ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রযুক্তি কি মানুষকে অমর করছে?

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৯:৩২ পিএম
প্রযুক্তি কি মানুষকে অমর করছে?

অমর হতে কে না চায়? সবাই চায়। চিরদিন বেঁচে থাকতে সবারই ইচ্ছে হয়। কিন্তু এটা যে অসম্ভব সেটা আমরা জানি এবং মানি। কিন্তু প্রযুক্তির বদৌলতে এখন অনেক অসম্ভবই সম্ভব হচ্ছে। সেখানে মানুষের অমর হওয়া নিয়েও গুঞ্জন কম হচ্ছে না।

প্রযুক্তি ব্যবহার করে কি চিরদিন বেঁচে থাকা সম্ভব? এই প্রশ্নের উত্তর এবার মিলতেও পারে। কেননা ভবিষ্যতের মানুষ দেখতে কেমন হবে, তা নিয়ে এখনই চিন্তাভাবনা শুরু করেছেন বিজ্ঞানীরা।

প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা ইলান মাস্ক মনে করছেন, মানুষ একসময় মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে পারবে। তিনি এমন এক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন যা মস্তিস্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সংযোগ ঘটাবে। এতে মানুষের মনকে দেহ থেকে আলাদা করা সম্ভব হবে এবং এক ডিজিটাল জীবনের সূচনা হবে। এটা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিকে ঘিরে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তার নাম ‘ট্রান্সহিউম্যানিজম’। এর লক্ষ্য হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি, শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধন। যেমন ধরুন মাইন্ড আপলোডিং।

কল্পনা করুন যে একজনের মন, অতীত স্মৃতি এবং তার ব্যক্তিত্বকে কপি করে কম্পিউটারে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো! বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাত্ত্বিকভাবে এটা সম্ভব। কিন্তু মনের বহু রহস্য রয়েছে যেগুলো আগে সমাধান করতে হবে।

মস্তিস্কে রয়েছে ৮৬ বিলিয়ন নিউরন। এই নেটওয়ার্কে বৈদ্যুতিক চার্জের মধ্য দিয়ে চিন্তা প্রবাহিত হয়। বিজ্ঞানীরা মস্তিস্কের কাজকে কম্পিউটারের সঙ্গে তুলনা করেন। যেমন ইন্দ্রিয় থেকে পাওয়া উপাত্তকে ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করে আমাদের মস্তিস্ক। কম্পিউটশেনের মাধ্যমে আউটপুট হিসেবে নানা ধরনের আচরণে পরিনত করে।

কোনো কোনো বিজ্ঞানী বলছেন, উপযুক্ত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমাদের মনকে মেশিনে কপি করে রাখা সম্ভব। অবশ্য অনেকেই মনে করেন, মস্তিস্ক এতোটাই জটিল যে একে কপি করা যাবে না। গবেষকরা এখন বলছে, ১৫ বছরের মধ্যে ইঁদুরের মস্তিস্কের নিউরন তৎপরতার মানচিত্র তৈরি সম্ভব হবে। ট্রান্সহিউম্যানিস্টরা বলছেন, সময় লাগলেও মানুষ আর মেশিন ভবিষ্যতে একাকার হয়ে যাবে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ