ঢাকা, রোববার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সাবধান হন ডেঙ্গুজ্বর বিষয়ে

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:২০ পিএম
সাবধান হন ডেঙ্গুজ্বর বিষয়ে

বর্ষা এলেই মশা এবং মশাবাহিত রোগের উপদ্রব বেড়ে যায় আশেপাশে। এক্ষেত্রে আমাদের সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই একথা সত্যি। মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপই বেশি এখন। আমাদের সচেতনতার অভাব, আশেপাশে নোংরা অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে এই রোগ বেশি হয় এই বর্ষায়। আশেপাশে বর্ষার পানি জমেই এতো বিপত্তি। তাই সব বয়সীরা জ্বর, শরীর ব্যথা হলে অবহেলা না করে সাবধান হন এখনই।

লক্ষণগুলো আগে জানুন

ক্লাসিক্যাল বা সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরে তীব্র জ্বর ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ফারেনহাইট পর্যন্ত হতে পারে। হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। ব্যথার তীব্রতায় কখনো হাঁড় ভাঙার মতো ব্যথা হয়। তাই এর আরেক নাম ‘ব্রেক বোন ফিভার’।

আরেক ধরনের জ্বরে হলে ৪-৫দিন সারা শরীরে লালচে দানা দেখা যায়। দেখতে অনেকটা অ্যালার্জি বা ঘামাচির মতো। এর সঙ্গে বমি বমি ভাব এমনকি বমি হতে পারে। রোগী অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ করে এবং রুচি কমে যায়। কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এর দুই বা তিনদিন পরপর আবার জ্বর আসে। একে বলে  ‘বাই ফেজিক ফিভার।

ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর

ডেঙ্গুর এই অবস্থাটা সবচেয়ে জটিল। এই জ্বরে ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরও কিছু সমস্যা হয়। যেমন-

  • শরীরে বিভিন্ন অংশ যেমন চামড়ার নিচে, নাক ও মুখ দিয়ে, মাড়ি ও দাঁত থেকে, কফের সাথে, রক্ত বমি, মলের সঙ্গে তাজা রক্ত যেতে পারে। এছাড়া কালো পায়খানা, চোখের মধ্যে এবং চোখের বাইরে রক্ত পড়তে পারে।

  • এই সমস্যা হলে অনেক সময় বুকে বা পেটে পানি জমতে পারে। অনেক সময় লিভার আক্রান্ত হতে পারে। ফলে রোগীর জন্ডিস, কিডনিতে আক্রান্ত হয়ে রেনাল ফেইলিউর ইত্যাদি জটিলতা হতে পারে।

ডেঙ্গু শক সিনড্রোম

এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু। ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারের সঙ্গে সার্কুলেটরি ফেইলিউর হয়ে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম হয়। এর লক্ষণগুলো হলো রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, নাড়ির স্পন্দন খুব ক্ষীণ ও দ্রুত হওয়া। আবার হাত-পা ও অন্যান্য অংশ ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাবে। হঠাৎ করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারে। মৃত্যুরও আশঙ্কা রয়েছে।

চিকিৎসা পদ্ধতি

ডেঙ্গুজ্বরের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। নিজে নিজেই ভালো হয় এই জ্বর। উপসর্গ অনুযায়ী সাধারণ চিকিৎসাই যথেষ্ট। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ অবশ্যই। লক্ষণগুলো দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। জ্বরের উপসর্গগুলো দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো বিভিন্ন পরীক্ষার দরকার পড়ে।

জ্বরের ৪-৫দিন পরে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট বা সিবিসি এবং প্লাটিলেট টেস্ট করাতে হয়। ৪-৫দিনের আগে পরীক্ষা করলে রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকে এবং অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। প্লাটিলেট কাউন্ট এক লাখের কম হলে ডেঙ্গু ভাইরাস নিশ্চিত হওয়া যায়। এরপর পরবর্তী পদক্ষেপ।

আবার  অ্যান্টিবডির পরীক্ষা পাঁচ থেকে ছয়দিন পার হওয়ার পরে করুন। এই পরীক্ষা রোগ শনাক্তকরণে সাহায্য করে, কিন্তু রোগের চিকিৎসায় এর ভূমিকা নেই। তবে এই পরীক্ষা করানো ভালো।  

প্রয়োজনে রক্তচাপ, লিভারের জন্য যে পরীক্ষাগুলো যেমন এসজিপিটি, এসজিওটি, এলকালাইন ফসফাটেজ ইত্যাদিও ডেঙ্গু নির্ণয় করা যাবে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর ডিআইসি জাতীয় জটিলতায় প্রোথ্রোম্বিন টাইম, এপিটিটি, ডি-ডাইমার ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হতে পারে।

সতর্কতা

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী সাধারণত পাঁচ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে হবে। ডেঙ্গুজনিত সমস্যা যাতে প্রকট না হয় তাই চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।  কোনো মারাত্মক জটিলতা না হয়। ডেঙ্গু জ্বরটা আসলে গোলমেলে রোগ, সাধারণত লক্ষণ বুঝেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে, যেমন-

১. পুরো সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে।

২. যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত, ডাবের পানি ও অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৩.মুখে কিছু খেতে না পারলে প্রয়োজনে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া যেতে পারে।

৪. জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ব্যথার ওষুধই যথেষ্ট। এসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ব্যথার ওষুধ কোনোক্রমেই খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়বে।

৫. জ্বর কমানোর জন্য নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছতে হবে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ