ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বয়স্নধিকালে সন্তানদের সামলাবেন কিভাবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৮:০২ এএম
বয়স্নধিকালে সন্তানদের সামলাবেন কিভাবে?

সাধারণত ১৩-১৪ বছর বয়সে সন্তানেরা বয়ঃসন্ধিকালে পা রাখে। তবে বর্তমানে এই বয়সের আগেও তাদের বয়ঃসন্ধিকাল আরম্ভ হয়ে থাকে। এসময় বাবা-মায়ের শাসন বাঁধন ছিঁড়ে স্বাধীনচেতা হয়ে উঠতে চায় কৈশোর মন। লেখাপড়ায় অমনোযোগিতা, অবাধ্যতা, জেদ, নিজেকে গুটিয়ে রেখে একলা থাকার অভ্যাস, মানসিক অবসাদ, ইন্টারনেটের নেশা, লুকিয়ে সিগারেট-মদ কিংবা বিপজ্জনক যৌনতা-বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানের এমনই সব নানা ব্যবহারে উদ্বিগ্ন হন অভিভাবকরা। এই পরিস্থিতিতে মারধর, শাসন করলে আরও দূরে সরে যায় আবেগপ্রবণ টিনএজার। সময় দিয়ে, বন্ধু হয়ে বাবা-মায়েরাই শেখান মূল্যবোধ। চলুন জেনে নিন এসময় সন্তানদের সামলাবেন কিভাবে?

বয়ঃসন্ধির ছেলেমেয়েদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী?
বাল্যকাল আর প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার মাঝামাঝি সময়টাই টিনএজ বা বয়ঃসন্ধিকাল। এই সময় তারা নিজেদের বড় হয়ে গিয়েছে বলে ভাবতে থাকে। নিজস্ব ভাবনা, ধারণা, মতামত তৈরি হয়। তাদের এইসব মতামতকে অভিভাবকরা গুরুত্ব না দিলে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তর্ক করে। জেদ ধরে। এমন ব্যবহারিক পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। এই পরিস্থিতিতে সন্তানকে নম্রভাবে বোঝান। তার বক্তব্য মন দিয়ে শুনুন।

এই সময় বাবা-মায়েদের ভুল হয় কোথায়?
তুই পারিস না, তোর দ্বারা হবে না-এমন নেতিবাচক কথা বলবেন না। মারধর করবেন না। আত্মসম্মানে লাগে এমন কথা বলবেন না। বাবা-মা নিজেদের ঝগড়া সন্তানের সামনে করবেন না। সন্তানের সামনে সিগারেট-মদ খাবেন না। ঘনঘন মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন না। এসময় তাদের শেখার সময় তাই তারা পরিবারের সদস্যদের দেখেই খারাপ অভ্যাসগুলো শেখে।

বাবা-মায়েরা এসময় তাদের সময় দেবেন কীভাবে?
যতই কাজের ব্যস্ততা থাকুক প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা কোয়ালিটি টাইম দিন সন্তানকে। এই সময় ছেলেমেয়ে যা বলবে বাবা-মা তাই শুনবে। সেটা একসঙ্গে গল্প করা, টিভি দেখা, গেমস খেলা যে কোনও কিছুই হতে পারে। সব সময় নিজের মতামত সন্তানের উপর চাপিয়ে দেবেন না। অন্যের সঙ্গে সন্তানের তুলনা করবেন না। কোনও জিনিস কেনার আগে ছেলেমেয়ের বক্তব্য শুনুন। তারপর যে মতামতে ভোট বেশি হবে তাতে সিদ্ধান্ত নিন। সপ্তাহে এক-একদিন এক-একজনের দাবিমতো রান্না করুন। এতে সন্তানের পরিবারের প্রতি দরদ ও দায়বদ্ধতা বাড়ে। একলা নিজের জগৎ গড়ে তোলার অভ্যাস তৈরি হয় না। এতে সন্তানের আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা বাড়ে, বাবা-মাকে গোপন করার প্রবণতা কমে, সৎ হয়। অন্যকে সম্মান করা, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার অভ্যাস গড়ে ওঠে।