ঢাকা, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু অভিশপ্ত আসবাবপত্র (পর্ব ১) 

আহনাফ তাহমিদ 
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২১ শুক্রবার, ০৮:০২ এএম
পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু অভিশপ্ত আসবাবপত্র (পর্ব ১) 

মানুষ চিরকাল একই স্থানে বসবার করে না। সময়ের প্রয়োজনে কিংবা চাহিদার তাড়নায় একস্থান থেকে অন্যস্থানে মানুষকে যেতেই হয়। সাথে থাকে ব্যবহার্য কিছু আসবাব, তৈজস, থাকে শখের কিছু দ্রব্যাদি। মাঝে মাঝে এমন কিছু গল্প উঠে আসে যা কল্পনাকেও হার মানায়। কেমন হবে, যদি আপনি শুনতে পান আপনার প্রিয় চেয়ারটিতে ভূতের ছায়া রয়েছে? কিংবা যে আয়নায় প্রতিদিন নিজের অতি প্রিয় মুখশ্রী দেখে ঘুমুতে যান, সেখানেই প্রায় শত বছর আগে মাথা কুটে মরেছিল এক নারী? এমন ব্যবহার্য জিনিসগুলোই কালে কালে সময়ের সাথে অভিশপ্ত বলে পরিণত হয়েছে। শুনতে পাওয়া যায় যে এদের ওপর ভর করে থাকা প্রেতাত্মা নাকি খুন করেছিল ব্যবহারকারীকে, জখম করে প্রায় আধমরা করেছিল পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। আসুন, আজ এমনই কিছু অভিশপ্ত আসবাবপত্রের সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক। 

বাসবি স্টুপ ইন চেয়ার 
বাসবি স্টুপ ইন চেয়ারকে অভিশাপ দিয়েছিলেন থমাস বাসবি। ১৭০২ সালে ড্যানিয়েল অটিকে খুনের দায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিল। এই ড্যানিয়েলের সাথে মুদ্রা পাচারে জড়িত ছিলেন থমাস। এছাড়াও দুজনে মিলে নকল মুদ্রা তৈরি করে তা বাজারে ছড়িয়ে দিয়ে বেশ অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করেছিলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ড্যানিয়েল ছিলেন বাসবির শ্বশুর। অর্থাৎ, মেয়ের জামাইয়ের সাথে তিনি মিলে তৈরি করেছিলেন অপরাধের এক স্বর্গরাজ্য। তবে এই রাজ্যে সুখ বেশিদিন রইল না। একদিন ড্যানিয়েল থার্স্ক ইনে এলেন যেখানে বাসবি তার স্ত্রী এলিজাবেথকে নিয়ে বসবাস করতেন। কেউ কেউ বলেন ড্যানিয়েল শুধুমাত্র তার মেয়ের সংসার দেখতেই এসেছিলেন। কেউ কেউ বলেন মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছিলেন। তবে ঘটনা যাই হোক না কেন, মেয়ের জামাই ও শ্বশুরের মাঝে তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। মাতাল বাসবি সেদিন খুব ক্ষেপে ছিল। আরও একটি কারণ হচ্ছে, ড্যানিয়েল তার প্রিয় চেয়ারে বসে পড়েছিলেন। ঝামেলা মিটে যাবার পর ড্যানিয়েল মেয়ের বাড়ি ত্যাগ করে নিজের বাড়ির পথ ধরেন কিন্তু চুপিসারে তার পিছু নেন বাসবি। তার হাতে ছিল বিশালাকার একটু হাতুড়ি। হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়েই নিজের শ্বশুরকে হত্যা করেন তিনি। বাসবিকে গ্রেফতার করা হয়। রায়ে হয়ে যায় ফাঁসী। মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছাপূরণে বাসবি বলে যে একটিবার প্রিয় চেয়ারটিকে তার কাছে এনে দেয়া হোক। চেয়ারটি এনে দেবার পর সে এটিকে অভিশাপ দিয়ে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় নানা বিপত্তি। এই চেয়ারে যেই বসেছিল, তার হয়েছে রহস্যজনক মৃত্যু। কেউ পানিতে ডুবে মারা গিয়েছে, কেউ আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছে, কেউ বা আবার মারা গিয়েছে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে। ১৯৭০ এর দশকে টনি আর্ণশ নামক একজন ব্যক্তি ড্যানিয়েলের বাড়িটি কিনে নেন। চেয়ারের নানা কিচ্ছাকাহিনী শুনবার পর থেকে তিনি এতটাই বিরক্ত ছিলেন যে এটিকে সেলারে আটকে রেখে দেন যাতে কেউ আর এতে বসতে না পারে। তবুও নাছোড়বান্দা কিছু মানুষ সেলারে গিয়ে চেয়ারে বসেছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন টনির গাড়ির ড্রাইভার। একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এই ড্রাইভারের মৃত্যু হবার পর টনি এই চেয়ারটিকে থার্স্ক জাদুঘরে দান করে দিয়েছিলেন।