ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের সাক্ষী কারমাইকেল কলেজ

মো. মাহমুদুল হাসান
প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২১ শনিবার, ০৮:০১ এএম
শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের সাক্ষী কারমাইকেল কলেজ

বাংলাদেশের অন্যতম একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।সৃষ্টির লগ্ন থেকেই বৃহত্তর রংপুরের শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ব্যাপক অবদান রেখে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি।বাংলার গভর্নর লর্ড ব্যারন কারমাইকেলের নামানুসারে এই কলেজের নাম রাখা হয় কারমাইকেল কলেজ।

১৯১৬ সালে কারমাইকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে রংপুরের কিছু শীর্ষস্থানীয় জমিদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা ৩০০ একর জমিতে কলেজ ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এই কলেজ ভবন নির্মাণের জন্য তারা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন।জার্মান নাগরিক ড. ওয়াটকিন ছিলেন কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ। 

কারমাইকেল কলেজ বৃহত্তর রংপুরের বাতিঘরতুল্য বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠাকাল বিবেচনায় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রবর্তী হওয়ায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাই উত্তরবঙ্গের অক্সফোর্ড হিসেবে অভিহিত করা হয়ে থাকে। কলেজ ভবন যা বর্তমান বাংলা বিভাগ জমিদারি স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। যা বাংলার সমৃদ্ধশালী ইতিহাস মোঘলীয় নির্মাণ কৌশলকে মনে করিয়ে দেয়। 

কারমাইকেল কলেজ একসময় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯১৭ সালে কলা বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক চালু করা হয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিজ্ঞান ১৯২২ সালে ও বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক ১৯২৫ সাল থেকে শুরু হয়। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। দেশ বিভাগের পর ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৫৩ সালে নতুনভাবে স্থাপিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন করা হয় যা ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর কারমাইকেল কলেজ ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হয়।

৩০০ একর ভূমির উপর অবস্থিত কারমাইকেল কলেজের সুবিশাল ক্যাম্পাস। ছায়া সুনিবিড় এই বিশাল প্রাঙ্গনে একটি ক্যান্টিন, একটি সুদৃশ্য মসজিদ,একটি মন্দির, ছাত্র-ছাত্রীদের আবাসিক হল,বিভিন্ন বিভাগীয় ভবন এবং বিশাল দুটি খেলার মাঠ। ক্যাম্পাসের দক্ষিণে রংপুর ক্যাডেট কলেজ, উত্তরে রংপুর রেল স্টেশন ও ঐতিহ্যবাহী লালবাগ হাট-বাজার এবং চারপাশ ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছাত্রাবাস।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর শিক্ষক ডি এন মল্লিক কারমাইকেল কলেজে শিক্ষকতা করেছেন দীর্ঘদিন। সন্জীদা খাতুন অধ্যাপনা করেছেন বাংলা বিভাগে। পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী এ কলেজে পড়ালেখা করেছেন। শহীদজননী জাহানারা ইমাম, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক কারমাইকেল কলেজের ছাত্র। বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার গাইবান্ধার কৃতী সন্তান শাহ্ আবদুল হামিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপিও কারমাইকেল কলেজেরই ছাত্র ছিলেন।

বর্তমান জেলা শহরের ব্যস্ততা ও কলকাকলি থেকে তিন মাইল দক্ষিণে স্তব্ধ, নিঝুম সমাহিত সবুজের সমারোহে সমুজ্জ্বল পরিবেশে আজও কারমাইকেল কলেজটি সগর্বে দাঁড়িয়ে আছে এবং হাতছানি দিয়ে ডাকছে অগণিত ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষার্থী, জ্ঞানপিপাসু ও পর্যটকদের। শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কলেজটি।