ইনসাইড আর্টিকেল

স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমি ৬৯-এর গণঅভ্যূত্থান

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৪ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

বাংলাদেশে অনেক গণ আন্দোলন হয়েছে তবে ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনকেই একমাত্র ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যূত্থানরূপে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর একটি কারণ এমন ও হতে পারে যে ১৯৫২ সালের পর গণতন্ত্র রক্ষায় এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দাবি দাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এটিই ছিলো একমাত্র আন্দোলন যা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছেছিলো। আজ ২৪ জানুয়ারি, ঐতিহাসিক গণ অভ্যূত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানের স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। মুক্তিকামী নিপীড়িত জনগণের পক্ষে জাতির মুক্তি সনদ খ্যাত ছয় দফা এবং পরবর্তী সময়ে ছাত্র সমাজের দেওয়া ১১ দফা কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়েছিল এ গণঅভ্যুত্থান।

১৯৬৯ এর গণঅভ্যূত্থান এর পটভূমি নিয়ে ভাবলে প্রথমেই চলে আসে ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের কথা। সেই সময়গুলোতে অনবরত প্রচার করা হতো যেইসব কথা তার মূল কথা হলো- "ইংরেজ শাসন থেকে মুক্তির চেয়ে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হয়ে ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শের আলোকে পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাসের আকাঙ্ক্ষাই ছিলো পাকিস্তান আন্দোলনের  মূল কথা। ১৯৬৯ সালের যুদ্ধ শেষ হলো তাশখন্দ চুক্তির মাধ্যমে। পাকিস্তান যে কাঙ্ক্ষিত জয় পায়নি তার প্রমান তাশখন্দ চুক্তি করতে বাধ্য হওয়া। এই অঞ্চলের বাঙ্গালীরা এইসব প্রচার প্রপাগান্ডার  পর ও অনুধাবন করতে পেরেছিলো যে পূর্ব পাকিস্তানকে অরক্ষিত রাখা হয়েছে। ভারত যদি পূর্ব পাকিস্তান আক্রমন করতো তবে নিমিষেই তা দখল করতে পারতো৷ এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার যে তত্ত্ব দিয়ে আসছিলো তা হলো, পূর্ব পাকিস্তানের নিরাপত্তা পশ্চিম পাকিস্তানে নিহিত৷  পরবর্তীতে দেখা গেলো তা শূন্যগর্ভ বক্তব্য মাত্র। পাকিস্তান ভারত যুদ্ধ এভাবেই প্রভাব ফেলছিলো বাঙ্গালীর উপর। এরপর ১৯৬৬ সালে পাকিস্তানের শাসন, শোষণ ও বঞ্চনা থেকে বাঙালি জাতিকে মুক্ত করতে ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। এতে স্বাধিকার আন্দোলনের গতি তীব্র হলে পাকিস্তানি শাসকেরা একে নস্যাৎ করতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে। এ মামলার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা দুর্বার ও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন গড়ে তোলে। এবং পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ১৯ জানুয়ারি সংগ্রামী জনতা স্বৈরাচারী আইয়ুব দমন-পীড়নের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। এবং  ২০ জানুয়ারি পাক পুলিশের গুলিতে শহীদ হন গণঅভ্যুত্থানের নায়ক শহীদ আমানুল্লাহ আসাদুজ্জামান (শহীদ আসাদ)। আসাদের আত্মদানের পর তার রক্তামাখা শার্ট নিয়ে তাৎক্ষণিক মিছিল বের করে ঢাকা বিশ্ব্যবিদ্যালয়ের ছাত্ররা। শহীদ আসাদের আত্মদানের পর ২১, ২২, ২৩ জানুয়ারি শোক পালনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্রধান অভিযুক্ত বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য রাজবন্দীদের মুক্তি ও পাকিস্তানি সামরিক শাসন উৎখাতের দাবিতে ১৯৬৯ সালের ২৪ জানুয়ারি সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে সাধারণ জনতা মিছিল বের করে।

এছাড়াও ঊনসত্তরের এদিন ঢাকায় সচিবালয়ের সামনের রাজপথের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর ও রুস্তমসহ  আরও কয়েকজন শহীদ হন। প্রতিবাদে সংগ্রামী জনতা সেদিন সচিবালয়ের দেয়াল ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিক্ষুব্ধ জনগণ আইয়ুব মোনায়েম চক্রের দালাল, মন্ত্রী, এমপিদের বাড়িতে এবং তাদের মুখপত্র হিসাবে পরিচিত তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান ও পাকিস্তান অবজারভারে আগুন লাগিয়ে দেয়। জনগণ আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে আসাদ গেইট নামকরণ করে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এক তাত্পর্যপূর্ণ মাইলফলক। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা, পরবর্তীতে ১১ দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়েই রক্তাক্ত সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে মহান স্বাধীনতা। ১৯৬৯ এর শেষের দিকে ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা দেন- আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রদেশের নাম হবে ‘বাংলাদেশ’। যা ছিল ‘প্রদেশ’, জনগণের অবিসংবাদিত নেতার কণ্ঠে ‘দেশ’ হিসেবে তা স্বীকৃত হয়ে যায় সে দিনটি থেকে। পরের বছর সত্তরের নির্বাচনে এই বাংলাদেশের জনগণ ৬-দফার প্রশ্নে ম্যান্ডেট প্রদান করে। একাত্তরের মহান মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই ‘দেশ’ পরিণত হয় স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রে। ২৪ জানুয়ারি মহান গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য এভাবেই পূরণ হয়।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

১০ দিন পর জাতির পিতা দেখেন শেখ হাসিনাকে

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন। তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছার জেষ্ঠ্য সন্তান। দেশ বিভাগের মাত্র কিছুদিন পর শেখ হাসিনা যখন জন্মগ্রহণ করেন, তখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্যস্ত ‘স্বাধীনতা পরবর্তী’ সাংগঠনিক তৎপরতায়। এসময় শেখ মুজিব ঢাকায় আসেন এবং যুব কর্মীদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার গণতান্ত্রিক যুব কর্মীদের এক সম্মেলন হয়। এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তসাদ্দুক আহমেদ। সম্মেলনে জনাব শামসুল হক (পরবর্তী কালে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক) এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। শেখ হাসিনার জন্মের দশদিন পর তিনি টুঙ্গীপাড়ায় তার প্রিয় কন্যার সান্নিধ্যে এসে আবেগ আপ্লুত হয়ে পরেন। শেখ হাসিনার জন্মের পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলকাতার পাঠ চুকিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হন। ভর্তি হয়েই বঙ্গবন্ধু জড়িয়ে পরেন গণতান্ত্রিক যুবলীগের প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়ার সংগে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর রাষ্ট্র ভাষা বাংলার দাবিতে ১১ মার্চ সাধারন ধর্মঘট আহবান করা হয়। এই ধর্মঘট শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন। শেখ হাসিনার বয়স ৬ মাসেরও কম তখন তার পিতা 'তথাকথিত' স্বাধীন দেশে রাজনেতিক কারণে কারাবরন করেন। গ্রেপ্তারের ৫দিন পর বঙ্গবন্ধু ছাড়া পান। কিন্তু ঐ বছরই ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য শেখ মুজিব আবার গ্রেপ্তার হন। তার প্রিয় কন্যার প্রথম জন্মবার্ষিকী তিনি কারাগারেই উদযাপন করেন। এরপর বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ সংগঠনে ব্যস্ত হয়ে পরেন। শেখ হাসিনার শিশুকাল কাটে টুঙ্গীপাড়ার অকৃত্রিম পরিবেশে। মা আর দাদা দাদীর স্নেহে। ১৯৪৯ সালের ৩ মার্চ থেকে শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলন। নিম্ন কর্মচারীদের ধর্মঘটের সমর্থনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সমাজও এগিয়ে আসেন। তারাও ৩ মার্চ ক্লাস বর্জন করেন। পূর্ব পাকিস্থান মুসলিম ছাত্রলীগের আহবানে এবং উদ্যোগে ৫ মার্চ পূর্ণ ছাত্র ধর্মঘটের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বেলা ১২-৩০ মিনিটে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ছাত্ররা স্থির করেন যে কর্মচারীদের দাবি দাওয়া কর্তৃপক্ষ যতোদিন স্বীকার না করেন, ততদিন পর্যন্ত তারা সহানুভূতি সূচক ধর্মঘট অব্যাহত রাখবেন। প্রাদেশিক সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন চিরা চারিত নেতিবাচক পন্থায়। বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ এবং শেখ মুজিবুর রহমান সহ ২৭ জন ছাত্রকে দণ্ড প্রদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মুচলেকা দিয়ে শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য, শিক্ষার্থীদের আহবান জানান। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেতে অস্বীকৃতি জানান। তীব্র ছাত্র আন্দোলনের মুখে শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাননি। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন 'পূর্ব পাকিস্থান আওয়ামী মুসলিমলীগ‘ গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। এখানেই তার জাতীয় রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ ঘটে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

নক্ষত্রের নাম : স্যামসন এইচ চৌধুরী

প্রকাশ: ১১:০৩ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

পাবনা অঞ্চলে মানব কল্যানে যারা কাজ করে গেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্যামসন এইচ চৌধুরী। তিনি তার কাজের মাধ্যমে এক কিংবদন্তী ইতিহাস তৈরী করেছেন। তিনি ১৯২৫ খ্রীষ্টাব্দে ২৫ শে সেপ্টম্বর গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দি গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। ১৯৩০ খ্রীষ্টাব্দে চাঁদপুরের একটি মিশন স্কুলে তিনি তার পড়াশুনা শুরু করেন। তার বাবা ছিলেন ডা: ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী ও মায়ের নাম লতিকা চৌধুরী। তিনি ছিলেন তার বাবা মায়ের প্রথম সন্তান। ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী তার ছেলের নাম দিয়েছিলেন শিমশোন। হয়তো তিনি ভেবেছিলেন তার সন্তান বাইবেলের সেই শিমশোনের মতই শক্তিশালি হবে। বাস্তবিক ঞ্জানে ও বুদ্ধিতে তিনি সেই শক্তিরই অধিকারী হয়েছিলেন। তার বাবার ছিল বদলির চাকরি। চাঁদপুরের পর ১৯৩২ খ্রীষ্টাব্দে ইয়াকুব হোসেন চৌধুরী পাবনার আতাইকুলাতে আসেন। তারপর স্যামসন এইচ চৌধুরী এখানের গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন। ১৯৩৩ খ্রীষ্টাব্দে তার বাবা তাকে ময়মনসিংহে পাঠান এবং সেখানে তিনি ভিক্টোরিয়া মিশন স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এরপর ১৯৩৫ খ্রীষ্টাব্দে তার বাবা পশ্চিম বাংলায় পাঠান এবং সেখানে তিনি বিঞ্চুপুরের বোডিং শিক্ষা সংঘ হাই স্কুলে ভর্তি হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ খ্রীষ্টাব্দে তিনি পাবনায় ফিরে আসেন। ১৯৪৩ খ্রীষ্টাব্দে তিনি আতাইকুলা স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করেন। জানা যায় তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজ কলকাতায় পড়াশুনা করেন। এরপর তিনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি মা বাবার অজান্তে ভারতীয় নেভিতে যোগদান করেন। ১৯৪৬ খ্রীষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে নৌ বিদ্রোহে অংশগ্রহন করেন এবং অবশেষে গ্রেপ্তার হন। ৫ দিন জেলে থাকার পর তাকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে এক মাসের জন্য পাঠানো হয়। এরপর তাকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি দেবার সময় তাকে ক্লিন সার্টিফিকেট দেয়া হয় যেন যেকোন সরকারী প্রশাসন বিভাগে চাকরী পেতে তার কোন অসুবিধা না হয়।

১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে তিনি সরকারী চাকুরীজীবি হিসাবে ডাকবিভাগে যোগ দেন। এই সময়ে তার জীবনে আসে ১৫ বয়সী কিশোরী অনিতা বিশ্বাস। ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দের ৬ ই আগষ্ট স্যামসন এইচ চৌধুরী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৫২ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ডাক বিভাগে চাকুরী ছেড়ে আতাইকুলাতে ফিরে আসেন এবং বাবার ঔষধের দোকান হোসেন ফার্মেসীতে কাজ শুরু করেন। ১৯৫৬ খ্রীষ্টাব্দে তিনি তার বাবার কাছ থেকে টাকা ধার করে একটি ছোট ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানি চালু করেন। এবং এর নাম  দেন “এসন” (“E sons”)। পরবর্তিতে তিনি নামটি পরিবর্তন করে “ ইয়াকুব এণ্ড সনস” রাখেন।

১৯৫৮ খ্রীষ্টাব্দে তিনি ও তার তিন জন বন্ধু মিলে “স্কয়ার” নামক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি চালু করেন। তার এই তিন বন্ধুর নাম ছিল ডা: কাজী হারুন আর রশিদ, ডা: পি কে সাহা ও রাধা বিনোদ রায়। তাদের প্রথম মুলধন ছিল ১৭,০০০ রূপি। ১২ জন শ্রমিক, কাঁচাপাকা ভবনে ফ্যাক্টরি, কয়েকটি মেশিন ও সল্পপুজি অথচ আকাশসম স্বপ্ন ও উদ্দম নিয়ে স্কয়ারের যাত্রা শুরু। তিনি দেখেন ম্যালেরিয়া রোগীদের ভারতে উৎপাদিত কুইনাইন চড়া দামে কিনতে হয়। অথচ কুইনাইন তৈরির কাঁচামাল দর্শনার কেরু এন্ড কোম্পানীর চিনিকলে পাওয়া যায়। ১৯৬২ খ্রীষ্টাব্দে তারা ঢাকার হাটখোলাতে একটি শাখা উদ্বোধন করেন। পরবর্তিতে স্কয়ার প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পরিণত হয় এবং এই সময় তাদের মূলধন ছিল ৪০,০০০ রূপি। গুনগত মানের দিক দিয়ে স্কয়ার এর সকল প্রোডাক্ট ছিল অতুলনীয়। সেজন্য আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশের সমস্ত কোম্পানিগুলির মধ্যে শীর্ষস্থান লাভ করে এবং আজ পর্যন্ত এক নম্বর অবস্থানেই আছে। স্কয়ারই প্রথম দেশীয় কোম্পনি যা বিদেশে ঔষধ রফতানির জন্য অনুমদিত হয়।

১৯৮৮ সালে আলাদা আরো একটি বিভাগের যাত্রা শুরু হয় যার নাম স্কয়ার ট্রয়লেট্রিজ। স্কয়ার গ্রুপ এখন ফার্মাসিউটিক্যালস, টেস্ক্রটাইল, রেডিমেট গার্মেন্স, ট্রয়লেট্রিজ, ইনফরমেটিকস, খাদ্য শিল্প, মিডিয়া (মাছরাঙা টেলিভিশন), স্কয়ার হাসপাতাল ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে তাদের পদচারনা সফলভাবে করে যাচ্ছে।

স্যামসন এইচ চৌধুরী ব্যক্তিগত জীবনে ভীষন বন্ধুসুলভ ছিলেন। তিনি স্কয়ারে একটি দক্ষ—কমীর্বাহিনি ও বিশ্বমানের পেশাদার ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। সব কর্মীদের সাথে তার ছিল পিতৃসুলভ আচরন। তিনি ও তার স্ত্রী অনিতা চৌধুরী তাদের সমস্ত কর্মীকে নিজের সন্তান বলে পরিচয় দিতেন। ব্যক্তিগত জীবনে স্যামসন এইচ চৌধুরীর তিনজন ছেলে ও একজন মেয়ে আছেন। তারা হলেন : স্যামুয়েল স্বপন চৌধুরী, তপন চৌধুরী, অঞ্জন চৌধুরী ও মেয়ে রত্না চৌধুরী।

স্যামসন এইচ চৌধুরী কোনদিন মানের (Quality) সাথে আপোষ করেননি। অত্যন্ত স্বচ্ছ, সততা ও দক্ষতার সাথে গড়ে তুলেছেন বিশাল সামাজ্য। তিনি তার জীবনে অনেক পুরস্কার ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। ২০১০ সালে অর্থনীতিতে বিশেষ আবদান রাখার জন্য সরকার থেকে বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন। ২০০০ সালে দ্যা ডেইলি স্টার ও ডি এইচ এল প্রদত্ত বিজনেস ম্যান অব দ্যা ইয়ার, ১৯৯৮ সালে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের বিজনেস এক্সিকিউটিভ অব দ্যা ইয়ার এবং ২০১৩ সালে একুশে পদক লাভ করেন। স্কয়ার গ্রুপ ২০০৯—১০ অর্থবৎসরে জাতীয় রাজস্ব বোড কর্তৃক সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছিল। স্যামসন এইচ চৌধুরী ছিলেন স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান, সভাপতি মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এবং আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

তিনি যে শুধু তার কর্ম জীবনে সফলভাবে অবদান রেখেছেন তা নয়। ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনেও তার অবদান ছিল অপরিসীম। তিনি সক্রিয়ভাবে চার্চের কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি ৪২ বছর ধরে বিবিসিএফ এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ১৩ বছর বিবিসিএফ এর সম্পাদক (১৯৫৬ — ১৯৬৯) এবং সভাপতির (১৯৮৩ — ১৯৮৫) ও (১৯৯০ — ১৯৯৩) দায়িত্ব পালন করেন। তিনি সভাপতি থাকা অবস্থায় সিন্ধান্ত হয়েছিল ১৭ টি মন্ডলী থেকে ১০ বছরে মন্ডলীর সংখ্যা ২০০ টি করতে হবে। তার নেতৃত্বে এবং ঈম্বরের আশীর্বাদে তাদের এই অভিযান সফল হয়েছিল। এছাড়া তিনি ব্যাপ্টিষ্ট ওয়াল্ড এলায়েন্সের সহ সভাপতি (১৯৮৫ — ১৯৯০) ছিলেন। তিনি ও তার পরিবার বিভিন্ন ভাবে বহু সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। আমাদের পাবনা বয়েজ হোস্টেল ও আতাইকুলা বয়েজ হোস্টেলের আর্থিক অনুদান এই চৌধুরী পরিবার থেকে আসে। এরকম আরো হাজার হাজার উদাহরন রয়েছে যা উল্লেখ করলে লেখা শেষ করা কঠিন। তিনি এত বড় মাপের মানুষ হলেও তার জীবনে প্রার্থনা ও বাইবেল পড়াকে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়েছেন। ১৯৮৩ সালের সম্মিলনীর ৬৩ তম সাধারন সভায় মি: স্যামসন এইচ চৌধুরী বলেন “প্রার্থনাই হলো ভক্তদের জীবনে সবচাইতে বড় শক্তি । প্রার্থনা শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই শক্তি যোগায় না বরং প্রার্থনা সমগ্র মন্ডলীকে উদ্দীপ্ত করতে সক্ষম। প্রার্থনা শুধু চাওয়া না, প্রার্থনা প্রভু যীশুর চরনে নতজানু হয়ে ধন্যবাদ এবং কৃতঞ্জতা স্বীকারই ভক্তদের জীবনে প্রভুর আশীর্বাদ বয়ে আনে”। অতএব আমরা বুঝতে পারি তিনি জীবনে যীশুর উপর কতটা নির্ভর করতেন এবং প্রতিনিয়ত প্রার্থনাশীল জীবন কাটাতেন। কর্মক্ষেত্রে ও ব্যক্তিগত ভাবে এই মহান ব্যক্তির সানিদ্ধ লাভ করার সুযোগ আমার হয়েছে।

তার বাড়িতে তার নিয়ম ছিল “No Bible, No Breakfast” সুতরাং আমরা বুঝতে পারি তিনি তার জীবনে বাইবেল ও প্রার্থনাকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি ২০১২ খ্রীষ্টাব্দের ৫ ই জানুয়ারী ৮৭ বৎসর বয়সে সিংগাপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন। পাবনার কাশিপুরস্থ খামার বাড়ি এষ্ট্রাসে স্যামসন এইচ চৌধুরীকে সমাহিত করা হয়। আমরা এই মহান ব্যক্তির জীবনের জন্য পিতা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।

 

লেখক: রিপন ধিমান বিশ্বাস 


স্যামসন এইচ চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

বাড়ির ছাদেই আলুর চাষ!

প্রকাশ: ০৮:০০ এএম, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

আমরা অনেকেই বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতে ভালোবাসি। এই চাষ গুলো বাণিজ্যিকভাবে না করলেও এগুলো দ্বারা পরিবারিক চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে অনেকের চাষ বাস করার ইচ্ছা থাকলেও জায়গার অভাবে তা করা হয় না।

আলু ছাড়া বাঙালির রান্নাই জমে না! তাই পারিবারিক চাহিদা মিটাতে এখন বাড়িতেই চাষ করে ফেলুন আলু। খুব সহজ পদ্ধতি আর তেমন পরিশ্রম নেই। শুধু বেশি চিন্তা না করে এবার শুরু করে দিন নিজের বাড়িতেই আলুর চাষ।

আলু চাষের সময়: আলু সারা বছরের সবজি হলেও সবচেয়ে ভাল আলু চাষ করার সময় হল নভেম্বর মাস। এই সময়ে তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রীর কাছাকাছি থাকে। শীত পড়তে শুরু করে অল্প অল্প। সেই সময়ে আলু কিন্তু খুব ভাল হয়। তবে আপনারা চাইলে অক্টোবর মাসেও কিন্তু চাষ শুরু করতে পারেন। সেক্ষেত্রে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে ফলন পেয়ে যাবেন।

চাষের মাটি: আলু চাষের জন্য উপযুক্ত হল দোআঁশ মাটি বা বেলে-দোআঁশ মাটি। এর মধ্যে অবশ্যই মেশাতে হবে উপযুক্ত পরিমাণে জৈব সার। আপনি যে কোনও ভাল নার্সারিতে জৈব সার পেয়ে যাবেন। এতে আলু খুব ভাল হয়। ৪০ শতাংশ জৈব সার আর ৬০ শতাংশ মাটি মিশিয়ে আলু চাষের উপযুক্ত মাটি তৈরি করতে হবে। মাটি কিন্তু ঝুরঝুরে থাকা আবশ্যক।

আলু কীভাবে রোপণ করবেন: অনেক সময়ে আলুর থেকে মূল বেরিয়ে থাকে। সেই আলুগুলি আলাদা করে রেখে দেবেন আলু চাষের জন্য। একটা লম্বাটে বড় পাত্রে মাটি ভাল করে বিছিয়ে নিন। এবার লম্বা করে দুটো দাগ কেটে নিন আঙুল দিয়ে। ওই দাগ বরাবর আপনি রোপণ করবেন আলু। দুটি দাগের মধ্যে তিন ইঞ্চি মতো ফাঁক রাখবেন। এবার ওই দাগের মধ্যে মধ্যে আলু পুঁতে দিন। আলুর থেকে বেরোনো মূলটা উপরের দিকে রাখবেন।

একটা লাইনে পাঁচটা করে আলু বসাতে পারেন। এবার উপর দিয়ে মাটি দিয়ে দিন যাতে আলুগুলি চাপা পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই জল দেওয়ার দরকার নেই। রোদের থেকে দূরে ছায়ায় তিন দিনের জন্য রেখে দিন। তিন দিন পর অল্প স্প্রে করে দিন জল। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখবেন চারা গজাচ্ছে।

গাছে সার: সার হল গাছের খাদ্য। নিয়ম করে মাসে একবার সার গাছে দিতেই হবে। আর বাজার থেকে না এনে বাড়িতেই জৈব সার বানালে কেমন হয়! তেমন কিন্তু কোনও খাটনি নেই। আপনার বাড়ির গাছের শুকনো পাতা সিমেন্টের বস্তার মধ্যে ভরে রেখে দিন। এমন জায়গায় রাখুন যেন বৃষ্টি পড়লে বস্তায় জল পড়ে।

গরমের সময় মাঝে মাঝে ওই বস্তায় জল দিন অল্প অল্প। প্রায় ছয় থেকে সাত মাস পর দেখবেন পাতা পচে গেছে। এবার ওই পচা পাতা শুকিয়ে বালি চালার চালনিতে নিয়ে চেলে নিন। চালার সময়ে দেখবেন নিচে ঝুরঝুরে হয়ে পড়ছে।

এটিই হল আপনার সহজ পাতা সার। এর মধ্যে যদি কেঁচো তৈরি হয় তাহলে তো কথাই নেই। মাসে একবার করে এই সার আপনার আলুর টবের চারদিক দিয়ে দিয়ে দিন। আলু রোপণের মাটি করার সময়েও এই সার দেওয়া যায়।

আলু তোলার সময়: প্রায় দুই থেকে আড়াই মাসের পর আলু তোলা যায়। আপনারা দেখবেন এই সময়ে আলুর চারা একদম নুইয়ে গেছে। পাতা একদম শুকিয়ে গেছে। আর তার মধ্যে প্রাণ নেই বললেই চলে। এবার বুঝবেন আলু হয়ে গেছে আর তা বাইরে আসার জন্য তৈরি। তখন আলুর টব উলটে নিয়ে মাটি থেকে আলু বের করে নিন।

এইভাবে নিয়ম মেনে আলু চাষ করলে কিন্তু বাজারে আর আলু কিনতে যেতে হবে না। বাড়ির ছাদ থেকেই আলু নেবেন আর রান্নায় দেবেন।


বাড়ির ছাদ   আলু   চাষ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

‘প্রথম প্রেম’ মনে করার দিন আজ

প্রকাশ: ০৯:২১ এএম, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail

যেকোনো প্রথমই খুব স্পেশাল। সহজে ভুলে যাওয়া যায় না। আর সেটা যদি হয় প্রথম ভালো লাগা বা প্রথম প্রেম, তাহলে সারাজীবনই তা মনে গেঁথে থাকে। প্রথম প্রেমে কোনো রকম অপরাধবোধ থাকেনা। প্রথম প্রেম হয় সতেজ, নির্মোহ। নির্ভেজাল অনুভূতির এই সম্পর্ক তাই মানুষ মনে রাখে আজীবন। প্রথম প্রেমে এমন এক অন্যরকম অনুভূতি থাকে, যা কখনোই আপনি কাউকে বলে বোঝাতে পারবেন না।

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর ‘প্রথম প্রেম দিবস’। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই উদ্‌যাপিত হচ্ছে দিবসটি। এদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারি ছুটি পালন করে। যদিও এ দিবসের উৎপত্তি কীভাবে তা কারও জানা নেই।

এমন এক সুন্দর দিবসে নিজের প্রথম প্রেমের স্মৃতি রোমন্থন করে নিতে পারেন আজ। আর সৌভাগ্যবশত যদি প্রথম প্রেমের মানুষটিই আপনার জীবনে এখনও বর্তমান হয়ে থাকে তবে তো কথাই নেই। দুজনে মিলেই নাহয় চমৎকার দিবসটি উদযাপন করে ফেলুন আজ। আজকের এই বিশেষ দিনটি আপনার জন্যেও হয়ে উঠুক বিশেষ।

তবে কেউ কেউ আবার কেউ খুব যত্ন করে গড়ে তোলা প্রথম প্রেম ভুলেও যায় বড় অবহেলায়। বহমান জীবনে জায়গা করে নেয় নতুন মানুষ। তাদের জন্য অবশ্য দিনটি মনে না করাই শ্রেয়। কারণ, কথায় আছে না “হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে কে ভালবাসে!” এমন মানুষদের জন্য দিবসটি এক প্রকার যন্ত্রণারও বটে।


প্রথম প্রেম   দিবস   ভালবাসা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড আর্টিকেল

আজ স্ত্রীর প্রশংসা করার দিবস

প্রকাশ: ১২:২৬ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৩


Thumbnail আজ স্ত্রীর প্রশংসা করার দিবস।

আজ স্ত্রীকে প্রশংসা করার দিন। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রোববার স্ত্রীর প্রশংসা দিবস বা ‘ওয়াইফ অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে’ উদযাপন করা হয়। সচারচর ব্যস্ততা আর কাজের চাপে অনেক স্বামীই স্ত্রীকে ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না, সেক্ষেত্রে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য আজ হতে পারে চমৎকার একটি দিন। একটু প্রশংসা করার মাধ্যমে স্ত্রীকে খুশি করে দিয়ে যেকোনো স্বামীর জন্যেই দিনটি হয়ে উঠতে পারে আনন্দময়। কারণ, কথায় আছে “ঘর শান্তি তো দুনিয়া শান্তি”!

প্রশংসা পেলে যেকোনো মানুষই একটু খুশি হয় কিন্তু একজন স্ত্রীর কাছে স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া প্রশংসার মূল্য অন্যরকম। কারণ আমাদের দেশে ঘরের বউ বা স্ত্রীর কদর হয় খুব কম। একজন স্ত্রী একটা সংসারের জন্য যে পরিশ্রম করে থাকে সেসব ‘তারা করবেই’ বা এটাই ‘তাদের কাজ’ এমনটাই ধরে নেয়া হয়। কাজের স্বীকৃতি তো দূর খানিক প্রশংসাও অনেক স্ত্রী পান না।


অপরদিকে, একজন স্বামীর সর্বাত্মক উন্নতিতে সর্বদা পাশে থেকে তার সকল কাজে অনুপ্রেরণা যোগান দেন একজন স্ত্রী। দিনের হাজারো ব্যস্ততার পর সুন্দর একটা ঘরে ফিরে ক্লান্তি দূর করতে, খাবার টেবিলে বসলেই পরম মমতার সাথে খাবার পেতে, সুঘ্রাণযুক্ত পরিষ্কার জামাকাপড় পরতে কার না ভালো লাগে! কিন্তু না চাইতেই এসব দাবী কিভাবে পূরণ হয়ে যায় একজন স্বামীর সেসব উপলব্ধি করা প্রয়োজন। কিন্তু খুব স্বামীই এসব উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখেন।

তাই, স্ত্রীর যেকোনো কাজের প্রশংসা করার জন্য যেকোনো স্বামীই লুফে নিতে পারেন আজকের দিনটি। কারো প্রশংসা করা কিন্তু খারাপ নয়, বরং খুবই ইতিবাচক একটি গুণ। এছাড়া, কাউকে প্রশংসা করা হলে তিনি উজ্জীবিত হন।


সুতরাং, স্ত্রীর সাথে সাথে যদি কোনো কারণে মনোমালিন্য থেকে থাকে সে সমস্যা সমাধানে আজকের দিনটি কিন্তু ভালো উপলক্ষ হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এই দিবসটির কীভাবে প্রচলন হয়েছিল তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে, ২০০৬ সাল থেকে এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে স্বীকৃত এবং উদযাপিত হয়ে আসছে।

তবে স্বামীদের আফসোসের কিছু নেই। প্রতি বছর এপ্রিলের তৃতীয় শনিবার স্বামীর প্রশংসা দিবস বা ‘হাজব্যান্ড অ্যাপ্রেসিয়েশন ডে’ উদযাপন করা হয়। এ বছর অনেকেই এ দিবস উদযাপন করেছে। যদি কেউ না করে থাকে তবে আগামী বছর স্বামীরা কিন্তু স্ত্রীর কাছ থেকে কড়ায়-গণ্ডায় প্রশংসার হিসাব বুঝে নেবেন। তবে আজ আপনার স্ত্রীর সাথে একটি সুন্দর তারিখের সাথে দিনটি উদযাপন করুন। আজ তারই দিন!


স্ত্রী   প্রশংসা   ‍স্বামী   দিবস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন