ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

লকডাউনে প্রাণ ফিরেছে পরিবেশের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ জুন ২০২১ শনিবার, ০৮:০০ এএম
লকডাউনে প্রাণ ফিরেছে পরিবেশের

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই সারা বিশ্বে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। অনেক দেশে চলছে লকডাউন আবার অনেক দেশে কঠোর বিধিনিষেধ। করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে বাংলাদেশেও এখনো লকডাউন চলছে। এই লকডাউনের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পরিবেশ। মানুষের এই লকডাউনের ফলে প্রাণভরে যেন শ্বাস নিচ্ছে প্রকৃতি। 

আজ বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমরা যেমন পরিবেশ চাই ধীরে ধীরে সেই পরিবেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রকৃতি ও পরিবেশ। পরিবেশ সাজছে নতুন সাজে। ধরা যাক মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার কথাই। সরকারঘোষিত লকডাউনের কারণে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত চিড়িয়াখানা বন্ধ রেখেছে। এতে করে দেখা গেছে চিড়িয়াখানার প্রতিটি প্রাণীর মধ্যে বৈচিত্র লক্ষ্য করা গেছে। তাদের উৎফুল্লতা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রচুর সংখ্যক বাচ্চা দিচ্ছে এই সব পশু-পাখি। এমনকি এমন অবস্থা, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ হরিণ এবং ময়ূর এর জায়গা সংকুলান না করতে পেরে এর মধ্যে থেকে কিছু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

জাতীয় উদ্যান বন্ধ থাকায় সেখানকার প্রকৃতি সেজেছে এক ভিন্ন সাজে। যেনো তাদের হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা। সব উদ্ভিদ ডাল পালা ছড়িয়ে শান্তির নিঃশ্বাস ফলেছে। আর তাদের সেই শান্তির নিঃশ্বাসে উপকৃত হচ্ছে ঢাকাবাসীও। একই সঙ্গে তারাও বাঁচছে সেই সঙ্গে অবলীলায় মানুষের জন্যও করে যাচ্ছে। 

শুধু তাই নয় লকডাউনে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বন্ধ করে দেওয়ায় প্রাণ ফিরতে শুরু করেছে সমুদ্র সৈকতের। বীচ জুড়ে লতাপাতায় ভড়ে যাচ্ছে। যা কোন সময় দেখা যায় না সেটিরও দেখা মিলছে। ডলফিনের ঝাঁক কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে খেলে বেড়াচ্ছে। তাদের কাছে পরিবেশ উঠেছে নিরাপদ। 

খেয়াল করলে দেখা যাবে, নগর জুড়ে পাখি এবং প্রজাপতি যেন ফিরে এসেছে। গাছ গুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেগুলো কি গাঢ় সবুজ। মনে হয় যেন কেউ পরিষ্কার করে রেখে গেছে। আসলে বাতাসে ধুলার পরিমাণ কমে গেছে। ফলে গাঢ় সবুজ দেখাচ্ছে। ঢাকার আকাশে দেখা মিলছে গ্রামের ক্ষেতে-খামারের সেই সাদা বকের ঝাঁক। এর থেকে বোঝা যায় যে, পরিবেশ তার নিজস্ব ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারঘোষিত লকডাউনে ঢাকার বায়ুমানের উন্নতি হয়েছিল। যদিও সেই বায়ুমান আবার অবনতির দিকে। লকডাউনের ফলে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন, কলকারখানাসহ বায়ুদূষণের অন্য উৎস বন্ধ থাকায় এ উন্নতি ঘটেছিল বলে মনে করছেন পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এখন সব কিছু খোলা ফলে ঢাকার বায়ুমান আবার অবনতির দিকে।

এই পৃথিবীর অধিকার শুধু মানুষের একার নয়, পরিবেশ প্রকৃতিরও অধিকার আছে। প্রকৃতিতে অন্য যে প্রজাতি আছে তাদের অধিকার অক্ষুণ্ন না রাখলে আমরা মানুষ হিসেবে টিকে থাকতে পারব না। সে কারণে এই পরিবেশ দিবসে আমাদের একটিই কামনা থাকবে পরিবেশ বাঁচাই। পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে।