ইনসাইড আর্টিকেল

১৮ জানুয়ারি ১৯৭২: বঙ্গবন্ধুর ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শন

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ১৮ জানুয়ারি ১৯৭২: বঙ্গবন্ধুর ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শন

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিজ বাসবভন থেকে গ্রেফতার করেন। তারপর তাঁকে এক সপ্তাহ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আটকে রাখেন। পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি সেই ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শনে যান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শনের সময় মিত্রবাহিনীর হাতে যুদ্ধবন্দি সৈনিক ও কর্মকর্তার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ক্যান্টনমেন্টে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৭৫ মিনিট কথা বলেন। 

ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মিত্রবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের সদর দফতরে তাদের সঙ্গে আলাপ করেন। তাদের কুশল জানতে চাওয়া হলে কর্মকর্তারা ভালো আছেন জানান। এরপর আলাদা করে সবাইকে একে একে ঘরে নিয়ে পৃথক পৃথকভাবে কথা বলেন। 

১৯৭১ সালের সেই ২৫ মার্চ রাত, যাকে কালরাত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সেদিন রাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীরা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বাঙালি ধ্বংসযজ্ঞে নামে। বিশ্বের নৃশংসতম গণহত্যা শুরু হয় ২৫ মার্চের মধ্যরাতে। বাঙালিদের ওপর ভয়ংকর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে হানাদার বাহিনীরা।

বাংলা যখন ঘুমে আচ্ছন্ন তখনই পাকিস্তানিরা অতর্কিতে হামলা চালায় বাঙালির ওপর। হঠাৎ করেই যেন ঢাকার আকাশে-বাতাস গর্জে ওঠে রাইফেল, মেশিনগান আর মর্টারের গুলিতে। হত্যাযজ্ঞ চলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পিলখানা ইপিআর সদর দফতর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে। এমনকি স্বাধীনতার পক্ষে থাকা গণমাধ্যমগুলোও রেহায় পায়নি জল্লাদ ইয়াহিয়ার পরিকল্পনা থেকে। এক এক করে সকল গণমাধ্যমগুলো যেমন: দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ ও জাতীয় প্রেস ক্লাবও ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীরা। এই রাতেই ১টার পর পাকিস্তানের সেনারা ট্যাংক আর সাঁজোয়া যান নিয়ে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

সেই ভয়াল রাতে কত বাঙালিকে প্রাণ দিতে হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে। এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। তবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড পত্রিকার ভাষ্য, কেবল ২৫ মার্চ রাতেই বাংলাদেশে প্রায় একলক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এছাড়াও খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তারা যে শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছিল, তাতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু   ক্যান্টনমেন্ট পরিদর্শন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

কোথায় দেখতে যাবেন চোখ ধাঁধানো ‘রংধনুর গ্রাম’?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৩ মে, ২০২২


Thumbnail কোথায় দেখতে যাবেন চোখ ধাঁধানো ‘রংধনুর গ্রাম’?

তাইওয়ানের তাইচুংয়ের নানতুন জেলার ‘রেইনবো ভিলেজ’। সাধারণ আট দশটা গ্রামের মত না এই গ্রাম। প্রথম দেখাতেই আপনি রীতিমতো খুশি হয়ে উঠবেন, প্রেমে পড়ে যাবেন। 

রংধনুর সাত রঙে রাঙানো এক গ্রাম। যার সৌন্দর্য দেখে আপনি হবেন বিমোহিত। এমনো সুন্দর কোনো গ্রাম হয় কি না, ভেবে অবাক হবেন! 



ফরাসি শিল্পী হেনরি এমাইল বেনোইট ম্যাটিস একবার বলেছিলেন, ‘রঙের প্রধান কাজটিই হলো অভিব্যক্তি প্রদর্শন করা’ রং দেখলে সবার মনই আনন্দে ভরে ওঠে।

এটিই হয়তো বিশ্বের একমাত্র গ্রাম, যেখানকার ঘর-বাড়ি, দেওয়াল, রাস্তা সবই শিল্পীর তুলিতে আঁকা হরেক রং দিয়ে। এই গ্রামে ঢুকলেই মনে হবে অজানা পৃথিবীতে পা রেখেছেন।

হুয়াং ইউং ফু নামক একজন প্রাক্তন সৈনিক তার সাজানো গোছানো বাড়িটি ডেভেলপারদের কাছে হারাতে বসেছিলেন। ওই গ্রামের প্রায় সবাই ডেভেলপারদের কাছে নিজেদের ঘরগুলো বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান। গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ে।

হুয়াং ইউং ফুর বাড়ির পাশের ১১টি বাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এ সময় মনের অজান্তেই ভালো লাগা থেকে তিনি নিজ বাড়ির আসবাবপত্রে ছবি আঁকা শুরু করেন।



তারপরে শিল্পকর্মটি এক দেওয়াল থেকে অন্য দেওয়ালে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর প্রতিবেশীদের পরিত্যক্ত বাড়িতেও আঁকাআঁকি শুরু করেন তিনি।

একবার কাছের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তার শিল্পকর্ম দেখে ছবি তোলে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো শেয়ার করে। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পরে গ্রামের নাম। এরপর গ্রামের নাম দেওয়া হয় ‘রেইনবো ভিলেজ’।

এখন হুয়াং ইউং ফু রেইনবো দাদু নামেই পরিচিত সবার কাছে। তার বয়স এখন ১০০ এর কোঠায়। স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তিনি এখন আর রেইনবো গ্রামে বসবাস করছেন না। যদিও রেনবো ভিলেজটি এখন সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত।