ইনসাইড আর্টিকেল

জন্মদাত্রীর শেষ ঠিকানা যখন বৃদ্ধাশ্রম

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৮ মে, ২০২২


Thumbnail জন্মদাত্রীর শেষ ঠিকানা যখন বৃদ্ধাশ্রম

মায়ের ছোট্ট সেই গর্ভে প্রতিটি সন্তানের ঠাঁই হলেও, সন্তানের বিশাল অট্টালিকায় আজকাল মায়েদের ঠাঁই নেই।

দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারন করে, অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে যে মানুষটি সন্তানের জন্ম দেন তিনিই আমাদের 'মা'। তিনি শুধু জন্মই দেন না, জন্মের পর থেকে তাঁর সন্তানকে অক্লান্ত পরিশ্রমে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন একজন 'মা'। মায়ের মুখের বলি শুনেই একটা সন্তান কথা বলতে শেখে, ছোট বেলায় অ, আ শিখে উঠার শিক্ষা গুরু বলা যায় 'মা'কে। তবে শুধু যে 'মা' একাই একজন সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে পারে বিষয়টি এমন না, এখানে বাবার ত্যাগ স্বীকারও তাৎপর্যপূর্ণ। জন্মের পর থেকে 'মা' তাঁর সন্তানকে স্নেহ ভালোবাসায় লালন-পালন করে আর মা ও সন্তানের উপর বট বৃক্ষের মত ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে একজন 'বাবা'। তবে সন্তান বড় হওয়ার পরে তাদের জায়গা হয় কোথায়? বৃদ্ধাশ্রম !

বয়স হয়ে গেলে আর ছেলে মেয়ে বড় হয়ে গেলে মা-বাবার চাওয়া পাওয়া খুব বেশি থাকে না। সে সময় শুধু তারা তাদের সন্তাদের সাথে থাকতে চায়। যেমনটা ছিলো সন্তানের ছোট বেলায়। যখন সন্তান ছোট, তখন বিশেষ করে মা কোথাও গিয়ে দু-দন্ড দাঁড়িয়ে থাকতে পারতো না। সব কিছুর জন্যই প্রয়োজন হতো 'মা' নামক মানুষটিকে। তবে বর্তমানে টেলিভিশন বা খবরের কাগজ খুললেই প্রায় এমন কিছু খবর দেখা যায় যে 'অমুকের মায়ের ঠাঁই আজ বৃদ্ধাশ্রমে', 'সামর্থ্য থাকার পরেও ঠাই নেই নিজ বাড়ি', 'মা কে সন্তান পিটিয়ে বের করে দিয়েছে' ইত্যাদি, ইত্যাদি।

তবে আজ যারা বৃদ্ধ, ফলে আজকাল যাদের স্থান হয় বৃদ্ধাশ্রমে তাদের নিজেদের জীবনের সব সময় ও ধন সম্পদ বিনিয়োগ করেছেন সন্তানের জন্য, নিজের জন্য রাখেননি কিছুই। কিন্তু বয়সকালে তাদের ঠাঁই হয় না সেখানে। কখনো দেখা যায় সন্তান তার নিজের পরিবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাই পিতা-মাতাকে মনে করছে বোঝা। নিজে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একটু ভালো থাকার জন্য বাবা-মার ঠাঁই করে দিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। আবার এমনো দেখা যায় যে সন্তানের টাকা পয়সার অভাব নেই, কিন্তু পিতা-মাতাকে নিজের কাছে রাখার প্রয়োজন বোধ করছেন না, বা বোঝা মনে করছেন। হয় নিজেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে, নয়ত অবহেলা দুর্ব্যবহার করে এমন অবস্থার সৃষ্টি করছেন যেন তাদের পিতা-মাতা নিজ ইচ্ছায় সরে গেছেন পরিবার থেকে। 

একবার বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েই অনেক সন্তানের মুক্তি। এরকম বিভিন্ন অজুহাতে মা-বাবা কে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে সন্তানেরা। এছাড়াও  নামি-দামি বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চাকরিজীবী যারা এক সময় খুব বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে এসে নিজের সন্তানের দ্বারাই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বৃদ্ধাশ্রমের স্থায়ী বাসিন্দা হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সন্তানেরা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে রেখে গেলে আর দেখতে আসে না, কোনো খোজ খবর রাখে না। এমনকি ঈদেও তাদের নিতে আসে না। 

তাই বৃদ্ধাশ্রমই অবহেলিত বৃদ্ধদের জন্য একমাত্র এবং শেষ আশ্রয়। তাদের সারাজীবনের অবদানের যথার্থ স্বীকৃতী, শেষ সময়ের সম্মান ও নিরাপত্তা দেয়া হয় এসব বৃদ্ধাশ্রমে। এখানে তারা নির্ভাবনায়, সম্মানের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটাতে পারেন। প্রয়োজনে অনেক বৃদ্ধাশ্রমে চিকিৎসারও সুন্দর ব্যবস্থা করা আছে। তবে এখানে সব পাওয়ার পরে যেটা পাওয়া যায় না সেটা হলো পরিবার, সন্তানের সান্নিধ্য, নাতি-নাতনীদের সাথে খুনসুটি।

বৃদ্ধাশ্রম   জন্মদাত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

নিজ পেশা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ


Thumbnail নিজ পেশা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ

বেদে সম্প্রদায় হলো বাংলাদেশের একমাত্র যাযাবার শ্রেণীভুক্ত মানুষ। কথিত আছে, ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে আরাকানরাজ বল্লার রাজার সাথে তাদের প্রথম ঢাকায় আগমন ঘটে। প্রথমে তারা বিক্রমপুরের মুন্সিগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তারপর জীবিকার খোঁজে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, নগরে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একাংশে আর আসাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পরে। বেদে জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশই নিরক্ষর।

এদের আজীবনই বসবাসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্যই তাদের স্থির কোনো বাসস্থান কখনোই গড়ে উঠেনি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। এদের বেশিরভাগই বসাবস করেন হালুয়ার ঘাটের নৌকায়। আবার যারা ইতোমধ্যে তৈরি করে নিয়েছেন অন্য পেশায় জায়গা, তারা কিছুটা উন্নত জীবন-যাপন করছেন। 

বেদে সম্প্রদায় ভুক্ত অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে নিজেদের মতো নতুন পেশা খুঁজে নিচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে দাবী করেন আয়ের সল্পতা। আগের মতো করে তাদের ব্যবসায় লাভের চেহারা দেখছেন না তারা বহুদিন ধরেই। তাই অনেকেই বিমুখ হচ্ছেন এই পেশা থেকে। এমনকি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী খুব দ্রুত বেদে সম্প্রদায়ের এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। 

বেদে সম্প্রদায় ভুক্ত নারী এবং পুরুষেরা সাধারণত সাপের খেলা দেখাতো। এটাই তাদের প্রধান পেশা হিসাবে বিবেচনা করা হতো। সময়ের সাথে সাথে এই সম্প্রদায়ের নারীরা বাতের ব্যাথার চিকিৎসা, দাঁতের পোকা সারানো, সাপে কামড়ালে বিষ নামানো ইত্যাদি কাজে নিযুক্ত হন। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো স্বীকৃতি নেই তাদের অবলম্বন করা পদ্ধতির দ্বারা আসলেই সমস্যার সঠিক সমাধান হয় কিনা এই বিষয়ে। তবুও, আগে মানুষের এই পদ্ধতি অনুসারে এই সব কাজের চাহিদা ছিল। বর্তমানে প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে, মানুষ জ্ঞানের মাধ্যমে যত বিজ্ঞান নির্ভর মনোভাব গড়ে তুলছেন,  ঠিক ততটাই এই কাজের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানমূলক পদ্ধতিতে তারা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন। আদিম পদ্ধতিতে ততই হারাচ্ছেন বিশ্বাস। যে কারণে এখন গ্রামগঞ্জেও এসব কাজের উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায় না তেমন একটা। 

সাভারের বেদে সম্প্রদায়ের সাথে আলাপচারিতার সময়, মাজেদা নামের এক নারী জানান, তিনি আগে সাপের খেলা দেখানোর পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তার স্বামীও এই কাজ করতেন। কিন্তু এখন তারা দু'জনের একজনও এই পেশায় আর নিয়োজিত নেই। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, এই কাজে এখন আর যথেষ্ট আয় তাদের হয় না। পাশাপাশি, শহরাঞ্চলে সবাই ঘরে সময় কাটাই বেশি, সেই খোলামেলা পরিবেশও আর নেই যেখানে খেলা দেখানো যায়। চার বছরের বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তির পরিকল্পনা করছেন এই দম্পতি।  কিন্তু আগের পেশায় নিয়োজিত থাকলে তা কখনোই সম্ভব হতো না। তাদের ভাষায়, "এই পেশা দিয়ে এখন আর পেট চলে না।"

আলাপের এক পর্যায়ে কাঞ্চন নামের বেদে সম্প্রদায়ের একজন তরুণ বলে, "এই পেশা থেকে আমাদের বয়সী তরুণ আগ্রহ হারাচ্ছে অনেক বেশি। আমার বন্ধুরা অনেকেই নিজেদের মতো ব্যবসা শুরু করেছে। আমি নিজেও ব্যবসা করি। তাতে আয় অল্প হয় কিন্তু আদিম পেশা থেকে কিছুটা ভালো।" তাদের মতে,বাপ দাদার পেশা কেউ সেচ্ছায় ছাড়তে চায় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুসারে এখন তারা নিরুপায়। এই পেশা নিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সময়কালে। 

অনেকে দাবি করেন, এই পেশা ছাড়ার অন্যতম কারণ হলো সাপ খুঁজে না পাওয়া। আগের মতো সাপ ধরা যায় না। অনেক ধৈর্য্য আর সময়সাপেক্ষ এই কাজ যেমন কেউ করতে চায় না, তেমনি সাপ খুঁজে পাওয়াটাও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। স্বল্প সংখ্যক যে কয়েকটা খুঁজে পাওয়া যায় তা বনবিভাগের সংরক্ষণে চলে যায়। বিরল প্রজাতির সাপ পাওয়া যেমন মুশকিল তেমনই সাধারণ প্রজাতির সাপের নাগাল পাওয়াটাও যেন বিশাল চ্যালেঞ্জ। রতন মিঁয়া নামের একজন জানান, সাপ খুঁজে পাওয়াটাই তো মুশকিল, এই পেশা নিয়ে আগাবো কেমনে?" 

অনেকে মনে করেন যাযাবর শ্রেণী হিসেবে এই পেশার মানুষরা সমাজ স্বীকৃত না বা তথাকথিত মর্যাদা এবং সম্মান পায় না বলে এই পেশা থেকে সহজে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই সম্প্রদায়েরই মানুষজন। তাই আজ প্রায় বিলুপ্তির মুখে ঐতিহাসিক এই শ্রেণীভুক্ত মানুষের আদিম পেশার জীবিকা এবং জীবনধারা। 


বেদে সম্প্রদায়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ভারতের যেসব জায়গায় ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষা মৌসুম

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০১ Jul, ২০২২


Thumbnail ভারতের যেসব জায়গায় ভ্রমণের উপযুক্ত সময় বর্ষা মৌসুম

বিপুল জনসংখ্যার দেশ ভারত। যেই দেশের এক প্রান্তে মরুভূমি তো আরেক প্রান্তে বরফ। এক অদ্ভুত দেশ এই ভারত। এই দেশটির প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর সব ভ্রমণ স্পট। তবে সব জায়গায় কিন্তু সব সময় বেড়ানো যায় না আবহাওয়ার বৈচিত্র্যের কারণে। একেক জায়গার ভ্রমণ মৌসুম বছরের একেক সময়ে। সেকারণে আজ দেখে নিন ভারতের যেসব জায়গায় ভ্রমণের উপযুক্ত সময় এই বর্ষা মৌসুম। 

ওয়ানাদ, কেরালা
ওয়েস্টার্ন ঘাটের ওপরে আয়েশী ভঙ্গিতে অবস্থিত ওয়ানাদ দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল এলাকাগুলোর একটি। বর্ষাকালে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাত জায়গাটিকে খুবই আকর্ষণীয় করে তোলে। এখানে ভ্রমণকালে আপনি দেখতে পাবেন প্রাচীন এডাকাল গুহা, উষ্ণমণ্ডলীয় বনভূমিতে করতে পারেন ট্রেকিং, জিপ সাফারি করে দেখতে পাবেন বন্যহাতি এবং অনেক কিছু।

আথিরাপাল্লি, কেরালা
এটি সবার জানা যে, বর্ষাকাল প্রকৃতি ও জলপ্রপাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে। একইভাবে কেরালা রাজ্যের আথিরাপাল্লি হচ্ছে এমন একটি জায়গা, যাতে বিদ্যমান বর্ষাকালে ভ্রমণের উপযুক্ত সব কারণ। প্রায় ৮০ ফুট উচ্চতা থেকে প্রবাহিত একই ধরনের অনেকগুলো পানির প্রবাহ আপনার মাঝে চমৎকার এক দৃষ্টিসুখকর অনুভূতির জন্ম দেবে, হয়ে যাবেন অভিভূত। বর্ষাকালে যখন পানির প্রবাহ অনেক জোরালো হয়; তখন জলাধারগুলো প্রায় একত্রিত হয়ে অনেকটা বিশ্ববিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাতের রূপ ধারণ করে।

ওটি, তামিলনাড়ু
উধাগামান্দালাম হিসেবেও পরিচিত ওটি নীলগিরি হিলসে অবস্থিত। বছরজুড়েই ভ্রমণ করা যায় জায়গাটি। তবে বর্ষাকালে এখানে পাবেন চোখজুড়ানো সবুজের সমারোহ আর বইয়ে আঁকা দৃশ্যাবলীর মতো নজরকাড়া প্রাকৃতিক দৃশ্য। দক্ষিণ ভারতের সবচেয়ে রোমান্টিক জায়গা হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ওটি। তাই বর্ষাকালে এখানে বেড়াতে গেলে সেই স্মৃতি সহজে ভুলতে পারবেন না।

ভালপারাই, তামিলনাড়ু
এ নয়নাভিরাম হিল স্টেশনটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩,৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। বর্ষাকালে এখানে যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয়। জায়গাটির ঘন বনভূমি, চা-বাগান, প্রবাহমান জলপ্রপাত, উপচেপড়া বাঁধ এবং মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া একে বর্ষাকালে দক্ষিণ ভারতের একটি দারুণ অবকাশ যাপন কেন্দ্র বানিয়েছে। ট্রেকার, প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্য জীবন সম্পর্কে উৎসাহীরা অবশ্যই জায়গাটিকে তাদের পছন্দের তালিকায় স্থান দিতে পারেন।

আগুম্বে, কর্ণাটক
আগুম্বে সন্দেহাতীতভাবে বর্ষাকালে দক্ষিণ ভারতের সেরা ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর একটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত জায়গাটি ‘দক্ষিণ ভারতের চেরাপুঞ্জি’ হিসেবে পরিচিত। গোটা দক্ষিণ ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও নজরকাড়া সব উপত্যকার আশীর্বাদপুষ্ট আগুম্বে জুড়ে রয়েছে অগণিত জলপ্রপাত, যা বর্ষাকালে জীবন্ত হয়ে ওঠে।

আল্লেপ্পি, কেরালা
জায়গাটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার তেমন কিছু নেই। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য লোভনীয় এক জায়গা আল্লেপ্পি। চমৎকার ঘন সবুজে আবৃত প্রত্যন্ত এলাকা এটি। হাউজবোটে করে জলাভূমিতে ঘুরে বেড়ানো আপনার ভ্রমণের আনন্দ অনেকগুণ বাড়িয়ে দেবে। বর্ষাকালে জায়গাটিতে একবার গিয়েই দেখুন না, কী চমক অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

লাম্বাসিঙ্গি, অন্ধ্রপ্রদেশ
এটি এতো সুপরিচিত জায়গা নয়। এখনো লোকজনের খুব ভিড়ও হয় না। তারপরও আপনার মনোযোগ আকর্ষণের উপাদান কম নেই লাম্বাসিঙ্গিতে। ভিশাখাপত্তম জেলায় অবস্থিত লাম্বাসিঙ্গি বর্ষাকালে আপনাকে দিতে পারে চমৎকার এক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। বর্ষা মৌসুমে ভ্রমণের আনন্দ পূর্ণতা পেতে পারে লাম্বাসিঙ্গিতে গিয়ে। জায়গাটিকে আদর করে ডাকা হয় ‘অন্ধ্রপ্রদেশের কাশ্মীর’ নামে। সমগ্র রাজ্যে লাম্বাসিঙ্গিই একমাত্র জায়গা; যেখানে তুষারপাত হয়ে থাকে এবং এটি খুব আকর্ষণীয়।

মেঘমালতি, তামিলনাড়ু
‘আঁকাবাঁকা উঁচু পাহাড়ের পর্বত’ নামে পরিচিত মেঘমালতি ওয়েস্টার্ন ঘাটসে অবস্থিত এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৫০০ মিটার উঁচু। যারা বর্ষায় নিরিবিলি জায়গায় প্রশান্তি লাভের সুযোগ খোঁজেন, তাদের জন্য আদর্শ জায়গা মেঘমালতি। চা ও কার্ডামম চা গাছের বাগান দ্বারা বেষ্টিত মেঘমালতি বছরের এই সময়ে হয়ে ওঠে দারুণ আকর্ষণীয়। এসব বাগানের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া আঁকাবাঁকা রাস্তাগুলো প্রকৃতির মাঝে হাঁটাহাঁটির জন্য আদর্শ।

কন্যাকুমারী
ভারতের মানচিত্রের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এ ভ্রমণ গন্তব্যটি নজরকাড়া সমুদ্রসৈকত এবং ভারত মহাসাগরের দৃশ্যাবলীর জন্য বিখ্যাত। বর্ষাকালে জায়গাটি আরও প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে; যখন খাড়া পাহাড়ের মিশ্রণ, পর্বত, উপত্যকা ও সাগর মিলে এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি করে। এ সৌন্দর্যের কথা কখনোই ভুলতে পারবেন না। বর্ষাকালে জায়গাটিতে ভ্রমণ হয়ে থাকতে পারে জীবনের স্মরণীয় স্মৃতিগুলোর একটি।

লক্ষদ্বীপ
বর্ষাকালে আপনার অবশ্যই চেষ্টা করা উচিত এ উষ্ণমণ্ডলীয় স্বর্গ ভ্রমণের চেষ্টা করা। এখানকার চারপাশের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আপনাকে ভীষণ মুগ্ধ করবে। কেরালার উপকূলে অবস্থিত এ দ্বীপপুঞ্জকে সমৃদ্ধ করেছে ৩৬টি প্রবাল দ্বীপ, যা এটিকে বানিয়েছে প্রকৃতিকে নতুন করে আবিষ্কার করার দারুণ এক গন্তব্য। স্বপ্নের এ সৈকতগুলোয় কিছু সময় কাটান এবং ভবিষ্যতে বারবার মনে করার মতো কিছু স্মৃতি জমা করুন।

বর্ষা   ভ্রমণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

রংপুরের বিখ্যাত চিকলি বিলে যা যা দেখবেন

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail রংপুরের বিখ্যাত চিকলি বিলে যা যা দেখবেন

রংপুরের চিকলি বিল। এই বিলের সৌন্দর্য সবাইকেই মুগ্ধ করে। এককালে স্থানটি ব্যবহৃত হতো সি প্লেনের ল্যান্ডিং স্টেশন হিসেবে। শীত আসলেই নানা অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠতো এই বিল। রংপুরের হনুমানতলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন এই চিকলি বিলের পাশেই গড়ে উঠেছে দর্শণীয় চিকলি ওয়াটার ও গার্ডেন পার্ক। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পার্ক এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশবাসীর কাছে।

বিল পাড়ে মনোরম পরিবেশে দু’দণ্ড বসার ব্যবস্থা আছে। আরও আছে চিত্তবিনোদনের জন্য স্থাপিত মিনি রেলগাড়ি ও বিভিন্ন রাইড।

বর্তমানে চিকলির বিল দু’ভাগে বিভক্ত। বিলের দক্ষিণে গড়ে উঠেছে ওয়াটার পার্ক। সেখানে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। সেখানে আরও আছে বিভিন্ন ওয়াটার রাইড। আর বিলের উত্তর পাশ যার নাম চিকলি ওয়াটার গার্ডেন। যার প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা।

সেখানকার বিশালকার চরকিতে চড়লে রংপুর শহরের বার্ডস আই ভিউ পাবেন। পড়ন্ত এক বিকেল কাটানোর জন্য অসাধারণ এক স্থান এই চিকলির বিল।

চিকলি ওয়াটার পার্ক এর মূল আকর্ষণ হলো কৃত্রিম ঝরনা। দিনের চেয়ে রাতে এই ঝরনা দেখতে বেশি ভালো লাগে। নানা রঙের আলোর ঝলকানিতে চোখ ভরে যাবে।

পার্কের ভেতরে বেশ কয়েকটি ক্যানেল আছে। সেখানকার স্বচ্ছ খেলা করছে রঙিন মাছ। চাইলে স্পিড বোটেও গা ভাসাতে পারবেন এই পার্কে। দর্শনার্থীদের বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেয়ার বা বেঞ্চের ব্যবস্থা রাখা আছে।

কীভাবে যাবেন চিকিলি বিল?

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেরেক রংপুর এসে সহজেই যেতে পারবেন চিকলির বিলে। রংপুর শহরের এক প্রকার কেন্দ্রেই যার অবস্থান।

চিকলির বিল আসার পথ মূলত দুটি- একটি সাগরপাড়ার দিয়ে আরেকটি শহরের পুলিশ লাইনের সামন দিয়ে হনুমানতলা বাজার পার হয়ে একটু সামনেই হাতের বামেই বিলে প্রবেশের পথ।

চিকলির বিল যাওয়ার কথা বললে সহজেই রিকশা কিংবা অটো পেয়ে যাবেন। সেখানে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের জায়গা থাকায় প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও সহজেই ঘুরে আসতে পারেন বিখ্যাত চিকলির বিল থেকে।

রংপুর   চিকলি বিল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?


Thumbnail আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?

বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঐতিহ্য যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে যে বিষয়টি দেখা যায়, তা হলো মসলিন উৎপাদন এবং এই মসলিন কাপড়ের ব্যবহার। মসলিন কাপড় এমন এক কাপড় ছিল যা বিলাস এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়েছিল বিশ্বজুড়ে।  

মসলিন কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ। প্রায় ১৬টি ধাপে তৈরি করা হতো এই মসলিন কাপড়। মধ্যযুগে পৃথিবীর সর্বত্র এই কাপড় নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক হৈ চৈ। সকলেই তখন এই মসলিন কাপড়ের কদর করেছিলেন। তবে বিত্তশালী মানুষেরা ছিল মসলিনের গুরু ব্যবহারকারী। কথিত আছে, মসলিন এতটাই নরম ছিল যে একটা ছোট আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েক'শ গজ মসলিন কাপড় গলে যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এই কাপড়ের উৎপাদন কমে যেতে থাকে। বর্তমানে এর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অথচ, ভারতের বেঙল প্রদেশের ঢাকায় ছিল একসময় মসলিন তৈরি ঘাটি। 

মেঘনা নদীর পাড়ে ছিল তখনকার মসলিন কাপড় তৈরির কারখানা। মসলিন কাপড় তৈরিকারকদের উত্তরাধিকাররা এখনো জামদানি শাড়ি তৈরি করে থাকেন যা মসলিন কাপড়েরই পরিবর্তীত রূপ কিন্তু, মসলিন কাপড়ের সাথে এর তফাত অনেক। বাস্তবে যদিও মসলিনের গুণগত মান আর জামদানির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা হয়, তাও জামদানি বেশ সমাদৃত এখনো অবদি বাংলায়। 

এই মসলিন কাপড় এর পুনঃউৎপাদনের জন্য কাজ করছিলেন একদল গবেষকরা। প্রায় ছয় বছরের গবেষণায় তারা সফলও হয়েছেন তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে। ছয়টি মসলিন শাড়ি উৎপাদন করে তারা প্রমাণ করেছেন বাংলায় এখনো মসলিন কাপড় তৈরি করা সম্ভব। ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে। এর ১৭০ বছর পরে বাংলাদেশে আবার বোনা হলো সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন কাপড়ের শাড়ি। ঠিক সে রকমই, যেমনটি বলা হতো—আংটির ভেতর দিয়ে গলে যায় আস্ত একটি শাড়ি। ইতোমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে।



মসলিন কাপড় তৈরি করার জন্য প্রয়োজন একধরনের বিশেষ সুতোর। তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন বানানোর জন্য দরকার ছিল "ফুটি কার্পাস" গাছের,  আবার সেই গাছ কি আসল গাছ কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ছিল মসলিন কাপড়ের। এই দু'টো জিনিস জোগাড় করাটাই যেন ছিল গবেষকদের মূল চ্যালেঞ্জ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে গাজীপুরের কাপাসিয়া ও রাঙামাটি থেকে এই গাছের খবর আসে। গবেষকেরা গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, সাজেক ও লংদু; বাগেরহাট, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে মোট ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা হিসেবে নেওয়া হয় গাছের তুলা, বীজ, পাতা, কাণ্ড ও ফুল। সম্ভাব্য ফুটি কার্পাসের এই জাতটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নিজস্ব মাঠে ও আইবিএসসির মাঠে চাষ করা হয়। 

ফুটি কার্পাসের পরীক্ষার জন্য যখন মসলিন কাপড়ের নমুনা আবশ্যক তখন বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর সাহায্য করতে নারাজ। তখন কলকাতার ন্যাশনাল মিউজিয়ামে গিয়েও অনেক চেষ্টার পরও বিফল হন গবেষকরা। কারণ, মসলিন তৈরিতে তুলার জাত এবং আবহাওয়ার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অবশেষে কিছু নমুনা দেশ থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। যা দিয়ে পরবর্তীতে মসলিন কাপড় তৈরির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। 

গবেষকরা মোট ছয়টা শাড়ি উৎপাদন করেছিলেন যা হুবুহু ঐতিহাসিক মসলিনের মতো, যা একটি আংটির ভেতর দিয়ে ঢুকে যায় অনায়াসে কয়েকশো গজ। একটি শাড়ি তারা উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। দেশের মাটিতে ফুটি কর্পাস চাষের মাধ্যমে তুলা উৎপাদন এবং তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন কাপড়ের বস্ত্র তৈরি যেন এক বিপ্লব। 

এই গবেষণায় সাফল্যের পর শিগগিরই মসলিন কাপড়ের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তাছাড়া, মসলিনের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ ও পেটেন্ট অর্জিত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মসলিন কাপড়ের এই উৎপাদন বহাল থাকলে, ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মসলিন কাপড়ের উৎপাদনই যেন "ঢাকায় মসলিনের পুর্নজন্ম।"

মসলিন   কাপড়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৯ Jun, ২০২২


Thumbnail বিশ্ব বাবা দিবস আজ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের ৫২টি দেশে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এ বছর তৃতীয় রোববার হিসেবে ১৯ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্ট এলাকার এক গির্জায় ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই ‘বাবা দিবস’ প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে; সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বিশ্ব বাবা দিবস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন