ঢাকা, সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শ্বাপদেরা ধেয়ে এলো হাঁটি হাঁটি পা’য়

আহনাফ তাহমিদ
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার, ০১:০০ পিএম
শ্বাপদেরা ধেয়ে এলো হাঁটি হাঁটি পা’য়

২০১১ সালে জোনাথন নোলানের একটি টিভি সিরিজ বের হয়েছিল, নাম Person of Interest. সিরিজের মূল বক্তব্য ছিল, আপনি যা কিছুই করুন না কেন, নজরদারি থেকে বাঁচতে পারবেন না। সিসিটিভি, ক্যামেরা ইত্যাদি যা কিছুই আপনার চারপাশে থাক, কী করছেন না করছেন, সবকিছুই দেখা হবে। আগামীর যুদ্ধটা হবে সাইবার ওয়্যারফেয়ারের। তখনকার সময়ে সিরিজটা দেখে ভেবেছিলাম এমনটা কি সত্যিই ঘটবে কিনা। প্রযুক্তিকে ধন্যবাদ। টিভি সিরিজের কথাটিই আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। দুনিয়ার তাবত বড় বড় প্রধান থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষেরাও সুরক্ষিত নয়।

ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠান এনএসওর তৈরি করা সফটওয়্যার এখন যে কোনো স্মার্টফোনে হানা দিতে সক্ষম। মোবাইলের সুরক্ষাস্তর যতটাই দুর্ভেদ্য হোক না কেন, আঘাত হানতে পেগাসাস পুরোপুরিভাবে সক্ষম।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানসহ ১৬টি সংবাদপত্রের অনুসন্ধানের মধ্য দিয়েই পেগাসাস কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এসেছে। বলা হচ্ছে, এনএসও গ্রুপ থেকে এই স্পাইওয়্যার কিনে নিজের দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি চালিয়ে আসছে ‘কর্তৃত্ববাদী’ সরকারগুলো।

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিকদের ফোনে নজরদারি চালানোর ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ইসরায়েলি কোম্পানি এনএসও গ্রুপের তৈরি করা এই সফটওয়্যার নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।

বিশ্বের ৪৫টি দেশের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। তাদের মধ্যে ১০টি দেশ ওপরের দিকে আছে, এবং তালিকায় আছে বাংলাদেশের নামও।

এখানে বেশ কিছু বিষয় দেখবার আছে।

সাংবাদিকেরা বিভিন্ন স্থানে যান ঘটনা সংগ্রহ করবার জন্য। ইন-ডেপথ নিউজ রিপোর্টিং-এর জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের কেউ যদি রুষ্ট হন, তাহলে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে হানা দেয়া কোনো ব্যাপারই নয়।

এছাড়াও রাজনৈতিক বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে নির্দ্বিধায়। আজকের দিনে এমন সফটওয়্যার হাতে পেলে তাদের একদম পোয়াবারো অবস্থা। গণতন্ত্রের কোনো বালাই থাকছে না, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হচ্ছে, সমালোচনা বলতে কী বোঝায়, তা আগামীর বিশ্ব মোটেও বুঝতে পারবে না। স্মার্টফোন কিংবা প্রযুক্তি ছাড়া আজকের দিনে চলার কথা কল্পনাও করা যায় না। আর সেখানে পেগাসাস নামের এই স্পাইওয়্যারের মূল শক্তি হচ্ছে সন্তর্পণে আপনার মোবাইলে প্রবেশ করে সুরক্ষাস্তরকে ঠুনকো করে দিয়ে গোপন সবকিছু হাতিয়ে নেয়া। এমনকি এমন সব কাজ করা সম্ভব হয়ে, যাতে এই সফটওয়্যারের গ্রাহক পুরো ফোনটিকেই নিজের কব্জায় নিয়ে নিতে পারবে। বেচারা ফোন মালিকের নাম করে কোনো অপরাধ করে বসাও অসম্ভব কিছু নয়। 

এই পেগাসাসকে নামের পাগলা ঘোড়াকে কেমন করে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। কেউ কেউ বলছেন, একে থামাবার কোনো উপায় তাদের হাতে নেই। তাই একথা অনস্বীকার্য ভাবেই মেনে নিতে হবে যে কখন পেগাসাস কার ওপর আঘাত হানবে, তা কারও জানা নেই। সুতরাং, যতটুকু সম্ভব, একটু সাবধানতা অবলম্বন করেই চলা উচিত আমাদের। 

  

বিষয়: পেগাসাস