ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ , ৪ কার্তিক ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ভাস্কর্য

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৩:৩৯ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদী ভাস্কর্য

বাংলাদেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে নানারকম ভাস্কর্য। এগুলো যেমন ক্যাম্পাসের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী একই সঙ্গে সৌন্দর্য বর্ধনেও অবদান রয়েছে। আবার কিছু ভাস্কর্য বাঙ্গালি জাতিসত্ত্বার প্রতিবাদী রূপের পরিচয় বাহক। বাংলা ইনসাইডারের আয়োজনে এমন কিছু ভাস্কর্যের কথাই তুলে ধরা হলো।

রাজু স্মারক ভাস্কর্য


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে রাজু ভাস্কর্য অবস্থিত। এই ভাস্কর্যটি ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃপ্তকণ্ঠে সম্মিলিত প্রতিবাদের এক অনন্য প্রতীক। এ ভাস্কর্যে বৃত্তাকারে স্থাপিত আটজন নারী-পুরুষের একে অন্যের হাত ধরে হার না মানা প্রতিবাদের অভিব্যক্তি প্রকাশ পাচ্ছে। ভাস্কর্যটি ১৬ ফুট দীর্ঘ, ১৪ ফুট প্রশস্ত এবং ১০ ফুট উঁচু। ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।

১৯৯২ সালের ১৩ মার্চ গণতান্ত্রিক ছাত্র ঐক্যের সন্ত্রাস বিরোধী মিছিল চলাকালে সন্ত্রাসীরা গুলি করলে মিছিলের নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজু নিহত হন। রাজুসহ সন্ত্রাস বিরোধী আন্দোলনের সকল শহীদের স্মরণে এই ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়।

অমর একুশে


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটরিয়া সংলগ্ন চত্বরে এই ভাস্কর্যটি অবস্থিত। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতির ধারক ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে অমর একুশে ভাস্কর্যটি অন্যতম। এর স্থপতি শিল্পী জাহানারা পারভীন। ভাস্কর্যটির স্তম্ভসহ কাঠামোটির মোট উচ্চতা ৩৪ ফুট। এটি নির্মাণ করা হয়েছে চুনাপাথর, সিমেন্ট, ব্ল্যাক আইড, বালি, মডেলিং ক্লে প্রভৃতি দিয়ে।

ভাস্কর্যটিতে মা-বাবার কোলে সন্তানের লাশ এবং এর পেছনে শ্লোগানরত অবস্থায় একজনের প্রতিকৃতি দেখানো হয়েছে । ‘অমর একুশে’ নামের মধ্যে বায়ান্নর সেই উত্তাল সময়কে যেমন ধরে রাখা হয়েছে তেমনি একটি শাণিত চেতনাকেও তুলে ধরা হয়েছে।

স্ফুলিঙ্গ


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা আবাসিক হল প্রাঙ্গণে এই ভাস্কর্যটি অবস্থিত। কনক কুমার পাঠক এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। ৫ মে, ২০১২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান ভাস্কর্যটি উদ্বোধন করেন।

১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গুলিতে নিহত হন শামসুজ্জোহা। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শহীদ শামসুজ্জোহা হল প্রাঙ্গণে এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেন। এটির উচ্চতা ১৫ ফুট, দৈর্ঘ্য ৩৮ ফুট ও প্রস্থ ২৪ ফুট। এই ভাস্কর্যটিতে শহীদ ড. শামসুজ্জোহার ৩ ফুট উচু আবক্ষ প্রতিকৃতি আছে। ইট-সিমেন্ট-লোহার সমন্বয়ে ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে। এটি নির্মাণে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএম/জেডএ