ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাড়িতে তৈরি টিফিন মানেই স্বাস্থ্যকর?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৫:০১ পিএম
বাড়িতে তৈরি টিফিন মানেই স্বাস্থ্যকর?

সুস্বাস্থ্য আর স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রচারণা আমাদের করে তুলেছে সচেতন। তাই বাইরের খাবার এড়িয়ে, ঘরের তৈরি খাবাবের দিকে ঝুঁকছে অনেকেই। বিশেষ করে মায়েরা। সন্তানদের জন্য বাড়িতেই টিফিন তৈরি করছেন তারা। তিন সন্তানের জননী রোকসানাও সন্তানদের টিফিন নিজ হাতে তৈরি করেন। আগে থেকে বানিয়ে ফ্রিজে রেখে দেন, সময়মতো শুধু ভেজে নেন। সন্তানদের রুচি বুঝে ফ্রাইড চিকেন, কাটলেট, চিকেন বল, চিকেন ড্রামস্টিক, চিকেন স্যান্ডউইচ সবই তৈরি করেন। ঘরের সাদামাটা খাবার যেন বাবুদের নিরুৎসাহিত না করে সেটাই তার চেষ্টা। বাড়িতেই রেস্টুরেন্টের এমন লোভনীয় খাবার তৈরিতে কম বেশি সবারই ফার্মের মুরগি পছন্দ। ফলে ঘুরে ফিরে, সেই স্বাস্থ্যের ঝুঁকিই রয়ে যায়।

ফার্মের মুরগি বা ব্রয়লার মুরগি পালনের যথাযথ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আছে। যার তোয়াক্কা না করে দ্রুত বৃদ্ধি এবং বড় সাইজের করতে মুরগির শরীরে বিভিন্ন হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। অনেক পোলট্রি ফার্ম আবার ট্যানারির বর্জ্যকে মুরগীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। ফার্মের মরগি খাওয়ার কারণে এসব ক্ষতিকর পদার্থ্য আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে। কম দামে বেশি মাংস পাওয়ার আশায় আমরাও সেই মুরগি কিনছি নির্দিধায়। ফলে ফার্মের মুরগির ক্ষতিকর প্রভাব শিশুদের ওপরেই পড়ছে বেশি।



ফার্মের মুরগির গায়ে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার আশঙ্কা বেশি, যা কাটার সময় মাংসে চলে যায়। খাওয়ার ফলে সেই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেওয়া ফার্মের মুরগি বেশি খেলে আমাদের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিজটেন্স তৈরি হয়। অর্থাৎ শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব কমে যায়। একই সঙ্গে অবৈজ্ঞানিকভাবে ব্রিড করা ফার্মের মুরগি মানব শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল, বিষাক্ত আসের্নিক ও ক্যামিকেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ সময়ে যা ক্যন্সারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তা ছাড়া শরীরের টকসিন, রিউমেটিক ফিভার, পচন, ডায়াবেটিস, চর্মরোগ, হৃদরোগ, কলেস্টেরল বৃদ্ধি ও বন্ধ্যাত্বও অন্যতম।

ছোট ছোট শিশুরা যারা ফার্মের মুরগি খুব বেশি পরিমাণ খায়, তাদের শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হতে পারে। নানা ধরনের সংক্রমণ তাদের কোমল শরীরকে খুব সহজেই আক্রান্ত করে দুর্বল করে দেয়। যা তাদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে বেড়ে উঠতে দেয় না। তাই সন্তানের খাবারে দেশী মুরগি ব্যবহার করুন।

বাংলা ইনসাইডার/এমএ