ইনসাইড আর্টিকেল

শিশুদের প্রতি আচরণ এবং এর প্রভাব


Thumbnail শিশুদের প্রতি আচরণ এবং এর প্রভাব

শিশুদের যথাযথ সঠিক পরিবেশে সঠিক যত্ন সহকারে গড়ে তোলার জন্য কত আলোচনা এবং সমালোচনা!  বাড়ির অভ্যন্তর থেকে বাইরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবধি সর্বত্র সঠিক ব্যবহারের নানা আলাপ উঠে এসেছে বহুবার। তবু কি যথাযথ ভাবে এই নির্দেশনা পালন করা হচ্ছে?

সাইকোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস এর ভিত্তিতে গবেষকরা দাবি করেন শিশুদের মন মস্তিষ্কের বৃদ্ধি এবং সঠিক বুদ্ধি বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো ১-৭ বছর। এই সময় তারা যা দেখে, যা শুনে তার প্রভাব বাকি জীবনে বেশ গাঢ় হয়। সেটা কনশাস এবং সাব-কনশাস দুই ভাবেই হতে পারে। তাই শুরু থেকেই তাদের প্রতি ব্যবহার, আলাপ ইত্যাদি নানা কাজে অভিভাবক শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বাকিদের যত্নবান হতে হবে। কোনো প্রকার বিরূপ ব্যবহার হতে পারে তাদের মানসিক স্থিতিশীলতার ক্ষতির কারণ।

সম্প্রতি এক সমীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায়, বাংলাদেশের শতকার ৪৮ শতাংশ শিশুরা বাবা, মা কিংবা অভিভাবকের দ্বারা শারীরিকভাবে নির্যাতিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২২ শতাংশ আর অন্যান্য ক্ষেত্রে ১১ শতাংশ। দেশের এখনো অবদি অনেকে বাচ্চাদের অবাধ্যতার উপশমক হিসেবে মারধরের পন্থাতেই বিশ্বাসী। যার কারণে খুব অল্প বয়সেও অনেক শিশুরই এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।

শহর অঞ্চলে এই চিত্র কিছুটা উন্নত হলেও গ্রামাঞ্চলে এখনো এর অবস্থা ভালো না। শহরাঞ্চলের শিক্ষার হার এমন জ্ঞান চর্চার সুযোগ আছে বলে এখানে শিশুদের প্রতি শারীরিক নির্যাতনের হারের গ্রামের তুলনায় তুলনামূলক কম বলে দাবী করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, গ্রামে মাদ্রাসাতে পড়তে যাওয়া শিশুদের উপর যে শারীরিক নির্যাতন হয় তা তাদের মন-মস্তিষ্কে এমন প্রভাব ফেলে যে পরবর্তীতে তাদের নানা মানসিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন, অ্যাংগার ডিসওর্ডার, বিকৃত মানসিকতা, ট্রমা ইত্যাদি সহ আরো নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

শিশু বয়সে কারো মনে কোনো ঘটনার বাজে প্রভাব পড়লে তা তাদের একটা লম্বা সময় মানসিক চাপের কারণ হতে পারে। এমনি, ঘটনার তীব্রতা, আচরণের উপর ভিত্তি করে কিছু কিছু শিশুর সাথে ঘটে থাকা শারীরিক নির্যাতন এর ঘটনার প্রভাব সারাজীবনও পরবর্তীতে বহন করতে হয়। কয়েকদিন আগে সাইকো অ্যানালেইটিক্যাল রিসার্চ ফর চাইল্ড ট্রমার কেইস স্টাডি তে দেখা গিয়েছে, একজন ২৫ বছর বয়সী যুবক তার ছোটবেলায় মাদ্রাসায় পড়তেন এবং সেখানে তার শিক্ষকের দ্বারা প্রতিনিয়ত শারীরিক মারধর এবং নির্যাতনের শিকার হতেন। যা তার ছোটবেলায় মানসিক বিকাশে সময় এমন প্রভাব ফেলেছিল যে এখনো তিনি স্বপ্নে একই ঘটনা প্রায়শ দেখতে পান। অর্থাৎ যেকোনো ঘটনা মানুষের সহনশীলতার উপর ভিত্তি করে এর প্রভাব এর কাল সাময়িক কিংবা দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে।

যেকোনো মানুষের পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে গড়ে উঠার জন্য তাদের শৈশব ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শৈশব থেকে শিশুরা যা দেখতে বা শুনতে অভ্যস্ত হয় তা তাদের পরবর্তী জীবনে তাদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে অনেকখানি অবদান রাখে। তাই মনোবিজ্ঞানীরাও বারবার সর্তক করেন যেন প্রতিটি ঘর এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাচ্চাদের সাথে যথাযথ আচরণ করা হয়। সেক্ষেত্রে তাদের যেকোনো কথা বুঝাতে বা মানিয়ে নিতে "নন ভায়োলেন্স কমিউনিকেশন" সব থেকে কার্যকারি হিসেবে দাবি করেন তাঁরা।

শিশু   আচরণ   প্রভাব  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

রংপুরের বিখ্যাত চিকলি বিলে যা যা দেখবেন

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail রংপুরের বিখ্যাত চিকলি বিলে যা যা দেখবেন

রংপুরের চিকলি বিল। এই বিলের সৌন্দর্য সবাইকেই মুগ্ধ করে। এককালে স্থানটি ব্যবহৃত হতো সি প্লেনের ল্যান্ডিং স্টেশন হিসেবে। শীত আসলেই নানা অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠতো এই বিল। রংপুরের হনুমানতলা এলাকার শত বছরের প্রাচীন এই চিকলি বিলের পাশেই গড়ে উঠেছে দর্শণীয় চিকলি ওয়াটার ও গার্ডেন পার্ক। বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই পার্ক এরই মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে দেশবাসীর কাছে।

বিল পাড়ে মনোরম পরিবেশে দু’দণ্ড বসার ব্যবস্থা আছে। আরও আছে চিত্তবিনোদনের জন্য স্থাপিত মিনি রেলগাড়ি ও বিভিন্ন রাইড।

বর্তমানে চিকলির বিল দু’ভাগে বিভক্ত। বিলের দক্ষিণে গড়ে উঠেছে ওয়াটার পার্ক। সেখানে প্রবেশ মূল্য ২০ টাকা। সেখানে আরও আছে বিভিন্ন ওয়াটার রাইড। আর বিলের উত্তর পাশ যার নাম চিকলি ওয়াটার গার্ডেন। যার প্রবেশ মূল্য ৩০ টাকা।

সেখানকার বিশালকার চরকিতে চড়লে রংপুর শহরের বার্ডস আই ভিউ পাবেন। পড়ন্ত এক বিকেল কাটানোর জন্য অসাধারণ এক স্থান এই চিকলির বিল।

চিকলি ওয়াটার পার্ক এর মূল আকর্ষণ হলো কৃত্রিম ঝরনা। দিনের চেয়ে রাতে এই ঝরনা দেখতে বেশি ভালো লাগে। নানা রঙের আলোর ঝলকানিতে চোখ ভরে যাবে।

পার্কের ভেতরে বেশ কয়েকটি ক্যানেল আছে। সেখানকার স্বচ্ছ খেলা করছে রঙিন মাছ। চাইলে স্পিড বোটেও গা ভাসাতে পারবেন এই পার্কে। দর্শনার্থীদের বসে আড্ডা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় চেয়ার বা বেঞ্চের ব্যবস্থা রাখা আছে।

কীভাবে যাবেন চিকিলি বিল?

দেশের যে কোনো প্রান্ত থেরেক রংপুর এসে সহজেই যেতে পারবেন চিকলির বিলে। রংপুর শহরের এক প্রকার কেন্দ্রেই যার অবস্থান।

চিকলির বিল আসার পথ মূলত দুটি- একটি সাগরপাড়ার দিয়ে আরেকটি শহরের পুলিশ লাইনের সামন দিয়ে হনুমানতলা বাজার পার হয়ে একটু সামনেই হাতের বামেই বিলে প্রবেশের পথ।

চিকলির বিল যাওয়ার কথা বললে সহজেই রিকশা কিংবা অটো পেয়ে যাবেন। সেখানে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের জায়গা থাকায় প্রাইভেট গাড়ি নিয়েও সহজেই ঘুরে আসতে পারেন বিখ্যাত চিকলির বিল থেকে।

রংপুর   চিকলি বিল  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?


Thumbnail আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?

বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঐতিহ্য যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে যে বিষয়টি দেখা যায়, তা হলো মসলিন উৎপাদন এবং এই মসলিন কাপড়ের ব্যবহার। মসলিন কাপড় এমন এক কাপড় ছিল যা বিলাস এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়েছিল বিশ্বজুড়ে।  

মসলিন কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ। প্রায় ১৬টি ধাপে তৈরি করা হতো এই মসলিন কাপড়। মধ্যযুগে পৃথিবীর সর্বত্র এই কাপড় নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক হৈ চৈ। সকলেই তখন এই মসলিন কাপড়ের কদর করেছিলেন। তবে বিত্তশালী মানুষেরা ছিল মসলিনের গুরু ব্যবহারকারী। কথিত আছে, মসলিন এতটাই নরম ছিল যে একটা ছোট আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েক'শ গজ মসলিন কাপড় গলে যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এই কাপড়ের উৎপাদন কমে যেতে থাকে। বর্তমানে এর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অথচ, ভারতের বেঙল প্রদেশের ঢাকায় ছিল একসময় মসলিন তৈরি ঘাটি। 

মেঘনা নদীর পাড়ে ছিল তখনকার মসলিন কাপড় তৈরির কারখানা। মসলিন কাপড় তৈরিকারকদের উত্তরাধিকাররা এখনো জামদানি শাড়ি তৈরি করে থাকেন যা মসলিন কাপড়েরই পরিবর্তীত রূপ কিন্তু, মসলিন কাপড়ের সাথে এর তফাত অনেক। বাস্তবে যদিও মসলিনের গুণগত মান আর জামদানির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা হয়, তাও জামদানি বেশ সমাদৃত এখনো অবদি বাংলায়। 

এই মসলিন কাপড় এর পুনঃউৎপাদনের জন্য কাজ করছিলেন একদল গবেষকরা। প্রায় ছয় বছরের গবেষণায় তারা সফলও হয়েছেন তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে। ছয়টি মসলিন শাড়ি উৎপাদন করে তারা প্রমাণ করেছেন বাংলায় এখনো মসলিন কাপড় তৈরি করা সম্ভব। ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে। এর ১৭০ বছর পরে বাংলাদেশে আবার বোনা হলো সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন কাপড়ের শাড়ি। ঠিক সে রকমই, যেমনটি বলা হতো—আংটির ভেতর দিয়ে গলে যায় আস্ত একটি শাড়ি। ইতোমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে।



মসলিন কাপড় তৈরি করার জন্য প্রয়োজন একধরনের বিশেষ সুতোর। তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন বানানোর জন্য দরকার ছিল "ফুটি কার্পাস" গাছের,  আবার সেই গাছ কি আসল গাছ কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ছিল মসলিন কাপড়ের। এই দু'টো জিনিস জোগাড় করাটাই যেন ছিল গবেষকদের মূল চ্যালেঞ্জ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে গাজীপুরের কাপাসিয়া ও রাঙামাটি থেকে এই গাছের খবর আসে। গবেষকেরা গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, সাজেক ও লংদু; বাগেরহাট, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে মোট ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা হিসেবে নেওয়া হয় গাছের তুলা, বীজ, পাতা, কাণ্ড ও ফুল। সম্ভাব্য ফুটি কার্পাসের এই জাতটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নিজস্ব মাঠে ও আইবিএসসির মাঠে চাষ করা হয়। 

ফুটি কার্পাসের পরীক্ষার জন্য যখন মসলিন কাপড়ের নমুনা আবশ্যক তখন বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর সাহায্য করতে নারাজ। তখন কলকাতার ন্যাশনাল মিউজিয়ামে গিয়েও অনেক চেষ্টার পরও বিফল হন গবেষকরা। কারণ, মসলিন তৈরিতে তুলার জাত এবং আবহাওয়ার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অবশেষে কিছু নমুনা দেশ থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। যা দিয়ে পরবর্তীতে মসলিন কাপড় তৈরির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। 

গবেষকরা মোট ছয়টা শাড়ি উৎপাদন করেছিলেন যা হুবুহু ঐতিহাসিক মসলিনের মতো, যা একটি আংটির ভেতর দিয়ে ঢুকে যায় অনায়াসে কয়েকশো গজ। একটি শাড়ি তারা উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। দেশের মাটিতে ফুটি কর্পাস চাষের মাধ্যমে তুলা উৎপাদন এবং তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন কাপড়ের বস্ত্র তৈরি যেন এক বিপ্লব। 

এই গবেষণায় সাফল্যের পর শিগগিরই মসলিন কাপড়ের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তাছাড়া, মসলিনের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ ও পেটেন্ট অর্জিত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মসলিন কাপড়ের এই উৎপাদন বহাল থাকলে, ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মসলিন কাপড়ের উৎপাদনই যেন "ঢাকায় মসলিনের পুর্নজন্ম।"

মসলিন   কাপড়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৯ Jun, ২০২২


Thumbnail বিশ্ব বাবা দিবস আজ

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বিশ্বের ৫২টি দেশে প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। সে হিসেবে এ বছর তৃতীয় রোববার হিসেবে ১৯ জুন পালিত হচ্ছে দিবসটি।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে থেকে বাবা দিবস পালন শুরু হয়। আসলে মায়েদের পাশাপাশি বাবারাও যে তাদের সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জেনিয়ার ফেয়ারমন্ট এলাকার এক গির্জায় ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই ‘বাবা দিবস’ প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। তিনি ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একেবারেই জানতেন না। ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে; সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়ে অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন। তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর ১৯১০ সালের ১৯ জুন থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন।

বাবা দিবস বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই পালিত হতো! আসলে মা দিবস নিয়ে মানুষ যতটা উৎসাহ দেখাতো, বাবা দিবসে মোটেও তেমনটা দেখাতো না; বরং বাবা দিবসের বিষয়টি তাদের কাছে বেশ হাস্যকরই ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থা পাল্টায়। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে বাবা দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বাবা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

বিশ্ব বাবা দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

মৃৎশিল্প নাকি ‘মৃতশিল্প’?


Thumbnail মৃৎশিল্প নাকি ‘মৃতশিল্প’?

বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন শিল্পের একটি হলো মাটির শিল্প। এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি নানা তৈজসপত্র ছিল এই দেশের প্রতি ঘরের নিত্য সামগ্রী। বাংলাদেশের রাজশাহী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন শহরে কারিগরদের রাজত্ব ছিল একচেটিয়া। তাদের তৈরি আসবাবপত্র, হাঁড়ি-পাতিল ছিল বাংলার সংস্কৃতির অংশ। যা এখনো বাংলার অন্যতম ঐতিহ্য হিসেবে পরগণিত হয়। কিন্তু যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং আগ্রহের অভাবে মৃৎশিল্প আজ মৃতপ্রায়। 

গ্রামাঞ্চলে মেলা মানেই আমরা বুঝতাম নিত্যপণ্য, আর মাটির তৈরি সুদর্শন সব তৈজসপত্র। এতটাই আগ্রহ আর প্রয়োজনীয়তার জায়গা দখল করে ছিল এই মাটির শিল্প। রাজশাহীতে হওয়া রথের মেলায় বসতো বিশাল সারিবদ্ধ মাটির তৈজসপত্রের দোকান। মৃৎশিল্পীরা তাদের তৈরি পণ্য নিয়ে আসতেন। এই মেলা এতটা জমজমাট ছিল যে, বাইরের জেলা থেকেও ব্যবসায়ীরা আসতেন তাদের তৈরি মাটির পণ্য বেচাকেনা করতে। এখন মেলা অনুষ্ঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু ব্যবসায়ীরা আর আসেন না আশানুরূপ সংখ্যায়। মানুষের আগ্রহের কমতি মেলায় মৃৎশিল্পীদের এবং মাটির শিল্পের অনুপস্থিতির প্রধান কারণ।  

দুই যুগ আগেও দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ ছিল অনেক মাটির তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে। তখন তৈরিকৃত প্রতিটা জিনিসের চাহিদা এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার ছিল ব্যাপক। এখন,  মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চাহিদার জায়গা দখল করে নিচ্ছে প্লাস্টিক, কাঁচ এর ধাতব উপাদান সমূহ। অথচ, আগে পূজা, অনুষ্ঠান, নবান্ন, পিঠা উৎসব বাংলার সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে থাকা প্রতিটি ঘটনার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল মাটির তৈরি জিনিসপত্র।  



দেশের এখনো কিছু গ্রামাঞ্চলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হিসেবে মাটির তৈরি জিনিসপত্র এর চাহিদা আছে বলে রাজশাহী, ফরিদপুর অঞ্চলে কিছু মৃৎশিল্পীর পরিবার টিকে আছেন। যারা বংশ পরম্পরায় এই কাজ এখনো টিকিয়ে রেখেছেন। তবে তাদের কাজ অনুযায়ী এর চাহিদা নিয়ে অসন্তুষ্টি আছেই। ফরিদপুর অঞ্চলের কারণ্যপুর গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে তৈরি হতো আগে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল। পালপাড়া নামে খ্যাত এই জায়গায় মৃৎশিল্পীরা পাল্লা দিয়ে মাটির জিনিসপত্র তৈরি করতো। উঠোন জুড়ে হাঁড়ি-কলসির মেলা বসতো। সেসব তৈরি জিনিস শুকিয়ে ঘরে তোলা, রং করা,  সব যেন উৎসবের মতন করা হতো। কিন্তু সেই পাড়ায় এখন হাতেগোনা কিছু পরিবার আছে যারা এই কাজের ধারিবাহিকতা বজায় রাখছেন।  

বাজারে মাটির তৈরি জিনিসের প্রতি মানুষের আগ্রহ হারিয়েছে দিনদিন সব ধরণের ধাতব বস্তুর উপর নির্ভরশীলতা বাড়ার জন্য। নান্দনিক এবং রুচিশীলতা অনুশীলনকারী অনেকেই এখনো মাটির তৈরি তৈজসপত্রের কদর করলেও সে সংখ্যা খুবই কম। যার কারণে মৃৎশিল্পীদের আগ্রহ কমছে। অনেকেই অন্য পেশায় নিযুক্ত হয়ে পড়ছেন। অনেকে নামমাত্র জিনিসপত্র বানাচ্ছেন। মাটির জিনিসের দাম পাচ্ছেন না বলে অনেকেই এই পেশা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। এতে মূলত দেশে মৃৎশিল্পী যেমন কমে আসছে তেমনি দেশের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের অবক্ষয় ঘটছে দিনের পর দিন। 

বাংলাদেশের সবখানে চৈত্র-বৈশাখে মেলা বসে। পাল পরিবারের সদস্যরা সেখানে এখন অন্য ধরনের পণ্য নিয়ে হাজির হন। শহরাঞ্চলে, ড্রইং/লিভিং রুমে দেখতে পাওয়া যায় নানা ধরণের মাটির পণ্য। বিত্তবানরা ঘর সাজাতে আজকাল আগ্রহ প্রকাশ করে মাটির জিনিসই কেনেন। কম ব্যয়ে ঘর সাজাতে মাটির তৈরি পণ্যই সেরা। কিন্তু, অ্যালুমিনিয়াম, প্লাস্টিক সহ অন্য সকল ধাতব বস্তুর দাম বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি মাটির তৈরি জিনিসের দাম। তা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন মৃৎশিল্পীরা। 



মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য। আমাদের ইতিহাসের এবং সংস্কৃতির সাথে জড়িয়ে থাকা শিল্পকর্ম। প্রাচীনযুগে দেয়ালের ফলক থেকে শুরু করে কারুকাজ সকলই করা হতো মাটি দিয়ে। কিন্তু এই শিল্প দিনকে দিন বিলুপ্তির পথে এগুচ্ছে। এ শিল্প যেনো হারিয়ে না যায়, কোনোভাবেই ‘মৃতশিল্পে’ পরিণত না হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে আমাদেরই।  মৃৎশিল্পীরা বিশ্বাস করেন যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারিভাবে সহযোগিতা পেলে হারিয়ে যাওয়া মৃৎশিল্পের অতীত-ঐতিহ্য পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। 

মৃৎশিল্প   মাটির পণ্য   মাটির শিল্প  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

অতিষ্ঠ গরমে ঘুরে আসুন শৈলশহর থেকে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৬ Jun, ২০২২


Thumbnail

প্রচণ্ড গরমে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এই গরমে কোথাও ঘুরতে গিয়েও শান্তি নেই! কারণ প্রখর তাপে দিনের বেলায় ঘর থেকে বের হওয়াই এখন অনেকটা মুশকিল। কেমন হতো যদি এই গরমেও শীতের দেশে ঘুরতে যাওয়া যেত! চাইলে কম খরচেই ঘুরে আসতে পারেন পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের এক শহর থেকে। যেখানে এই গরমেও মিলবে শীতের অনুভূতি। বলছি, দক্ষিণ ভারতের অপূর্ব সুন্দর শৈলশহর উটির কথা। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর শহরটি তামিলনাড়ুর বিখ্যাত ও জনপ্রিয় স্থান। এই শহরে হিমালয় না থাকলেও আছে নীলগিরি, চা বাগান, টয়ট্রেন আর গভীর অরণ্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক উটি ভ্রমণে কী কী দেখবেন-

গ্লেমরগান



উটির সবচেয়ে রোমান্টিক স্থান হলো গ্লেমরগান। তইউক্যালিপ্টাসের জঙ্গল ও স্বচ্ছ জলের হ্রদে ঘেরা একটি ছোট এক গ্রাম এটি। এখান থেকে মুদুমালাই জাতীয় উদ্যান ও মোয়ার ভ্যালির মন্ত্রমুগ্ধকর সৌন্দর্য্য দেখতে পাওয়া যায়। চাইলে সেখান থেকে ঘুরেও আসা যায়।

উটি’র শ্যুটিং স্পট ও গোলাপ বাগান



উটির আরেক অপূর্ব সুন্দর স্থান হলো শ্যুটিং স্পট। স্থানীয়রা এই স্থানকে ষষ্ঠ মাইল নামে ডাকে। সিনেমার রোমান্টিক দৃশ্য বা গানের শুটিংয়ের জন্য আদর্শ এক স্থান এটি। খোলা মাঠের চারধারে সবুজে সবুজ গাছপালা পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছে।

এমনই আরও এক স্থান হলো গোলাপ বাগান বা রোজ গার্ডেন। বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার গোলাপফুল ফুটে আছে এই বাগানে। ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে এই বাগানেই নাকি সর্বাধিক গোলাপ পাওয়া যায়। সারা বিশ্বের ১৫টি গোলাপ বাগানের মধ্যে একটি। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব রোজ সোসাইটিস কর্তৃক সম্মানিত গার্ডেন অব এক্সিলেনস পুরস্কার পেয়েছে।

ক্যাথরিন ঝরনা



সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার উঁচু থেকে পাথরের মাটিতে আঁচড়ে পড়ছে ক্যাথরিন ঝরনা। জোড়া জলপ্রপাত দেখতে চাইলে উটির এই অন্যতম সুন্দর স্থানে যেতেই হবে। পাহাড়ের গায়ে পাথরের বিভাজিকা ঝরনাটিকে দু’ভাগে বিভক্ত করেছে। সেখানে গেলে ঝরনার গায়ে দেখতে পাবেন রংধনু।

ডোড্ডাবেটা শৃঙ্গ