ঢাকা, রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ৫ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভদ্রতা বজায় রাখুন

ফিচার প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রবিবার, ১২:০০ পিএম
ভদ্রতা বজায় রাখুন

বেগম রোকেয়া সরণি ধরে ছুটছে বিকল্প সিটি সুপার সার্ভিস। তালতলা বাসস্টপে এসে থামল বাসটি। যাত্রীদের কেউ কেউ নামলেন, উঠলেন অনেকে। বাসের চাকা গড়ালে চালকের সহকারী যাত্রীদের করিডোর দিয়ে বাসের পেছনে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। কয়েকজন যাত্রী পেছনে যাওয়ার জন্য দু-এক পা এগুলেন। তখনই গোল বাধল।

যাত্রীদের একজন চিৎকার করে বলে উঠলেন, ‘ওই মিয়া, দেখে চলতে পারেন না। পাড়া দিলেন ক্যান?’ অভিযুক্ত লোকটি কর্কশ স্বরে বললেন, পা এমনে ছড়াইয়া রাখছেন কেন? দেখেন না, লোকে আসা-যাওয়া করতেছে।’ মহুর্তেই বাকবিতন্ডা তুমুল আকার নিল। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নন। ঝগড়া চলছে। বাস এগিয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে।

যারা নিয়মিত গণপরিবহনে যাতায়াত করেন, এমন ঘটনা তাদের কাছে উল্লেখযোগ্য কিছু নয়! স্বভাবিক ঘটনার মতোই, পরিচিত। রাজধানীতে চলাচল করা প্রায় সব লোকাল বাসে প্রতিদিনই অসখ্য বার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কেন ঘটে এমন ঘটনা, জানতে চাইলে সাত নম্বর লোকাল বাসের চালকের সহকারী আলামিন হোসেন বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, যাত্রীরা তো আমাগো কথা হুনে না। বাসে উইঠাই দরজার কাছে জটলা কইরা দাঁড়ায়া থাকে। সরতে কইলে সরে না, উল্টা ধমকায়। যহন যাত্রীরা চাপাচাপি শুরু করে, তহন দু-চার জন পিছনে চইলা যায়। ভিড়ের মধ্যে কারও গায়ে কারও পা লাগলে, কারও স্যান্ডেলে চাপ পড়লে, হাতব্যাগের ধাক্কা কিংবা ঠেলা লাগলেই হইছে, চেচামেচি শুরু। বাসের অন্য লোকেরা তাগোরে কিছু না বলা অবধি হেরা থামব না।

সাত, আট, ২৭, ৩৬ নম্বরসহ আরও কয়েকটি লোকাল বাসের চালক ও চালকের সহকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ লোক, ব্যবসায়ী, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, এমনকি বয়স্করাও মাঝেমধ্যে সামান্য কারণে বাসের ভেতরে অপ্রীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে একে অন্যকে হেয় করেন। লোকাল বাসে চলাচলকারী সব বয়সী নারী-পুরুষের মধ্যেই এ ধরনের আক্রমণাত্মক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

বর্তমান সময়ে লক্ষণীয়ভাবে ঢাকায় বসবাসকারী লোকদের সহনশীলতা কমছে। সহ্য ক্ষমতা হারাচ্ছে। উগ্রতা বাড়ছে। চারপাশের মানুষের ওপর এসবের প্রভাব পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সারাদিনের যাতায়াত ব্যবস্থার ধকল আমাদের ক্লান্ত করে দেয়। কর্মস্পৃহা কমায়। মানসিক অস্থিরতা বড়ায়। তাই সামাণ্যতেই আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাই।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারিক টুকু বলেন, এখন কিন্তু খুব সহজে আর বাসে ওঠা যায় না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর বেশ খানিকটা ঝঞ্ঝা পেরিয়ে বাসে উঠতে হয়। এখানেই শেষ নয়, বাসে ওঠার পর শুরু হয় টিকে থাকার যুদ্ধ। ঘামের দুর্গন্ধ, ঠেলাঠেলি, গরম আর জ্যাম সহ্য করে গন্তব্যে পৌছানোর অপেক্ষা।

ক্লান্তিকর যাতায়াত বিড়ম্বনায় মানুষ মেজাজ হারায়। খিটখিটে হয়ে ওঠে। প্রতিক্রিয়া প্রবণতা বাড়ে। একাধিক ব্যক্তি জানান, বাসের ভেতরে কারো সঙ্গে কারো ধাক্কা লাগলে বা সামান্য অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে এখন আর মানুষ দুঃখ প্রকাশ করেন না। বরং ঔদ্ধত্ত দেখান। তরুণদের মধ্যেই এ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ইদানিং মানুষের নৈতিকতা কমছে। সৌজন্যবোধ ক্ষয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে এটা পাকাপোক্ত সামাজিক সমস্যার আকার পাচ্ছে।

এ অবস্থা থেকে বেরুতে চাইলে ব্যক্তিপর্যায়ে প্রত্যেককেই সচেতন হতে হবে। পাবিরারিক ও সামাজিক শিক্ষা কাঠামো শক্তিশালী করতে হবে। সকলকেই ছাড় দেওয়ার মানসিকতা ধরে রাখতে হবে। সহিষ্ণু থাকার চেষ্টা করতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার/আরজে/জেডএ


Save