ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ছন্দে ফিরেছে স্বাস্থ্যখাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ০৫:৫৮ পিএম
ছন্দে ফিরেছে স্বাস্থ্যখাত

এক মাস আগেও স্বাস্থ্যখাত মানেই ছিল দুর্নীতি-অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা। সমন্বয়হীণতা ছিল স্বাস্থ্যখাতের সব ক্ষেত্রে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অধিদপ্তরের কোন সমন্বয় ছিল না। করোনা মোকাবেলায় সীমাহীন ব্যর্থতা, অযোগ্যতা এবং ব্লেমগেইমই ছিল যেন স্বাস্থ্যখাতের প্রতিদিনকার চিত্র। কিন্তু গত ১ মাসে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। আস্তে আস্তে স্বাস্থ্যখাত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যখাত ছন্দে ফিরছে।

স্বাস্থ্যখাত নিয়ে গত কিছুদিন যাবত দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ নেই। একদিকে যেমন করোনা মোকাবেলা হচ্ছে, অন্যদিকে করোনার জন্যে যে ভ্যাকসিন, সেই ভ্যাকসিনের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর অধিদপ্তরের ভেতর সমন্বয় সাধন হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন যেন একটি সুখী পরিবারের মতো কাজ করছে। করোনা সঙ্কটের শুরু থেকেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পারস্পারিক সমন্বয়হীণতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ যেন সরকারের সব অর্জন ম্লান করতে বসেছিল। অথচ এই স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্বাস্থ্যখাতের জন্যেই একাধিক আন্তর্জাতিক পুরষ্কার পেয়েছিলেন। তিনি ভ্যাকসিন হিরো, এমডিজি এওয়ার্ডসহ বিভিন্ন পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছিলেন স্বাস্থ্যখাতের অর্জনের কারণে। কিন্তু করোনাই যেন সবকিছু তছনছ করে দিয়েছিল। আর এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেন এবং এটা করা হয়েছে খুবই পরিকল্পিতভাবে এবং সুচারুভাবে। এমনভাবে করা হয়েছে যেন চলমান কার্যক্রম ব্যহত না হয়, আবার জনআস্থা যেন ফিরে আসে এবং সে ক্ষেত্রে যে প্রধানমন্ত্রী সফল হয়েছেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

করোনা সঙ্কটের সময়ে স্বাস্থ্যখাতে প্রথম অভিযোগ আসে মাস্ক কেলেঙ্কারি এবং পিপিই কেলেঙ্কারি নিয়ে। যে মাস্ক এবং পিপিই বিভিন্ন চিকিৎসকদের জন্যে সরবরাহ করা হয়েছিল তা খুবই নিম্নমানের ছিল বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসকরা। এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীও প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন। এই বিতর্কের এক পর্যায়ের সিএমএসডি’র পরিচালককে বদলি করা হয় এবং নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় মেধাবী সরকারি কর্মকর্তা আবু হেনা মোরশেদ জামানকে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সিএমএসডি’কে দুর্নীতির রাহু থেকে মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সিএমএসডি’কে শুধু দুর্নীতিমুক্ত করেননি, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থও সাশ্রয় করেছেন। এই সময়ে যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে সিএমএসডি দুদককে সহযোগিতা করেছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে সরিয়ে দেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের সঙ্গে মন্ত্রীর যেমন টানাপোড়েন ছিল, তেমনি অধিদপ্তরের উপর তাঁর কোন নিয়ন্ত্রণ ছিলনা। আর এই বাস্তবতায় তিনি আসাদুল ইসলামকে সরিয়ে মো. আবদুল মান্নানকে সচিব হিসেবে নিয়োগ দান করেন। মো. আবদুল মান্নান দায়িত্ব গ্রহণের পরেই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ঢেলে সাজাতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যে দুরত্ব তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এই সময় তাঁর পারিবারিক বিপর্যয় ঘটে। তাঁর স্ত্রী করোনায় মারা যান। কিন্তু পারিবারিক শোককে শক্তিকে পরিণত করে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে ফিরিয়ে আনা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্যে কাজ করতে থাকেন এবং যে কাজের ফলাফল এখন পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে এখন স্থবিরতার অভিযোগ নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই বললেই চলে এবং অধিদপ্তরের উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে মন্ত্রণালয়।

এরপর একের পর এক কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। এই সময়ে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমকে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেই অল্প সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আগের মহাপরিচালক যা করেননি বা করতে পারেননি তা করে দেখান। তিনি বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন, চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের উদ্দীপ্ত করেন এবং করোনা মোকাবেলাই তাঁর প্রথম লক্ষ্য ঘোষণা দিয়ে জনআস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। এরকম বাস্তবতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নিয়ে প্রতিদিন যে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে, জনমনে যে উৎকণ্ঠা-উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল তাঁর অবসান ঘটতে শুরু করেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখন একটি সুখী পরিবার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে এবং করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে জনআস্থাই যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে দেখিয়ে দিল এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই ছন্দে ফেরাটাই বাংলাদেশের জনগণের জন্যে একটি বড় প্রাপ্তি।

প্রতিবেদনটি ভিডিওতে দেখুন: