ইনসাইড আর্টিকেল

ভালো থাকার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই


Thumbnail ভালো থাকার চাবিকাঠি আমাদের হাতেই

বর্তমান সময়ে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যতটা প্রয়োজন, ঠিক ততটা গুরুত্বপূর্ণ মানসিকভাবে সুস্থ থাকাটা৷ মানসিক সুস্থতার বিষয়ে অনেক সময় আমরা অবহেলা করি। কিন্তু শারীরিক সুস্থতার মতোই, মানসিকভাবে সুস্থ থাকা গুরুত্বপূর্ণ।  বেসরকারি এক সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিদিন আত্মহননে প্রাণ যাচ্ছে  গড়ে ৩৯ জনের। এদের মধ্যে শিক্ষার্থীদের,  তরুণ-তরুণীদের সংখ্যাই বেশি। মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করা এই পরিস্থিতির একটি অন্যতম কারণ। আবার অনেক ক্ষেত্রে আমরা আমাদের মনের অসুখ বুঝতে পারি না। শারীরিক অসুস্থতা চোখে দেখা গেলেও, মানসিক অসুস্থতা দেখতে পাওয়া যায় না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই আমরা বুঝতে পারি না, কিংবা অবহেলা করে বসি।

আমাদের ভালো থাকার চাবিকাঠি অবশ্যই আমাদের হাতেই। সুস্থ, সচেতন,  ফিট থাকতে অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে। মানসিক অবসাদ,  রোগ যেন বাসা না বাঁধে তা নিয়ে আমাদেরই সচেতন হতে হবে। কর্মব্যস্ত জীবনে বাড়তি কাজের চাপে আমাদের অনেকেরই সময় হয় না মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করার। আবার, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা কেন্দ্রিক বিভিন্ন ভুল ধারণা পোষণ করে থাকেন অনেকেই। কিন্তু এই মানসিক স্বাস্থ্যের সুস্থতা নিশ্চিতকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  করোনাকালীন গৃহবন্দী সময়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনের নানাবিধ ব্যাঘাত ঘটে৷ অর্থনৈতিক,  সামাজিক, শারীরিক নানা প্রতিকূলতার জন্য তৈরি হয়েছে নানা মানসিক জটিলতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা পরিস্থিতিতে তৈরি মানুষের মানসিক অসুস্থতা,  স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসলেও কাটতে সময় লাগবে। এইক্ষেত্রে নিজেদের সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে।  

যেভাবে মানসিক ভাবে সুস্থ থাকবেন :

১. বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন- শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার পূর্বশর্ত হলো সঠিক সময়ে বিশ্রাম নেওয়া, কাজের ফাঁকে বা শেষে এবং রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো। সাধারণ মানুষের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য,  জৈবিক সব কার্যকলাপ সঠিক ভাবে চালানোর জন্য প্রতিদিন ৮ ঘন্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের মস্তিষ্কে থাকা নানা ধরণের রাসায়নিক পদার্থ আমাদের মেজাজ, স্মৃতি, আবেগ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ঘুম এসব কাজ সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে বিশাল ভূমিকা পালন করে। যদি পরিপূর্ণ ঘুম না হয়,  তাহলে ব্রেনের অনেক অংশ সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে না। এজন্যই সুন্দর ঘুমের কোনো বিকল্প নাই।

২. উন্নত খাদ্যাভ্যাস-  সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্য যে কেবল শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, মানসিক স্বাস্থ্য সুন্দর রাখতেও খাদ্যের ভূমিকা আছে। আয়রন, ভিটামিট-১২ ইত্যাদি নানা খাদ্য উপাদানই মানুষের হরমোনাল  ব্যালেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যার উপর আপনার মন মেজাজ ভালো বা খারাপ থাকা নির্ভর করে কিছু অংশে। তাছাড়া অস্বাস্থ্যকর খাদ্য বা মাদকদ্রব্য শরীরে নানা ধরণের হরমোনাল ইমব্যালেন্স ঘটাতে ভূমিকা রাখে। অনেকে বিষাদ কাটাতে মাদক দ্রব্যের শরণাপন্ন হয়। এতে করে শরীরের থায়ামিন কমে স্মৃতি বিভ্রম, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এমনি মৃত্যু অবদি ঘটতে পারে। অপুষ্টিকর খাবার বা মাদক দ্রব্য বিষাদ কাটানোর আপাত উপায় মনে হলেও এটি বিষাদ বাড়িয়ে শরীরের বিভিন্ন ক্ষতি সাধন করতে বিশাল ভূমিকা রাখে।

৩. পরিচ্ছন্নতা ও শরীরচর্চা- পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে শরীর ও মনে ভালো প্রভাব পরে। এতে শরীর যেমন ভালো থাকে। মনও স্থির থাকে। নিজেকে নিয়ে ইতিবাচক চিন্তার স্থান দেয়।  নিজের বাসস্থান, ব্যবহার করা জিনিসপত্র, নিজের নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।  তাই চেষ্টা করতে হবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে থাকার। পরিপাটি করে ঘর সাজানো, গাছ লাগানো,  বাগান পরিষ্কার ইত্যাদি আমাদের ভালো হরমোনগুলো নিঃসরণের সাহায্য করে। শারীরিক সুস্থতার জন্য আমরা ব্যায়াম করি, তেমন মানসিক সুস্থতার জন্যও এটি কার্যকর। তাছাড়া যোগব্যায়াম, ধ্যান ইত্যাদির মাধ্যমে মনকে স্থির ও সুস্থ রাখার প্র্যাকটিস করা সম্ভব।

৪. ভালো লাগার কাজ করুন- যা করতে ভালো লাগে তা করার মধ্য দিয়ে মন ভালো রাখা একটি সহজ এবং এদিন উপায়। সিনেমা দেখে, গান শুনে/গেয়ে, রান্না করে, ছবি এঁকে নানা ভাবেই নিজের মন ভালো করা যায়। নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। পরিবার,  বন্ধুবান্ধব,  আত্মীয় পরিজন সকলের সাথে মিশার,  কথা বলার চেষ্টা করুন। তাদের জীবন সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করুন। এতে একাকীত্ব যেমন কাটে, তেমনি ভালো থাকার অনুশীলন করা যায়। যা করতে ভালো লাগে, তা করার মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের মনের ভালো না লাগার কারণগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে ভালো থাকার অনুশীলন করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যারা অন্যের বাধ্যগত হয়ে নিজের খুশিকে দমিয়ে রাখেন, তাদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ ও অসুখী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দেখা যায়। তাই নিজের ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

৫. দুশ্চিন্তা দূরে রাখার চেষ্টা- ভবিষ্যৎ নিয়ে কিংবা বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নিয়ে আমরা এত চিন্তিত হয়ে পড়ি যে, জীবনের বাকি সব স্বাভাবিকত্ব হারিয়ে ফেলি! ভালো মন্দ, সঠিক ভুল ভাবতে ভাবতে অনেক সময় আমরা আসল ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে দূরে চলে যায়৷ আমাদের ভাবনা নেতিবাচক নানা সম্ভাবনাকে ঘিরে নতুন নতুন করে আশংকাজনক ভাবনার জন্ম দেয় যাকে আমরা সাধারণ ভাষায় "দুশ্চিন্তা" বলে থাকি। কিন্তু এতে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতি তো হয়ই বরং আমাদের মন খারাপের প্রভাব আমাদের পারিপার্শ্বিক মানুষজনদের মধ্যেও নানা প্রভাব বিস্তার করে। তাই যথাসম্ভব অনিশ্চিত চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে নিজেদের দুশ্চিন্তামুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে।

৬.  পেশাদার সাহায্য- যদি আপনি মানসিক ভাবে খারাপ আছেন বোধ করেন তাহলে সাহায্য নিন। নিজের মধ্যে রাখতে না পারলে নিজের মনের কথা বিশ্বস্ত কাউকে গিয়ে বলুন। হতে পারে পরিবারের কেউ কিংবা বন্ধু। নিজের মধ্যে চেপে রাখার মধ্যে যেমন কোনো কৃতিত্ব নেই তেমনি তা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। জরুরি মনে হলে কাউন্সিলিং কিংবা মনোবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। এতে যেমন মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত হবে তেমন ভালো থাকাটাও।

দেশে প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার হার বেড়েই চলেছে। এই হার খুব একটা কম না। তাই, নিজের মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থতা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি, যত্ন নিন আপনার ভালোবাসার, কাছের মানুষদেরও। ব্যস্ততা শেষে তাদের কথা শুনুন, ভালোবাসুন, তাদের টিকে থাকা কতটা সুন্দর তা প্রশংসা করুন। নিজের কাজ, জীবন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি গুরুত্ব দিন প্রয়োজনীয়  সম্পর্ক এবং মানুষদের যত্নে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

চমেক হাসপাতালে সেবা, শয্যা বাড়লেও বাড়েনি জনবল

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

৬৬ বছরের পুরনো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ছয় দশকে ধীরে ধীরে শয্যা বাড়লে ও জনবল কাঠামো রয়ে গেছে ৫ দশকের আগের মতো। সেই পাঁচশো শয্যার জনবল দিয়েই চলছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। সেখানেও রয়েছে ঘাটতি। ৫শ’ শয্যার জন্য চমেকের অনুমোদিত ২ হাজার ৩৪৭ পদের বিপরীতে শূন্যপদ রয়েছে ৩২৮টি। চিকিৎসক, নার্সের ঘাটতি ছাড়াও হাসপাতালে রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর অভাব। তবে লোকবলের ঘাটতি থাকলেও গত দুই বছরে বেড়েছে সেবার পরিমাণ। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে হাসপাতালের লোকবল বাড়াতে একের পর পদক্ষেপ নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। কিন্তু প্রতিবারই আড়ালে রয়ে যাচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদের শূন্যতার বিষয়টি। 

চমেক সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর অর্থাৎ ২০২১ ও ২০২২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হার বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ। বড় অপারেশনের হার বেড়েছে ৭৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ছোট অপারেশনের হার বেড়েছে ২৩২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। বর্হিবিভাগে রোগীর হার বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। একইসঙ্গে জরুরি বিভাগে রোগী বেড়েছে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। কিন্তু সে অনুপাতে হাসপাতালে লোকবল রয়েছে ২ হাজার ১৯ জন। অর্থাৎ ২ হাজার ১৯ জন লোকবল দিয়ে চলছে ২ হাজার ২০০ শয্যার চমেক হাসপাতাল। যেখানে এ শয্যার বিপরীতে লোকবলের প্রয়োজন ছিল আরও চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি। তারমধ্যেও পাঁচশো শয্যার বিপরীতে থাকা লোকবলেও ঘাটতি রয়েছে।  

চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩৬০টি আর লোকবল রয়েছে ৩৩০ জন। পদ খালি রয়েছে ৩০টি যা ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দন্ত চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২৪টি। লোকবল আছে ২০টি। এখনো চার জন দন্ত চিকিৎসকের পদ খালি রয়েছে। যা শতকরায় ১৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। নার্সের অনুমোদিত পদ রয়েছে ১ হাজার ২৫৩টি। আর হাসপাতালে নার্স রয়েছে ১ হাজার ২০১ জন। আরও ৫২ জন নার্সের ঘাটতি রয়েছে হাসপাতালটিতে। মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদ রয়েছে ৪৪টি কিন্তু লোকবল রয়েছে ৩৩টিতে। আরও ২৫ শতাংশ বা ১১টি পদ খালি রয়েছে। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের জন্য অনুমোদিত ৫৬৫টি পদের মধ্যে ১৮৫টি শূন্য রয়েছে। এছাড়াও প্রশাসনিক ও অন্যান্য পদের অনুমোদিত পদসংখ্যা ২৪৮টি। কিন্তু শূন্যপদ রয়েছে ১৯৩টি। তারমধ্যে অফিস সহায়কের পদ খালি রয়েছে ১১৭টি ও ক্লিনারের ২২টি। অর্থাৎ এখনো পর্যন্ত চট্টগ্রামের সরকারি এ হাসপাতালের পদ খালি রয়েছে ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ। 

এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০২১ সালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৯ হাজার ৯১২ জন। প্রতিমাসে ১৭ হাজার ৪৯৩ জন। ২০২২ সালে সে হার ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হয় ২ লাখ ৪৭ হাজার ১২২ জন। আর প্রতি মাসে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ৫৯৪ জন। ২০২১ সালে বড় অপারেশন করা হয়েছে ১৫ হাজার ৪২৫টি। প্রতি মাসে অপারেশন হয় ১ হাজার ২৮৫টি। পরের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে বড় অপারেশনের হার ৭৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ২৭ হাজার ৪৯২টি। যা প্রতি মাসে গড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৯১টিতে। একইভাবে ২০২১ সালে চমেকে ছোট অপারেশন হয় ১৯ হাজার ১৪৪টি। প্রতি মাসে ছোট অপারেশন হয় ১ হাজার ৫৯৫টি। এর পরের বছর ২০২২ সালে ছোট অপারেশনের হার বেড়েছে ২৩২ দশমিক ৯৬ শতাংশ যা সংখ্যায় ৬৩ হাজার ৭৪২টি। প্রতি মাসে ছোট অপারেশনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩১২ জনে। গত দুই বছরে ভর্তি রোগীর পাশাপাশি বর্হিবিভাগেও বেড়েছে রোগীর হার। ২০২১ সালে বর্হিবিভাগে রোগী ছিল ৬ লাখ ৮ হাজার ৯৮৯ জন। প্রতিমাসে ৫০ হাজার ৭৪৯ জন রোগী হাসপাতালের বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নেয়। পরের বছর ৩৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ রোগীর হার বেড়ে বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নেয় ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৮ জন। প্রতি মাসে যা ছিল ৭০ হাজার ৫৩০ জনে। একইসঙ্গে জরুরি বিভাগেও রোগী বেড়েছে ২২ দশমিক ৪৪ শতাংশ। ২০২১ সালে জরুরি বিভাগে রোগী ছিল ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯২২ জন। যা প্রতি মাসে ১৯ হাজার ৯৯৩ জন রোগী। ২০২২ সালে সে সংখ্যা প্রতি মাসে ২৪ হাজার ৪৮২ জন করে বছরে ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৮ জন। 

অন্যদিকে, গত বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ৬৮৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়াও বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে প্রতিদিন ২ হাজার ৩৫১ জন। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেয় প্রতিদিন ৮১৬ জন করে। তারমধ্যে প্রতিদিন বড় অপারেশন করা হয়েছে ৭৬ জন রোগীর এবং ছোট অপারেশন করা হয়েছে ১৭৭ জনের। 

জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম হাসান  বলেন, ‘পাঁচশো শয্যার জনবল দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়াটা কঠিন হয়ে যায় আমাদের জন্য। তারপরেও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আরও চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মী নিয়োগ দিতে হলে অর্গানোগ্রাম পরিবর্তন করতে হবে। আমরা একটি নতুন অর্গানোগ্রাম তৈরির কাজ করছি।'

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ঘাটতি রয়েছে বেশি। এরপরে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ঘাটতি রয়েছে। এখন যে কম  আছে সেটা আমাদের পাঁচশো শয্যার জনবলের হিসেবে। এখন আমাদের হাসপাতাল ২২শ’ শয্যার অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু জনবল বাড়েনি। বিষয়গুলো আমরা মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। এর বাইরে আমরা চাইছি যে আমাদের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির যেসকল কর্মচারীরা আছেন তারা যদি প্রশিক্ষিত হয় তাহলে হাসপাতালের পরিবেশ আরও সুন্দর হবে। আমরা আরও উন্নত সেবা দিতে পারবো রোগীদের।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ১৯৫৭ সালে আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম শহরের কেবি ফজলুল কাদের রোড অর্থাৎ বর্তমান ঠিকানায় এটি স্থানান্তরিত হয়। যেখানে শুরুতে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ছিল মাত্র ১২০। পরবর্তীতে হাসপাতালটিকে ১৯৬৯ সালে ৫০০ শয্যায়, ১৯৯৬ সালে ৭৫০ শয্যায়, ২০০১ সালে ১ হাজার ১০ শয্যায়, ২০১৩ সালে ১ হাজার ৩১৩ শয্যায় এবং ২০২২ সালের জুনে ২ হাজার ২০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।


চট্টগ্রাম মেডিকেল   জনবল   সেবা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

গরুর বদলে মই টানছে মানুষ


Thumbnail

জমি চাষের সঙ্গে গরু ও মহিষের সম্পর্ক আদিকাল থেকেই। সাধারণত কৃষিজমিতে গরু দিয়ে টানা লাঙলে জমি চাষ ও মই দিয়ে চাষের জমি সমান করে ফসল ফলানো হয়।  

কিন্তু, বোরো খেতে গরুর বদলে মই টানছে মানুষ। এমনই চিত্র দেখা গেছে, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষি জমিতে। 

কথা হয় বোরো খেতে গরুর বদলে মই টানতে থাকা কৃষক আজিবর রহমানের (৬০) সাথে। তিনি বলেন, এক সময় এ এলাকার কৃষকদের ঘরে ঘরে গরু, জোয়াল এবং লাঙলসহ কৃষি যন্ত্রপাতি ছিল। সাধারণত কৃষি জমিতে গরু দিয়ে টানা লাঙলে জমি চাষ ও মই দিয়ে চাষের জমি সমান করে ফসল লাগানো হয়ে থাকে। কিন্তু, আধুনিক যুগে চাষের ক্ষেত্রে যুক্ত হয়েছে ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর। কৃষকদের জমি চাষের সাথে গরু ও মহিষের সম্পর্ক সেই আদিকাল থেকেই ছিল। বর্তমানে হালের বলদ না থাকায় ছেলেকে নিয়ে খেতে মই টানছি। এছাড়া ১ বিঘা জমিতে গরু দিয়ে মই টানতে প্রায় ৩০০ টাকা খরচ হয় আর লাঙলের এক দিনের মুজরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২'শত টাকা খরচ হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইরি ধান জমিতে চাষ আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এলাকায় হালের বলদ অমিল হওয়ায় নিজেদের খেতের মই টানতে হচ্ছে। এক সময় হাল চাষের জন্য প্রত্যেক কৃষকের ঘরে গরু, লাঙল ও মই থাকত। সময়ের সাথে আধুনিকতার ছোঁয়া এখন গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে গেছে। এখন ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রযুক্তির পাশাপাশি জমি দ্রুত তৈরিতে গরু টানা লাঙল ও মইয়ের পরিবর্তে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে গরুর টানা লাঙল, মই এখন নাগেশ্বরীতে তেমন একটা চোঁখে পড়ে না। হালের বলদ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে।

আধুনিক যন্ত্র দিয়ে দ্রুত জমি চাষ হওয়ায় এখন গরুর লাঙল, জোয়াল ও মই হারিয়ে যাচ্ছে। তাই গরুর বদলে বিকল্প হিসেবে মানুষ মই টেনে জমি সমান করে নিচ্ছে। 

ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম (৪৫) জানান, আধুনিকতার ছোঁয়ায় গরুর লাঙলে চাষ অনেকটা কমে গেছে। যে কারণে কৃষকদের বিকল্প পথে চাষাবাদ করতে হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে গরুর টানা লাঙল, মই এখন তেমন একটা চোখে না পড়লেও ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়ে চাষ করা জমির উঁচু-নিচু অংশ বা চাকার দাগ সমান করতে গরুর পরিবর্তে মই টানছে মানুষ। মইয়ে হালকা কিছু ওজন দিয়ে তা দু'জন কিংবা একজন টেনে জমির প্রয়োজনীয় অংশ দ্রুত সমান করা যায়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

গড়তে হবে মেয়েশিশু সংবেদনশীল সমাজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

প্রতিদিনই মেয়ে শিশুর প্রতি নির্যাতনের ধরণ পাল্টাচ্ছে। এখন যে সকল মেয়ে শিশুরা সহিংসতার স্বীকার হচ্ছে, হয় তাদের বাবা প্রবাসী, না হয় বাবার সঙ্গে বিরোধে মেয়েকে হয়রানি। আবার এমনও দেখা যাচ্ছে স্কুল কিংবা কলেজের নিরাপত্তা প্রহরীর অল্লীল কথা-বার্তার স্বীকার হচ্ছে। বাদ পরছে না শিক্ষকের যৌন হয়রানির হাত থেকে। আর ভার্চুয়াল জগতে হয়রানির অন্ত নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি হ্যাক করা, পাসওয়ার্ড চুরি করে অ্যাকাউন্টের দখল নেওয়া (আইডি হ্যাক)। পূর্বপরিচয় বা সম্পর্কের জের ধরে বা অন্য কোনোভাবে প্রাপ্ত ছবি, ভিডিও বা তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কোনো সুবিধা আদায় বা টাকা দাবি করা। অল্লীল শব্দ, লেখা, ছবি বা ভিডিও পাঠিয়ে হয়রানি। 

ফলে নারী শিশুরা সর্বত্রই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভাবতেও অবাক লাগে বাড়ির সদস্য বা আত্মীয় অথবা প্রতিবেশীর দ্বারা মেয়ে শিশুরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তাদের সাথে শারীরিক বিষয়ে কথা বলা, অশ্লীল ছবি দেখানো কিংবা তাদের শরীরে অথবা আপত্তিকর জায়গায় স্পর্শ করে তাদের মানসিক জগতটাকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। ইদানীং একটা বিষয় ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে। ১০ থেকে ১২ বছরের কিশোরীরা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে। ফলে বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পারায় কিশোরীদের মৃত্যুও হচ্ছে। এছাড়াও অবহেলার কারণে নারী শিশুর বেঁড়ে উঠার পর বিভিন্ন ধরণের সামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকে। তাদের মানসিক ভাবনা ও আচার-আচরণগুলো বাবা-মায়ের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়। ফলে কারো সাথে কথা বলা বা বন্ধুত্ব তৈরি করা কোনভাবেই সেই শিশুটির পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠে না। বড় হয়েও শিশুদের মতো আচরণ করতে থাকে। পরিবার ও সমাজের অজান্তে তারা প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয়েই যাচ্ছে। আর এই অবলা নারী শিশুদের শিকার করে এক শ্রেণীর পৈশাচিক শ্রেণীর নর মানুষ সমাজটাকে কলুষিত করে যাচ্ছে। আর যাই হোক না কেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু নারী শিশু। দিনের পর দিন সমাজটাকে নারীর বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে তারা। 

এই ধরনের বর্বরোচিত কর্মকা-গুলো বন্ধ করতে হবে মূল থেকে। দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি কার্যকর করতে হবে। দরকার হলে এই বর্বরগুলোকে বর্বর মূলক শাস্তি দিতে হবে। শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন বন্ধে অভিভাবক, পরিবার, সমাজ সবাইকে সচেতন হতে হবে। সচেতনতার পাশাপাশি পরিবারে সুশিক্ষা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তোলা জরুরি। সর্বোপরি নারী সত্তাকে স্বীকৃতি দিয়ে সব ক্ষেত্রে তাদের মতামতের বিবেচনা করতে হবে। শিশুদের যথাযথ অধিকার, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে শিশুদের জীবনের মান উন্নয়ন, নারী শিক্ষকের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বেশী-বেশী করে বাস্তবায়ন করা দরকার। সরকার জাতীয় শিশু নীতি ও নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন করেছে। গৃহীত এসব পদক্ষেপের ফলে বাল্যবিবাহ, নির্যাতন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেলেও এখনো প্রত্যাশিত হারে কমেনি। তাই নিশ্চিত করতে হবে নিরাপদ ও সুষ্ঠু পরিবেশ, মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা এবং নির্যাতন ও নিপীড়ন মুক্ত সমাজব্যবস্থা। সেই সঙ্গে শিশুর প্রতি আপনজনসহ সবাইকে মানবিক আচরণ করতে হবে পাশাপাশি শিশুর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ঘরে-বাইরে সব জায়গায় নারী শিশুরা নিরাপদ থাকুক। সব স্তরে একটি কার্যকর শিশু সু-রক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে মা-বাবা, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, সমাজকর্মী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমসহ সবাইকে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করতে হবে। নারী শিশু সংবেদনশীল সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। শিশুদের অধস্তন করে দেখার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনা জরুরি। শিশুদের সম্মান করার বিষয়টি বড়দের শেখা উচিত ॥


মেয়েশিশু   নারী নিরাপত্তা   যৌন হয়রানি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

কম্পিউটার-ফটোকপির দোকানে দালালদের আখড়া

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনের ওয়াল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে মার্কেট। পৌর এলাকার রাজারামপুরে মহাসড়কের পাশে সারিবদ্ধ সাইনবোর্ড দেখে বাইরে থেকে মনে হবে কম্পিউটার-ফটোকপির দোকান। এসব দোকানে কম্পিউটার-ফটোকপির পাশাপাশি ভেতরে প্রকাশ্যে চলছে পাসপোর্ট দালালদের কারবার। ভুয়া সিল ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে যাবতীয় নকল কাগজপত্র। হাত বাড়ালেই মিলছে সব। পাসপোর্ট অফিসের সামনে এসব দোকান ঘর ঘিরেই তৎপর পাসপোর্ট দালাল চক্রের সদস্যরা।

সরজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে ঘুরে বিভিন্ন সেবাগ্রহিতার সঙ্গে কথা বলে এমন সব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, চাঁপাইনবাগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের সামনে গড়ে ওঠা মার্কেটেই পাসপোর্ট দালালদের আনাগোনা। দোকানের সামনে ফেস্টুনে লেখা- নতুন পাসপোর্ট প্রসেসিং ও নবায়নের কাজ করা হয়। এ পাসপোর্ট অফিসে ঢুকতে ডান পাশেও গড়ে উঠেছে মার্কেট। সেখানেও  লেখা- এখানে ব্যাংক ড্রাফট ও পাসপোর্টের ফরম পূরণ করা হয়। পাসপোর্ট অফিসের সমানের মার্কেটে ছয়টি এবং ডান পাশের মার্কেটে দুই দোকানে পাসপোর্ট দালালির কারবার চলে। সারাক্ষণ এখানে দালালদের প্রকাশ্য হাঁকডাক। বেশিরভাগ পাসপোর্ট প্রত্যাশী ই-পাসপোর্টের ফরম পূরণ করতে গিয়ে দালালের ফাঁদে পড়ছেন। ফরম পূরণ শেষ হলেই দ্রæততম সময়ে পাসপোর্ট করার অফার দেয় দালালরা। পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য টাকার অংক ভিন্ন। যেমন- সিরিয়াল ছাড়া আবেদন জমা করতে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়া পাসপোর্ট পেতে ২ হাজার, নামের বানান এবং জন্ম তারিখ সংশোধনে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে।

সূত্র বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসকেন্দ্রিক দালালদের নিয়ন্ত্রণ করেন পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী মো. নাজমুল ইসলাম। কয়েকদিন থেকে এ পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নেই। এ সুযোগে নাজমুলই সব নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানা গেছে। পাসপোর্টের আবেদনপত্রের জন্ম সনদ, বয়স বিভ্রান্তি, সত্যায়নে ভুল নির্ণয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। অফিসটিতে নিয়োজিত আনসার সদস্যরা পাসপোর্টকারী সহযোগিদের ভেতরে ঢুকতে না দিলেও অনায়াসে যাতায়াত করছে দালালরা।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পাসপোর্ট অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে তৈরি হয় পাসপোর্ট। বাইরে থেকে দালালরা নিয়ন্ত্রণ করে পাসপোর্ট অফিস। দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করতে গেলেই পড়তে হয় হয়রানিতে। পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশের দালাল চক্রের হাতে জিম্মি পুরো পাসপোর্ট অফিস।

সেবাগ্রহীতারা জানান, আবেদনপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকার নির্ধারিত ফি (ব্যাংক চালান) জমা দিয়ে চালানপত্র দেওয়ার পরও অফিসের কর্মকর্তারা নানা ধরনের ভুল চিহ্নিত ও তা সংশোধন করে অন্যদিন জমা দেয়ার কথা বলেন। তবে ঘুষ দিলেই রিসিভ করা হয় আবেদন ফরম।

তারা বলেছেন, দালাল ছাড়া যদি আবেদনটি জমা হয়েই যায়, তবুও নিষ্কৃতি নেই। অফিসের ভেতরে সার্ভার নষ্ট, অফিসার আসেননি, ছবিতে সমস্যা, জন্ম তারিখ ভুল এমন হাজারও সমস্যা তুলে মাসের পর মাস আটকে রাখা হয় পাসপোর্ট ডেলিভারি। তবে টাকা দিলেই দ্রুত মেলে পাসপোর্ট।

পাসপোর্ট অফিসে গিয়েও হারুন রশিদ ও রবিউল ইসলাম তাদের পাসপোর্ট জমা দিতে পারেননি। হতাশ হয়ে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন। পাসপোর্ট অফিসে এবং চলে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। হারুন রশিদ বলেন, আমি গ্রাম থেকে এসে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেয়ার পরও আমার আবেদন ফরম জমা নেয়নি। আমার বিয়ের কাবিননামা কাগজ নিয়ে পরের দিন আসতে বলেছেন। আগামিকাল আবার যাবো জানি না আবার কি ভুল ধরে।

রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ভোটার আইডি কার্ড হয়নি। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট আবেদন ফরম জমা দিতে গিয়েছিলাম। তাদের কথা মতো পাসপোর্ট অফিসের বাইরের কম্পিউটার দোকান থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদের সার্চ কপিও দিয়েছি। তারপরও বাবার ভোটার আইডি কার্ডের মূল কপি লাগবে বলে আবেদন ফরম ফেরত দিয়েছেন। আবার কাল যাবো দেখি কি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী নাজমুল ইসলাম বলেন, এই পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমানের বদলি হয়েছে। গত রোববার তিনি ঢাকা চলে গেছেন। এখানে নতুন অফিসার আসবেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করি। দালালদের কোন প্রশ্রয় নেই। তবে অভিযোগকারীদের অফিসে আসতে বলার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।  



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ‘বাকশাল’ ব্যবস্থার প্রবর্তণ

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ‘বাকশাল’ ব্যবস্থার প্রবর্তণ।

আজ ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার সেই ২৫ জানুয়ারি- একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই তারিখে এদেশের রাজনীতিতে রচিত হয়েছিল নতুন ইতিহাস, সূচনা হয়েছিল রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়। ওইদিন সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পেশকৃত সংবিধানের  চতুর্থ সংশোধনী বিল পাস হয়। এর মাধ্যমে দেশের সব রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে একদলীয় শাসন তথা ‘বাকশাল’ (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক লীগ) গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়। 

একইসঙ্গে এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। অত্যন্ত অশ্চর্যজনক বিষয় যে, সে সময়ে ভেতরে ভেতরে সরকার বিরোধী চক্রের অনেকেই সরকার হঠানোর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হত্যা, খুন, গুমসহ নানা রকম অপকর্মে লিপ্ত থাকলেও ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার সেই দিনে মাত্র ১১ মিনিটে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী পাস হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিলটি নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা বা বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়নি। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী বিলটি জাতীয় সংসদে ২৯৪ ভোটে পাশ হয়। এই বিলের বিরোধীতা করেন মাত্র ৩ জন বিরোধী, ১ জন স্বতন্ত্র সদস্য ‘ওয়াক আউট’ করেন। ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা অনেকেই মনে মনে করলেও জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সামনে কেউ গলার সর উঁচু করতে সাহস করেননি, এমন কি প্রকাশ্যে খুব কম সংখ্যক সংসদ সদস্যই বিরোধীতা করেছিলেন।  

‘বাকশাল’ ব্যবস্থা প্রনয়ণ এবং জাতীয় সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীকে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রসহ তাদের অনুসারীরা ইতিহাসের কালো অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করলেও- এর একটি সুনির্দিষ্ট কারণ ছিল। যে কারণটি ছিল দেশ গঠনের দ্বিতীয় বিল্পব এবং হানাহানি, লোভ-লালসা থেকে অবসান। স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে নিবেদিত। ঠিক তখনও সক্রিয় ছিলো এই দেশবিরোধী চক্র। নিজেদের দেনা-পাওনা-চাহিদা পূরণ না হওয়ায় ভেতরে ভেতরে ফুঁসে ওঠতে থাকে এই চক্রটি। ওই সময়ে চক্রটি সরকার হঠানোর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ওঠে। বর্তমান বাংলাদেশেও এই চক্রটি এখনও বিদ্যমান। 

গণতান্ত্রিক সংসদীয় রাজনীতিক দলের সুযোগ নিয়ে সে সময় অনেকেই সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এরা গোপনে চক্রান্ত করে সরকার হঠানোর কৌশলে নিমত্ত হয়। স্বাধীনতা বিরোধী সংগঠন এবং বামপন্থী দলের কর্মীরা সরকার দলীয় অনেক নেতাকে হত্যা করে। তারা তখন সর্বত্র খুন, হানাহানি এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। রাজনৈতিক এমন অস্থিরতা বিরাজ দেখে- তা নিরসন করতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাকশাল’ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এছাড়া সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আনার পিছনে রাজনৈতিক সমস্যা ছাড়াও অর্থনৈতিক সংকট ছিল অন্যতম কারণ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। পরপর কয়েক বছর বন্যা ও খরার কবলে পড়ে কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এর ফলে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তার উপর বিশ্বব্যাপি মুদ্রাস্ফীতির কারণে অত্যাধিক মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিদেশ থেকে আমাদানি করতে হয় এবং সে সময় রফতানিতেও ছিল বেহাল দশা। রফতানিকৃত পণ্যের সঠিক মূল্য না পাওয়া, কালোবাজারী ও চোরাচালান বেড়ে যাওয়া, দুর্নীতি ইত্যাদির ফলে তখন দেশে একটি মারাত্মক অর্থনৈতিক সমস্যা দেখা দেয়। বিদেশ থেকে যেসব সাহায্য সহযোগিতা এসেছিল, সেগুলোরও সঠিক বন্টন হয়নি লুটেরা নেতাদের কারণে। এছাড়াও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন। দেশব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতেও সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী আনা হয়।

সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দিলেও সবাই যে সে নির্দেশ পালন করেছিল, তা বলা যায় না। তার ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর ফেলে যাওয়া প্রচুর অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে আল-বদর, আল-শামস, রাজাকার, শান্তিকমিটি ও চীনপন্থী বিভ্রান্ত বিপ্লবীদের নানা দল-উপদল রাষ্ট্রে নানাবিধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি শুরু করেছিল। দেশের বেশ কয়েকটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে নানা নামে বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনী গঠিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে এরা বিরোধিতা করেছিল; বিশেষ করে পিকিংপন্থী বিভ্রান্ত বামধারার সশস্ত্র বিভিন্ন দল-উপদল, যারা স্বাধীন দেশে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র প্রদর্শন, লুটপাট, থানা ও ফাঁড়িতে হামলা ইত্যাদি অপরাধের সঙ্গে গুপ্তহত্যাও শুরু করেছিল। নিঃসন্দেহে এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্তৃত্বের প্রতি ছিল একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। ১৯৭৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে লুট হয়েছিল প্রায় ১৯টি থানা ও ফাঁড়ি। স্বাধীনতার প্রথম বছরে ৩৩৭টি ছিনতাই, প্রথম ১৬ মাসে ২৩০৫টি গুপ্তহত্যা এবং প্রথম দুই বছরের মধ্যেই ৪৯০৭টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল । এসব গুপ্তহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। আর সেটা করেছিল বাংলাদেশে বসবাসরত বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার দালালরা।

সেই সময় বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়। মার্কসবাদী এবং মস্কোপন্থীরা দেশের অভ্যন্তরে গোপনে উগ্র কার্যকলাপে ব্যস্ত ছিল। এরা সমগ্র দেশে গুপ্ত হত্যা, লুণ্ঠন, রাহাজানি করতে থাকে। ফলে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সরকার ১৯৭৪ সালে এক অর্ডিন্যান্স জারির মাধ্যমে বাংলাদেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে। ফলে সব দিক বিবেচনা করেই দেশ পুনর্গঠনে বাকশাল ব্যবস্থা প্রবর্তণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।   

এ সময় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি  ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর প্রতি অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বঙ্গবন্ধুর নিকট তার প্রেরিত এক বাণীতে ইন্দিরা গান্ধী বঙ্গবন্ধুর সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন।

‘বাকশাল’ ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা। ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্যান্য রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ' (বাকশাল)- নামে জাতীয় রাজনৈতিক দল গঠন করেন। এই দলের চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধু নিজে এবং সম্পাদক হন এম মনসুর আলী। বাকশাল গঠনের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের একমাত্র জাতীয় দল হিসেবে পরিগণিত হয়। আওয়ামী লীগসহ বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলগুলো নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ পদক্ষেপকে তিনি তার ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’র সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বাকশালের দর্শন বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন দেশের সবক’টি সংবাদপত্রও বিলুপ্ত করেছিলেন। সে সময় শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ অবজারভার এবং বাংলাদেশ টাইমস- এ চারটি পত্রিকা সাময়িকভাবে প্রকাশনার সুযোগ দেয়া হয়।

এর আগে ওই বছরের ৭ জুন বাকশালের গঠনতন্ত্র, কার্যনির্বাহী ও কেন্দ্রীয় কমিটি, পাঁচটি ফ্রন্ট এবং এর কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় দলের চেয়ারম্যান হিসেবে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল পদে প্রধানমন্ত্রী এম মনসুর আলীর নাম ঘোষণা করেন। জিল্লুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মণি ও আবদুর রাজ্জাককে দলের সেক্রেটারি করা হয়। বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করতে যে পাঁচটি ফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল, সেগুলো হলো- জাতীয় কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, জাতীয় মহিলা লীগ, জাতীয় যুবলীগ ও জাতীয় ছাত্রলীগ। এর সেক্রেটারিরা হলেন যথাক্রমে ফণীভূষণ মজুমদার, অধ্যাপক ইউসুফ আলী, বেগম সাজেদা চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ এবং শেখ শহীদুল ইসলাম। ১৫ জনকে নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ জন সদস্য রাখা হয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটিতে।

বাকশাল-এর কার্যনির্বাহী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে ছিলেন যারা: 

কার্যনির্বাহী কমিটি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- চেয়ারম্যান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমদ, আবুল হাসানাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, আবদুল মালেক উকিল, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, শ্রী মনোরঞ্জন ধর, ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, শেখ আবদুল আজিজ, মহীউদ্দিন আহমদ, গাজী গোলাম মোস্তফা, জিল্লুর রহমান- সেক্রেটারি, শেখ ফজলুল হক মনি-সেক্রেটারি  এবং আবদুর রাজ্জাক-সেক্রেটারি হিসেবে কমিটিতে ছিলেন।

কেন্দ্রীয় কমিটি

কেন্দ্রীয় কমিটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি এবং চেয়ারম্যান, সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপ-রাষ্ট্রপতি, এম মনসুর আলী- প্রধানমন্ত্রী এবং সেক্রেটারী জেনারেল, আবদুল মালেক উকিল-  স্পীকার, খন্দকার মোশতাক আহমদ- বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যমন্ত্রী, আবুল হাসানাত মোহাম্মদ কামরুজ্জামান- শিল্পমন্ত্রী, মুহম্মদ উল্লাহ- ভূমি রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী, আবদুস সামাদ আজাদ- কৃষিমন্ত্রী, অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ আলী- শ্রম, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়ামন্ত্রী, শ্রী ফণী মজুমদার- স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী, ড. কামাল হোসেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী, মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন- গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী, আব্দুল মান্নান- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী, আবদুর রব সেরনিয়াবত- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানিসম্পদ, বিদ্যুৎ ও বন, মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী, শ্রী মনোরঞ্জন ধর- আইন, সংসদ বিষয়াবলী ও বিচারমন্ত্রী, আব্দুল মমিন- খাদ্য, বেসামরিক সরবরাহ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী, আসাদুজ্জামান খান- পাটমন্ত্রী, এম কোরবান আলী- তথ্য বেতারমন্ত্রী, ড. আজিজুর রহমান মল্লিক- অর্থমন্ত্রী, ড. মোজাফফর আহমদ চৌধুরী- শিক্ষামন্ত্রী, তোফায়েল আহমেদ- রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন- চীফ হুইপ, আবদুল মমিন তালুকদার- সমবায় প্রতিমন্ত্রী, দেওয়ান ফরিদ গাজী- বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম চৌধুরী- প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী, তাহের উদ্দিন ঠাকুর- তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রী, মোসলেম উদ্দিন খান- পাট প্রতিমন্ত্রী, মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম মঞ্জুর- যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, কে এম ওবায়দুর রহমান- ডাক, তার ও টেলিফোন প্রতিমন্ত্রী, ডা. ক্ষিতীশচন্দ্র মণ্ডল- ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রতিমন্ত্রী, রেয়াজ উদ্দিন আহমেদ- বন, মৎস্য ও পশুপালন প্রতিমন্ত্রী, এম বায়তুল্লাহ- ডেপুটি স্পীকার, রুহুল কুদ্দুস- রাষ্ট্রপতির প্রধান সচিব, জিল্লুর রহমান এমপি- সেক্রেটারী, মহিউদ্দিন আহমদ এমপি, শেখ ফজলুল হক মণি- সেক্রেটারী, আব্দুর রাজ্জাক এমপি- সেক্রেটারী, আনোয়ার চৌধুরী, বেগম সাজেদা চৌধুরী এমপি, বেগম তসলিমা আবেদ এমপি, জনাব আবদুর রহিম- দিনাজপুর, আব্দুল আওয়াল এমপি- রংপুর, লুৎফর রহমান এমপি- রংপুর, এ কে মুজিবুর রহমান এমপি- বগুড়া, ড. মফিজ চৌধুরী এমপি- বগুড়া, ডা. আলাউদ্দিন এমপি- রাজশাহী, ডা. আসহাবুল হক এমপি- কুষ্টিয়া, জনাব রওশন আলী এমপি- যশোর, শেখ আবদুল আজিজ এমপি- খুলনা, সালাহ উদ্দিন ইউসুফ এমপি- খুলনা, মি. মাইকেল সুশীল অধিকারী- খুলনা, কাজী আবুল কাশেম এমপি- পটুয়াখালী, মোল্লা জালাল উদ্দিন আহমদ এমপি- ফরিদপুর, শামসুদ্দিন মোল্লা এমপি- ফরিদপুর, শ্রী গৌরচন্দ্র বালা- ফরিদপুর, গাজী গোলাম মোস্তফা এমপি- ঢাকা, শামসুল হক এমপি- ঢাকা, সামসুদ্দোহা এমপি- ঢাকা, রফিক উদ্দিন ভূইয়া এমপি- ময়মনসিংহ, সৈয়দ আহমদ- ময়মনসিংহ, শামসুর রহমান খান এমপি- টাঙ্গাইল, নুরুল হক এমপি- নোয়াখালী, কাজী জহিরুল কাইউম এমপি- কুমিল্লা, ক্যাপ্টেন সুজাত আলী এমপি- কুমিল্লা, এম আর সিদ্দিকী এমপি- চট্টগ্রাম, এম এ ওয়াহাব এমপি- চট্টগ্রাম, শ্রী চিত্তরঞ্জন সূতার এমপি, সৈয়দা রাজিয়া বানু এমপি, আতাউর রহমান খান এমপি, খোন্দকার মোহাম্মদ ইলিয়াস, শ্রী মং প্রু সাইন- মানিকছড়ির রাজা, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, আতাউর রহমান, পীর হাবিবুর রহমান, সৈয়দ আলতাফ হোসেন, মোহাম্মদ ফরহাদ, বেগম মতিয়া চৌধুরী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ, তৌফিক ইমাম- সচিব- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, নুরুল ইসলাম- সচিব, ফয়েজ উদ্দিন আহমদ- সচিব, মাহবুবুর রহমান- সচিব- সংস্থাপন বিভাগ, আবদুল খালেক- উপরাষ্ট্রপতির সচিব, মুজিবুল হক- সচিব- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, আব্দুর রহিম- রাষ্ট্রপতির সচিব, মইনুল ইসলাম- সচিব- পূর্ত গৃহনির্মাণ ও শহর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, সৈয়দুজ্জামান- সচিব- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, আনিসুজ্জামান- সচিব, ড. এ সাত্তার- রাষ্ট্রপতির সচিব, এম এ সামাদ- সচিব- যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, আবু তাহের- সচিব- ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রণালয়, আল হোসায়নী- সচিব- বিদ্যুৎ শক্তি মন্ত্রণালয়, ডা. তাজুল হোসেন- সচিব- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মতিউর রহমান- চেয়ারম্যান- টিসিবি, মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান, এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খোন্দকার- বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান, কমোডর এম এই খান- বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান, মেজর জেনারেল খলিলুর রহমান- মাহাপরিচালক বিডিআর, এ কে নাজির উদ্দিন আহমদ- গভর্নর- বাংলাদেশ ব্যাংক, ড. আবদুল মতিন চৌধুরী- উপাচার্য- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ড. মাযহারুল ইসলাম- উপাচার্য- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ড. মুহম্মদ এনামুল হক- উপাচার্য- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, এটিএম সৈয়দ হোসেন- অতিরিক্ত সচিব, নুরুল ইসলাম- আইজিপি- পুলিশ, ড. নীলিমা ইব্রাহীম, ড. নুরুল ইসলাম- পরিচালক- পিজি হাসপাতাল, ওবায়দুল হক- সম্পাদক- বাংলাদেশ অবজার্ভার, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু- সম্পাদক- ইত্তেফাক, মিজানুর রহমান- প্রাক্তন প্রধান সম্পাদক- বিপিআই, আনোয়ারুল ইসলাম- যুগ্ম সচিব- রাষ্ট্রপতির সচিবালয়, ব্রিগেডিয়ার এ এন এম নুরুজ্জামান- পরিচালক- জাতীয় রক্ষী বাহিনী, কামারুজ্জামান- সভাপতি- বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, ডা. মাজহার আলী কাদরী- বাংলাদেশ চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ছিলেন।


জাতির পিতা   বঙ্গবন্ধু   বাকশাল   প্রবর্তণ   ১৯৭৫ সাল   একদলীয় শাসন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন