ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কোরবানির হাট বসানো যেতে পারে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০২০ শনিবার, ০৩:৫৯ পিএম
‘কঠোর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে কোরবানির হাট বসানো যেতে পারে’

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘কোরবানি ঈদে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে হাট বসাতে হবে। এখানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দরকার। আমরা যতটা সম্ভব খোলা জায়গা, যেমন- স্কুলের মাঠ বা খেলার মাঠ এ রকম জায়গায় হাট বসাতে পারি। তবে অন্যান্যবারের মতো যত্রতত্র রাস্তাঘাটে হাট বসালে আমাদের বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।’ বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের আলাপচারিতায় ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘পরামর্শ দেওয়া অনেক সহজ। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এই পরামর্শ প্রতিপালন করা অনেক কঠিন। বাংলাদেশে কতগুলো বাস্তবভিত্তিক বিষয় রয়েছে। কোরবানির ঈদে একদিকে যেমন ধর্মীয় ব্যাপার আছে, তাই মানুষ কোরবানি দিতে চাইবে। অন্যদিকে যারা গরু-ছাগল উৎপাদন করে, তাদের জীবন জীবিকার একটা বড় প্রশ্ন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, গ্রামাঞ্চলে কোরবানি কোনো স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বয়ে আনবে না। কারণ গ্রামীন জনপদে যেভাবে কোরবানি দেওয়া হয়, সেটি অনেক দূরত্ব রেখেই করা হয়। কোরবানির সময় যদি আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি তাহলে খুব একটা বড় সমস্যা হবে না।’

তবে তিনি বলেন যে, ‘ঈদের সময় আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ঢাকার বাইরে যাওয়া বা রাজধানীর বাইরে থেকে ঢাকায় আসা বন্ধ করা। এজন্য প্রশাসনকে অত্যন্ত সজাগ এবং সচেতন থাকতে হবে। ঈদুল ফিতরের সময়ও আমরা দেখেছি মানুষ ঢাকা থেকে গ্রামে ছুটে গেছে। আবার গ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছে। এর ফলে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে গেছে।’

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এখন সাম্প্রতিক সময়ে যে সমস্ত গবেষণা বেরুচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি একটা স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এটি কমার লক্ষণ। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় এবং আমাদের আইইডিসিআর-ও বলছে যে, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি স্থিতিশীল। এখান থেকে আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। কিন্ত এই কমাটা তখনই সম্ভব হবে, যখন জনগণ এবং প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি সচেতন হয়, জনগণ যদি মাস্ক ব্যবহার করে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করে, তাহলে যেমন আমরা করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো, করোনা আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। তেমনি প্রশাসনের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের অপকর্ম কুকীর্তি এবং দুর্নীতি যদি আমরা বন্ধ করতে না পারি তাহলে করোনা পরিস্থিতি কমানো দুঃসাধ্য হবে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে একটা আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। চারিদিকে দুর্নীতি। এই দুর্নীতি যদি চলতেই থাকে তাহলে করোনা পরিস্থিতি কীভাবে আমরা সামাল দেব।’

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘যেখানে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে, একজন সুস্থ মানুষকে করোনা রোগী বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। করোনা রোগীকে সুস্থ বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থার যদি অবসান না হয়, তাহলে করোনা সংক্রমণ বন্ধ করা কঠিন হবে।’

তিনি বলেন যে, ‘করোনা পরিস্থিতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রশাসন যদি এখন নজরদারি বাড়ায়, বিশেষ করে, মানুষের চলাচল সীমিত রাখে, সরকার যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছে, সেগুলো প্রতিপালনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাহলে আমরা করোনা সামাল দিতে পারবো।’

কোরবানি ঈদ প্রসঙ্গে ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘সৌদি আরবসহ অনেক দেশেই সরকারের কাছে টাকা দেওয়া হয় এবং সরকারি উদ্যোগে কোরবানিটা দেওয়া হয়। বাংলাদেশেও ধর্ম মন্ত্রণালয় বা অন্য কোনো মন্ত্রনালয় এই বিষয়টি ভাবতে পারে। কিন্তু এখানে কতগুলো বিপদও আছে। আমাদের যেখানে সব জায়গায় দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন, তাতে জনগণের এই টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত আত্মসাৎ হবে কিনা, তা এক বড় প্রশ্ন। তবে আমাদেরকে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে যে, কোরবানিতে আমাদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে।’

জাতীয় পরামর্শক কমিটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরে হাট না বসানোর যে পরামর্শ দিয়েছে, সে প্রসঙ্গে ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘তাদের পরামর্শ নিঃসন্দেহে যৌক্তিক। কিন্তু বাংলাদেশে পরামর্শ দেওয়া যত সহজ, তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। কারণ আমাদেরকে জীবন জীবিকার কথা চিন্তা করতে হয়, অর্থনীতির কথা চিন্তা করতে হয় এবং ধর্মীয় দিকও বিবেচনা করতে হয়। কাজেই সবদিক থেকে বিবেচনা করে আমি মনে করি যে, সামাজিক দূরত্ব মেনে যদি আমরা কোরবানির হাট বসাই এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানি দেই, তাহলে আমাদের করোনার ঝুঁকি তেমন হবে না।’

ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই সময় কোরবানির পশু কেনা বেচার ক্ষেত্রে অনলাইনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। অনলাইনে কেনাকাটায় আমাদের করোনার ঝুঁকি অনেক কম হবে।’