ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২০ শুক্রবার, ০৫:০০ পিএম
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে গুঞ্জন

করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই আলোচনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা, সমন্বয়হীনতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। এর প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তদারকির জন্যে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কার্যালয়কেও দায়িত্ব দেন। এরপর থেকেই মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমন্বয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে। এই সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় আনতে, অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে এবং কাজের গতি ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়ে মো. আবদুল মান্নানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুর্নীতি কমাতে সিএমএসডি’র পরিচালককে সরিয়ে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, একই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্যর্থতার গ্লানি মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেন, সেখানে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজে কিছুটা গতি ফিরে এসেছে বলে মনে করে সাধারণ মানুষ।

তবে এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় করা হলেও তা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মধ্যে একধরনের অসন্তোষ চাপা থাকেনি। তিনি প্রকাশ্যেই সাংবাদিকদের বলেছেন যে, বাইরের প্রভাব এবং হস্তক্ষেপ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বেশি হয় এবং এটা কমাতে হবে। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী যাই বলুক না কেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের হস্তক্ষেপ এবং সমন্বয়ের কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিমজ্জমান নৌকাটি কিছুটা হলেও জেগে উঠেছে। আর এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রী একজন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগের চিন্তা করছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র আভাস দিয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টা নিয়োগ করেছিলেন। সেসময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জন্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন অধ্যাপক ডা. মোদাচ্ছের আলী। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দিয়ে একটি সর্বদলীয় মন্ত্রিসভা গঠনের পর ২০১৪ তে নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী প্রায় সব উপদেষ্টাদের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেন এবং পরে মন্ত্রিসভা পূনর্গঠন হলেও স্বাস্থ্যে কোন উপদেষ্টা আর নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদিও অনেকেই মনে করেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেখভাল করার জন্যে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা অত্যন্ত দরকার ছিল এবং এই করোনাকালে এই প্রয়োজনীয়তা আরো ব্যাপকভাবে সামনে এসেছে। এই জন্যে ধারণা করা হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে হয়তো একজন উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হবে।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এই ব্যাপারে সরকারের মধ্যে চিন্তাভাবনাও চলছে। কে হতে পারেন নতুন উপদেষ্টা এই নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে এবং এই নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে। একাধিক সূত্র বলছে যে, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা: এবিএম আবদুল্লাহর নাম আলোচনায় রয়েছে এবং তিনি একজন মেধাবী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। স্বাস্থ্যখাতে নীতিনির্ধারণী একজন চিকিৎসকের অভাব পদে পদে অনুভব করছে বিভিন্ন মহল এবং চিকিৎসকরাও। এবিএম আবদুল্লাহ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা: প্রাণ গোপাল দত্তের নামও আলোচনায় আছে। তিনি করোনা মোকাবেলায় জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও বটে। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: দীন মোহাম্মদ নূরুল হকের নামও কেউ কেউ আলচনা করছেন।

তবে উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে বেশ কয়েকদিন যাবত গুঞ্জন-আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেছেন উপদেষ্টা নিয়োগ বা রদবদল একান্তই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারাধীন বিষয়। এটা প্রধানমন্ত্রী তাঁর অভিপ্রায় এবং ইচ্ছে অনুযায়ী করবেন। তবে ওই গুরুত্বপুর্ণ ব্যক্তি নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী একজন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন তবে উপদেষ্টা যেই হোন না কেন, তিনি একজন স্বনামধন্য এবং নেতৃস্থানীয় চিকিৎসক হবেন। তবে শেষ পর্যন্ত আদৌ উপদেষ্টা নিয়োগ হবে কিনা সেটাও একটা প্রশ্ন বটে।