ইনসাইড আর্টিকেল

অনলাইন উপর্জনই হতে পারে টেকসই কর্মক্ষেত্র

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৯ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail অনলাইন উপর্জনই হতে পারে টেকসই কর্মক্ষেত্র

বর্তমান কাজের নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে অনলাইন। ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে উপার্জন করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। আর তাই ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যাবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে বা উপায়ে উপার্জন করছে অনেকে। কিন্তু অনলাইনে যেমন উপার্জন করার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে ফাঁদে ফেঁসে যাওয়ার ভয়। তাই অনলাইনে উপার্জন করার জন্য বাছাই করুন সঠিক প্ল্যাটফর্মটি।
তাই অনলাইনের মাধ্যমে উপার্জন করার ইচ্ছে বা আগ্রহ থাকলে , আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি আপনার জন্য।

চলুন তাহলে আজ দেখে নেই অনলাইনে উপার্জন করার প্ল্যাটফর্মগুলো-

 ফ্রিল্যান্সিং:

এখনকার সময়ে খুব জনপ্রিয় উপার্জন করার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হলো ফ্রিল্যান্সিং। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়াটাই ফ্রিল্যান্সিং। এছাড়াও বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দেয় কয়েকটি ওয়েবসাইট। এসব সাইটের মধ্যে ফাইভার ডটকম, আপওয়ার্ক ডটকম, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ও ওয়ার্কএনহায়ার ডটকমে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়া যায়। 
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে হলে আপনাকে বেশ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হতে হবে । তাহলে আপনাকে জানতে হবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কি কি কাজ করতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো হলো: ওয়েব ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লেখা-লেখি বা অনুবাদ, গ্রাহক সেবা বিক্রয় ও বিপণন, ব্যবসা সেবা ইত্যাদি।

উপরোক্ত কাজ গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আপনাকে দিবে। আপনি কাজ গুলো করে দিতে পারলেই অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব। তাই আপনি যে কাজে বেশি দক্ষ এবং অভিজ্ঞ সেই কাজটাই করুন।

 ইউটিউব:

অনলাইনে উপার্জনের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম হলো ইউটিউব। ভিডিও কনটেন্ট এর জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইউটিউবের জনপ্রিয়তা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপার্জন করা কারোরই অজানা নেই।  নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। আপনার চ্যানেল কোন ক্যাটাগরির এবং তাতে কোন ধরনের ভিডিও রাখবেন, তা আগেই ঠিক করে রাখুন। যে বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি, সেই বিষয়ে ভিডিও না রাখলে মানুষ তা দেখবে না। ভিডিও না দেখলে আয় হবে না। চ্যানেলের সাবসক্রাইবার ও ভিডিও দেখার সময় বাড়লে আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। প্রতি হাজার ভিউয়ের হিসাবে গুগল থেকে অর্থ পাবেন।

তবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মনিটাজেশন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর  আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে উপার্জন করতে পারবেন। আপনার চ্যানেলের মনিটাজেশন প্রক্রিয়া চালু হলে আপনার আপলোড করা ভিডিওতে এড দেখাবে। সেই এডের উপর ভিত্তি করে আপনি এডসেন্সের একাউন্টে টাকা জমা হবে। 

 ব্লগিং: 

অনেকেরই লেখালেখির অভ্যাস আছে। এই অভ্যাসটা যদি পেশাগত কাজে লাগাতে পারেন, তবে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। ব্লগিং করেও আয় করার সুযোগ আছে। দুই উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করা যায়। একটি হচ্ছে নিজের ব্লগ সাইট তৈরি। ওয়ার্ডপ্রেস বা টাম্বলার প্ল্যাটফর্মে বিনা মূল্যে ব্লগ শুরু করতে পারেন। আবার চাইলে নিজে ডোমেইন হোস্টিং কিনে ব্লগ চালু করতে পারেন। 

তবে নিজে ব্লগ চালু করতে গেলে কিছু বিনিয়োগ করার দরকার হবে। ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে হবে। নিজের ব্লগ শুরু করাটাই ভালো। কারণ, এতে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক পরিবর্তন করার সুযোগ আছে। বিজ্ঞাপন, ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল, পণ্যের পর্যালোচনা প্রভৃতি নানা উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করতে পারেন। কিন্তু ব্লগ লিখে আয় করতে গেলে তাড়াতাড়ি আয় আসবে না। এর জন্য প্রচুর সময় ও ধৈর্য থাকতে হবে। অনেকের ব্লগ থেকে আয় করতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যায়। ব্লগে নিয়মিত কনটেন্ট আপডেটসহ তা সক্রিয় রাখতে কাজ করে যেতে হয়।

কনটেন্ট রাইটিং: 

যারা লেখালেখিতে ভালো এবং একাধিক ভাষায় সাবলীল লিখতে পারেন, তাঁদের কাজের জন্য বসে থাকতে হয় না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজ করে বা লিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আর্টিকেল লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে আয় আসে। কাজদাতা নির্দিষ্ট নীতি মেনে লেখার জন্য বলতে পারেন। নির্দিষ্ট বিষয় ধরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে আয়ের ধারা বেড়ে যায়।

অনুবাদ:

ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ভালোভাবে জানা থাকলে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে বিভিন্ন ডকুমেন্ট অনুবাদ করে আয় করতে পারেন। যাঁদের স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, আরবি, জার্মানসহ অন্যান্য ভাষা জানা আছে এবং এগুলো থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ বা ইংরেজি থেকে এসব ভাষায় অনুবাদ করতে পারলে ভালো আয় করতে পারবেন। অনেক সময় কাজদাতারা নিজে সময়ের অভাবে অনুবাদের কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে নেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে এ ধরনের কাজ পাবেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম:

ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এখন আর শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয়। এগুলো কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পরিকল্পকদের প্রচুর অর্থ দেওয়া হয় তাদের ব্র্যান্ডের প্রচার করার জন্য। অনলাইনে গ্রাহক টানা, প্রচার করার জন্য অবশ্য সৃজনশীলতা দরকার। বিভিন্ন পোস্ট তৈরি, ভিডিওর মাধ্যমে ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ করে তা ভাইরাল করতে পারলে ভালো অর্থ আসে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ফ্যান-ফলোয়ার তৈরিসহ তাঁদের ধরে রাখতে প্রচুর ধৈর্য ও প্রাসঙ্গিক বিষয় হওয়া জরুরি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

কোথায় দেখতে যাবেন চোখ ধাঁধানো ‘রংধনুর গ্রাম’?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৩ মে, ২০২২


Thumbnail কোথায় দেখতে যাবেন চোখ ধাঁধানো ‘রংধনুর গ্রাম’?

তাইওয়ানের তাইচুংয়ের নানতুন জেলার ‘রেইনবো ভিলেজ’। সাধারণ আট দশটা গ্রামের মত না এই গ্রাম। প্রথম দেখাতেই আপনি রীতিমতো খুশি হয়ে উঠবেন, প্রেমে পড়ে যাবেন। 

রংধনুর সাত রঙে রাঙানো এক গ্রাম। যার সৌন্দর্য দেখে আপনি হবেন বিমোহিত। এমনো সুন্দর কোনো গ্রাম হয় কি না, ভেবে অবাক হবেন! 



ফরাসি শিল্পী হেনরি এমাইল বেনোইট ম্যাটিস একবার বলেছিলেন, ‘রঙের প্রধান কাজটিই হলো অভিব্যক্তি প্রদর্শন করা’ রং দেখলে সবার মনই আনন্দে ভরে ওঠে।

এটিই হয়তো বিশ্বের একমাত্র গ্রাম, যেখানকার ঘর-বাড়ি, দেওয়াল, রাস্তা সবই শিল্পীর তুলিতে আঁকা হরেক রং দিয়ে। এই গ্রামে ঢুকলেই মনে হবে অজানা পৃথিবীতে পা রেখেছেন।

হুয়াং ইউং ফু নামক একজন প্রাক্তন সৈনিক তার সাজানো গোছানো বাড়িটি ডেভেলপারদের কাছে হারাতে বসেছিলেন। ওই গ্রামের প্রায় সবাই ডেভেলপারদের কাছে নিজেদের ঘরগুলো বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান। গ্রামটি জনশূন্য হয়ে পড়ে।

হুয়াং ইউং ফুর বাড়ির পাশের ১১টি বাড়ি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এ সময় মনের অজান্তেই ভালো লাগা থেকে তিনি নিজ বাড়ির আসবাবপত্রে ছবি আঁকা শুরু করেন।



তারপরে শিল্পকর্মটি এক দেওয়াল থেকে অন্য দেওয়ালে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর প্রতিবেশীদের পরিত্যক্ত বাড়িতেও আঁকাআঁকি শুরু করেন তিনি।

একবার কাছের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তার শিল্পকর্ম দেখে ছবি তোলে। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিগুলো শেয়ার করে। মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। দেশ দেশান্তরে ছড়িয়ে পরে গ্রামের নাম। এরপর গ্রামের নাম দেওয়া হয় ‘রেইনবো ভিলেজ’।

এখন হুয়াং ইউং ফু রেইনবো দাদু নামেই পরিচিত সবার কাছে। তার বয়স এখন ১০০ এর কোঠায়। স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তিনি এখন আর রেইনবো গ্রামে বসবাস করছেন না। যদিও রেনবো ভিলেজটি এখন সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত।