ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ঘুম না এলেই ঘুমের ওষুধ, ক্ষতি হচ্ছে জানেন?

শাহরিনা হক
প্রকাশিত: ২০ নভেম্বর ২০১৯ বুধবার, ০৮:০১ এএম
ঘুম না এলেই ঘুমের ওষুধ, ক্ষতি হচ্ছে জানেন?

সারাদিন শেষে আয়েশ করে ঘুম, জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অনেকে বেশি ঘুমতে ভালবাসে, অনেকে অল্প সময়ের গভীর ঘুমেই সন্তুষ্ট। অনেকে আছেন বিছানায় শুলেই ঘুমিয়ে পড়তে পারেন, কেউ আবার ঘুমতে সময় নেন। কারও ঘুম পাতলা কারও ঘুম গভীর। কিন্তু ঘুমটা প্রাকৃতিক নিয়ম, সবার ক্ষেত্রে সমানভাবেই প্রয়োজন। দিনে ৭-৮ ঘন্টার টানা ঘুম সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজন। তবে সবার ক্ষেত্রে সহজ ঘুমটা হয় না। ঘুম ঘিরে নানা জটিলতা তৈরি হয়। আর ঘুমের জন্য তাদের ওষুধের প্রয়োজন হয়। ঘুমের ওষুধ মূলত মস্তিষ্কের চাপ হালকা করে আপনাকে ধীরে ধীরে ঘুমতে সাহায্য করে। ডাক্তারের পরামর্শে এই ধরনের ওষুধ নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু নিয়মমাফিক রোজ ঘুমের ওষুধ খেলে অনেক রকম সমস্যা হতে পারে।

আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে,

তন্দ্রাচ্ছন্নতা হবে

যদি ভুল সময়ে আপনি ঘুমের ওষুধ খান তাহলে আপনার শরীরে তা প্রভাব ফেলতে পারে। যদি আগের দিন রাতে আপনি ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরেও ভালো ঘুম না হয়, তার প্রভাব পরেরদিন বেলা পর্যন্ত থাকতে পারে। অনেক রাতে ওষুধ খেলেও পরের দিন সকাল পর্যন্ত তার রেশ থেকে যায়।

আচার ব্যবহারে পরিবর্তন ঘটে

অনেক সময় ঘুমের ওষুধের নিয়মিত সেবন মানুষের আচার-ব্যবহারে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। মুড সুইং, খিটখিটে মেজাজ প্রভৃতি নানারকমের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ভালো না লাগা, কান্নাবোধ করা, অন্যের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা, কাজে মন বসাতে না পারার মতো বিষয়গুলো নিয়মিত ঘটতে থাকে। সারাদিন ঘুমালেও মন মেজাজ নিজের বশে থাকে না। কারণ ঘুমের চাহিদা আপনার শরীরে সবসময় থাকবে আর ঘুম লাগলে ক্লান্ত অনুভূত হয়। তখন ভালো কথাও আপনার শুনতে খারাপ লাগবে ও খিটখিটে মেজাজ প্রভৃতি নানারকমের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

নির্ভরশীলতা

নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে খেতে ওই ধরনের ওষুধে শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়, ফলে একটা সময়ের পর ওষুধ শরীরে কাজ করা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ওষুধের মাত্রা বাড়াতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমনটা চলতে থাকলে তা সত্যিই শরীরের পক্ষে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে খারাপ করে দেয়

দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে থাকলে তা শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকেও খারাপ করতে থাকে। শরীরের বর্জ্যও বিনা বাধায় শরীর থেকে বের হতে পারে না। ফলে দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরকে অসুস্থই করে।

নেশা হয়ে যায়

নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেতে খেতে ওষুধের প্রতি একটা আসক্তি তৈরি হয়। ওষুধ ছাড়া ঘুমই হতে চায় না। তাই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া কখনওই ঘুমের ওষুধ খাওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজও নয়। ঘুমের ঔষধ সেবন করলে তন্দ্রাছন্নতা দেখা দিবে। আপনি যে দিন ঘুমের ঔষধ সেবন করবেন সেই দিন ঘুম পরিমান মত না হলে সেই ঘুমের প্রভাব পরের দিন ফেলবে। আর তন্দ্রাছন্ন অবস্থায় কোন যানবাহনসহ ভারি যন্ত্রপাতি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ঘুমের ঔষধ গ্রহণকারীর হ্যালুসিনেশনের সমস্যাগুলো দেখা দেয়। ঘুমের ওষুধের তালিকায় রয়েছে বহুল প্রচলিত নেশা দ্রব্যগুলো যা আমাদের শরীরের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর।

মৃত্যু

অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। ঘুমের ঔষধ মানুষের হার্ট ও ব্রেনের রক্তনালীর রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। আবার অনেকসময় অতিরিক্তি ঘুমের ওষুধ খেলে প্যারালাইসিস হয়ে যেতে পারে। এমনকি অনেকে কোমায় চলে যেতে পারে সেই সাথে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে।

ওষুধে উচ্চ সহনশীলতা

যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধ সেবন করেন তবে এক সময় ওষুধে উচ্চ সহনশীলতা তৈরি হয়। ওষুধ খাওয়াটা এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয় এবং কারো কারো ক্ষেত্রে ওষুধ খাওয়ার পরও কাজ হয় না। এক সপ্তাহ ওষুধ খাওয়া বন্ধ করুন। ওষুধ গ্রহণের বিকল্প হিসেবে ঘুম সমস্যা সমাধানে শোবার ঘরের পরিবেশ পরিবর্তন করা, ঘুমের আগে বই পড়া ইত্যাদি পদ্ধতি গ্রহণ করুন।

অবসাদ আচ্ছন্ন হতে পারে

ঘুমের ওষুধের কারণে, কারও কারও ক্ষেত্রে, মানসিক রোগের সমস্যা, অতিমাত্রায় রাগ, হতাশার মতো সমস্যা বাড়তে পারে। রোগবালাই হতে পারে অতিমাত্রায়। যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথা ব্যথা, গ্যাস, দূর্বলতা, মুখের ভিতর শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হচ্ছে।

ক্যানসার

গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধ খাওয়া ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। নিয়মিত ঘুমের ঔষুধ সেবন খাদ্যনালী, ফুসফুস, মলাশয় ও অগ্রগন্হির ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ঘুমের ওষুধ আসলে স্বল্প সময়ের সমাধান। তাই ঘুমের সমস্যার সমাধান করুন, মেডিটেশন করুন। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।