ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

১০ মিনিটে ক্যানসার শনাক্তে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর সাফল্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৬:২৭ পিএম
১০ মিনিটে ক্যানসার শনাক্তে বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর সাফল্য

ক্যানসারের মতো মরণঘাতি রোগ নির্ণয়ের কৌশল নিয়ে সারাবিশ্বে নিশ্চিত কোনো উপায় না থাকার মতোই। বিভিন্ন পদ্ধতি বিভিন্ন সময়ে উদ্ভাবন হলেও তার প্রয়োগ খুব একটা ঘটেনি। এর মধ্যে এলো একটি সুখবর। সাধারণ রক্ত পরীক্ষাতেই এবার শনাক্ত করা যাবে ক্যানসার। তাও আবার মাত্র দশ মিনিটে।

কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রেলিয়ান ইন্সটিটিউট ফর বায়োইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ন্যানোটেকনোলজির একদল বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সব ধরনের ক্যানসারের উপস্থিতি এই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা যাবে। বাঙালিদের জন্য রয়েছে আরেকটি সুখবর। কারণ এই গবেষণা দলে রয়েছেন বাঙালি একজন বিজ্ঞানী, প্রবাসী বাংলাদেশী ডক্টর আবু সিনা।

এই বিজ্ঞানীরা ডিএনএ এর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করেছেন, যার উপস্থিতি সবধরনের ক্যানসারে রয়েছে। আর জটিল ক্যানসার শনাক্তের জন্য তারা আবিষ্কার করেছেন দুটি কৌশল।

বিজ্ঞানী দলের প্রধান তিন সদস্যের একজন ডক্টর আবু সিনা। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন গবেষক হিসেবে কর্মরত। এ বিষয়ে আবু সিনা বলেন, ‘মানব দেহের গ্লুকোজ বা কোলেস্টেরলের পরিমাণ নির্ণয়ের মতই সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় পাওয়া যাবে ক্যানসার উপস্থিতির তথ্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ডিএনএ এর বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য আবিষ্কার করতে পেরেছি। যাকে বলছি ইউনিভার্সেল ক্যানসার বায়ো মার্কার। এটি সব ধরনের ক্যানসারে রয়েছে। পাশাপাশি এই বৈশিষ্ট্য ধরে এমন পদ্ধতি বের করেছি যা দিয়ে সব ক্যানসার শনাক্ত সম্ভব।

দুটি পদ্ধতির বিষয়ে তিনি বলেন, একটি হচ্ছে খালি চোখে। এ পদ্ধতিতে রক্ত থেকে ডিএনএকে আলাদা করে সোনার দ্রবণে (গোল্ড ন্যানো পার্টিকেল সলিউশন) মেশানো হবে। সঙ্গে লবণ যোগ করা হবে। যদি ক্যানসার থাকে তবে দ্রবনের রং পরিবর্তন হবে না। আর যদি রক্তে ক্যানসার না থাকে, তবে দ্রবনের রং গোলাপী থেকে নীল হবে।

আর আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে ইলেক্ট্রোকেমিক্যাল পদ্ধতি। ডায়াবেটিস শনাক্তের জন্য প্রচলিত যেসব ছোট ছোট মোবাইল ডিভাইস আছে, হয়ত ঠিক তেমনি মেশিন আসবে বাজারে। যা দিয়ে সহজে শনাক্ত করা যাবে ক্যানসার।

এই গবেষণার শীর্ষ নেতৃত্বে আবু সিনা ছাড়াও ছিলেন কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাট ট্রাউ এবং পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো ডক্টর লরা কারাসকোসা।

গবেষণাগারে দুইশরও অধিক রক্ত এবং টিস্যুর নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছেন তারা। আবু সিনা জানান, আরও বছর খানিক সময় লাগবে এ আবিষ্কারের সুফল পেতে। এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যাবে গবেষণাগারের এ আবিষ্কার। প্রায় সব ধরনের ক্যানসারের কয়েক হাজার নমুনা নিয়ে কাজ করতে লেগে যাবে আরো কয়েকবছর। এ আবিষ্কারে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছে।

বাংলাদেশের চাঁদপুরের ছেলে আবু সিনা জানিয়েছেন, ‘একজন বাংলাদেশী হিসেবে এ আবিষ্কারের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকতে পেরে গর্ববোধ করছি। আশা করি আমাদের তরুণ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে। সুযোগ পেলে দেশের জন্যও অবদান রাখতে চাই।’

মূলত পিএইচডি করার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমান আবু সিনা। এখানে স্থায়ী বসবাসের আগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী, বিগত ২০১৫ সালে ক্যানসারে বিশ্বব্যাপী ৮৮ লাখ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। হৃদরোগের পরেই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করতে না পারায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। এখন এই পদ্ধতি বিশ্বের সামনে ক্যানসার নির্ণয়ের নতুন পথ খুলে দেবে।

 

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর