তানের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে না। অপর একজন ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, খুবই চমৎকার একটি উপহার। আল্লাহ তাকে এটি ব্যবহারের সাহস দিন। অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, ‘আমি কোনো দিন এই ধরনের বিয়ের উপহার দেখিনি এবং শুনিনি। আবার অন্য আরেকজন লিখেছেন, বর কি বিয়ে করতে গিয়েছে নাকি  যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে গিয়েছে? মজার ব্যপার হল অনেকে বলছেন উপহার যিনি দিয়েছেন তিনি সম্পর্কে ছেলের শাশুড়ি।

বিয়েতে উপহার হিসাবে দেয়া এটাই যে প্রথম একে-৪৭ রাইফেল তা কিন্তু নয়। এরকম উপহার দেয়ার ঘটনা ঘটেছে জার্মানিতেও। তবে সেটা স্বয়ং স্বামী তার স্ত্রীকে দিয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে আইএসে যোগ দিয়েছিলেন এক জার্মান নারী। তিনি আবার ফিরেও এসেছিলেন। কিন্তু ফিরে এসে পড়েছেন মহা অর্থসংকটে। যার জন্য বিক্রি করে দিতে হয়েছিলো বিয়েতে স্বামীর উপহার হিসাবে দেওয়া একে-৪৭ বন্দুকটি। ঘটনাটি এভাবেই বলছিলেন এক জার্মান আইনজীবী।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আইনজীবী বলেন, জিনিপ জি নামের এই জার্মান নারী মোট তিনবার সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসে যোগ দিয়েছিলেন। যা দেশের চলমান আইনে দেশবিরোধী ও যুদ্ধচুক্তি ভঙ্গকারী হিসেবে বিবেচিত।

আইনজীবী আরো বলেন, এই নারী আইএসে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে সিরিয়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে এক চেচেন যোদ্ধাকে বিয়ে করে পরিবার থেকে দূরে সরে যান। জানা যায়, প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর দেশদ্রোহীতায় অভিযুক্ত এই নারী ২০১৫ সালের অক্টোবরে এক জার্মান আইএস যোদ্ধাকে বিয়ে করে রাকায় চলে যান। পরে এই দম্পত্তি আবারো জার্মানিতে ফিরে আসেন। ফিরে এসে তারা আইএস থেকে পালিয়ে আসা এক ব্যক্তির বাড়ি দখল করে বসবাস শুরু করেন। যা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ ও দস্যুতার শামিল।

জিনিপ জি নামের এই নারী তাঁর স্বামীর কাছে বিয়েতে একটি একে-৪৭ বন্দুক উপহার চেয়েছিলেন। পরে তিনি সেটি পরিচালনা করতে শেখেন। যদিও চরম অর্থকষ্টে সেটি কয়েক সপ্তাহ পরেই বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

২০১৭ সালে তার দ্বিতীয় স্বামীও মারা যায়। তখন কুর্দিশ যোদ্ধারা তাকে আটক করেন। কিন্তু তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সে আবারো তুরস্কে আটক হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে জার্মানিতে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে সে জেলে আছে। 

তবে এরকম উপহারের ঘনঘটা না ঘটাই ভাল। এসকল উপহার মানুষকে অপরাধী হতে উৎসাহীত করতেই পারে। অপরাধী হওয়ার প্রেরণা যোগানো নিশ্চয়ই আমাদের কাছে বাঞ্চনীয় নয় !!