ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতির নেপথ্যের হ্যাকার

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৪:৩৬ পিএম
বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতির নেপথ্যের হ্যাকার

বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ডলারের বেশি লুটের নেপথ্যে কে বা কারা, বর্তমানে সেটি একটি আলোচিত ইস্যু। বলা হচ্ছে, বিশ্বে সাড়া ফেলা উত্তর কোরিয়ার অন্যতম হ্যাকার পার্ক জিন হিয়ক ই এই অর্থ লুটের জন্য দায়ী। আর তার পরিপ্রেক্ষিতেই যুক্তরাষ্ট্র গত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই হ্যাকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।

কে এই হ্যাকার

মার্কিন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পার্ক জিন হিয়ক ছিল একটি হ্যাকার টিমের সদস্য। এই টিমটি `ল্যাজারাস গ্রপ` নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিরক্ষা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন কর্পোরেশনকে তারা টার্গেট করেও সফল হয়নি।

এর আগে ২০১৪ সালে এই টিমটি সনি কর্পোরেশনে একটি বড় সাইবার হামলা চালিয়ে অনেক তথ্য চুরি করে, অনেক তথ্য নষ্ট করে। হামলাটি চালানো হয় উত্তর কোরিয়ার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পর `দ্য ইন্টারভিউ` ছবি নিয়ে । ছবিটির একটি চরিত্র ছিল উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের আদলে। এতে দেখানো হয় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়া চায়নি সনি কর্পোরেশন এই ছবি বানাক।

পার্ক জিন হিয়ক ফেসবুকে এবং টুইটার বিভিন্ন নামে অ্যাকাউন্ট খুলে লোকজনের কাছে এমন লিংক পাঠাতো, যাতে উত্তর কোরিয়ার নানা ম্যালওয়ার থাকতো। তাদের সবচেয়ে মারাত্মক সাইবার হামলা ছিল `ওয়ানাক্রাই র‍্যানসামওয়ার` দিয়ে। বিশ্বের অনেক দেশ এবং প্রতিষ্ঠান ২০১৬ সালে এই সাইবার হামলার শিকার হয়। ব্রিটেনের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) এই হামলায় অচল হয়ে পড়ে।

ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ কিছু সাইবার হামলার জন্য এই দলটিকে দায়ী করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতির ঘটনাও আছে। চীনা প্রতিষ্ঠান `চুসান এক্সপো`র আড়ালে এই হ্যাকার চক্র কাজ করতো বলে তাদের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশের অভিমত কি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপকে একটা বড় অগ্রগতি বলছেন। তাঁর মতে, নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে এই অর্থ চুরি হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এই ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশেও সিআইডি এই সাইবার হামলার ঘটনা তদন্ত করছে।

তবে সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতার কথা তারা আগেও শুনেছেন, কিন্তু এ ব্যাপারে নিজেদের তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার মতো কিছু পাননি।

সিআইডির স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট মোল্লা নজরুল ইসলাম বিবিসিকে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা কোনো বিদেশি সংস্থা পেলে তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে, প্রমাণগুলোও দেখা হবে। এজন্য এফবিআই এর সঙ্গেও বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সূত্র: বিবিসি

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ