ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ৪ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনা কি তবে বিদায় নিচ্ছে?

হাসিব মুরাদ
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২১ রবিবার, ০৮:১৭ এএম
করোনা কি তবে বিদায় নিচ্ছে?

করোনার তৃতীয় ঢেউ বা নতুন ধরন নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণের মাত্রা কমতে শুরু করেছে। করোনার ভাইরাস কি শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে?

ফেব্রুয়ারির শেষে বিশ্বজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৪০ লাখ৷ ২৫ লাখ মানুষ মারা গেছেন আর সাড়ে ছয় কোটি মানুষ আরোগ্য লাভ করেছেন। মহামারি থেকে উত্তরণে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেমনটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল গত দুই মাসে সংক্রমণের মাত্রা তার চেয়েও দ্রুত গতিতে কমেছে। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে দৈনিক সাত লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন, যা এখন অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। গত এক মাসে মৃত্যুর সংখ্যায় কমে প্রায় অর্ধেক হয়েছে। 

করোনার সংক্রমণ কমার পেছনে একক কোনো কারণ নেই। বেশ কিছু বিষয় সেখানে ভূমিকা রেখেছে, সেটি অবশ্যই বলা যায়। টিকাও এর একমাত্র কারণ নয়। কেননা, জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বের খুবই সামান্য একটি অংশ এখন পর্যন্ত টিকার আওতায় এসেছে। সামাজিক দূরত্ব আর স্বাস্থ্যবিধিগুলোই যে কিছু দেশে কাজে লেগেছে, সেটি অনেকটা প্রমাণিত।  আবার কিছু কিছু দেশে করোনার বিরুদ্ধে হার্ড ইমিউনিটি বা গণ প্রতিরোধও তৈরি হচ্ছে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এরই মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে গেছেন। তাদের বড় একটি অংশ হয়ত পরীক্ষার আওতায়ই আসেনি। 

কোনো কোনো গবেষক এমনটাও বলছেন যে, মিউটেশন বা নিজেকে বদলাতে গিয়ে করোনার ভাইরাস যে দুর্বল হয়ে পড়ছে সেটিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এমন একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসা বিষয়ক জার্নাল সায়েন্স-এ৷ সেখানে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের ক্রমাগত পরিবর্তনে মহামারি দ্রুতই অতিমারিতে রূপ নেবে।

অতীতের মহামারিগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে যে, একটা পর্যায়ে তা থেমে যেতে পারে। সবশেষ দুইটি মারাত্মক ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারির একটি ছিল ১৯৫৭ সালের এশিয়ান ফ্লু। এতে মারা যান ৪০ লাখ মানুষ। অন্যদিকে ১৯৬৮ সালের হংকং ফ্লু কেড়ে নেয় ৩০ লাখ প্রাণ৷ সেগুলো যতটা দ্রুত এসেছিল ততটা দ্রুতই কিন্তু বিদায় নিয়েছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৮ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে স্প্যানিশ ফ্লুর দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি পাঁচ কোটি মানুষ মারা যান।  জীবাণু টিকে থাকলেও স্প্যানিশ ফ্লুর তৃতীয় ঢেউ খুব দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। এর দুর্বল ধরন হিসেবে পরবর্তীতে এইচওয়ানএনওয়ান (সোয়াইন ফ্লু) এর আবির্ভাব হয়, যা আজকের দুনিয়ায় সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা হিসেবেই বিবেচিত।

ঠিক একইভাবে সার্স-কোভ-টু বা করোনার ভাইরাসও একটা পর্যায়ে এমন রূপ নিতে পারে যা হয়তো কোনো একটি এলাকা বা অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে। ধরন বদলানোর কারণে সেটি যত দুর্বল হবে, তত কম বিপদজনক হবে। কিন্তু গোটা বিশ্বে একটি ইতিবাচক ট্রেন্ড বা প্রবণতা যতদিন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না, ততদিন স্বাস্থ্য বিধিগুলোর একটি সমন্বয় করে নিতে হবে।