ইনসাইড আর্টিকেল

আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?


Thumbnail আবার কি ফিরবে সৌন্দর্যের প্রতীক মসলিন কাপড়?

বাংলাদেশের ইতিহাস আর ঐতিহ্য যদি পর্যালোচনা করা হয় তাহলে যে বিষয়টি দেখা যায়, তা হলো মসলিন উৎপাদন এবং এই মসলিন কাপড়ের ব্যবহার। মসলিন কাপড় এমন এক কাপড় ছিল যা বিলাস এবং সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত হয়েছিল বিশ্বজুড়ে।  

মসলিন কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া ছিল সময়সাপেক্ষ। প্রায় ১৬টি ধাপে তৈরি করা হতো এই মসলিন কাপড়। মধ্যযুগে পৃথিবীর সর্বত্র এই কাপড় নিয়ে শুরু হয়েছিল ব্যাপক হৈ চৈ। সকলেই তখন এই মসলিন কাপড়ের কদর করেছিলেন। তবে বিত্তশালী মানুষেরা ছিল মসলিনের গুরু ব্যবহারকারী। কথিত আছে, মসলিন এতটাই নরম ছিল যে একটা ছোট আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েক'শ গজ মসলিন কাপড় গলে যেত। কিন্তু কালের বিবর্তনের সাথে সাথে এই কাপড়ের উৎপাদন কমে যেতে থাকে। বর্তমানে এর উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অথচ, ভারতের বেঙল প্রদেশের ঢাকায় ছিল একসময় মসলিন তৈরি ঘাটি। 

মেঘনা নদীর পাড়ে ছিল তখনকার মসলিন কাপড় তৈরির কারখানা। মসলিন কাপড় তৈরিকারকদের উত্তরাধিকাররা এখনো জামদানি শাড়ি তৈরি করে থাকেন যা মসলিন কাপড়েরই পরিবর্তীত রূপ কিন্তু, মসলিন কাপড়ের সাথে এর তফাত অনেক। বাস্তবে যদিও মসলিনের গুণগত মান আর জামদানির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য লক্ষ্য করা হয়, তাও জামদানি বেশ সমাদৃত এখনো অবদি বাংলায়। 

এই মসলিন কাপড় এর পুনঃউৎপাদনের জন্য কাজ করছিলেন একদল গবেষকরা। প্রায় ছয় বছরের গবেষণায় তারা সফলও হয়েছেন তাদের গবেষণার ক্ষেত্রে। ছয়টি মসলিন শাড়ি উৎপাদন করে তারা প্রমাণ করেছেন বাংলায় এখনো মসলিন কাপড় তৈরি করা সম্ভব। ঢাকাই মসলিনের শেষ প্রদর্শনী হয়েছিল লন্ডনে ১৮৫০ সালে। এর ১৭০ বছর পরে বাংলাদেশে আবার বোনা হলো সেই ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন কাপড়ের শাড়ি। ঠিক সে রকমই, যেমনটি বলা হতো—আংটির ভেতর দিয়ে গলে যায় আস্ত একটি শাড়ি। ইতোমধ্যেই ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বত্বের অনুমোদন পাওয়া গেছে।



মসলিন কাপড় তৈরি করার জন্য প্রয়োজন একধরনের বিশেষ সুতোর। তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন বানানোর জন্য দরকার ছিল "ফুটি কার্পাস" গাছের,  আবার সেই গাছ কি আসল গাছ কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য প্রয়োজন ছিল মসলিন কাপড়ের। এই দু'টো জিনিস জোগাড় করাটাই যেন ছিল গবেষকদের মূল চ্যালেঞ্জ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে গাজীপুরের কাপাসিয়া ও রাঙামাটি থেকে এই গাছের খবর আসে। গবেষকেরা গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেন। এরপর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, সাজেক ও লংদু; বাগেরহাট, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম থেকে মোট ৩৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা হিসেবে নেওয়া হয় গাছের তুলা, বীজ, পাতা, কাণ্ড ও ফুল। সম্ভাব্য ফুটি কার্পাসের এই জাতটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের নিজস্ব মাঠে ও আইবিএসসির মাঠে চাষ করা হয়। 

ফুটি কার্পাসের পরীক্ষার জন্য যখন মসলিন কাপড়ের নমুনা আবশ্যক তখন বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর সাহায্য করতে নারাজ। তখন কলকাতার ন্যাশনাল মিউজিয়ামে গিয়েও অনেক চেষ্টার পরও বিফল হন গবেষকরা। কারণ, মসলিন তৈরিতে তুলার জাত এবং আবহাওয়ার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু অবশেষে কিছু নমুনা দেশ থেকে সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তারা। যা দিয়ে পরবর্তীতে মসলিন কাপড় তৈরির পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। 

গবেষকরা মোট ছয়টা শাড়ি উৎপাদন করেছিলেন যা হুবুহু ঐতিহাসিক মসলিনের মতো, যা একটি আংটির ভেতর দিয়ে ঢুকে যায় অনায়াসে কয়েকশো গজ। একটি শাড়ি তারা উপহার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। দেশের মাটিতে ফুটি কর্পাস চাষের মাধ্যমে তুলা উৎপাদন এবং তুলা থেকে সুতা কেটে মসলিন কাপড়ের বস্ত্র তৈরি যেন এক বিপ্লব। 

এই গবেষণায় সাফল্যের পর শিগগিরই মসলিন কাপড়ের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। তাছাড়া, মসলিনের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ ও পেটেন্ট অর্জিত হওয়ায় দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। মসলিন কাপড়ের এই উৎপাদন বহাল থাকলে, ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে এবং বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মসলিন কাপড়ের উৎপাদনই যেন "ঢাকায় মসলিনের পুর্নজন্ম।"

মসলিন   কাপড়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

সুন্দরবন ভ্রমণে বাদ দেবেন না যে ৬টি স্পট

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail সুন্দরবন ভ্রমণে বাদ দেবেন না যে ৬টি স্পট

বিশ্বের সবথেকে বড় ম্যানগ্রোভ বন হলো সুন্দরবন। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বনটি। অপার প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সুন্দরবন যারা দেখেননি তারা ছুটিতে বেড়িয়ে আসতে পারেন এই ম্যানগ্রোভ বনটি।

বাংলাদেশ অংশের ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই বনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান হলো পূর্ব বনবিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জ। দু’ধারে ঘন জঙ্গলের মাঝ থেকে বয়ে চলা এখানকা আকাবাঁকা নদী-খাল আর বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সব সময়ই আকৃষ্ট করে। তাই তারা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ছুঁটে আসেন এখানে।

সুন্দরবন ভ্রমণের এই সহজ রুট সম্পর্কে ব্যাপক পরিচিতি না থাকায় পর্যটকরা অধিক সময় ও অর্থ খরচ করে খুলনা ও মোংলা রুট দিয়ে শরণখোলার বনে প্রবেশ করে। শরণখোলা রেঞ্জের আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থানসমূহ সম্পর্কে জেনে নিন-

কটকা

সুন্দরবনের আকর্ষণীয় সব স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি স্পট হলো শরণখোলা রেঞ্জের কটকা বনাঞ্চল। বন্য জীবজন্তু, মৎস্য ও জলজ প্রাণীর প্রজননের জন্য এটি অভযারণ্য হিসেবে ঘোষিত। এখানকার জামতলায় আছে একটি ওয়াচ টাওয়ার। টাওয়ার থেকে দেখা যায়, বনের উপরিভাগের বিশাল সবুজ ঘন জঙ্গল।

ভাগ্য প্রসন্ন হলে দেখা মিলতে পারে রাজকীয় ভঙ্গিতে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গলের শরীর দুলিয়ে হেঁটে চলা। জামতলার পাশেই আছে বিশাল সি বিচ। এই বিচেই আছড়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরের বড় বড় ঢেউ। যেখানে একই সঙ্গে উপভোগ করা যায় কক্সবাজার ও কুয়াকাটা সৈকতের আনন্দ আর সুন্দরবনের সৌন্দর্য।

কটকা বনঅফিসের আশপাশে মায়াবি চিত্রল হরিণের অবাধ বিচরণ, বানরে ছুঁটোছুঁটি সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দেবে। অফিসের পেছনে আছে প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি ফুটট্রেইল। ট্রেইলের মাথায় গেলেই খুব কাছ থেকে দেখা যাবে হরিণের মেলা।

পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য বনবিভাগের একটি রেস্টহাউজও আছে। যেখানে নিরাপদে থাকার সুব্যবস্থাও পাবেন। তবে থাকতে হলে বনবিভাগের পূর্ব অনুমোতি নিতে হবে।

কচিখালী

কটকার মতো কচিখালীতেও আছে একটি রেস্টহাউজ। এই রেস্টহাউজে বসেই উপভোগ করা যায় সাগরের ঢেউয়ের মূর্ছনা, বণ্য পাখপাখালির কোলাহল, হরিণ-বানরের সখ্যতা।

সেখানে আরও আছে বিশাল সনের (সন ঘাস) বাগান। ঘন ঘাষে বাতাস হৃদয় জুড়ানো ঢেউ খেলে যায়। এই সন বাগান বাঘ, হরিণসহ বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। এখানেও আছে বিশাল সি বিচ।

সুপতি

এটিও অভয়ারণ্য এলাকা। এখানের নদীতে দুর্লভ প্রজাতির ইরাবতী ডলফিনের দেখা মেলে। ছোট ছোট খালের দুই পাশে সারিবদ্ধ গোলপাতার বন পর্যকদের আকৃষ্ট করে। নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডের ক্যাম্প রয়েছে। এখানকার সৌন্দর্য উপভোগ করে দিনে দিনে ফিরে আসা যায়।

দুবলা ও আলোর কোল

শুঁটকি পল্লীর জন্য বিখ্যাত এই স্থান। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা দুবলার জেলে পল্লীর অধীনে ছোট-বড় ৮টি চরেই শুঁটকি উৎপাদন হয়। প্রতিবছর অক্টোবর-মার্চ এই ৫ মাস চলে শুঁটকি প্রক্রিয়ার কাজ।

প্রতিবছর রাস পূর্ণিমায় আলোরকোলে জমে ওঠে রাস উৎসব। এ উৎসবে দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। এখানকার বিশাল সি-বিচ থেকে সূর্য ওঠা ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। অসংখ্য গাঙচিলের কলকাকলিতে সারাক্ষণ মূখর থাকে পরিবেশ।

আর যেতে যেতে দেখা মিলবে সাগরে অসংখ্য জেলি ফিশের। দুবলাতে বনবিভাগের পাশাপাশি র্যাব ও কোস্টগার্ডের ক্যাম্প আছে। ওখানে রাত্রিযাপন করতে হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকতে হবে।

কোকিলমণি ও টিয়ারচর

এই স্থান দুটি হলো সুন্দরবনের সবচেয়ে গভীরতম স্থান। বন্যপ্রাণির অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র। কোকিলমণিতে আছে স্বচ্ছ ও মিষ্টি পানির এক বিশাল দীঘি। নোনা পানি বিধৌত এ সুন্দরবনের মধ্যে মিষ্টি পানিতে পর্যটকরা ইচ্ছে করলে অবসাদ ও ক্লান্তি দূর করার জন্য গোসল সেরে নিতে পারেন।

এখানে নিরাপত্তার জন্য বনবিভাগ ও কোস্টগার্ডে অফিস রয়েছে। টিয়ারচরের হরিণের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। এছাড়া বনমোরগ, শুকর, গুঁইসাপ, মদনটাক, বাজপাখিসহ অসংখ্য সরিসৃপের দেখা মেলে।

সুন্দরবন ভ্রমণে কীভাবে যাবেন?

শরণখোলায় যেতে হলে প্রথমে ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যেতে হবে। সেখান থেকে বিভিন্ন কোম্পানির বিলাশবহুল সব বাস আছে। এসব পরিবহনে টিকিট কেটে সরাসরি শরণখোলা উপজেলা সদর রায়েন্দায় পৌঁছানো যায়।

চাইলে প্রাইভেট গাড়িতেও যেতে পারেন যে কেউ। আপনি চাইলে ট্রেনে খুলনা, তারপর বাগেরহাটের রায়েন্দা হয়ে শরণখোলা রেঞ্জে আসতে পারেন।

সুন্দরবনে কোথায় থাকবেন?

রায়েন্দাতে রাত্রিযাপনের জন্য সরকারি ডাকবাংলো, আবাসিক হোটেল রূপসী রায়েন্দা, সুন্দরবন অবকাশ, পিংকিসহ বেসরকারি বেশ কয়েকটি রেস্ট হাউজ আছে।

সুন্দরবন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা এবং যেসব কাজে লাগে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৮ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা এবং যেসব কাজে লাগে

জন্ম নিবন্ধন একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেই শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক। এ সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করা হলে ১৮ বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এটি করতে পারবেন। তবে ১৮ বছর পার হলে ৫০ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। 

জন্ম নিবন্ধন না হলে শিশুকে স্কুলে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৯ নং আইন) এর আওতায় একজন মানুষের নাম, লিঙ্গ, জন্মের তারিখ ও স্থান, বাবা-মায়ের নাম, তাদের জাতীয়তা ও স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারিত নিবন্ধক কর্তৃক রেজিস্টারে লেখা বা কম্পিউটারে এন্ট্রি প্রদান ও জন্ম সনদ প্রদান করা।

জন্ম নিবন্ধন করতে মা-বাবার জন্মসনদ বাধ্যতামূলকের নিয়ম ছিল এতোদিন। তবে এই নিয়ম তুলে দিয়েছে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়। এখন থেকে মা-বাবার জন্মসনদ ছাড়াই জন্ম নিবন্ধন করা যাবে। হাসপাতালে জন্ম নেওয়ার পর দেওয়া ছাড়পত্র বা টিকার কার্ড যেকোনো একটি প্রমাণ দেখিয়ে শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা যাবে।

জন্ম নিবন্ধন যেসব কাজে লাগে

জন্ম সনদ হলো একজন মানুষের জন্ম, বয়স, পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ। রাষ্ট্রের স্বীকৃত নাগরিকের মর্যাদা ও সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে হলে জন্ম নিবন্ধন সনদ প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। যেসব কাজে জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়-

* পাসপোর্ট ইস্যু
* বিবাহ নিবন্ধন
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি
* সরকারি-বেসরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত সংস্থায় নিয়োগদান
* ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু
* ভোটার তালিকা প্রণয়ন
* জমি রেজিষ্ট্রেশন
* ব্যাংক হিসাব খোলা
* আমদানি ও রপ্তানী লাইসেন্স প্রাপ্তি
* গ্যাস, পানি, টেলিফোন ও বিদ্যুৎ সংযোগ প্রাপ্তি
* ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) প্রাপ্তি
* ঠিকাদারী লাইসেন্স প্রাপ্তি
* বাড়ির নকশা অনুমোদন প্রাপ্তি
* গাড়ির রেজিষ্ট্রেশন
* ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি
* বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ
* শিশু শ্রম প্রতিরোধ ও
* জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি।

জন্ম নিবন্ধন না থাকলে পড়তে পারেন যেসব সমস্যায়-

* জন্ম নিবন্ধন না থাকলে আপনি জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্যও আবেদন করতে পারবেন না।

*  স্কুলে ভর্তির সময় শিশুর বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম সনদ চাওয়া হয়। 

*  বিভিন্ন কারণে বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হলেও যেতে পারবেন না। কারণ পাসপোর্টের আবেদন করতে হলে অবশ্যই ফরমের সঙ্গে জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্র দরকার হবে।

*  আবার সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত চাকরির ক্ষেত্রেও জন্ম নিবন্ধন দরকার হয়। 

* বিয়ের নিবন্ধনেও দরকার হয় জন্ম নিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের।

* এছাড়া সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের পর রেজিষ্ট্রেশনেও জন্ম সনদের প্রয়োজন হয়।

জন্ম নিবন্ধন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ঘুরে আসুন মালে আইল্যান্ড থেকে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ঘুরে আসুন মালে আইল্যান্ড থেকে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ মালদ্বীপ। বিধাতা যেনো প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে দেশটিতে। দেখে মনে হবে এ যেনো কোনো বিখ্যাত শিল্পীর আঁকা বিশাল ক্যানভাস। আর এই দেশটির মধ্যে পর্যটনের মূল কেন্দ্রবিন্দু মালদ্বীপের মালে আইল্যান্ড, যা দেশটির রাজধানী। মালদ্বীপে গেলে এই দ্বীপটিতে যাবে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে কাপলদের হানিমুনে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত যায়গা মালদ্বীপের মালে আইল্যান্ড। যা প্রায় ১২০০ টি ছোট ছোট দ্বীপের মধ্যে একটি। দ্বীপটি প্রায় ১.৫ কিলোমিটার লম্বা ও ১ কিলোমিটার চওড়া এই দ্বীপ।

মালে আইল্যান্ডের চারপাশে সারি সারি নারকেল ও সুপারি গাছগুলো যেনো সবুজের মাঝে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। দ্বীপজুড়ে রয়েছে এক নগরায়নের ছোঁয়া। তাই হয়তো এখানে প্রতিনিয়তই পর্যটকদের সমাগম থাকে বিপুল পরিমাণে। এই দ্বীপে আসলে ভ্রমণের ক্লান্ত সময় নিমিশিয়ে মিলিয়ে যাবে। নীল সাগর থেকে বয়ে আসা স্নিগ্ধ হাওয়া আপনার মনকে করে তুলবে প্রানবন্ত এবং সতেজ। 

আপনি যদি মালে আইল্যান্ড ছাড়াও অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে চান তাহলে মালে আইল্যান্ডের পাশাপাশি মালে শহরের মধ্যে আরও কিছু দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে পারবেন। যেমন আর্টিফিশিয়াল বীচ , ওল্ড ফ্রাইডে মস্কো ,ন্যাশনাল মিউজিয়াম , সুলতান পার্ক, ন্যাশনাল আর্ট গ্যালারি, চিনা মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ, ফিস মার্কেট ও গ্র্যান্ড ফ্রাইডে মস্কো । মালে থেকে কাছাকাছি অবস্থিত বিভিন্ন রিসোর্ট আইল্যান্ড থেকে ঘুরে আসতে পারেন সেই সাথে সেখানে গিয়ে থাকতেও পারেন। তবে রিসোর্ট এর আইল্যান্ড গুলোতে খরচ অনেক বেশি। ডে ট্রিপ এর অপশন থাকলে প্যাকেজ আকারে ঘুরে আসতে পারেন ।


>> যেভাবে দেশ থেকে মালদ্বীপ যাবেন:

বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপ যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে ২-৩ টি ফ্লাইট আছে। তবে বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ সময় যাতায়াত করে মালদ্বীপ এয়ারওয়ে বা শ্রীলংকা এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে। মালদ্বীপে যাওয়ার এয়ারলাইন্স গুলো ঢাকা থেকে সরাসরি মালদীপ বিবানবন্দর গিয়ে পৌঁছায়। এছাড়াও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সরাসরি মালে গিয়ে পৌঁছায়। মালে পৌছানোর পর ইমিগ্রেশন শেষ করে এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরত্বে মালের ট্যাক্সি করে পৌঁছাতে পারবেন আপনার পছন্দের গন্তব্যে। এছারাও আপনি চাইলে ফেরি বা স্পিডবোট করে যেতে পারবেন মালে আইল্যান্ডে। 

তবে আপনি যদি আপনার ভ্রমণযাত্রা আরও দীর্ঘ করতে চান তাহলে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রীলংকার বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে ট্রানজিট শেষ করে আবার অন্য ফ্লাইটে করে আপনি মালদ্বীপের মালে ইন্টারন্যাশনাল বিমান বন্দরে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে শ্রীলঙ্কা থেকে বিমানে করে মালদ্বীপ যেতে আপনার ঘন্টাখানেক সময় লাগবে এবং খরচও কম পড়বে। পাশাপাশি একই সঙ্গে দুই দেশ ভ্রমণ করা হয়ে যাবে।

>> মালদ্বীপে থাকার ব্যবস্থা: 

মালদ্বীপ শহরে থাকার জন্য বেশ কিছু রিসোর্ট রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সামান গার্ডেন, সামারসেট হোটেল, সেন্টার রাস ফুসি রিসোর্ট। এই রিসোর্টগুলো ছারাও আরও বেশকিছু রিসোর্ট রয়েছে। তবে দেশটিতে যদি আপনি নতুন ভ্রমণে গিয়ে থাকেন তাহলে সেখানে কোথায় উঠবেন সেই জায়গা সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নিবেন। এছাড়াও কুরুম্বা ম্লদ্বীপ, হলিডে আইল্যন্ড রিসোর্ট, প্যারাডাইস আইল্যান্ড রিসোর্ট , সান এন্ড স্পা, বন্দোস আইল্যান্ড উঠতে পারেন। 

মালদ্বীপে থাকার জন্য দুধরনের দীপ রয়েছে। ব্যক্তিগত এবং সার্বজনীন। ব্যক্তিগত দ্বীপগুলোর সাথে যে রিসোর্টগুলো থাকে সেগুলোর ভাড়া তুলমূলকভাবে একটু বেশিই থাকে। যেমন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকাও থাকে। এই রিসোর্টগুলো বেশিরভাগ সময় সেলিব্রেটিরাই নিয়ে থাকেন। তারা একটু নিরিবিলি এবং জনসমাগম থেকে আড়ালে থাকতে চায়। তাই তাদের জন্য ব্যক্তিগত দ্বীপের রিসোর্টগুলো ভালো। এছাড়াও সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য রয়েছে সার্বজনীন দ্বীপ। যেখানে প্রতি রাতের জন্য ভাড়া ৩০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা। তবে ভারা কিছুওতা বাড়তে বা কমতে পারে। 

সেগুলি খুবই সাজানো গোছানো, পরিপাটি এবং আধুনিক। সেখানে ব্রেকফাস্ট, গরম জল সহ অন্যান্য সুবিধে মেলে। আর এই সার্বজনীন দ্বীপগুলির মধ্যে মাফুশি, ধারাভান্ধু, গুরাইধু সেরা। আবার গেস্ট হাউজ এবং ভিলার খরচও আলাদা আলাদা। ভিলার ভাড়া বেশি। গেস্ট হাউজের ভাড়া তুলনামূলক অনেক কম।

>> মালদ্বীপের খাবার ব্যবস্থা:

এখানের খাবারের তালিকায় আমিষ জাতীয় খাবারই বেশি প্রাধান্য পায়। টুনা মাছ, নারিকেল পিয়াজ ও লেবু দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ খাবার যা রশি দিয়ে খেতে দেয়া হয় এবং খুবই মজাদার। এছাড়াও নানা ধরনের ঠান্ডা পানীয় খুবই মজাদার। মালদ্বীপে গেলে এ খাবারগুলো সবাই একবার না একবার ট্রাই করে। এছারাও যদি কেউ বাঙালিয়ান খাবার খেতে চান তার জন্য রয়েছে মালে শহরের 'ঢাকা ফুড' নামে একটি রেস্টুরেন্ট। যেখানে গেলে আপনি বাঞালিয়ান খাবার খেতে পারবেন। তবে আপনি যদি একটু ভিন্ন দেশে গিয়ে ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা নিতে চান তাহলে  আন্ডারওয়াটার রেস্টুরেন্টগুলোতে খেতে পারেন। দারুন এক অভিজ্ঞা পাবেন। এছারাও আপনি যদি সাধারণ মানের খাবার খেয়ে থাকেন তবে প্রতিবেলা খাবার খ্রচ পড়বে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে। 

>> মাদ্বীপে যাওয়ার খরচ:

মালদ্বীপের থাকা-খাওয়ার খরচ একটু বেশি । বিমানে ঢাকা থেকে মালদ্বীপের যাওয়া-আসা ৪৩০০০-৬০০০০ টাকা মত পড়বে। তবে কত আগের টিকিট কাটবেন তার ওপরে বিমান ভাড়া নির্ভর করে । শহরের মধ্যে থাকলে এক রাতে খরচ হবে ৩০০০-৭০০০ টাকা। আর যদি আইল্যান্ড এর কাছাকাছি কোন রিসোর্টে রাতে থাকতে চান তাহলে জনপ্রতি খরচ হবে ১৬০০০-২৮০০০ টাকা। । 

আর প্যাকেজের মাধ্যমে স্পিডবোর্ড ভাড়া করে ঘুরতে চাইলে খরচ পড়বে ১৫০০০-১৭০০০টাকা। তবে খরচ কমাতে চাইলে যত আগে সম্ভব বিমানের টিকিট কেটে রাখবেন এবং থাকার জন্য লোকাল রিসোর্টে বা গেস্টহাউসে থাকার চেষ্টা করবেন সেই সাথে যাতায়াতের জন্য সরকারি ফেরি ব্যবহার করবেন।


>> মালদ্বীপে ভরমণের ক্ষত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখবে আর তার মধ্যে হলো-

মালদ্বীপ যাওয়ার উপযুক্ত সময় জানুয়ারি থেকে মার্চ। এসময় গেলে হয়তো খরচ একটু বেশি পড়বে। তবে যদি অফ সিজনে যান তাহলে খরচ একটু কম পড়বে। 

মালদ্বীপে যেতে হলে আগে থেকে ভিসা নেওয়ার দরকার হয়না এখানে ৩০ দিন মেয়াদে অন এ্যারাইভাল’ ভিসা নিতে হয়। আপনি যদি জব করেন তাহলে এনওসি,বিজনেস করলে ট্রেড লাইসেন্স ও স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ড ও দরকারে কাগজের ফটোকপি সাথে রাখবেন।

মালদ্বীপে ভ্রমনে গেলে সে ক্ষেত্রে বিমানের টিকিটের ক্ষেত্রে এক থেকে দুই মাস আগে বুকিং দেওয়ার চেষ্টা করুন তাতে বিমানের টিকিট মূল্য কিছুটা কমে পাওয়া যাবে। মালে আইল্যান্ডে যদি সিজনাল সময়ে ঘুরতে যান তাহলে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে থাকার জন্য হোটেল বুকিং দিয়ে রাখুন। এতে করে কিছু স্পেশাল অফার পাওয়া যায় এবং নানা ধরনের ঝামেলাও এড়ানো যায়।

মালদ্বীপ একটি বিলাসবহুল দেশ তাই খরচ কিছুটা বেশি। তবে বুদ্ধি ও হিসেব করে খরচ করতে পারলে আপনি ভালোভাবে পুরো ঘুরতে পারবেন।

ঢাকা থেকে পৌছাতে যদি রাত হয়ে যায় এবং আপনি পরের দিন আইল্যান্ডে পৌঁছাতে চান তাহলে রাত কাটানোর জন্য যেকোনো কম খরচের হোটেলে থাকার চেষ্টা করুন। 

রিসোর্ট থাকলে খাবার খরচ প্যাকেজের মধ্যে নেওয়ার চেষ্টা করবেন আর বাইরে খেলে মেন্যুবার থেকে লোকাল খাবার খাবেন, এখানে লোকাল খাবারের দাম অনেকটা কম।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বিসিএসই কি সাফল্যের একমাত্র প্রতিশব্দ?

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ১৩ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বিসিএসই কি সাফল্যের একমাত্র প্রতিশব্দ?

দেশের স্বপ্নবিলাসী শিক্ষার্থীদের কাছে বিসিএস যেন স্বপ্নপূরণের আরেক নাম। উচ্চশিক্ষার গন্ডি পেরোতেই দেশের তরুণ প্রজন্ম ঝাঁপিয়ে পড়ে বিসিএসে উত্তীর্ণের রণক্ষেত্রে। তবে এই স্বপ্ন অনেকেরই দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। আবার কেউ কেউ পৌঁছাতে পারে তাদের স্বপ্নের চূড়ায়। যদিও এর সংখ্যা খুবই কম।  বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা খুবই মেধাবী। মেধাবীদের তুলনায় বাংলাদেশে তাদের কর্মক্ষেত্র খুবই সীমিত। কর্মক্ষেত্র সীমিত জেনেও হুমরি খেয়ে পড়ে বিসিএসের উপর। তাদের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয়ের তালিকা থেকে শুরু করে ধ্যান-জ্ঞানে কর্মক্ষেত্রের তালিকায় রাখেন বিসিএস।

আমরা যদি এবছর ৪৪ তম বিসিএসের কথা বলি তাহলে দেখতে পাই যে, এ বছর ৪৪ তম বিসিএস পরিক্ষায় আবেদন করেছিলো ৩ লাখ ৫০ হাজার ৭১৬ জন পরিক্ষার্থী। এদিকে বিসিএসের মোট পদ সংখ্যা রয়েছে ১ হাজার ৭১০ টি। মানে একটি পদের বিপরীতে লড়েছেন ২০৫ জন পরিক্ষার্থী। এর মানে দাঁড়ায় এবছরের স্বপ্নের বিসিএস থেকে বাদ পড়বেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৬ জন পরিক্ষার্থী। 

আসন সংখ্যা সীমিত হওয়া সত্ত্বেও কেনো সবাই বিসিএসের প্রতি ছুটছেন? এর উত্তর সহজভাবে বলতে গেলে সবাই চায় তাদের কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত হোক,  ভালো বেতন এবং সার্বিক সুযোগ সুবিধা। পাশাপাশি তো আছেই ক্ষমতা, সম্মান ইত্যাদি। যা একমাত্র বিসিএস বা উচ্চ পদের সরকারি চাকরিতেই সম্ভব। 

তবে আমাদের দেশে বিসিএস ছাড়াও আরও অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিসিএস না দিয়েও বা বিসিএস ক্যাডার হয়ে আবার সেখান থেকে ফিরে এসে অন্য কর্মক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন। যেমন আমাদের খুব পরিচিত একজন লেখক আনিসুল হক। যিনি বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে পাশ করে বিসিএস ক্যাডার হয়েছিলেন এবং চাকরিতেও যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বছর খানিক যেতে না যেতেই তিনি ফিরে আসেন তার পছন্দের জগত সাংবাদিকতা আর লেখালেখিতে। আজ তিনি একজন সফল মানুষ। বিসিএসে পড়ে থাকলে তিনি আজ যে অবস্থানে আছেন সেটা থাকতে পারতেন না। আজ তিনি দেশের একজন সম্মানিত মানুষ। যার কথা থাকে মানুষের মুখে মুখে।

আবার দেশ অরেক বরেণ্য খালেদ মুহিউদ্দীনের কথা যদি বলি, তিনি বিসিএস পাশ করে যোগ দিয়েছিলেন ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। তবে তিনিও বিসিএস থেকে সরে এসে যোগ দিয়েছেন তার পছন্দের কর্মক্ষেত্র লেখালেখি আর সাংবাদিকতায়।

এছাড়াও, কেউ ব্যাবসা করে, কেউ কোনো বেসরকারি চাকরি করে বা কেউ উদ্যোক্তা হয়। তাহলে আপনি কেনো শুধু বিসিএসকে ধ্যান-জ্ঞ্যানে রাখবেন।  যেখানে লড়াইয়ে জিতবেন নাকি হারবেন এর নিশ্চয়তা নেই। এমন অনেক মানুষ আছে যারা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও ০.৫ মার্কের জন্য ছিটকে পড়ে বিসিএস থেকে। এক নিমিষেই অক্লান্ত পরিশ্রম বৃথা হয়ে যায়।  

আপনার পছন্দ যদি বিসিএস থাকে, তাহলে অবশ্যই পছন্দের তালিকায় রাখুন কারণ বিসিএসের পড়াশোনা বেসরকারি চাকরি, ব্যাংক-বিমায় আপনাকে সাহায্য করবে। তবে ধ্যান-জ্ঞানে বিসিএস না রেখে, বিসিএসের সাথে প্ল্যান 'বি' রাখুন। যেনো বিসিএস থেকে ছিটকে গেলেও আপনার স্বপ্ন ধূলিসাৎ না হয়ে যায়।

বিসিএস   সাফল্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বাংলাদেশের পর্যটন এলাকায় নারী ট্রাভেলারদের নিরাপত্তা

প্রকাশ: ০৮:০৪ এএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাংলাদেশের পর্যটন এলাকায় নারী ট্রাভেলারদের নিরাপত্তা

সোলো ট্রাভেলারদের জন্য বাংলাদেশ কতটা নিরাপদ তা নিয়ে যুক্তিতর্ক লেগেই আছে। সেই একা ট্রাভেলার যদি হয় নারী, সেই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা কতটুকু নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। 

সম্প্রতি কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশে ট্রাভেল জোনগুলোতে দেশি এবং দেশের বাইরের বিভিন্ন দেশের ট্রাভেলাদের মনে প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তবে বিভিন্ন জায়গা ইতোমধ্যে যারা ভ্রমণ করেছেন তারা জানাচ্ছেন, বাংলাদেশের মেয়েদের সোলো ট্রাভেলের জন্য সর্বত্রই নিরাপদ। তবে কিছু অঞ্চলে সাবধানতা বজায় রাখা ছেলে কিংবা মেয়ে যেকোনো ভ্রমণকারীর উচিত। এর বাইরে দেশের কম বেশি অনেক স্থান সকলের জন্য নিরাপদ এবং সুরক্ষিত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন এর মতে দেশের সাময়িক কিছু ঘটনার পরে সন্ত্রাসীগুষ্টির আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এতে সামগ্রিক অঞ্চলকে বহিষ্কার করার মতো পরিস্থিতি হবে না বলে জানান তারা। তাছাড়া পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশি এবং বিদেশি সকল মানুষের উপস্থিতির উপর লক্ষ্য করে নিরাপত্তা আগের তুলনায় আরো বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করছে বাংলাদেশ পুলিশ এবং পর্যটন এলাকাসমূহের দায়িত্ব থাকা সরকারি কর্মকর্তারা। 

কক্সবাজার, সিলেট জাফলং, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শ্রীমঙ্গল, সাজেক, সুন্দরবন, লালাখাল, বাঘেরহাট, কুয়াকাটা, ময়নামতি কিংবা সোমপুরবিহার ইত্যাদি খুবই সুপরিচিত ভ্রমণ উপযোগী স্থান হিসেবে। এসব স্থানে নারীদের একা বা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর নিরাপত্তা কতটুকু সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। তবে যারা ইতোমধ্যে এসব স্থানে ঘুরে বেরিয়েছেন, তাদের মতে অনেকেই জানিয়েছেন একা ঘুরার ক্ষেত্রে তেমন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। 

দেশের সোলো ট্রাভেলার ফাতেমা জাহান জানিয়েছেন, দেশের টুরিজম প্লেসেগুলোর বিভিন্ন জায়গা তিনি ইতোমধ্যে ঘুরে বেরিয়েছেন। প্রতিবারই তিনি একা গিয়েছেন। সেইক্ষেত্রে তেমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন তার হতে হয়নি। বরং প্রতিটি জেলা অঞ্চল এমনকি পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসীদের ব্যবহার অত্যন্ত অমায়িক। বিদেশি ট্রাভেলার লুইসা কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ভ্রমণের মতো সাহসি পদক্ষেপ নিয়ে দেশের এক তৃতীয়াংশ ঘুরে বেরিয়েছেন।  এই জার্নি জুড়ে তিনি ছিলেন একা,  তবে পরিচিত হয়েছেন অনেক নতুন মুখের সাথে। বাংলাদেশের মানুষের আত্মীয়তা এবং নিরাপত্তা তাকে মুগ্ধ করেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়িয়ে তাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা তারা তুলে ধরেছেন নিজেদের লেখার মাধ্যমে।

কিছুকিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেশের পর্যটন এলাকা নিয়ে একটা বিরূপ ধারণা তৈরি করলেও প্রকৃত অর্থে সাবধনতা অবলম্বন করলে প্রতিটি জায়গাই সকলের জন্য নিরাপদ।  আর সরকার কর্তৃক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরো কঠোর ব্যবস্থাপনা নেওয়া হলে বিদেশি এবং অন্যান্য ট্রাভেলারদের ভ্রমণ আরামদায়ক হবে বলে জানান এই দুই সোলো নারী ট্রাভেলার। 


পর্যটন   নারী ট্রাভেলার   নিরাপত্তা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন