ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

করোনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মৌসুমি ফল

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২০ শনিবার, ১০:৫৮ এএম
করোনায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মৌসুমি ফল

দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। করোনার প্রধান উপসর্গ হল হালকা জ্বর ও গলা ব্যাথা। ষড়ঋতুর বাংলাদেশে কয়দিন পরপরই মৌসুমি বায়ু পরিবর্তিত হয়। সেইসাথে জ্বর সর্দিও এখানে খুব সাধারণ ব্যাপার। আবহাওয়া পরিবর্তনজনিত এই জ্বর সর্দির হাত থেকে বাঁচতে মৌসুমি ফলের কোন তুলনা নেই। সেইসাথে করোনাকালীন এই সময়ে ইমিউনিটি বুস্ট কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও মৌসুমি ফল গ্রহণের কথা জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। গ্রীষ্মকাল শেষ হলেও এখনো গ্রীষ্মকালীন ফল বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। সেইসাথে রয়েছে বেশ কিছু বর্ষাকালীন ফলও। ফলে, সবকিছু মিলিয়ে বাজারে এখন বাহারি সব মৌসুমি ফল। এই সমস্ত ফল খেতে যেমন খুব সুস্বাদু, সেইসাথে রয়েছে নানান রকম উপকারিতা।  
     
আম

আমকে বলা হয়ে থাকে ফলের রাজা। আমের নাম শুনলেই যেন জিবে জল এসে পড়ে। আম শুধু স্বাদে নয়, গুণেও অনন্য। পাকা আম ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ফল। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ১০০০ থেকে ১৫০০ আইইউ ভিটামিন ‘এ’ থাকে। তাছাড়া কাঁচা পাকা আমে থাকে ভিটামিন বি ও সি, খনিজ লবণ ও ক্যালসিয়াম। সেইসাথে চোখের সমস্যা থেকে শুরু করে, চুলপড়া, খসখসে চামড়া, হজমের সমস্যা ইত্যাদি দূর করতে পারে আম।

জাম

জাম পছন্দ করেন না এই রকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুরহ। তবে জাম খেতে যেমন সুস্বাদু, তার চেয়ে অনেক বেশি এর উপকারিতা। রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে জামের ভেষজ গুণ অনেক। শুধু এর নরম মাংসই নয়, এর বীজও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

কাঁঠাল

কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল। পাকা কাঁঠালের ক্যালরি মূল্য প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ কিলোক্যালরি। মোট খনিজ লবণের পরিমাণ প্রায় ০.৯। কাঁচা কাঁঠালে আঁশের পরিমাণ পাকা কাঁঠালের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তাই ডায়াবেটিক মানুষের জন্য কাঁচা কাঁঠাল উপকারী। রক্তের চিনির মাত্রা স্বাভাবিক রাখার জন্য কাঁচা কাঁঠালের জুড়ি নেই।

কামরাঙ্গা ও লেবু

পেট ফাঁপা, পেটের সমস্যা, ঠান্ডা, সর্দি-কাশিতে কামরাঙ্গা ও লেবু খুবই উপকারী। এই দুইটা ফলেই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। জ্বর ও মুখের ঘা দূর করতে কামরাঙ্গা ও লেবুর ভূমিকা অনন্য। ভিটামিন সি আমাদের প্রতিদিন দরকার হয়। কারণ শরীর তা সংগ্রহ করে রাখতে পারে না।

আনারস

সুস্বাদু ও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এক অনন্য ফল হলো আনারস। সর্দি-কাশিতে আনারস খেলে কাজে দেয়। সেইসাথে কৃমি সারাতেও এটি বেশ কার্যকর। বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলা আনারস উৎপাদনের জন্য বেশ বিখ্যাত। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের মধুপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আনারসের জন্য খুব বিখ্যাত।  

পেঁপে

পেঁপে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। পেঁপেতে আছে প্যাপাইন। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে পাকা পেঁপে খুব কার্যকর। কাঁচা পেঁপে ডায়রিয়া ও জন্ডিসে সারায়। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে জুস করে খাওয়া যায়।

তরমুজ

তরমুজ আমাদের দেশের অতি পরিচিত এবং সবার প্রিয় ফল। এটি এখন প্রায় সব সময়ই পাওয়া যায়। তরমুজে আছে লাইকোপেন, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং পানি। অতিরিক্ত ঘাম এবং তৃষ্ণা দূর করতে তরমুজের রস খুবই কার্যকর। কাজের কারণে ক্লান্তি যতই আসুক তরমুজের রস খেলে অল্প সময়েই ক্লান্তি দূর হয়। তরমুজের বীজ বেটে ঠান্ডা পানিতে চিনিসহ মিশিয়ে খেলে যকৃৎ পরিষ্কার থাকে।

পানিফল

পানিফল আরেকটি পুষ্টিকর ফল। এতে শতকরা ৪.৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এ ছাড়া রয়েছে শ্বেতসার, খনিজ লবণের মধ্যে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি। ক্যালরিও অনেক এই ফলটিতে।