ইনসাইড বাংলাদেশ

র‍্যাব নিয়ে ষড়যন্ত্র: উৎসের সন্ধানে

প্রকাশ: ০৭:০১ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail র‍্যাব নিয়ে ষড়যন্ত্র: উৎসের সন্ধানে

সাম্প্রতিক সময়ে এলিট ফোর্স র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। এ আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের দৃশ্যমান উদ্দেশ্য হলো র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করা। আর এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এক ধরনের অমানবিক সরকার হিসেবে উপস্থাপন করা। প্রশ্ন হলো যে, হঠাৎ করেই র‍্যাবকে কেন টার্গেট করা হয়েছে? র‍্যাবের বিরুদ্ধে কেন বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং মিথ্যাচার করা হচ্ছে? প্রথমেই ডিসেম্বর মাসে র‍্যাবর বর্তমান এবং প্রাক্তন সাত কর্মকর্তার উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বেঞ্চ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ট্রেজারি বেঞ্চের এই নিষেধাজ্ঞাপত্রে বলা হয়েছে যে, কক্সবাজারে একরাম চৌধুরী নামের একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বিচার বহির্ভূত হত্যার ব্যাপারটিতে তাদের সংশ্লিষ্ট থাকার জন্য তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে, বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর নিগ্রহ করার উদ্দেশ্যেই এইরকম বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যে ব্যক্তিকে ক্রসফায়ারের দেওয়া অভিযোগ এনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, ওই ব্যক্তি কোনো বিরোধীদলের নেতা নন। তিনি যুবলীগের একজন নেতা ছিলেন। এর পরপরই দেখা যায় যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ ১২টি সংগঠন জাতিসঙ্ঘে র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। সেই  অভিযোগে বলা হয় র‍্যাবকে যেন জাতিসঙ্ঘের শান্তি মিশনে নিষিদ্ধ করা হয়। শান্তি মিশনে কোন ব্যক্তি থাকবে, না থাকবে সেটি জাতিসঙ্ঘ একটি নিজস্ব প্রক্রিয়ার মধ্যে দেয় এবং র‍্যাব একটি গোটা বাহিনী। র‍্যাবের কোনো ব্যক্তি কোনোরকম অপকর্ম বা অপরাধের সাথে যুক্ত থাকতে পারে। সেটির জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের রীতি র‍্যাবের শৃংখলা বিধিতেই রয়েছে এবং র‍্যাব এধরনের অনেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কিন্তু একটি ব্যক্তির অপরাধের জন্য পুরো আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীকে নিষিদ্ধ করাটা কোনো যৌক্তিক বিষয় হতে পারেনা এবং এটি কখনোই একটি গ্রহণযোগ্য আবেদন হতে পারেনা। কিন্তু হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই আবেদনটি করেছে। 

এই আবেদনের রেশ কাটতে না কাটতেই ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের একজন সদস্য র‍্যাবকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছেন ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের পার্লামেন্টে। এখন যদি আমরা দেখি যে হঠাৎ করে র‍্যাবের বিরুদ্ধে এরকম আন্তর্জাতিক প্রচারণা করা হচ্ছে কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদেরকে একটু গভীরে যেতে হবে। বাংলাদেশের এলিট এই ফোর্সটি গঠিত হয়েছিল ২০০৫ সালে। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে। র‍্যাব গঠিত হওয়ার পর থেকেই বাহিনীটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কাছে র‍্যাব একটি আস্থাশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। র‍্যাব যখন আইন-শৃংখলা রক্ষা করার জন্য কঠোরভাবে কাজ করে, তখন কার গাত্র দাহ হয়? আমরা যদি একটু উৎসের সন্ধানে যাই তাহলে লক্ষ্য করবো যে র‍্যাব প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের সুশীল সমাজ নিয়ন্ত্রিত দুটি পত্রিকা বিভিন্নভাবে র‍্যাবের বিরোধিতা করছে। র‍্যাবের ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে। এই দুটি পত্রিকার প্রতিবেদন ধরে দেশীয় কিছু এনজিও র‍্যাবের বিরুদ্ধে প্রতিবছর বিভিন্ন রকমের প্রতিবেদন, রিপোর্ট ইত্যাদি প্রকাশ করে। আর এই প্রতিবেদনগুলোই আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পাঠানো হয়। 

সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাব আলোচিত ছিল দুটি কারণে। প্রথমত, জঙ্গীবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে র‍্যাবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দ্বিতীয়ত, মাদক নিয়ন্ত্রণে র‍্যাবের সাহসী ভূমিকা। আর এই দুটির সঙ্গে যারা যুক্ত তারাই মূলধারার জনপ্রিয় কিছু গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে র‍্যাব সম্পর্কে ক্রমাগতভাবে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির একটা নিরন্তর অপপ্রচার চালিয়েছে এবং যে অপপ্রচারগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা এখন দৃশ্যমান। মূলত যুদ্ধাপরাধীগোষ্ঠী যারা জানে যে র‍্যাব থাকা মানেই জঙ্গীবাদমুক্ত বাংলাদেশ, র‍্যাব থাকা মানেই সন্ত্রাসবাদমুক্ত বাংলাদেশ, তারাই র‍্যাবের বিরুদ্ধে এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পিত প্রচারণায় অংশ নিয়েছে কিনা, সেটি খুঁজে দেখা দরকার।

র‍্যাব   আইন শৃঙ্খলা বাহিনী   পুলিশ   জাতিসংঘ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

ইভিএম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠকে ইসি

প্রকাশ: ১০:৫৬ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail ইভিএম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠকে ইসি

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। 

বুধবার (২৫ মে) সকালে বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসে ইসি।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করার বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন মহলের বিভিন্ন মত রয়েছে। এই মেশিনটি সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন এই মেশিনের কারিগরি বিভিন্ন বিষয় আরও ভালোভাবে বুঝতেই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে।  

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ইভিএম সংশ্লিষ্ট ইসির আইটি দল, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সাবেক ও বর্তমান পরিচালক, এনআইডি উইংয়ের সাবেক ও বর্তমান মহাপরিচালক, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নিয়ে প্রায় ৩০ জনকে বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। আমন্ত্রিতদের মধ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবাল, বুয়েটের অধ্যাপক এম কায়কোবাদ, ড. সেলিয়া শাহনাজ, বুয়েটের মতিন সাদ আবদুল্লাহও রয়েছেন।

ইসি জানায়, বিশেষজ্ঞরা দেখবেন, মতামত রাখবেন। আমাদের আইটি বিশেষজ্ঞরাও থাকবেন, এ বিষয়ে মত দেবেন। ইভিএমের উপর কমিশন তাদের মতামত নেবেন। বৈঠকে ইভিএম প্রদর্শনীর পাশাপাশি সার্বিক কারিগরি দিক তুলে ধরা হবে। এরপর যন্ত্রটি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেবে কমিশন।


ইভিএম   বিশেষজ্ঞদের   নিয়ে   বৈঠকে   ইসি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে যুবকের আত্মহত্যা

প্রকাশ: ০৯:৩৪ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে যুবকের আত্মহত্যা

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় প্রেমিকার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ভিডিও কলে রেখে ফজলে রাব্বি সোলাইমান (২৪) নামে এক যুবক ফাঁস নিয়েছেন। 

বুধবার (২৪ মে) রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ফজলে রাব্বি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারি গ্রামের টুলু মিয়ার ছেলে। তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পাশাপাশি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র সনো সেন্টারে এক্সরে বিভাগে কর্মরত ছিলেন। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে সবার ছোট ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, রাত ২টার দিকে অজ্ঞাত এক নারী আমাদের ফোন করে জানায় রাব্বি ফাঁস দিয়েছে, তাড়াতাড়ি তার ঘরে যান। আমরা গিয়ে দেখি দরজা বন্ধ। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে রাব্বিকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে জানতে পারি, প্রেমিকার সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে ভিডিও কলে আত্মহত্যা করে রাব্বি।

স্থানীয়রা জানায়, রাব্বি খুব ধার্মিক প্রকৃতির ছেলে ছিল। সপ্তাহে দুদিন রোজা রাখত। মঙ্গলবারও রোজা রেখেছিল। আমরা আগে কখনো শুনিনি কোনো মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক আছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সোহরাব হোসেন বলেন, রাত ২টার দিকে ফজলে রাব্বি নামে ওই যুববকে হাসপাতালে নিয়ে আসে পরিবারের সদস্যরা। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হবে।


প্রেমিকাকে   ভিডিও   কলে   যুবকের   আত্মহত্যা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মায়ের ওপর অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা

প্রকাশ: ০৯:০৯ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail মায়ের ওপর অভিমান করে কিশোরীর আত্মহত্যা

যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকায় মায়ের হাতে চড় খেয়ে অভিমান করে স্বপ্না আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। 

মঙ্গলবার (২৪ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত স্বপ্না তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিল।

মৃত স্বপ্নার বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমার মেয়ে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পরীক্ষা দিয়ে সপ্তম শ্রেণীতে ওঠার পর এখন আর স্কুলে যায় না। তার মা একটি গার্মেন্টসে চাকরি করে। ঘটনার দিন কর্মস্থল থেকে বাসায় এসে তার মা দেখে স্বপ্না ছোট বোনের সঙ্গে মারামারি করছে। এতে রাগান্বিত হয়ে তার মা তাকে চড় দেয়। এরপর মায়ের ওপর অভিমান করে ঘরে থাকা তেলাপোকা মারার কীটনাশক পানে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. বাচ্চু মিয়া মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।


অভিমান   কিশোরীর   আত্মহত্যা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

সাভারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার পোশাক শ্রমিক, আটক ১

প্রকাশ: ০৯:০১ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail

সাভারে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক নারী পোশাক শ্রমিক। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২৩ মে) সাভারের কলমা এলাকায় এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. হুমায়ন কবির বলেন, ভুক্তভোগী নারী পোশাক শ্রমিক। সাভারের কলমায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে এক যুবক কলমা এলাকাতেই বন্ধুর বাসায় নিয়ে গিয়ে তাকে কয়েকজন ধর্ষণ করে। পরে ভুক্তভোগী নারী সাভার মডেল থানায় বিষয়টি অবহিত করেন ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকীদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।

তবে তদন্ত স্বার্থে অভিযুক্ত আসামির পরিচয় জানানো হয়নি।


সাভারে   সংঘবদ্ধ   ধর্ষণের   শিকার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মানবতা, সাম্য ও দ্রোহের কবি নজরুল: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৮:৪৪ এএম, ২৫ মে, ২০২২


Thumbnail মানবতা, সাম্য ও দ্রোহের কবি নজরুল: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে মানবতা, সাম্য ও দ্রোহের কবি বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে কাজী নজরুল ইসলামের অবদান স্বাতন্ত্র মহিমায় সমুজ্জ্বল। স্বল্পকালীন সৃষ্টিশীল জীবনে তিনি রচনা করেছেন প্রেম, প্রকৃতি, বিদ্রোহ ও মানবতার অনবদ্য সব কবিতা, গান, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস ও নাটক।

বুধবার (২৫ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকী এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, কালজয়ী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুল তাঁর লেখনির মাধ্যমে আমাদের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে উচ্চারিত হয়েছে পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের বাণী। অসামান্য ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি নজরুল ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও জাতীয়তাবোধের মূর্ত প্রতীক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নজরুল জন্মেছিলেন এবং বেড়ে উঠেছিলেন একটি পরাধীন সমাজে। পরাধীনতার গ্লানি তিনি উপলব্ধি করেছেন মর্মে মর্মে। কবি নজরুলের আজীবন সাধনা ছিল সমাজের শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি এবং মানুষের সামাজিক মর্যাদার স্বীকৃতি অর্জন। এ ছাড়াও তিনি অন্যায়, অসত্য, নির্যাতন-নিপীড়ন, নানামাত্রিক অসাম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আমাদের যুগিয়েছেন প্রতিবাদ প্রতিরোধের অনাবিল প্রেরণা। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জীবনাদর্শ একই দর্শনের ধারাবাহিক রূপ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনিও দেশের জন্য, জাতির জন্য সর্বস্ব ত্যাগ করেছেন এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করেছেন। মহান মানবতাবাদী কবি নজরুলের সংগ্রামশীল জীবন এবং তাঁর অবিনাশী রচনাবলী জাতির জন্য অন্থহীন প্রেরণার উৎস। 

শেখ হাসিনা বলেন, কবি নজরুলের সাহিত্য ও সংগীত শোষণ, বঞ্চনা ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে মুক্তিরও দীক্ষাস্বরূপ। তাঁর ক্ষুরধার লেখনির স্ফুলিঙ্গ যেমন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল, তেমনি তাঁর বাণী ও সুরের অমিয় ঝর্ণাধারা সিঞ্চিত করেছে বাঙালির হৃদয়কে। তিনি প্রকৃতই প্রেমের এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার কবি। ধর্ম-বর্ণের উর্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন, নারীর অধিকারকে করেছেন সমুন্নত। তিনিই প্রথম বাঙালি কবি যিনি ব্রিটিশ অধীনতা থেকে ভারতকে মুক্ত করার জন্য স্বরাজের পরিবর্তে পরিপূর্ণ স্বাধীনতার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছিলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল জাতি, ধর্ম ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন সাহসের প্রতীক। কবি নজরুল তাঁর প্রত্যয়ী ও বলিষ্ঠ লেখনির মাধ্যমে এদেশের মানুষকে মুক্তি সংগ্রামে অনুপ্রাণিত ও উদ্দীপ্ত করেছিলেন। তাঁর গান ও কবিতা সব সময় যে কোনো স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। নজরুল সাহিত্যের বিচিত্রমুখী সৃষ্টিশীলতা আমাদের জাতীয় জীবনে এখনও প্রাসঙ্গিক।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ছিলেন কবির প্রতি একান্ত অনুরক্ত উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন,  স্বাধীনতা পরবর্তী পর্যায়ে তাঁরই ঐকান্তিক আগ্রহে কবিকে কলকাতা হতে বাংলাদেশে এনে জাতীয় কবির সম্মানে অধিষ্ঠিত করা হয়। নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তারই প্রতিফলন আমরা পাই জাতির পিতার সংগ্রাম ও কর্মে।

 প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন নজরুলের রচনা আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে সকল কূপমুন্ডকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ, সুখী-সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এঁর ১২৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।


মানবতা   সাম্য   দ্রোহের কবি   নজরুল  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন