ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঈদে খাবার দাবার নিয়ে যত সতর্কতা

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ১০:০২ এএম
ঈদে খাবার দাবার নিয়ে যত সতর্কতা

জর্দা, সেমাই, পায়েস বা গরু-খাসির মাংস। ঈদে খাওয়া দাওয়ার যেন কোন শেষ নেই। কোরবানির ঈদ মানেই ভারি খাবারের আয়োজন। পোলাও, বিরিয়ানি, তেহারি থেকে শুরু করে মাংসের বাহারি সব পদ তো থাকেই। সেইসাথে থাকে গরুর রেজালা, কালা ভুনা কিংবা নেহারিসহ বিশেষ সব রেসিপি। ঈদে কোরবানির পশুর মাংস অনেকেই খান প্রাণভরে। কিন্তু খাবারের সঠিক জ্ঞান, সংযম এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা দরকার। সেইসাথে বেশি খাবার দাবারের বিষয়ে সতর্কও থাকা দরকার। যদিও বছরে দুই একদিন বেশি মাংস খেতে বাধা নেই। তবুও এই খাবারটাও একটু রয়ে সয়ে খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বিশেষ করে যাদের পেটের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের রোগ আছে কিংবা এসব রোগের প্রাথমিক লক্ষণ আছে। তাদের জন্য একটু খানি বেশি খাবারই হতে পারে সমস্যার কারণ। এজন্য চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

পরিমাণ

কোরবানির মাংস পরিমাণে একটু বেশিই খাওয়া হয়। অধিক পরিমাণে মাংস খাওয়ার ফলে হজমে সমস্যা, পেট ফাঁপে, জ্বালাপোড়া করে, ব্যথা করে। গ্যাস্ট্রিকে আক্রান্ত রোগীদের সমস্যাটা আরও বেশি হয়। পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাদ্য গ্রহণ না করার দরুন অনেকে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন। তাই কিছু কিছু খাবার সকাল আর দুপুরে পরিহার করা উত্তম। যেমন-তৈলাক্ত খাবার, পোলাও, বিরিয়ানি, আমিষ জাতীয় খাবার, যেমন- মুরগি, খাসি বা গরুর মাংস, কাবার, রেজালা ইত্যাদি। যদি খাওয়া লাগেই, তাইলে অল্প পরিমাণে খান। সেইসাথে তরল হিসেবে লেবুর শরবত, বাসায় বানানো ফলের রস, ডাবের পানি, বোরহানি ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।

কী খাবেন, কী খাবেন না

বয়স চল্লিশের পর আমাদের যে সকল স্বাস্থ্য বা শারীরিক জটিলতা দেখা, এর বেশিরভাগই হয়ে থাকে খাবার দাবারের কারণে। তাই খাবার দাবার নিয়ে চিকিৎসকরা সব সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। একটু বয়স হলে এখন অনেকেরই ডায়বেটিস হচ্ছে। ডায়াবেটিস থাকলে ঈদে মিষ্টি পানীয় ও খাবার খাওয়ার আগে ভেবে-চিন্তে খাবেন। যে কোনো পশুর চর্বি খাওয়া এমনিতেই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর কোরবানীর সময় এ বিষয়টি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা উচিত। কেননা কোরবানির পশুর মাংসে রয়েছে প্রচুর স্যাচুরেটেড ফ্যাট যেমন ট্রাইগ্লিসারাইড ও এলডিএল। যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত। এগুলো শরীরের ওজন বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ বাড়ায়, রক্তনালীতে চর্বি জমিয়ে রক্তপ্রবাহকে ব্যাহত করে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতা বৃদ্ধি করে। তাই যতটুকু সম্ভব মাংসের চর্বি ছাড়িয়ে খাওয়া ভালো। মাংসের সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে সবজি খাওয়া যেতে পারে। টাটকা সবজি পাকস্থলীকে সাবলীল রাখে।

স্ট্রোক ও হৃদরোগ

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল, স্ট্রোক এবং হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীরা অবশ্যই তৈলাক্ত মাংস কমিয়ে খাবেন। এই বিষয়ে একজন চিকিৎসক জানান, সারা বছর তারা যে ধরণের নিয়ম কানুন পালন করেন খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে। কোরবানির সময়ও সেই ভাবে চলা উচিত। কোরবানির মাংস একটু আধটু খেলে শরীরের যে খুব ক্ষতি হয়ে যাবে তা নয়। তবে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। যাদের ওজন বেশি তাদের অবশ্যই ঈদের সময় অতিরিক্ত খাওয়া পরিহার করতে হবে। গেঁটে বাত বা ইউরিক এসিড বেশি যাদের এবং যারা কিডনির সমস্যায় ভোগেন, তাদেরকে প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কম খেতে বলা হয়।