ঢাকা, শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনাকালের ঈদ শপিংয়ে মানতে হবে যেসব সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৪ এএম
করোনাকালের ঈদ শপিংয়ে মানতে হবে যেসব সতর্কতা

দেশে করোনা পরিস্থিতি খুব একটা স্বাভাবিক রুপে না ফিরলেও ঈদকে সামনে রেখে খুলে দেওয়া হয়েছে শপিংমল ও দোকান-পাট। তবে লকডাউন চলমান রয়েছে। সুতরাং এই বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, করোনার প্রভাব কিন্তু কমে যায় নি। করোনা থেকে নিজে ও পরিবারকে বাঁচাতে সতর্ক থাকতে হবে নিজেকেই। শর্ত সাপেক্ষে অর্থাৎ করোনা স্বাস্থবিধি মেনে শপিংমল ও দোকান খোলার অনুমতি দিলেও অধিকাংশ জায়গাতেই তেমন সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছেনা মালিক পক্ষের। তাই বলে তাদের সাথে নিজেকে গা ভাসালে চলবে না। করোনার এমন বেহাল পরিস্থিতিতেও যাতে ঈদের আনন্দ ম্লান না হয়ে যায় সেই কথা মাথায় রেখে, পরিবারের ছোটদের মুখের দিকে তাইকে হয়তো যেতেই হচ্ছে শপিং করতে। তাই শপিং করতে যেতে কিছু সতর্কতা একেবারেই ভুলে যাওয়া চলবেনা। চলুন দেখে নেওয়া যাক করোনাকালে শপিংয়ে কোন সতর্কতাগুলো জরুরী- 

ডাবল মাস্ক পরা
মহামারির এই সময় মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই। ঘর থেকে বের হলেই মুখে মাস্ক পরা জরুরি। একমাত্র মাস্ক ব্যবহারের মাধ্যমেই করোনা সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এই মুহূর্তে ২টি বা ৩টি মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ করোনাভাইরাস এতোটাই সুক্ষ্ম হতে পারে যে, বাতাসে ছড়িয়ে মানবদেহে সক্রমণ ঘটায়। বিশেষজ্ঞরা এখন করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা রোধ করতে সবাইকে ডাবল মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন। সুতরাং মাস্ক পরার ব্যপারে একেবারেই গাফিলতি নয়। 

কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা
দোকান কিংবা শপিং মলে গিয়ে কেনাকাটার নেশায় সামাজিক দূরত্বের কথা যেন একেবারেই কারো মাথায় থাকেনা। অনেকেই দেখবেন যেন গায়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। তবে নিজেও সেই দলে যুক্ত হলে চলবে না। নিজের ও পরিবারের সুরক্ষায় অবশ্যই অন্যদের তুলনায় কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে যে দোকানে ভিড় বেশি সেই দোকান এড়িয়ে চলবেন অথবা ভিড় কমার অপেক্ষা করুণ। 

ট্রায়াল রুম ব্যবহার করবেন না
যেহেতু বাতাসের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে সুতরাং অবশ্যই ট্রায়াল রুম ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন। কেননা ট্রায়াল রুমের পরিধি ছোট হওয়ায় এতে ঝুঁকি একটু বেশি। এর পরিবর্তে প্রয়োজনে যা যা কিনবেন সেগুলোর অনুপাতে একটা মাপ নির্ধারণ করে যেতে পারেন। এতে করে ট্রায়াল না দিয়েও সঠিক মাপের পোশাক কেনা সম্ভব হবে। 

কিছু জিনিস অবশ্যই সাথে রাখুন
মাস্কের পাশাপাশি হ্যান্ড গ্লোফ ব্যবহার করুন। বাইরে গেলে বিভিন্ন জায়গায় নিজের অজান্তেই হাত চলে যায়। যেমন ধরুন লিফট এর বাটন, সিড়ির রেলিং, দোকানের দরজার হুক ইত্যাদি। তাছাড়া সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিতে ভুলবেন না। কারণ সকল দোকানে তাদের স্যানিটাইজার ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে। সুতরাং নিজের সতর্কতা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। 

বাড়িতে পৌঁছে অবশ্যই গোসল করুন
শপিং মল বা মার্কেট থেকে বাসায় ফিরে অন্য কোথাও না গিয়ে দ্রুত বাথরুমে চলে যান। তারপর সব পোশাক ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে ভালো করে সাবান-পানি দিয়ে গোসল করে নিন। ঘরে প্রবেশের সময় জুতা বাইরে খোলা স্থানে রাখুন। ব্যবহৃত পোশাকগুলো ভালো করে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিন। শপিং মল থেকে কিনে আনা পোশাকের ব্যাগটি স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করুণ অথবা আরও বেশি সচেতনতা অবলম্বনে পরিষ্কারের পর একটি স্থানে অন্তত ৭২ ঘণ্টা রেখে দিন। তাহলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।