ইনসাইড বাংলাদেশ

লাল ফিতার খড়গ জমি কেনা-বেচায়

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

* জমি খারিজে লাগবে জেলা প্রশাসকের অনুমতি

* দীর্ঘ হচ্ছে ফাইলের স্তুপ

* বাড়ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা

* কমছে রেজিস্ট্রি, বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

* মাসের পর মাস পরে থাকছে খারিজের আবেদন

* হয়রানিতে আগ্রহ হারাচ্ছে প্রতিষ্ঠান

 লাল ফিতার নতুন প্যাচে পড়েছে জমি কেনা-বেচা। জমির নামজারিতে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়ার নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তৈরি হয়েছে জটিলতা। এতে ফাইলের স্তুপে বাড়ছে ভোগান্তি। রেজিস্ট্রি কমে যাওয়ায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। জমি কিনতে গিয়ে জটিলতায় পরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করে সরকারকে বিপাকে ফেলতে চলছে উন্নয়ন ঠেকানোর নীল নকশা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারকে দুর্বল করতে নেওয়া হয়েছে এ পরিকল্পনা। শিল্পায়নে আগ্রহী হচ্ছে কোম্পানিগুলো, বাড়ছে এ খাতে বিনিয়োগ। সারাদেশে কর্মসংস্থান করতে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে কোম্পানিগুলো। কিন্তু জমি কিনতে গিয়ে বাঁধছে বিপত্তি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি যদি কোম্পানি কিনতে যায় তাহলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে। এরপরে এ জমি রেজিস্ট্রির করে নামজারি করতে গেলে আবারো অনুমতি লাগবে। আগে নামজারি করতে শুধু সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে নামজারির আবেদন করলেই হতো। এখন অনুমোদনের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনুমতি মিললে এরপরে শুরু হচ্ছে খারিজের মূল কার্যক্রম। অনুমতি নিয়ে তারপর সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে আবেদন করতে হচ্ছে। এতে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘসূত্রিতা। আবেদন করে ৪৫ দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দুই দফা অনুমতির গ্যাড়াকলে ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। অনুমতি নিতে গিয়ে কোম্পানির এ পর্যন্ত কত পরিমাণ জমি কিনেছে তার নথি জমা দিতে হচ্ছে। ফাইলের স্তুপ কমাতে সরকার অনলাইন নামজারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু নতুন এই বিজ্ঞপ্তিতে ভেস্তে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে অনলাইন নামজারির প্রক্রিয়া।

কোম্পানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি কেনার জন্য পূর্বানুমতি নিলে খারিজের জন্য কেন আবার অনুমতি নিতে হবে। যাদের প্রকল্প অনুমোদন নেওয়া ছিল তাদেরকেও এখন জমি খারিজের জন্য অনুমতি নিতে হচ্ছে। এমনকি খারিজের এই আবেদনের কোন ফরমও তারা তৈরি করে নি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনের পরে তারা পাঠাবে এসিল্যান্ডের কাছে। সেখান থেকে জরিপ করে রিপোর্ট পাঠাবে জেলা প্রশাসকের কাছে। তারা আবেদন গ্রহণ করে আবার এসিল্যান্ডকে বললে তবেই খারিজের প্রক্রিয়া শুরু হবে। 

গত বছরের ১৪ নভেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শিবলী সাদিক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় কোম্পানির নামে নামজারি করার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘কোম্পানির নামজারির ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহণ করা হচ্ছে না। অথচ ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল ১৯৯০ এর ৩২৭ নং অনুচ্ছেদে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, সমবায় বা হাউজিং কোম্পানি জমি কিনলে প্রথমে তা সমিতি বা কোম্পানির নামে নামজারি হতে হবে। কোম্পানি বা সমিতি জমি কেনার পর সেটার নামজারি করার জন্য নির্দেশ দিতে হবে। নামজারির আবেদন পাওয়ার পর নামজারি কর্তৃপক্ষ জমি মালিকানার প্রচলিত ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করেছে কিনা বা কৃষি জমি কেনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করেছে কিনা তা নিরীক্ষা করবেন। মালিকানার উচ্চসীমা অতিক্রম করা হয়ে থাকলে বা কেনার পূর্বানুমোদন না থাকলে সহকারী কমিশনার আইন বহির্ভুত কাজের জন্য জমি বাজেয়াপ্তের কেইস রুজু করবেন এবং কালেক্টরকে জানাবেন। কালেক্টরের অনুমোদনক্রমে বাজেয়াপ্ত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন। কালেক্টরের সুস্পষ্ট নির্দেশ ছাড়া কোম্পানি বা সমবায় সমিতির নামে নামজারি করা হবে না। কোম্পানির নামে নামজারি করার ক্ষেত্রে অবশ্যই ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়াল এর ৩২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়ার জন্য বলা হলো। নইলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানা যায়, এই বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকে কমে গেছে জমি রেজিস্ট্রির পরিমাণ। কারণ অনুমতির অপেক্ষায় জমে আছে ফাইলের স্তুপ। দুই দফা অনুমতি নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করতে আগ্রহ হারাচ্ছে মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার।

যমুনা বিল্ডার্স লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আবদুল কাদের বলেন, ‘কোম্পানিগুলোর জমি কিনতে গেলে অনুমতি নিতে হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া কেনার প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। অনুমতির জন্য যাবতীয় সমস্ত নথি দাখিল করতে হচ্ছে। ভোগান্তিরতো একটা সীমা আছে। জমি কেনার হয়রানি কয়েকগুণ বেড়েছে। জেলা প্রশাসকের কাছে থেকে কেনার অনুমতি নিলে আবার খারিজ করতে কেন অনুমতি লাগবে? এসব হয়রানির কারণে জমি কেনায় আগ্রহ হারাচ্ছে মানুষ, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। শিল্পখাতে বিনিয়োগে ঝামেলা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাবে।’

১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনে এক পরিবার ৩৭৫ বিঘা বা পরিবারের সদস্য প্রতি ১০ বিঘা জমি রাখতে পারবে। পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে ভূমি সংস্কারের উপর বিভিন্ন আদেশ, অধ্যাদেশ ও সংশোধনীর মাধ্যমে ভূমি আইনের ব্যাপক সংস্কার হয়। ১৯৭২ সালের জারিকৃত রাষ্ট্রপতি আদেশ ৯৮ ও ১৩৫ নামে পরিচিত অধ্যাদেশে দেশের স্বাধীনতার আগে পরিবার ভিত্তিক ভূমির সিলিং ৩৭৫ বিঘা ছিলো যা কমিয়ে ১০০ বিঘার নির্ধারণ করা হয়। ২৫ বিঘা কিংবা তার চেয়ে কম ভূমির মালিকের জন্য ভূমি উন্নয়ন কর মওকুফ করা হয়। ২৫ বিঘার উপরে ১ শতাংশ হলেও সম্পূর্ণ ভূমি বা ২৫ বিঘা ১ শতাংশ ভূমির খাজনা পরিশোধ করতে হয়।

১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার আইনে জমি রাখার সর্বোচ্চ সীমা বা সিলিং ১০০ বিঘা থেকে কমিয়ে ৬০ বিঘা করা হয়। কোম্পানির ক্ষেত্রে সিলিং ১০০ বিঘা করা হয়। তবে এই ১০০ বিঘা শিল্পকারখানার জন্য অনেক সময় কম হয়ে যায়। তাই জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে এর বাইরে জমি কিনতে পারে কোম্পানিগুলো। কিন্তু একবার অনুমতি নিয়ে জমি কেনার পরে খারিজ করতে আবারো ধর্না দিতে হচ্ছে জেলা প্রশাসকের দুয়ারে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসংখ্য প্রতিষ্ঠান জমি খারিজের জটিলতায় সাধারণ মানুষের সাথে জমি কেনা-বেচা এবং এওয়াজ বদল দলিল সম্পন্ন করতে পারছে না। এ ছাড়া প্রয়োজনে ব্যাংক ঋণের আবেদনও করতে পারছে না তারা। আগের পদ্ধতিতে খারিজ চলমান থাকলে এ সমস্যায় পড়তে হতো না প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

ইউনাইটেড গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (জমি ক্রয়) মো. মহসিন আলী বলেন, ‘ডিজিটালাইজেশনের পরিবর্তে জমির খারিজ প্রক্রিয়া জটিল হয়েছে। ভূমি সেবা প্রার্থীদের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। জমির বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও সেবাপ্রার্থীদের অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নতুন নিয়ম পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে এবং ভোগান্তি দ্বিগুণ করেছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতায় জমি কেনা-বেচা, রেজিস্ট্রেশন ও খারিজের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি এক মাস আগে টেস্ট কেস হিসেবে জমি খারিজের অনুমতি চেয়ে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে দুটি আবেদন জমা দিয়েছিলাম। আবেদনপত্র জমা হয়েছে। কিন্তু এসি ল্যান্ড এখনো ডিসি অফিস থেকে আবেদনপত্র পান নি। জমির রেজিস্ট্রি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জামালপুরে গোয়াল ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ০৩:২৮ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘর থেকে আবু সাঈদ (৫৫) নামে মৌসুমি ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বকশীগঞ্জ পৌর শহরের চরকাউরিয়া সীমার গ্রামে অবস্থিত আবু সাঈদের নিজের পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘর থেকে সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকাল ৩ টায় মরদেহ উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরকাউরিয়া সীমারপাড় গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে আবু সাঈদ ধান, চাল , সরিষা সহ মৌসুমি ব্যবসায়ী ।

সোমবার দুপুরে তার বাড়ির পাশে অবস্থিত নিজের একটি পরিত্যক্ত গোঁয়াল ঘরের ধর্নার সঙ্গে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় এলাকাবাসী। গলায় রশি দিয়ে ঝুলা হলেও তার পা দুটি ছিল মাটির সঙ্গে লাগানো। এলাকাবাসীর ধারণা যেভাবে মরদেহটি ঝুলে ছিল তাতে রহস্যজনক মৃত্যু বলে মনে হয়। এ খবর জানাজানি হলে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন।

জ্বলন্ত মরদেহ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শপথ নিলেন রসিক মেয়র মোস্তফা

প্রকাশ: ০২:৪২ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

শপথ গ্রহণ করেছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (রসিক) সদ্য নির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে শপথ নিয়েছেন নির্বাচিত সাধারণ ও নারী কাউন্সিলররাও। 

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রথমে মেয়র মোস্তাফিজার রহমানকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। এরপর ৩৩ জন ওয়ার্ড কাউন্সিল এবং ১১ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলকে পড়ানো হয় শপথবাক্য।

রসিক মেয়র   মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

নিখোঁজ প্রার্থী আবু আসিফ আত্মগোপনে আছেন: ইসি আনিছুর

প্রকাশ: ০২:১১ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ প্রার্থী আবু আসিফ আত্মগোপনে আছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আনিছুর রহমান। 

আজ মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের করা তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান ইসি আনিছুর।

ইসি আনিছুর বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিখোঁজ প্রার্থী আত্মগোপনে আছেন। জেলা প্রশাসকের রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি নিখোঁজ আছেন। নিখোঁজ ও আত্মগোপন একই শব্দ। সে ক্ষেত্রে আমরা বলছি তিনি আত্মগোপনে আছেন।


ইসি আনিছুর   নিখোঁজ   আবু আসিফ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

লাশ নিয়ে টানাটানি, ঠাঁই হলো হিমঘরে

প্রকাশ: ০১:৪৬ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

দুই বছর আগে পরিবারের অগোচরে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল ‘রতন দাশ’। তবে ধর্ম পরিবর্তনের পর থেকে নিয়মিত নামাজ-রোজা পালনের পাশাপাশি মুখে দাঁড়ি রাখাও শুরু করেন আহমাদ। পরিবারের আড়ালে ইসলাম ধর্মের সব রীতিনীতি মেনে চলতো। এছাড়া বিভিন্ন হুজুরের সঙ্গে দেখা করতেন আর তাদের বয়ানও শুনতেন।

তবে এতো সবকিছু ঠিকভাবে পালন করে এলেও রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর লাশ হস্তান্তরের সময় সামনে আসে কোন ধর্মীয় রীতিতে তার দাফন হবে বিষয়টি। 

আহমাদ ওরফে রতন দাশের পরিবারের দাবি- তাদের সন্তান মুসলমান হননি। বন্ধুরা এসব সাজিয়েছে। ভুয়া কাগজ দেখিয়ে তারা তাদের ছেলেকে আলাদা করছে। তাই তাদের ছেলেকে সনাতন ধর্মের রীতিতেই শেষকৃত্য করবে। 

এদিকে বন্ধুরা জানায়- দুই বছর আগেই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। তাই তাকে ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দাফন করবে।

এদিকে লাশ হস্তান্তর নিয়ে পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় ওই যুবকের মা পটিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। পরে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।  

সোমবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে পটিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক বিশ্বেস্বর সিংহ জানিয়েছেন, নিহত ওই যুবকের ধর্ম পরিচয় শনাক্ত হয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাশটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে। আর সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতের রায়ের পর কথা হয় নিহত যুবকের মা সন্ধ্যা রানী দাশের সঙ্গে। তিনি  বলেন, ‘না, আমি কিছু জানি না। আমার ছেলে ধর্ম পরিবর্তন হওয়ার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কালকে সকালেও আমার ছেলে ঘরে পূজা দিয়েছে। পরশু দিনও আমার ছেলে পূজা দিয়েছিল। আমার ছেলে মুসলিম হওয়ার বিষয়টি তারা (বন্ধুরা) সাজিয়েছে।

মুখে দাঁড়ি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে একটা প্রতিজ্ঞা করেছিল। আমি তাকে বিয়ের কথা বলেছিলাম। সে বলেছিল, যতদিন সে প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদিন দাঁড়ি কাটবে না। আর যতদিন প্রতিষ্ঠিত হবে না ততদনি বিয়েও করবে না। আমি দাঁড়ি ফেলবো না।

এদিকে বন্ধুরা জানিয়েছেন, আহমাদ মুসলমান হওয়ার পর থেকে ইসলামে ধর্মের রীতিনীতি অনুসরণ করতো এবং সবকিছু মেনে চলতো। এরপর থেকে সে কোনো পূজামণ্ডপেও যেত না। আহমাদ প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তো  আর সে বের হলে তার মা জানতো। এছাড়া মসজিদ থেকে জুতা চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও তার মাকে সে জানিয়েছিল।

শুক্রবারে জুমার নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তিনি জানতেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে আহমাদের মা সন্ধ্যা রানী দাশ  বলেন, না, আমি কখনও দেখিনি। গত শুক্রবারও আমার ছেলে বিকেল ৪টা বাজে ঘুম থেকে ওঠেছে। এর আগের শুক্রবারও বিকেল ৫টার দিকে ঘুম থেকে ওঠছে। এরপর তার বন্ধুরা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। আমার ছেলেকে তারা (বন্ধুরা) ফোনে বিরক্ত করতো। ওদের ফোনের জন্য আমার ছেলে ঘুমাতে পারতো না।

মসজিদ থেকে জুতো চুরি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতেন কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, না সেই জুতো চুরির বিষয়টি মসজিদে না। আমার ছেলে একটি গার্মেন্টসে কাজ করতো। সেখানে তার জুতো চুরি হয়েছে। সেই বিষয়টি সে আমাকে বলেছে।

আহমাদ ওরফে রতন দাশের চার বছর বয়সের সময় থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন মা সন্ধ্যা রানী দাশ। এসময় মাসিক ৩শ’ টাকা বেতনে চাকরি করে ৫০ টাকা দিয়ে ছেলের জন্য শিক্ষক রেখেছেন। ছেলেকে এতবড় করেছেন গার্মেন্টসে চাকরি করেই। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘তার যখন ৪ বছর বয়স। তখন থেকে আমি গার্মেন্টসে কাজ করতাম। মাসিক বেতন ছিল মাত্র ৩শ’ টাকা। সে টাকার মধ্যে ছেলের জন্য ৫০ টাকা খরচ করতাম তার পড়ালেখার জন্য। এখনও আমি গার্মেন্টসে কাজ করি।

আদালত রায়ের কথা সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালত কি রায় দিবে জানি না। আপাতত এখন আমার ছেলের লাশ চমেকের হাসপাতালের হিমঘরে রাখতে বলেছে। কিন্তু আমি চাই  আমার ছেলের লাশ আমার কাছে হস্তান্তর করুক। এবং আমার ছেলে শেষকৃত্য আমাদের ধর্মের রীতিতেই হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের লাশ যদি আমাকে হস্তান্তর না করে তাহলে তার বন্ধুদের কাছেও হস্তান্তর করতে পারবে না। আমি যদি আমার ছেলের লাশ না পাই, তাহলে তার বন্ধুরাও পাবে না। তার লাশ দরকার হলে নদীতে ভাসিয়ে দিবে। তারপরও আমি আমার ছেলের লাশ তার বন্ধুদের কাছে হস্তান্তর করুক সেটা চাই না।

অপরদিকে আহমাদ ওরফে রতন দাশের বন্ধুরা জানিয়েছেন, তারা বন্ধুর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সব প্রমাণ রয়েছে। এসব কাগজপত্র আদালতের সামনে উপস্থাপন করে ইসলাম ধর্মীয় রীতিতে বন্ধু আহমাদকে দাফন করবেন। তবে অবশ্যই সেটা কখন নিষ্পত্তি হবে সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত নন।

এদিকে আহমাদ পুরোপুরিভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিয়মিত তা পালন করতেন বলে জানিয়েছেন এডভোকেট সাইফুল ইসলাম। তিনি  বলেন, ‘আহমাদ দুই বছর আগে কওমী আকিদার এক মাওলানার কাছে কালেমা পড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে আমার কাছে আসেন এফিডেভিট (হলফনামা) করতে। 

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানামতে, আহমাদ ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী চলতো। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়েই ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

এডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, আজ আদালত এ বিষয়ে রায় দিয়েছেন। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত আহমাদের লাশ চমেকের হিমঘরে থাকবে। পটিয়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আদেশ দিয়েছেন এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। এরপরই সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটিয়া থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, ‘আদালত রায় দিয়েছেন আপাতত লাশ চমেক হাসপাতালের হিমঘরে রাখার জন্য। এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনে দেওয়ার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি শুধু জানি লাশ আপাতত হাসপাতালের হিমঘরে থাকবে।

উল্লেখ্য, রবিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের পটিয়া বাদামতল মোড়ে তেলবাহী লরির চাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী আহমাদ ওরফে রতন দাশের মৃত্যু হয়। এসময় হাসান নামে তার এক সহকর্মীও আহত হয়েছেন। তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

এরপর থেকে তার লাশ দাফন নিয়ে পরিবারের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে বন্ধুদের। বন্ধুদের দাবি- দুই বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন আহমাদ। ধর্মান্তরিত হওয়ার আগে তার নাম ছিল ‘রতন দাশ’। তবে পরিবারের সদস্যরা বলছেন, এটা ওনাদের ছেলে। তাই তাদের ধর্ম রীতিতে তার শেষকৃত্য করবে। ধর্মান্তরিত হওয়ার ব্যাপারে তারা কিছুই জানেন না।

অন্যদিকে বন্ধুরা চান- সে যেহেতু মারা যাওয়ার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে  সেহেতু তাকে মুসলিম রীতিতেই দাফন করা হবে।

নিহত আহমাদ চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার আবু তোরাব বাজার এলাকার মৃত মনো দাশের ছেলে। বর্তমানে মায়ের সঙ্গে নগরের আগ্রাবাদ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০২০ সালে ইসলাম ধর্মের প্রতি অনুপ্রাণিত হয়ে হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি বন্ধুদের বলেছিলেন, তার মৃত্যুর পর যেন তাকে ইসলাম ধর্মের রীতিতে লাশ দাফন করা হয়।

এদিকে পটিয়া-ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) স্নেহাংশু বিকাশ সরকার  বলেছিলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ওই যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুনলাম তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। তবে এই বিষয়টি তার পরিবার জানতেন না। তাই পরিবারের দাবি- হিন্দুরীতি তাঁর শেষকৃত্য করবে। আর বন্ধুরা চান- সে যেহেতু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। তাই তাকে ইসলাম ধর্মের নিয়ম মেনেই দাফন করবে।

ওই যুবক মুসলিম হওয়ার এফিডেভিট (হলফনামা) থাকার কথা জানালে তিনি বলেন, সেটার এখনও সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেরকম কোনো ডকুমেন্ট নেই। এফিডেভিট তো আদালতে যায়নি। শুধু নোটারি পাবলিকের কাছে গেছে। নোটারি পাবলিকের সঙ্গে কথা হয়েছে জানালো তারা (আহমাদ) আদালতে যাওয়ার কথা ছিল যায়নি। আদালতে না গেলে তো এফিডেবিট হয় না।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুটি আসনে ৩৫২ ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন ৮ লাখ ভোটার

প্রকাশ: ০১:৪৩ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

সংসদীয় আসন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) থেকে বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করায় শূন্য আসন দুটিতে আগামীকাল ১লা ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা চলবে। দুই আসনে ৩৫২ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিবেন ৮ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৫ জন ভোটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের তিনটি উপজেলায় একজন করে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে একজন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এবার আসন দুটিতে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। এরমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ৬ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে ৩ জন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মু. জিয়াউর রহমান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোহাম্মদ আলী সরকার (আপেল), আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী খুরশিদ আলম বাচ্চু (মাথাল), জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক (লাঙ্গল), জাকের পার্টির গোলাম মোস্তফা (গোলাপ ফুল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ’র নবীউল ইসলামের (টেলিভিশন) মধ্যে হবে ভোটযুদ্ধ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওদুদ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সামিউল হক লিটন (আপেল) ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান খাঁন (টেলিভিশন)।

জেলা নির্বাচন অফিসার মোতাওয়াক্কিল রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে প্রিজাইডিং অফিসার ১৮০ জন এবং ১ হাজার ২৩০ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ২ হাজার ৪৬০ জন পোলিং অফিসার ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন। এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৪ লাখ ৫ হাজার ৪৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১ হাজার ১৭০ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ২৮০ জন। ভোট কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮০টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ১ হাজার ২৩০টি।

অপরদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে ১৭২ জন প্রিজাইডিং, ১ হাজার ২৪০ জন সহকারী প্রিজাইডিং ও ২ হাজার ৪৮০ জন পোলিং অফসার ভোটগ্রহণের দায়িত্ব পালন করবেন। সদর আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৮৮৩ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৬১২ জন। এ আসনে ভোট কেন্দ্র রয়েছে ১৭২টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ১ হাজার ২৪০টি।

ভোটার  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন