ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মানসিক রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজন সহযোগিতামূলক আচরণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৮ শনিবার, ০২:৫৭ পিএম
মানসিক রোগ নির্ণয়ে প্রয়োজন সহযোগিতামূলক আচরণ

মানসিক রোগ সব সময়ই কিছুটা ব্যতিক্রম। সিজোফ্রেনিয়া ও বিষণ্নতার মতো রোগগুলো এদের মধ্যে অন্যতম। এসব রোগের দৃশ্যমান কোনো উপসর্গ নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমেও রোগগুলোকে সনাক্ত করা সহজ নয়। দ্যা ইকোনোমিস্টের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, মানসিক রোগগুলো মানুষের মস্তিষ্কে সুপ্ত অবস্থায় থাকে। রোগীর মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত এগুলো নির্ণয় করা সম্ভব নয়। অনেক সময় চিকিৎসকরা রোগের উপসর্গ বুঝতে ব্যর্থ হন। ফলে কারও কারও ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসাও হয়েছে, যা কখনো কখনো রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটা ম্যানুয়েল প্রকাশের মাধ্যমে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক এসোসিয়েশন এসব রোগগুলোর উপসর্গ নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করেন। সেখানে এটাও উল্লেখ করা হয় যদি ডায়গনিস্টিক বিভাগগুলো ভুল তথ্য দেয়, তাহলে চিকিৎসাও ভুল ভাবে পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ওই ম্যানুয়েলের একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়, ব্রেনস্ট্রুম কনসোর্টিয়াম নামে একটি গোষ্ঠী মানসিক রোগীদের সহযোগিতা করে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন মানসিক রোগের উপর কাজ করাসহ নিউরোলজিক্যাল রোগগুলো থেকে রোগীদের সুস্থ করতে প্রচেষ্টা চালায়।

এই কনসোর্টিয়াম গোষ্ঠীর গবেষকরা জিনোম-ওয়াইড এসোসিয়েশন স্ট্যাডিজ (জিডব্লিউএএস) নামে পরিচিত। সম্প্রতি গোষ্ঠিটির গবেষকরা হাজার হাজার মানুষের ডিএনএ পরীক্ষা করে মানসিক রোগের উপস্থিতি, অনুপস্থিতি ও উপসর্গ নির্ণয় করতে সক্ষম হয়েছেন। তারা বলেছেন, অধিকাংশ মানসিক রোগ মানুষের ডিএনএ-এর সাথে সম্পর্কিত। এই গবেষণাটি পরিচালনা করতে জিনোমের অনেকগুলো দল কাজ করে। যেখানে তারা ২ লাখ ৬৫ হাজার ২১৮ জন আলাদা ব্যক্তির ওপর গবেষণা চালিয়ে ২৫টি আলাদা মানসিক ও নিউরোলজিক্যাল রোগ নির্ণয়ে সক্ষম হয়।

এই ২৫টি রোগের মধ্যে সিজোফ্রেনিয়া ‍ও বিষণ্নতাসহ ১০টিকে তারা মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচনা করেছেন। এছাড়া স্ট্রোক, মাইগ্রেন, মৃগীরোগসহ ১৫টিকে নিউরোলজিক্যাল রোগ বলেছেন।

ওই গবেষণায় বলা হয়, মানসিক রোগের উপসর্গ বোঝার জন্য দেহের প্রোটিন কীভাবে উৎপাদন হয়, কোষের সেল কীভাবে বৃদ্ধি পায় সেগুলো পরীক্ষা করতে হবে। এর পাশাপাশি মস্তিষ্কের মাইক্রোএনাটমি পরীক্ষা করতে হবে। যদিও এই বিষয়গুলো সব সময় কাজ নাও করতে পারে, তবে কাজ করলে সহজে রোগের উপসর্গ ধরা পড়ে এবং দ্রুত চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। এছাড়া সহযোগিতামূলক আচরণ মানসিক রোগ বুঝতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

গবেষেকরা বলেছেন, মানসিক রোগ থেকে বাঁচতে নিজের মনের মধ্যেই মানসিক মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটাতে হবে। নিজের দুর্বলতাকে জানতে হবে এবং মন খুলে কথা বলতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার/বিপি/জেডএ