ইনসাইড আর্টিকেল

নিজ পেশা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ


Thumbnail নিজ পেশা থেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ

বেদে সম্প্রদায় হলো বাংলাদেশের একমাত্র যাযাবার শ্রেণীভুক্ত মানুষ। কথিত আছে, ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে আরাকানরাজ বল্লার রাজার সাথে তাদের প্রথম ঢাকায় আগমন ঘটে। প্রথমে তারা বিক্রমপুরের মুন্সিগঞ্জে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। তারপর জীবিকার খোঁজে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জ, নগরে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একাংশে আর আসাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পরে। বেদে জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশই নিরক্ষর।

এদের আজীবনই বসবাসের জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের জন্যই তাদের স্থির কোনো বাসস্থান কখনোই গড়ে উঠেনি। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮ লক্ষ। এদের বেশিরভাগই বসাবস করেন হালুয়ার ঘাটের নৌকায়। আবার যারা ইতোমধ্যে তৈরি করে নিয়েছেন অন্য পেশায় জায়গা, তারা কিছুটা উন্নত জীবন-যাপন করছেন। 

বেদে সম্প্রদায় ভুক্ত অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে নিজেদের মতো নতুন পেশা খুঁজে নিচ্ছেন। এর কারণ হিসেবে দাবী করেন আয়ের সল্পতা। আগের মতো করে তাদের ব্যবসায় লাভের চেহারা দেখছেন না তারা বহুদিন ধরেই। তাই অনেকেই বিমুখ হচ্ছেন এই পেশা থেকে। এমনকি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী খুব দ্রুত বেদে সম্প্রদায়ের এই পেশা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। 

বেদে সম্প্রদায় ভুক্ত নারী এবং পুরুষেরা সাধারণত সাপের খেলা দেখাতো। এটাই তাদের প্রধান পেশা হিসাবে বিবেচনা করা হতো। সময়ের সাথে সাথে এই সম্প্রদায়ের নারীরা বাতের ব্যাথার চিকিৎসা, দাঁতের পোকা সারানো, সাপে কামড়ালে বিষ নামানো ইত্যাদি কাজে নিযুক্ত হন। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে কোনো স্বীকৃতি নেই তাদের অবলম্বন করা পদ্ধতির দ্বারা আসলেই সমস্যার সঠিক সমাধান হয় কিনা এই বিষয়ে। তবুও, আগে মানুষের এই পদ্ধতি অনুসারে এই সব কাজের চাহিদা ছিল। বর্তমানে প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে, মানুষ জ্ঞানের মাধ্যমে যত বিজ্ঞান নির্ভর মনোভাব গড়ে তুলছেন,  ঠিক ততটাই এই কাজের জন্য আধুনিক বিজ্ঞানমূলক পদ্ধতিতে তারা স্বস্তি খুঁজে পাচ্ছেন। আদিম পদ্ধতিতে ততই হারাচ্ছেন বিশ্বাস। যে কারণে এখন গ্রামগঞ্জেও এসব কাজের উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায় না তেমন একটা। 

সাভারের বেদে সম্প্রদায়ের সাথে আলাপচারিতার সময়, মাজেদা নামের এক নারী জানান, তিনি আগে সাপের খেলা দেখানোর পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। তার স্বামীও এই কাজ করতেন। কিন্তু এখন তারা দু'জনের একজনও এই পেশায় আর নিয়োজিত নেই। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, এই কাজে এখন আর যথেষ্ট আয় তাদের হয় না। পাশাপাশি, শহরাঞ্চলে সবাই ঘরে সময় কাটাই বেশি, সেই খোলামেলা পরিবেশও আর নেই যেখানে খেলা দেখানো যায়। চার বছরের বাচ্চাকে স্কুলে ভর্তির পরিকল্পনা করছেন এই দম্পতি।  কিন্তু আগের পেশায় নিয়োজিত থাকলে তা কখনোই সম্ভব হতো না। তাদের ভাষায়, "এই পেশা দিয়ে এখন আর পেট চলে না।"

আলাপের এক পর্যায়ে কাঞ্চন নামের বেদে সম্প্রদায়ের একজন তরুণ বলে, "এই পেশা থেকে আমাদের বয়সী তরুণ আগ্রহ হারাচ্ছে অনেক বেশি। আমার বন্ধুরা অনেকেই নিজেদের মতো ব্যবসা শুরু করেছে। আমি নিজেও ব্যবসা করি। তাতে আয় অল্প হয় কিন্তু আদিম পেশা থেকে কিছুটা ভালো।" তাদের মতে,বাপ দাদার পেশা কেউ সেচ্ছায় ছাড়তে চায় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুসারে এখন তারা নিরুপায়। এই পেশা নিয়ে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সময়কালে। 

অনেকে দাবি করেন, এই পেশা ছাড়ার অন্যতম কারণ হলো সাপ খুঁজে না পাওয়া। আগের মতো সাপ ধরা যায় না। অনেক ধৈর্য্য আর সময়সাপেক্ষ এই কাজ যেমন কেউ করতে চায় না, তেমনি সাপ খুঁজে পাওয়াটাও কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। স্বল্প সংখ্যক যে কয়েকটা খুঁজে পাওয়া যায় তা বনবিভাগের সংরক্ষণে চলে যায়। বিরল প্রজাতির সাপ পাওয়া যেমন মুশকিল তেমনই সাধারণ প্রজাতির সাপের নাগাল পাওয়াটাও যেন বিশাল চ্যালেঞ্জ। রতন মিঁয়া নামের একজন জানান, সাপ খুঁজে পাওয়াটাই তো মুশকিল, এই পেশা নিয়ে আগাবো কেমনে?" 

অনেকে মনে করেন যাযাবর শ্রেণী হিসেবে এই পেশার মানুষরা সমাজ স্বীকৃত না বা তথাকথিত মর্যাদা এবং সম্মান পায় না বলে এই পেশা থেকে সহজে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে এই সম্প্রদায়েরই মানুষজন। তাই আজ প্রায় বিলুপ্তির মুখে ঐতিহাসিক এই শ্রেণীভুক্ত মানুষের আদিম পেশার জীবিকা এবং জীবনধারা। 


বেদে সম্প্রদায়  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ও বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষণ!

প্রকাশ: ০৫:২৭ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ও বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষণ!

একলা ঘর, ধূলো জমা গীটার

পড়ে আছে লেলিন, পড়ে আছে শেক্সপিয়ার

টিশার্ট জিন্সগুলো দেরাজে আছে

শুধু মানুষটা তুই নেইতো, নেইরে কাছে

ও বন্ধু তোকে মিস করছি ভীষণ

তোকে ছাড়া কিছুই আর জমেনা এখন

এই গানটার মতই আমরা ফেলে আসা বন্ধুদের মিস করতে থাকি আজীবন। বন্ধু এমন একটা সম্পর্ক যার কোন বয়স হয় না। একদম ছোট্ট পায়ে চলতে শুরু করা থেকে লাঠি হাতে বৃদ্ধ বয়েসেও আমরা যাদের সাথে নির্দ্বিধায় মনের সমস্ত কিছু খুলে বলতে পারি, যার সামনে অনায়াসে হাসতে পারি, কাঁদতে পারি সেই হল বন্ধু। আগস্ট মাসের প্রথম রবিবার পালিত হয় বন্ধু দিবস। এই দিনে সবাই সবার বন্ধুদের কাছাকাছি থাকতে চায়। কিন্তু যাদের বন্ধুরা অনেক দূরে চলে গেছে দীর্ঘদিন যোগাযোগ নেই অভিমান কিংবা রাগ করে দূরে সরে আছে অথবা এতটাই দূরে সরে গেছে যেখান থেকে আর কখনোই ফিরে আসা যায় না তাদের কাছে বন্ধু দিবসটা আসলে কেমন?  

তানভীর ( ছদ্মনাম) বলছিলেন তার বন্ধু মেহেদীর কথা। একই এলাকায় বড় হয়েছেন, দুজন দুই স্কুলে পড়লেও স্কুল ছুটির সাথে সাথে দৌড়ে একজন আরেকজনের কাছে চলে যেতেন। তারা একসাথে ফুটবল, ক্রিকেট খেলতেন মাঠে, রাত অবধি একসাথে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরতেন। হুট করেই একদিন তানভীর জানতে পারেন মেহেদীর যক্ষা হয়েছে। মেহেদীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বন্ধুকে একবার দুবার দেখতে গিয়েছিলেন হাসপাতালে ভেবেছিলেন সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু হুট করেই একদিন খবর পান মেহেদী আর এই পৃথিবীতে নেই। তানভীর সেদিন যেমন এই খবরটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না আজও পারেন না। তার এখন মাঝে মাঝে ভীষন অপরাধবোধ কাজ করে। কেন বন্ধুকে আরেকটু সময় দিলেন না ? কেন রোজ হাসপাতালে দেখা করতে গেলেন না । এই অপরাধবোধ এখনো যন্ত্রনা দেয় তানভীরকে।

রেহমান সাহেব (ছদ্মনাম) বয়স এখন প্রায় ৭৫ বছর। কিছুদিন আগেই হারিয়েছেন প্রিয় বন্ধু গিয়াস কে। গিয়াস তার ছেলেবেলার বন্ধু। তার সকল সুখ দুঃখের সঙ্গী ছিল গিয়াস। একবার দুজনে মিলে সাঁতরে পার হয়েছিলেন কালীগঙ্গা নদী। মাঝ নদীতে তিনি খেই হারিয়ে ফেললে টেনে পাড়ে নিয়ে গিয়েছিল গিয়াস। তার পালিয়ে বিয়ে করার সাক্ষীও ছিলেন প্রিয় বন্ধু গিয়াস। তারা একসাথে বুড়ো হয়েছেন। কিন্তু গত বছর করোনা কেড়ে নিয়েছে তার প্রিয় বন্ধুকে। শেষ দেখাও দেখতে পারেননি প্রিয় বন্ধুর মুখ। তিনি এখনো সকাল হলেই গিয়াসের বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।  এই হয়তো তার প্রিয় বন্ধু চা হাতে রাস্তায় এসে দাঁড়াবে।

শিলা (ছদ্মনাম) এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। রোকেয়া হলে থাকে। তার হলে প্রথমে উঠেই যে মেয়েটার সাথে পরিচয় হয় তার নাম নিশা। একই রুমে থাকত তারা। নিশা তাকে আপন বোনের মতন করে আগলে রাখত। রান্না করতে পারত না শিলা। নিশা রোজ রাতে শিলার জন্য রান্না করে রাখত। দুজনে মিলে বৃষ্টির দিনে টিএসসিতে ভিজত। রিকশা নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়াত। বছর খানেক আগে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাচ্ছিল দুজনে। একই দিনে হল থেকে বের হয়ে একজন সায়দাবাদ আরেকজন গাবতলির দিকে আলাদা হয়ে যায়। সিলেটগামী শিলা সিলেট পৌছানোর আগেই জানতে পারে তার প্রিয় বন্ধু আর নেই। বাস দুর্ঘটনায় ঘটনা স্থলেই মৃত্যু হয় তার। সেবার চোখের জলেই ঈদ হয়েছিল শিলার। এখন শিলা আর সেই রুমে থাকেন না। মাঝে মাঝেই তার মনে হয় ৩১৮ নং রুম থেকে কে যেন তাকে ডাকছে শিলা শিলা বলে।

এইসব হারিয়ে যাওয়া বন্ধুরা আমাদের সবটা জুড়ে থাকে। আমরা চাইলেও তাদের ভুলতে পারি না। তাদের অস্তিত্ব আমাদের বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় জীবনভর। হারিয়ে যাওয়া সেইসব মানুষের বন্ধুরা ভলো থাকুক।  

 

 

 



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বন্ধুত্বের বন্ধন যেনো স্বার্থহীন ভালোবাসা

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বন্ধুত্বের বন্ধন যেনো স্বার্থহীন ভালোবাসা

বন্ধুত্বের সম্পর্ক চিরদিনের সম্পর্ক এবং মধুর সম্পর্ক। বন্ধুত্বের সম্পর্ক রক্তের সম্পর্ক নয় কিংবা কামনা বাসনা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা পরিচালিত নয়। বন্ধুত্বের উৎসস্থল হলো হৃদয় এবং বন্ধুত্ব হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে গড়া। তাই তো অসংখ্য গান কিংবা কবিতা লেখা হয়েছে এই বন্ধুত্ব নিয়ে। দেখা হবে বন্ধু, কারণে আর অকারণে দেখা হবে বন্ধু, চাপা কোনো অভিমানে, দেখা হবে বন্ধু সাময়িক বৈরীতায়, অস্থির অপারগতায়!; তুমি আমার পাশে বন্ধু হে বসিয়া থাকো, একটু বসিয়া থাকো...।

আজ ৭ আগষ্ট বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস। প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার আন্তর্জাতিকভাবে বন্ধুত্ব দিবস পালিত হয়। শুধু পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দেশেই নয়, বরং বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশেও প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে উদযাপন করা হয় বন্ধু দিবস উপলক্ষে। অন্যান্য দেশের মতো বড় কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশে নানা আয়োজনে পালিত হয় দিবসটি। তবে এক্ষেত্রে বয়স্কদের চেয়ে তরুণদের আগ্রহই বেশি।
 
বন্ধু কি! তার সাথে কি সম্পর্ক! আসলে মানুষ একা বাস করতে পারে না। সমাজে বাস করতে হলে, প্রতিদিন কারো না কারো মুখাপেক্ষী হতে হয়। কাউকে আপন করতে হয়। তবে বন্ধুত্ব এমন একটি বন্ধন, এতে থাকে স্বার্থহীন ভালোবাসা। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বন্ধুকে হতে হয় অনেক বিশ্বাসী, দায়িত্ববান।  যার উপর ভরসা করা যায় নিশ্চিন্তে। এই দিন মানুষ বন্ধুদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটায়। পরস্পরকে ফুল, কার্ড, হাতের ব্যান্ড প্রভৃতি উপহার দেওয়া বন্ধু দিবসের রীতি। বন্ধুত্বের ইতিহাস প্রায় মানব সভ্যতারই সমান।

বন্ধু কিংবা বন্ধুত্বের মতো সম্পর্কের সঙ্গে মানুষের পরিচয় যুগ যুগান্তরের। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধু দিবসটি হলমার্ক কার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ‘জয়েস হল’ ১৯১৯ সালে প্রথম উত্থাপন করেন আগস্টের প্রথম রোববার বন্ধুত্ব দিবস। এই দিন তারা সবাই একে অন্যেকে কার্ড পাঠাতেন। পরে ১৯৩৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বন্ধু দিবসের ইতিহাস শুরু।

বন্ধু দিবসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে যেয়ে অধিকাংশ মানুষই যে ঘটনাটির কথা উল্লেখ করেন সেটি হলো, ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। হত্যার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। সে সময় বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষ্যেই আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আইন করে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। আর সেই থেকেই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালের আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। তখন বেশকিছু দেশ বন্ধুত্ব দিবসের সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে নেয়। এভাবেই বন্ধু দিবস পালনের পরিসর বাড়তে থাকে।

বর্তমানে সারা বিশ্বেই আগ্রহ নিয়ে বন্ধুত্ব দিবস পালিত হচ্ছে। ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘ বিশ্বময় বন্ধুত্বের আলাদা অবস্থানে নিজেদের নিয়ে যায়।  সে বছরটিতে জাতিসংঘ বিখ্যাত কার্টুন চরিত্র উইনি দ্যা পুহকে বন্ধুত্বের বিশ্বদূত হিসেবে নির্বাচিত করে। বন্ধু দিবসের এই বিশ্বদূত ছাড়াও বন্ধুত্ব দিবসের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে হলুদ গোলাপ আর ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের মতো বিষয়গুলোও। মজার বিষয় হলো, এই ফ্রেন্ডশিপ ব্যান্ডের ধারণাটিও এসেছে আমেরিকা থেকেই। আমেরিকার আদিবাসীদের মধ্যে অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যান্ড দেয়ার এই রীতি চালু আছে। তারা তাদের বন্ধুদের জন্য ব্যান্ড তৈরি করে। আর যাকে ব্যান্ড দেয়া হয়, সেও কখনোই ব্যান্ডটি খোলে না।

আবার বন্ধুত্বের প্রতীক যে হলুদ গোলাপ সেই হলুদ রং হলো আনন্দের প্রতীক। আর হলুদ গোলাপ মানে শুধু আনন্দই নয়, প্রতিশ্রুতিও। কাজেই বন্ধুত্বের মাঝে যেন আনন্দের পাশাপাশি থাকে প্রতিশ্রুতিও সেই কথাটিই যেন মনে করিয়ে দেয় এই বন্ধু দিবস। বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই।  তা যখন তখন, যেখানে সেখানেই হতে পারে। মা-বাবা যেমন হতে পারে ভাল বন্ধু, তেমনি পারে স্বামী-স্ত্রীও। আবার স্কুল-কলেজ, চাকরির ক্ষেত্র, সবখানেই বন্ধুত্ব হতে পারে।

বর্তমান সময়ে পুরো পৃথিবীটাই একটি সমাজে পরিণত হয়েছে।  প্রযুক্তির কল্যাণে গোটা বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয়। আর তাই বন্ধুত্ব ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে।  এখন ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে যে কোনো দেশের মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করা যায় অনায়াসে।

‘বন্ধু তোমার পথের সাথিরে চিনে নিও’।  বন্ধু কি! বন্ধুত্ব কি! বন্ধুর সাথে কেমন সম্পর্ক আপনার! আসলে বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। বন্ধু ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। একজন ভালো বন্ধু, একজন প্রকৃত বন্ধু আপনাকে সঠিক পথ চিনিয়ে নিয়ে যাবে অনেক দূর। বন্ধুত্ব এমন একটি বন্ধন, এতে থাকে স্বার্থহীন ভালোবাসা। পৃথিবীর অনেক সম্পর্কের মধ্যে এটি অন্যতম। তবে বন্ধুকে হতে হয় অনেক বেশি বিশ্বাসী, দায়িত্ববান এবং সৎ। যার উপর ভরসা করা যায় নিশ্চিন্তে।

বন্ধুত্ব   বন্ধন   স্বার্থহীন   ভালোবাসা   বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

মেঘালয় যেনো এক স্বর্গরাজ্য

প্রকাশ: ০৮:০১ এএম, ০৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail মেঘালয় যেনো এক স্বর্গরাজ্য

ভ্রমণ একজন মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। তবে কর্মব্যস্ত জীবনে ভ্রমণ করার সময় কোথায়! তাই বলে কি ভ্রমণ পিপাসু মানুষগুলো থমকে যায়! ভ্রমণ প্রিয় মানুষগুলো অপেক্ষায় থাকে ছুটির। কিছু সময়ের জন্য হলেও কর্মব্যস্ত জীবনকে বিদায় জানিয়ে ছুটে চলে পাহাড়, সমুদ্র কিংবা ঝর্ণায়। তাই তো ছুটির দিনগুলোতে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য কোনো ছুটি পেলে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের মধ্যে প্রথমেই প্রাধান্য পায় কোথাও না কোথাও ঘুরতে যাওয়ার। কেউ বা বাছাই করে নেয় পাহাড়-পর্বত। আবার কেউবা বাছাই করে নেয় সমুদ্র-সৈকত। তবে লম্বা ছুটি পেলে এবং পাহাড়-পর্বত, সাগর, মেঘ সব কিছুর অনুভূতি একসাথে নিতে চাইলে যেতে পারেন প্রতিবেশী দেশ ভারতের মেঘালয়ে। যেখানে বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষই একটু লম্বা সময়ে পেলে ঘুরতে যাচ্ছে। 

মেঘালয় যেখানে পাহাড় ছুয়ে যায় আকাশকে, আর পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা অসংখ্য ঝর্ণা, মেঘেরা বিচরণ কিরে আকাশজুড়ে। এসব কিছুর সংমিশ্রণ যেনো এক স্বর্গ রাজ্য। তবে মেঘালয়ের সেরা জায়গা কোনটি বা কোথায় গেলে দেখতে পারবেন প্রকৃতির সেই অনাবিল অপরুপ দৃশ্য! এ নিয়েই আজকে বাংলা ইনসাইডারের ভ্রমণ আয়োজন। 

মেঘালয় রাজ্যের আকর্ষণীয় দুইটি শহর রয়েছে। যার মধ্যে শিলং ও চেরাপুঞ্জি অন্যতম। আর বাংলাদেশ থেকে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা সব থেকে বেশি এই স্থানগুলোতেই ঘুরতে আসেন এবং পছন্দও করেন। এই স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। যেমন-

মাওলিনং গ্রাম
শিলংয়ের মাওলিনং গ্রাম। মেঘালয়ের আকর্ষনের জায়গায় শিলং আর শিলংয়ের আকর্ষণ এই মাওলিনং গ্রাম। শিলংয়ের মূল শহর থেকে ৯০ কি.মি দূরে এই গ্রামের অবস্থান।

মাওলিনং গ্রামের পাহাড়ে আর এখানকার ঐতিহ্য বাড়িঘর গুলির মধ্যে লুকিয়ে আছে অফুরন্ত সৌন্দর্য। তবে এই গ্রামের মূল আকর্ষণ মাওলিনং ঝর্ণা। ঝর্নার আশেপাশে ঘিরে রয়েছে বাহারি রঙের অর্কিড আর নানা লতাপাতার সমাহার। যা একজন ভ্রমণ পিপাসুকে দেবে পূর্ণ তৃপ্তি। এই গ্রামে ঝর্নার পাশাপাশি রয়েছে ৮৫ মিটার উঁচু হাই-স্কাই ওয়াচ যেখান থেকে বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের পুরো সমতল দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়। এছাড়াও রয়েছে জীবন্ত শেকড়ের ব্রীজ যা এখানকার ভ্রমণাকর্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম।

লাই লাতলুম গিরিখাত
যারা ট্রেকিং করতে পছন্দ করেন বা মেঘালয়ে গিয়ে ট্রেকের খোজ করেন তাদের জন্য রয়েছে শিলংয়ের লাই লাতলুম গিরিখাত। চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার এই ট্রেকে আপনি পৌঁছে যাবেন এমন এক স্বর্গীয় জায়গায় যেখান থেকে মেঘালয়ের পুরো দৃশ্যটা চোখের দৃষ্টিতে ধরা পড়বে। এই গিরিখাতে পৌছাতে চার-পাঁচ ঘণ্টার ট্রেক করা খুবই কষ্টসাধ্য। তবে একবার পৌঁছে গেলে চারদিকের অপরূপতা দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।

এইদিকে ভারতে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয় চেরাপুঞ্জিতে। এখানে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। তবে ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণ কেন্দ্রবিন্দু হলো ডাবল ডেকার জীবন্ত শেকড়।

ডাবল ডেকার জীবন্ত শেকড়
প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বিশাল এই শেকড়। রূপ নিয়েছে প্রকাণ্ড সেতুতে, তাও আবার উপরে এবং নিচে মোট সেতু সংখ্যা দুটি।

এখানে আপনাকে পার হতে হবে মাসে আচ্ছাদিত পিচ্ছিল ২,০০০ সিঁড়ি যা পার হতে ভালো ভালো ট্রেকারদেরও লাঠির প্রয়োজন হয়। এই ২০০০ সিঁড়ি পার হয়ে এখানে পৌছাতে প্রয়োজন সাহসের। সাহস করে একবার এই লম্বা দুর্গম পথ পার করতে পারলেই দেখা মিলবে এই স্বর্গ রাজ্যের। 

দ্য এলিফেন্ট ফলস
প্রচুর ভ্রমণ আকর্ষণের মধ্যে এখানে লুকিয়ে আছে এলিফ্যান্ট ফলসের মতো আরো অনেক আকর্ষণ। এই জলপ্রপাতের কালো পাথরগুলো মিলিত হয়ে এক ঐরাবত আকৃতির সৃষ্টি করেছিল, সেই থেকে এর নাম দ্য এলিফ্যান্ট ফলস। যদিও দূর্ভাগ্যবশত মেঘালয়ের এক ভূমিকম্পে সেই আকৃতি আর এখন নেই, তারপরেও এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য একদমই কমেনি । তিন ধাপে গঠিত এই জলপ্রপাতের প্রতি ধাপেই খেলা করে অজস্র জলরাশি।

এছাড়াও আরও বেশকিছু ভ্রমণ স্থান রয়েছে যার মধ্যে মেঘালয়ের জোয়াইয়ের লালং পার্ক, ডন বস্কো সেন্টার অফ ইনডিজেনাস কালচার, উমিয়াম লেকের মত কিছু জায়গা।  

সবশেষে ভ্রমণ পিপাসুদের কিছু কথা জানা অবশ্যই প্রয়োজন।  সেটা হলো ভ্রমণে যাওয়ার আগে একটা ব্যাকপ্যাকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন।

পাহাড়, পর্বত, সমুদ্র যেখানেই ভ্রমণে যান সেখানে সতর্কতা অবলম্বনে ভ্রমণ করুন। 

সবসময় সাথে একজন গাইড রাখুন এবং জায়গা সম্পর্কে সঠিক তথ্য নিয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা হন।


মেঘালয়   স্বর্গরাজ্য  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বাড়তি বৈষম্য এবং প্রতিকার

প্রকাশ: ০৫:৩১ পিএম, ০৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বাড়তি বৈষম্য এবং প্রতিকার

"বৈষম্য" বর্তমানে বৈশ্বিক ভাবে একটা বড় সংকটের নাম। পৃথিবী জুড়ে মানুষ নানা কারণে, নানা দিক থেকে বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।  মানুষে মানুষে কলহ এবং বিবাদের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় মানুষের অভ্যন্তরীণ বৈষম্যভিত্তিক চিন্তা চেতনাকে। বয়স, ধর্ম, সামাজিক, রাজনৈতিক,  ধর্মীয়, লিঙ্গ, বর্ণ নানা দিক থেকেই এই ভেদাভেদের রেশ চলেই আসছে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে, লিঙ্গ এবং ধর্ম ভিত্তিক বৈষম্য বেশি বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। 


লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের জন্য দেশে নারীরা আজও পিছিয়ে আছেন। শিক্ষাগত বাধ্যকতার জন্য শিক্ষাহার তুলনামূলক বাড়লেও রাজনৈতিক এবং অন্যান্য কর্মক্ষেত্রে এখনো নারী অংশগ্রহণের হার কমের দিকেই। লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে মানুষ আজও লিঙ্গ অন্ধত্বকেই বুঝে। অথচ সমতার বিষয়বস্তু মানব অধিকার অধিদপ্তর থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে সকল লিঙ্গের মানুষের সমান অধিকার এবং কাজ করার সুনিশ্চিত বাস্তবায়ন। 


সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, দেশে বৈষম্যের একটি প্রধান কারণ বৈষম্যের স্বীকার হওয়া মানুষদের তাদের অবস্থার বিষয়ে নিরপেক্ষতা।  বিভিন্ন সেক্টরে মানুষ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য প্রতিবাদ বা প্রয়োজনীয় দাবি তুলে না ধরার জন্য তাদের অবস্থার সঠিক পরিবর্তন ঘটে না।  যার ফলস্বরূপ পর্যায়ক্রমে এই বৈষম্য চলতে থাকে। কিছু শ্রেনীর মানুষ তার বর্তমান সম্বল হারানোর ভয়ে অনেক সময় নিজেদের দাবির কথা উল্লেখ করে না। ফলে বৈষম্য চক্রকারে চলতেই থাকে। 


এই প্রেক্ষাপটে এক দশকের বেশি সময় ধরে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বৈষম্যবিরোধী আইন করার দাবি করে আসছিল সরকারের কাছে। দেরি হলেও সরকার সেই দাবি মেনে নিয়ে ৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বৈষম্যবিরোধী বিল ২০২২ উত্থাপন করেছে। পরে বিলটি পর্যালোচনার জন্য সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, এ আইন অনুযায়ী এবং নীতিকরণ অনুসারে  একজন নাগরিক কোনো সরকারি বা বেসরকারি অফিস, জনসমাগম হয় এমন কোনো স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো রকম বৈষম্যের শিকার হলে প্রতিকার চাইতে পারবেন৷ তবে এই আইনের সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করেছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ। 


তাদের মতে দেশে বৈষম্য, হোক সেটা নারী ভিত্তিক কিংবা ধর্মীয়,  এটিকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। কেউ সামাজিক বা অন্য কোনো ক্ষেত্র বিশেষে যদি কোনো ধরণের বৈষম্যেএ স্বীকার হন তবে সেইক্ষেত্রে শাস্তির দাবি করতে পারেন। যেখানে শাস্তির কার্যকারিতা বাস্তবায়ন করতে হতে পারে বিলম্ব। অথচ দেশে গড়ে ১০ জনের মধ্যে ৪ জন নারী কোনো না কোনো ভাবে বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে কর্মক্ষেত্র এবং অন্যান্য সেক্টরে। আবার মূল জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩৭ শতাংশ লোক নিয়মিত বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন কোনো না কোনো ভাবে। 


সম্প্রতি নেপালের বৈষম্য বিরোধি আইন পাশ হওয়ার সুবাদে রাজনৈতিক দিক থেকে বৈশ্বিক প্রশংসা লাভ করছে এই দেশটি। এই আইনে উল্লেখ করা হয়েছে বৈষম্য,  যেকোনো ধরনের বৈষম্য অপরাধ। এই ক্ষেত্রে যদি বৈষম্য ভিত্তিক কাজের সাথে কেউ সরাসরি কিংবা পরোক্ষাভাবে যুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। 


নাগরিক সমাজ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো গুলো যে দাবি রাখছে তা হলো, দেশের বৈষম্য কমানোর জন্য অবশ্য সরকার এবং নাগরিকদের সচেতনা। যদি বৈষম্যকে অন্য দেশের মতো অপরাধের দৃষ্টিতে দেখা হয় এবং শাস্তি বাস্তবায়নের নিশ্চতকরণ করা যায় তাহলে এই বৈষম্যের হার নিম্নমুখী হবে। তাছাড়া,  কর্মক্ষেত্রে নারীদের যেকোনো বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ধর্মীয় বৈষম্য এবং যেকোনো ধরণের উগ্রবাদী ঘটনা রোধে সরকারি আইন পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের দিকে সচেষ্ট হতে হবে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির। আঞ্চলিক এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ভিত্তিক যেসকল বৈষম্য দেশে তৈরি হয়, সেইসবের জন্যও প্রয়োজন আঞ্চলিক এবং জেলা প্রশাসন ভিত্তিক আইনি ব্যবস্থা পরিচালনা বিষয়ক উদ্যোগ।  শিক্ষা বৈষম্যের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি নারী শিক্ষা এবং অনৈতিক ভাবে দূর্বল মানুষদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তহবিল এবং সরকারি আইন পাশ করার নিশ্চিতকরণ করাও প্রয়োজন। 


লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য   নারী   পুরুষ   বৈশ্বিক সংকট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

ভারত ভ্রমনে ঘুরে আসতে পারেন ‘কালো তাজমহল’

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ০৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ভারত ভ্রমনে ঘুরে আসতে পারেন ‘কালো তাজমহল’

আগ্রার তাজমহলে সৌন্দর্য বিশ্বাসীকে মুগ্ধ করে। এর কাঠামোগত সৌন্দর্য দেখে পর্যটকরা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান। ভারতের সর্বাধিক দর্শনীয় একটি স্থান হলো তাজমহল। এটি বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি। তাজমহটি পারস্য, ইসলামিক ও ভারতীয় স্থাপত্যের একটি নিখুঁত সংমিশ্রণ।

তবে আপনি কি জানেন, ভারতে আরও একটি তাজমহল আছে। যেটি ‘কালো তাজমহল’ নামে পরিচিত। ভারতের বুরহানপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরেই এই তাজমহলের অবস্থান।

সেখানে আছে শাহ নওয়াজ খানের সমাধি। স্থানীয়দের কাছে স্থাপনাটি ‘কালো তাজমহল’ নামেই পরিচিত। এটি ১৬২২-১৬২৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয় বলে জানা গেছে।

নথি অনুসারে, শাহ নওয়াজ খান ছিলেন আবদুল রহিম খানখানার জ্যেষ্ঠ পুত্র। যাকে তার সাহসিকতার কারণে মুঘল সেনাবাহিনীর সেনাপতি করা হয়েছিল।

তিনি ৪৪ বছর বয়সে মারা যান। পরে তাকে বুরহানপুরের উতাওয়ালি নদীর তীরে সমাহিত করা হয়। নথি অনুযায়ী, সেখানে শাহনওয়াজ খানের স্ত্রীর সমাধিও আছে।

এই সুন্দর স্মৃতিস্তম্ভটি তাজের আকৃতিতে নির্মিত, যদিও এর আকার অনেক ছোট। যেহেতু এটি স্থানীয়ভাবে পাওয়া কালো রঙের পাথর দিয়ে নির্মিত হয়েছিল, তাই কাঠামোটির নামকরণ করা হয়েছিল কালো তাজ।

এটি একটি বড় গম্বুজ-সদৃশ কাঠামো। এর চারপাশে আছে বাগান। এটি আকারে বর্গাকার। এর খিলানযুক্ত বারান্দাসহ চার কোণে ষড়ভুজ মিনার আছে।

দেওয়ালের ভেতরে দিকে সুন্দর চিত্রকর্ম আঁকা আছে। সমাধির নীচে অবস্থিত শাহ নওয়াজ খানের প্রকৃত কবর। সেখানে যাওয়ার জন্য একটি ছোট সিঁড়ি আছে।

বুধবার ছাড়া সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে কালো তাজমহল। ভারত ভ্রমনে ঘুরে আসতে পারেন এই জায়গা থেকেও।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন