ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ফুজিমতোর `অরণ্য` লাইব্রেরী

আহনাফ তাহমিদ
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ বৃহস্পতিবার, ০৮:০৮ এএম
ফুজিমতোর `অরণ্য` লাইব্রেরী

আজ একটা মজার লাইব্রেরী সম্পর্কে জানা যাক। লাইব্রেরীটি তৈরি হয় ২০১০ সালে। নির্মাতার নাম চৌ ফুজিমতো। প্রায় ৩০০০ বর্গমিটার (২৮৮৩.১৮) জায়গা নিয়ে এই লাইব্রেরীটি বিস্তৃত। নাম হলো মুসাশিনো আর্ট ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরী। স্থান জাপানের টোকিও।

ফুজিমতো এমন একটি লাইব্রেরী বানাতে চেয়েছিলেন যেটি হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ লাইব্রেরী। এখানে কোন জৌলুস থাকবে না, কোন চাকচিক্য থাকবে না, এমনকি একটি সাধারণ লাইব্রেরীর যে ভাবগাম্ভীর্য থাকা উচিত, সেটিও থাকবে না। লাইব্রেরীটি হবে পাঠক আর বিপুল বইয়ের সমাহার, এই দুইয়ের মাঝে একটি সেতু তৈরি করা, যে সেতুটি কেবল মেলবন্ধনই সৃষ্টি করতে জানে। কোন ধরণের বাঁধা নয়।

আসা যাক আবার ফুজিমতোর কথায়। তার মতে, একটি লাইব্রেরী তৈরি করবার জন্য চারটি জিনিসের প্রয়োজন। ব্যস, তাতেই হয়ে যাবে আপনার লাইব্রেরী মনের মত।প্রথম উপকরণ হচ্ছে, বই।দ্বিতীয় উপকরণ, বই রাখার স্থান বা বুক শেলফ।তৃতীয় উপকরণ, বিপুল আলো বাতাস।চতুর্থ উপকরণ, একটি সুন্দর স্থান।

ফুজিমতো কি তার এই চারটি উপকরণের সম্মিলন ঘটাতে পেরেছেন? তিনি পেরেছেন। তার তৈরি করা এই লাইব্রেরীর কাঠামো কি দিয়ে তৈরি জানেন? শুধুমাত্র বুক শেলফ। আর বাইরের আবরণটা কাঁচের তৈরি। কোন মার্বেল পাথরের গাঁথুনি নয়, ইটের তৈরি শক্ত দেয়াল নয়। শুধুমাত্র বুক শেলফ ও কাঁচ দিয়ে ফুজিমতো তৈরি করে ফেললেন পৃথিবীর অন্যতম সরল সাবলীল একটি লাইব্রেরী।

লাইব্রেরীটি মূলত সর্পিলাকার। মূল ভাবনা ছিল, এমন একটি আর্ট গ্যালারী তৈরি করা হবে যেখানে কলা ও সংস্কৃতির নানা উপাদানের সাথে জ্ঞানের ক্ষুধার পরিতৃপ্তি মেটানো যাবে, এমন একটি লাইব্রেরীও স্থাপন করা। প্রায় ২০ ফিট উঁচু উঁচু বুকশেলফগুলোই এই লাইব্রেরীর দেয়াল, বেষ্টনীর কাজ করছে।

ফুজিমতো তার এই লাইব্রেরীর সর্পিল আকৃতি প্রদান করবার জন্য নিউমেরিকাল সাহায্যও নিয়েছেন। এটি একটি বইয়ের অরণ্যের সাথেই কেবল তুলনা করা যায়। একটি “জিগজ্যাগ”, যেখানে আপনি পাবেন ১-৯ সংখ্যা বিশিষ্ট বুকশেলফের আস্তরণ। ভেতরে ঢুকলে আপনাকে বইয়ের এই অরণ্য ধীরে ধীরে গ্রাস করবে, একথা নিশ্চিত ভাবেই বলে দেয়া যায়।