ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সাইনোসাইটিস নিরাময়ে হোমিও চিকিৎসা

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশিত: ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৪:২৬ পিএম
সাইনোসাইটিস নিরাময়ে হোমিও চিকিৎসা

সাইনুসাইটিসের সমস্যা আমাদের অনেকেরই আছে। তবে আমাদের না জানা বা গাফেলতির কারণে এই রোগটি আমরা অনেক সময়েই এড়িয়ে চলি। লক্ষণ বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হলে এটা নিরাময় করা সম্ভব। তার আগে লক্ষণগুলো জানা দরকার। এটা কেন হয়, এই রোগে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কেমন কার্যকর হতে পারে তা নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা।

সাইনুসাইটিস আসলে কী?

আমাদের নাকের চারপাশে হাঁড়ের বাতাসে পূর্ণ কুঠুরিগুলোকে সাইনাস বলা হয়। আর সাইনুসাইটিস হলো সাইনাসের ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ।

সাইনাসের প্রদাহের কারণ

সাইনাসের প্রদাহের মধ্যে ম্যাগজিলারি সাইনাসের প্রদাহ সবচেয়ে বেশী হয়। একিউট সাইনুসাইটিস ও শ্বাসনালীর উপরের অংশের প্রদাহ, অ্যালার্জি, অপুষ্টি, স্যাঁতস্যাতে পরিবেশে থাকলে, দীর্ঘদিনের দাঁতের রোগ থেকেও প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আবার কখনো শ্বাসনালীর ছিদ্র সরু হলেও এটা হতে পারে। তবে বেশিরভাগ সাইনাসের প্রদাহ নাকের প্রদাহ থেকে হয় মূলত।

সাইনোসাইটিসের লক্ষণগুলো কী

নাকের পাশে ক্রমাগত ব্যথা, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা হতে পারে। এছাড়া সবসময় নাক বন্ধ থাকা, কোনো স্বাদ ও ঘ্রাণ বুঝতে না পারা, সাধারণত বিমর্ষতা, অস্থিরতা ও অনীহা জাগা, মাঝেমধ্যে জ্বর আসার সমস্যা দেখা যায়। মিউকাসের আবরণ পাতলা হয়ে যাওয়া।

নাকের পলিপ

নাকের পলিপ থেকেও সাইনুসাইটিস হতে পারে। নাকের পলিপের উৎপত্তি মূলত নাকের সাইনাসগুলো থেকেই। আর এই পলিপ আসলে সাইনাসের বা নাকের আবরণের একটি অংশ যা দেখতে অনেকটা আঙ্গুর ফলের থোকার মতো।

পলিপ রোগের সাধারণ উপসর্গগুলো কি কি

১. নাক বন্ধ পলিপ রোগীদের প্রধান ও একমাত্র উপসর্গ।

২. ঠাণ্ডাজনিত কারণে নাক বন্ধ প্রকট আকার ধারণ করে।

৩. পলিপ হলে হাঁচি অন্যতম উপসর্গ।

৪.  নাক থেকে প্রায়ই পুঁজ বা পানি নির্গত হওয়া।

৫. প্রায়ই মাথাব্যথা করা।

৬. নাক ব্যথা বা মুখমণ্ডলে ব্যথা অনুভব করা।

৭. নাকের পিছনে ময়লা অনুভব করা, যা নাক টানলে কালো কালো পদার্থ বের হয়।

৮. খুশখুশে কাশি, বার বার গলা পরিষ্কার করার চেষ্টা।

৯. নাক থেকে দূর্গন্ধ বের হতে পারে, নাকে কথা কথা হবে।

১০. হা করে বা মুখ খুলে ঘুমানো বা শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া, নাকডাকা ইত্যাদি।

সাইনুসাইটিস হতে মুক্তি

১. অ্যালার্জি এবং ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা।

২. গুমট ভাব এড়িয়ে আলো বাতাসপূর্ণ বাড়িতে পরিবেশে বসবাস করা, ঘন বসতি পরিহার করা।

৩. পরিমিত সুষম খাদ্য গ্রহণ করা।

৪. নাকের প্রদাহ বা অন্য কোনো নাকের রোগ বা গলার অন্য কোনো সমস্যা, দাঁতের প্রদাহ ইত্যাদির সময়োপযোগী চিকিৎসা করলে অনেক ক্ষেত্রে সাইনোসাইটিস থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

হোমিও চিকিৎসা

রোগ আর রোগীর পুরো লক্ষণ নির্বাচন করতে পারলে হোমিওপ্যাথিতে সাইনাসের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। এখন বেশকিছু হোমিও চিকিৎসক নিজেদেরকে ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথ বলে। কিন্তু এরা আবার কখনো রোগীদের বিভিন্ন কেমিকেল, অ্যাসিড দিয়ে চিকিৎসা চালান। এদের হোমিওপ্যাথির জনক স্যামুয়েল হানিমান শংকর জাতের হোমিওপ্যাথ বলতেন।

আগের প্রসঙ্গ থেকে বেরিয়ে বর্তমান প্রসঙ্গে আসি। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক, তাই লক্ষণের ভিত্তিতে চিকিৎসা করা উচিৎ। লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে যেই ঔষধগুলোর পরামর্শ আসতে পারে সেগুলো হলো- নাক্স ভূমিকা,টিউবার কুলার, লেমনা মাইনর, ক্যালকেরিয়া কার্ব, সোরিনাম, থুজাসহ আরও অনেক মেডিসিন।

পলিপাসের জন্য অনেক সময়ই নাক বন্ধ থাকে। এজন্য রয়েছে এলিয়াম সেফা-৩০, টিউক্রিয়াম-২০০, সোরিনাম-২০০, ১ম স্যাঙ্গুইনেরিয়াম- ২০০ নিয়মিত সেবন করলে সেরে যায়। যাদের নাকে পলিপাসের কারণে মাঝে মাঝে ময়লা মিশ্রিত রক্ত নির্গত হয় নাক থেকে তাদের প্রথমে ১ ডোজ ফেরাম ফস ৩× এবং তারপর দিন থেকে একডোজ টিউক্রিয়াম ২০০ সন্ধ্যায় সেবনে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে যে এই ওষুধ নিজে ব্যবহার না করে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

লেখক:

ডা.মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা,হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি

কো-চেয়ারম্যান,হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

ই-মেইলঃdrmazed96@gmail.com

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/এমআর