ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশ কি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকাতে প্রস্তুত?

সামীর রূহানী
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২১ শনিবার, ০৮:১০ এএম
বাংলাদেশ কি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকাতে প্রস্তুত?

প্রাকৃতিক বিপর্যয় আপনার পারমিশন নিয়ে আসবে না। আপনাকে পরিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এখন সারা বিশ্বে বৈশ্বিক উষ্ণতা চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। যার ফলশ্রুতিতে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও একের পর এক ভয়াবহ মাত্রায় ভূমিকম্প জলচ্ছাস দাবানল বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে যা পৃথিবীর ইতিহাসে নজিরবিহীন। প্রতিদিন পৃথিবীর শীতলতম অঞ্চল এন্টার্কটিকা আর গ্রীনল্যান্ডের গড়ে ৯০০ টন করে বরফ গলে যাচ্ছে যেটা কেউ ঠেকাতে পারছে না। যার কারণে পৃথিবীর সব সমুদ্রের পানির উচ্চতা আর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সমুদ্রের তাপমাত্রার অস্থিরতার কারণে প্রতিদিন পৃথিবীর কোনো না কোনো সমুদ্র সৈকতে গভীর সমুদ্রের বিশাল বিশাল সব মাছেদের মরে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। সমুদ্রের ইকো সিস্টেম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব পৃথিবীর জন্য হুমকি স্বরূপ। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সম্প্রতি আমরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নজিরবিহীন বন্যা পরিস্থিতি দেখছি বিশেষ করে ইউরোপের মাটিতে। যেমন ব্রিটেন জার্মানী অস্ট্রিয়া বেলজিয়াম ক্রুয়েশিয়া ইতালি লাক্সেমবার্গ নেদারল্যান্ড সুইজারল্যান্ড নিউজিল্যান্ড তুরস্ক আবার এদিকে চীন ইন্ডিয়া আর মধ্য প্রাচ্য রয়েছে। ছবিতে টর্নেডোর আঘাতে তছনছ হওয়া মাসকাট আর ইউরোপের বন্যার অবস্থা দেয়া হয়েছে। একই ভাবে বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পানিরো উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু আমরা এর জন্য কতটা প্রস্তুত? আমরা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ভয়াবহ দাবানলে আমেরিকা ব্রাজিল চিলি কলম্বিয়া বুলগেরিয়া ফ্রান্স ইতালি ইজরায়েল গ্রিস তুরস্ক সহ অসংখ্য দেশ কে জ্বলে পুড়ে ছারখার হতে দেখেছি। ছবিতে তুরস্কের দাবানলের ভয়াবহতা দেখতে পারেন। একই ভাবে আমাদের চট্টগ্রামের পাহাড়ী অঞ্চলে খুলনার সুন্দরবন সহ সিলেটের একটা অংশে বনাঞ্চল রয়েছে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির জন্য আমরা ঠিক কতটা প্রস্তুত? যেখানে রাজধানীর কোনো বিল্ডিং বা কারখানায় আগুন লাগলে দশ তলার সমান সামান্য ক্রেন পর্যন্ত আমাদের দেশে থাকে না। আর এমার্জেন্সি সময়ে আগুন নেভানোর জন্য ফায়ার হাইড্রেন্টের না থাকার কথাটা বলে আর লজ্জা দিতে চায় না। এসবের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে উচ্চ মাত্রা সম্পন্ন সব ভূমিকম্প বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিনিয়ত আঘাত হানছে। যেমন পেরু জর্ডান লেবানন ইরান ইজরায়েল পাকিস্তান তুরস্ক মিশর তিউনেশিয়া স্পেন নেপাল সহ আরো অনেক দেশে ইতিমধ্যে বিশ্ব ভূমিকম্পের তান্ডব দেখেছে। কিন্তু এই উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প প্রতিহত করতে আমরা কতটা প্রস্তুত কেউ বলতে পারবেন? যেখানে কিছুদিন আগে সিলেট একের পর এক ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছিলো। যদি ভাবেন এমন আর হবে না তাহলে বোকার স্বর্গে বসবাস করছেন আপনারা। আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে সম্প্রতি ঢাকা ভার্সিটির ভূ - তত্ত্ব বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশে আট মাত্রার মানে অতি উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প যে কোনো সময় আঘাত হানতে প্রস্তুত আছে। কারণ ভূমিকম্পের জন্য দায়ী মাটির চৌম্বকীয় তত্ত্বের যে প্লেট রয়েছে যার সংঘর্ষে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় সেখানে বাংলাদেশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটা স্থানে অবস্থান করছ। বাংলাদেশ ইউরেশিয়া আর বার্মা প্লেটের মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থান করছে। আর এই যৌথ প্লেট হাজার বছর ধরে একটা শক্তি সঞ্চয় করে রেখেছে যেটা যে কোনো সময় ধাক্কা দিয়ে ছেড়ে দিতে পারে। যার ছোট ছোট কিছু পূর্বাভাস আপনারা সিলেটের ভূমিকম্পের মাধ্যমে পরিলক্ষিত করেছেন। আর আমাদের দেশে মাশাল্লাহ কয়টা বিল্ডিং ভূমিকম্প প্রতিরোধ হিসাবে গড়ে তোলা হয় দেখাতে পারবেন আপনারা? এদেশে তো অবৈধ ঘুষের টাকা দিলে বিল্ডিংএর নকশা দূরে থাক! বালু দিয়ে ভরাট করা রিস্কি জমির উপরেও আলিশান অট্টালিকা বা তাসের ঘর বানানোর পারমিশন বের করা যায় তাই না? এভাবেই দুর্নীতি নামের ক্যান্সার আমাদের সোনার দেশটাকে একদম মাটির নিচ থেকে শেষ করে দিচ্ছে। আর জাদুর শহর রাজধানী ঢাকার কথা আর কি লিখার আছে। সেখানে একটু উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই এক তৃতীয়াংশ বিল্ডিং আর স্থাপনা মাটির সাথে মিশে যাবে। কয়েক বছর আগে জাপানের একটা শহরে এমন ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিলে জাপান সরকার গোটা শহরের সেফটির জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় মাটির নিচের ভূমিকম্প সৃষ্টি করা প্লেটের চৌম্বকীয় তত্ত্বের পরিবর্তন ঘটিয়েছিলো। আমাদেরও সময় আছে এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। দরকার শুধু সঠিক রোডম্যাপ গঠন করা আর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার। এদিকে বাংলাদেশের একাধিকবার বিষাক্ত জলবায়ুর দেশ হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করার রেকর্ড পর্যন্ত রয়েছে। আরব বিশ্বের সব দেশে তেল বিক্রি করে গাছ কিনে তারা মরুভূমিতে বনাঞ্চল সৃষ্টি করছে। অথচ আফসোস আমরা আমাদের দেশে গাছ কেটে কেটে দেশটাকে মরূদ্যান বানিয়ে দিচ্ছি। আর গাছ কাটার কারণে যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে সেটার গরম থেকে বাচার জন্য আবার গাছ কেটে ঘরে এসি লাগাচ্ছি হাস্যকর। আচ্ছা আপনাদের এই এসি কি বেচে থাকার জন্য অক্সিজেন দিতে পারবে যেটা গাছ আপনাদে দিচ্ছে? আজ দেশের শহরাঞ্চলের ঘরে ঘরে একাধিক মানুষ বিভিন্ন ধরনের শারিরীক অসুস্থতায় ভুগছে। কারণ পর্যাপ্ত গাছ থাকলে গাছ পরিবেশ থেকে বিষাক্ত সব ধরনের জীবাণু শোষণ করে নেয়। আর গাছ কেটে ফেলার কারণে এসব জীবাণু মানব দেহে প্রবেশ করে করে বিভিন্ন কঠিন রোগের সৃষ্টি করছে। আবার পুষ্টিকর খাদ্য খেয়ে যে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখবেন সেটারো অপশন নাই। কারণ খাদ্যে ভেজাল যেটা আপনাকে উল্টা আরো অসুস্থ করে ফেলছে । এসব সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব না। বাংলাদেশের মাননীয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বিষয় নিয়ে যথেষ্ট সচেতন আছেন। তিনি একের পর বিভিন্ন ফান্ড গঠন করে বরাদ্দ দিয়ে সবকিছু ঠিক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কিন্তু ঐ যে দুর্নীতি সব শেষ করে দিচ্ছে। বাস্তবে দিনশেষে এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভিকটিম কিন্তু আমরাই হচ্ছি কোনো না কোনো ভাবেই। তাই আসুন আমরা সবাই মিলে সৎ হয়ে যায় যদি এসব ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে দেশটাকে বাচাতে চাই। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের যারা প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে কাজ করেন তারা ইচ্ছা করলে আমরা একসাথে দেশের জন্য কাজ করতে পারি। দেশের জন্য অবদান রাখতে চাই। সবাই মিলে সঠিক প্লানিংএর মাধ্যমে আমরা এসব অনিবার্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিহত করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।