ইনসাইড বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ৮

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ১৪ মে, ২০২২


Thumbnail গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ, নিহত ৭

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় বাস, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। তাদের কাশিয়ানী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৪ মে) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের দক্ষিণ ফুকরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, বাস-প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রায় ২৫ জনকে উদ্ধার করেছি। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য কাশিয়ানি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে নিহত ব্যক্তিরা কে কোন পরিবহনের যাত্রী ও নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রায়হান জানান, খুলনা থেকে রাজীব পরিবহনের একটি বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল এবং ঢাকা থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল প্রাইভেট কার। দুটি গাড়ির সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেলও ঢুকে পড়ে। এ সময় সাতজন নিহত হন। আহত হন প্রায় ২৫ জনের মতো। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। ওই সময় দুর্ঘটনাস্থলের পাশে শ্রমিকরা ধানমাড়াইয়ের কাজ করছিলেন।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। এ মুহূর্তে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

গোপালগঞ্জ   বাস   প্রাইভেটকার   সংঘর্ষ   নিহত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শনিবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

প্রকাশ: ০৯:৩৮ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail শনিবার ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

রাজধানীর কিছু এলাকায় আগামীকাল শনিবার (২১ মে) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। গ্যাস পাইপলাইনে জরুরি মেরাতম কাজের জন্য মোট ১২ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি কাজের জন্য ২১ মে (শনিবার) সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা রাজধানীর মিরপুর ১, ২, ৬, ৭, ১০, ১১, ১২, ১৩, ইস্টার্ন হাউজিং, রূপনগর, আরামবাগ, আলুবদি, মিরপুর ডিওএসএইচ পর্যন্ত এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এছাড়া আশপাশের এলাকাতেও গ্যাসের চাপ কম থাকবে।  

গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।



শনিবার   ১২ ঘণ্টা   গ্যাস   থাকবে   না  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছাবে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ

প্রকাশ: ০৮:২১ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছাবে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ

আগামী বৃহস্পতিবার প্রবীণ সাংবাদিক এবং কলাম লেখক আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি জানান, বুধবার (২৫ মে) যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। আশা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মে) তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

শুক্রবার (২০ মে) রাজধানীর ইস্কাটনে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

ড. মোমেন বলেন, ব্রিটিশরা সোমবারে অফিস খুলে হাসপাতাল থেকে সার্টিফিকেট দিলে পরবর্তী ফ্লাইট হবে বুধবার। বিমানের ফ্লাইট। বুধবারে হয়ত লাশটা পাঠানো যাবে। বৃহস্পতিবার আমরা ঢাকায় পাব।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী বৃহস্পতিবার (১৯ মে) যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, গাফ্‌ফার চৌধুরী ডায়াবেটিস, কিডনি রোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত প্রায় তিন মাস তিনি বার্নেট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) আশিকুন্নবী চৌধুরী জানান, গাফ্‌ফার চৌধুরীর অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রীর পাশেই তাকে কবর দেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় লন্ড‌নের বাংলাদেশ হাইক‌মিশন জানায়, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ আগামী সপ্তাহে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যত দ্রুত সম্ভব ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ বাংলাদেশে নেওয়ার দিনক্ষণ হাসপাতালের ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করছে।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর জন্ম ১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের উলানিয়া গ্রামে। ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। স্কুলে পড়ার সময় কংগ্রেস নেতা দুর্গা মোহন সেন সম্পাদিত কংগ্রেস হিতৈষী পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৯৪৯ সালে তার প্রথম গল্প ছাপা হয় সওগাত পত্রিকায়। পরে দৈনিক ইনসাফ, দৈনিক সংবাদ, মাসিক সওগাত, মাসিক নকীব পত্রিকায় কাজ করেন। ১৯৫৬ সালে সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জয় বাংলা, যুগান্তর ও আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেন।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ইউনেসকো পুরস্কার, বঙ্গবন্ধু পুরস্কার, মানিক মিয়া পদকসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন গাফ্‌ফার চৌধুরী। বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করেছে।


বৃহস্পতিবার   দেশে   পৌঁছাবে   আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর   মরদেহ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

যশোরে পুরুষ সেজে তরুণীর প্রতারণা

প্রকাশ: ০৭:২৪ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail যশোরে পুরুষ সেজে তরুণীর প্রতারণা

পুরুষ সেজে প্রতারণা করার অভিযোগে যশোরে একজন তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত তরুণীর নাম ফারহানা আক্তার স্নেহা। তিনি শহরের লোন অফিসপাড়ার শাহাজান আলীর মেয়ে।

শুক্রবার (২০ মে) সকালে যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

যশোর কোতোয়ালি থানা ওসি (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, আটক স্নেহা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুরুষ সেজে প্রতারণা করে আসছেন। সম্প্রতি চৌগাছা উপজেলার বেড় গোবিন্দপুর গ্রামের চা দোকানি  হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তিনি হাবিবুর রহমানের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ সম্পর্কের সূত্র ধরে ওই মেয়ের কাছ থেকে তিনি মোবাইল ও বিকাশের মাধ্যমে নগদ টাকা নিয়ে সটকে পড়েন। 

এ ঘটনায় হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে গতকাল যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে অভিযান চালিয়ে সকালে স্নেহাকে শহরের দড়াটানা মোড় থেকে গ্রেপ্তার করে। 

মনিরুজ্জামান আরও জানান, স্নেহার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় মাদক ও প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। 


পুরুষ   সেজে   তরুণীর   প্রতারণা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

গণকমিশনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭:০৩ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail গণকমিশনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

গণকমিশনের আইনি কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।িএই নিয়ে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 

শুক্রবার (২০ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং জাতীয় সংসদের আদিবাসী ও সংখ্যালঘুবিষয়ক ককাসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত গণকমিশনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

গণকমিশনের তালিকা সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা একটি বই প্রকাশ করেছে ২০০৩ সন্ত্রাস। এর ভেতরে কী লিখেছে আমি জানি না। তারা যাদের নামে সন্ত্রাস কিংবা দুর্নীতির দায়ভার দিচ্ছে, সেটা আমরা দেখিনি, তাই এর সম্পর্কে কিছু বলতে পারব না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি কথা জোর দিয়ে বলতে চাই-যে অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই, সে অভিযোগ আমরা আমলে নিই না।

সম্প্রতি ১১৬ ওয়ায়েজিনের (ধর্মীয় বক্তা) একটি তালিকা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা দিয়েছে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সমন্বয়ে গঠিত মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস তদন্তে গণকমিশন।

দুদক চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া ২২০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনের ৭৬০ ও ৭৬১ পৃষ্ঠায় ধর্মীয় বক্তাদের নাম প্রকাশ করা হয়। এদের বিরুদ্ধে জঙ্গি অর্থায়ন ও ওয়াজের মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করার অভিযোগ আনে গণকমিশন।


গণকমিশন   আইনি   ভিত্তি নেই   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী কি ভুল বলেছেন?

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২০ মে, ২০২২


Thumbnail প্রধানমন্ত্রী কি ভুল বলেছেন?

সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কিছু বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়িয়ে মূলধারার গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সরগরম হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর তিনটি বক্তব্যকে ঘিরে নানামুখী আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। প্রথম বক্তব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ১৮ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘‘ড. ইউনুস যেটা আমরা শুনেছি মাহফুজ আনাম, তারা আমেরিকায় চলে যায়। স্টেট ডিপার্টমেন্টের যেয়ে হিলারির কাছে ইমেইল পাঠায়। যাহোক ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মি. জোয়েলিক যিনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তার শেষ কর্মদিবসে কোন বোর্ডসভায় না, পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দেয়। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এই বক্তব্যকে অসত্য বলেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, এ ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে আমি কখনো যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাইনি, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যাইনি, কখনো হিলারি ক্লিনটনকে কোন ইমেইল পাঠায়নি, ওয়াশিংটনে বা বিশ্বের অন্যকোন জায়গায় বা শহরে পদ্মা সেতুর অর্থায়নের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কোন বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈঠক বা যোগাযোগ করিনি। মাহফুজ আনাম যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী যেটা বলেছেন দুটোর মধ্যে কিছু ফাঁক রয়েছে। এই বক্তব্য গুলোকে একটু বিশ্লেষণ করে দেখা যাক। 

পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সেই সময় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জুয়েলিক। যার সঙ্গে হিলারি ক্লিনটনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মাহফুজ আনাম তার ডেইলি স্টার পত্রিকায় পদ্মা সেতুর যখন প্রাজ্ঞতা যাচাই হচ্ছে সেই সময় অন্তত দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদন দুটির মধ্যে পদ্মা সেতুর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা কথা বলা হয় এবং যোগ্য ব্যক্তিদেরকে প্রাথমিক যাচাইয়ে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে বলেও ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই ডেইলি স্টারের এই প্রতিবেদন দুটি বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ অফিস আমলে না নিলেও ওয়াশিংটন অফিস ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলোর প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই এ বিষয়টিকে আমলে নেয় এবং এটি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, ৩০৬ পৃষ্ঠার সেই প্রতিবেদনে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন এবং এই প্রতিবেদন যথার্থ কিনা, এ ব্যাপারে বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধির সঙ্গে মাহফুজ আনামের কথোপকথনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাহলে তাতে ভুল কি আছে?

মাহফুজ আনাম এবং মতিউর রহমান, দুজনই ড. ইউনুসের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইউনুস নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর যে রাজনৈতিক সংগঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন সেই সংগঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন মাহফুজ আনাম। এছাড়াও মাহফুজ আনাম বিভিন্ন সময় সরকারের বিভিন্ন বিষয় যে ধরনের মন্তব্যগুলো করেন তা ড. ইউনুসের মন্তব্যের কাছাকাছি। অনেক সময় মাহফুজ আনাম ড. ইউনুসের অনেক বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে লিখেছেন। কাজেই মাহফুজ আনাম যে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে ড. ইউনুসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে এটি নিয়ে কোনো সংশয় বা সন্দেহ থাকতে পারেনা। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রথমে ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো পদ্মা সেতু নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাংক তদন্ত করেছে। এই তদন্তের সঙ্গে কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে এবং পরবর্তীতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ হয়। ওই সময় ডেইলি স্টার এবং প্রথম আলো পড়লে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের ক্ষেত্রে এই দুটি পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং হিলারি ক্লিনটন যখন তৎকালীন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধে আহ্বান জানান তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ করেছিলেন। সেই টেলিআলাপে তিনি ড. ইউনুসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পুন:নিয়োগের প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটি আইনগত বিষয়, এখানে তার কিছু করার নেই। এরপরই তিনি বিশ্বব্যাংককে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের জন্য আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, এই পুরো বিষয়টি থেকে সুস্পষ্ট বোঝা যায় যে ড. ইউনুস এবং মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমানরা পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের জন্য একটি পরিকল্পিত মিশনে ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বক্তব্য হলো, রাজনৈতিক কৌতুক এবং পরিহাস। বিশ্ব রাজনীতিতে এরকম কৌতুক এবং হাস্যরস সবসময় থাকে। রাজনীতিবিদরা এই ধরনের কৌতুক তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে রাখেন। খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু নিয়ে টুস করে ফেলে দেওয়া উচিত -এই বক্তব্যটি একটি রাজনৈতিক হাস্যরস এবং ইতিহাস ঘাটলে এরকম বহু রাজনৈতিক হাস্যরসের কথা আমরা পাব। কাজেই, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দুটি অংশ। একটি হলো- তিনি সিরিয়াসলি বলেছেন, যেটি ড. ইউনুস এবং মাহফুজ আনামের ব্যাপারে, সেটি শতভাগ সত্য। দ্বিতীয়টি হলো, রসাত্মক রাজনীতিবিদদের নানা বিষয়ে কর্মীদেরকে উদ্দীপ্ত করতে হয়, উৎসাহিত করতে হয়। সেজন্য তিনি কৌতুক করেছেন। একজন রাজনীতিবিদের কি কৌতুক করার অধিকার থাকবে না?

প্রধানমন্ত্রী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন