ইনসাইড বাংলাদেশ

দুধের উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭:১০ পিএম, ০১ জুন, ২০২২


Thumbnail দুধের উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

দুধের উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।  

বুধবার (০১ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২২ উদযাপন ও ডেইরি আইকন সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারিনি, কিন্তু মাছ, মাংস ও ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। অনেক শিক্ষিত মানুষ এখন প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করছে। তারা নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করছে। বেসরকারি খাত ছাড়া প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন সম্ভব হতো না। দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতকে আরো এগিয়ে আসতে হবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মনজুর মোহাম্মদ শাহজাদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফএও'র বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি সিম্পসন, বিশ্ব ব্যাংকের সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট ক্রিশ্চিয়ান বার্জার। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আব্দুর রহিম। ডেইরি আইকন সেলিব্রেশন এর ওপর উপস্থাপন করেন প্রকল্পর চীফ টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ এবং ডেইরি খাতের উদ্যোক্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।



অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতকে সমৃদ্ধ করার জন্য বঙ্গবন্ধু বিদেশ থেকে গবাদিপশু এনেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পরে পিতার অসমাপ্ত কাজ সফল করার জন্য বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ খাতকে সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ এবং যেখানে যে সহযোগিতা প্রয়োজন তা দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি।

তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের সমস্যা দূর করার জন্য আমরা অনেক কৌশলগত অবস্থান নিয়েছি। একসময় ভারত ও মিয়ানমার থেকে কোরবানির পশু আসতো। এ খাতের খামারি ও উৎপাদকদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এখন আমরা বিদেশ থেকে কোনভাবেই পশু দেশে আসতে দিচ্ছি না।

তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সহযোগিতার হাত সরকার সম্প্রসারণ করে রেখেছে। যারা প্রাণিখাদ্য ও মাছের খাদ্য উৎপাদন করতে চান, তাদের কর রেয়াতসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সরকার দিতে চায়। কিছু কৌশলগত সমস্যার কারণে প্রাণিখাদ্য ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বাড়ছে। কিছু মজুতদার ও মুনাফালোভী খারাপ লোক আছে, তারা নিজেরা অনেক কিছু গোপন করে, আটকে রেখে বাইরে ছাড়ছেন কম। প্রাণিখাদ্য তৈরিতে বাইরে থেকে যে উপাদান আনতে হয় তা অতিরিক্ত নিয়েও অনেকে সেটা গুদামজাত করে রেখে কৃত্রিম সংকট দেখান।



মেধাবী জাতি বিনির্মাণে দুধের চেয়ে ভালো খাবার হয় না উল্লেখ করে এ সময় মন্ত্রী বলেন, দেশে দুধের উৎপাদন ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। দুধের উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অত্যন্ত চমৎকার। সরকার মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ জন্য দুধ উৎপাদনে পশুকে দেওয়া খাবারের মান বৈজ্ঞানিক উপায়ে নির্ধারণ করতে হবে। শুধু লিটারের পর লিটার দুধ বাড়লেই আমরা লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবো না। গুণগতমানের দুধ না হলে দুধ থেকে উৎপাদিত খাবারের পুষ্টিমান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ডেইরি আইকন পুরস্কারপ্রাপ্তরা রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাচ্ছেন। এটি সম্মানের বিষয়। এ ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বড় পরিসরে করা হবে। ডেইরি খাতে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আমরা উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশে গুঁড়ো দুধ আমদানি হয়। আমরা বিদেশ থেকে গুঁড়োদুধ আনতে চাইনা। বেসরকারি উদ্যোক্তারা এক্ষেত্রে এগিয়ে আসুন। দেশে প্রয়োজনে গুঁড়োদুধ তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠায় সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুধের বহুজাতিক ব্যবহার করতে হবে। দুধ থেকে বহুমুখী পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখী ব্যবহারের মাধ্যমে এ খাতকে সমৃদ্ধ করতে হবে। 

পরে মন্ত্রী ডেইরি আইকন ২০২১ পুরস্কারপ্রাপ্ত খামারি ও উদ্যোক্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।



উল্লেখ্য 'পরিবেশ, পুষ্টি ও আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নে টেকসই ডেইরি খাত' প্রতিপাদ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।দুধ উৎপাদন বৃদ্ধিতে ডেইরি খামারি ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো চারটি ক্যাটাগরিতে ডেইরি আইকন পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। দুগ্ধ খাতে দেশের সফল খামারি ও উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ৩৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ডেইরি আইকন ২০২১ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে । ডেইরি খামার, পশুখাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, দুধ ও মাংস প্রক্রিয়াকরণ এবং খামার যান্ত্রিকীকরণ ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিটি পুরস্কারের আর্থিক মূল্য এক লক্ষ টাকা। সেই সাথে প্রত্যেককে দেয়া হয়েছে ক্রেস্ট ও সনদ। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী   শ ম রেজাউল করিম   দুধের উৎপাদন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হবে সেই বাস ডাকাতদের

প্রকাশ: ০১:০৪ পিএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হবে সেই বাস ডাকাতদের

টাঙ্গাইলে গভীর রাতে চলন্ত বাস জিম্মি করে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১০ জন আসামি‌কে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে র‍্যাব । সোমবার (৮ আগস্ট) রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রতন হোসেনসহ ১০ আসামিকে ডিবির কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) দুপু‌রে রিমান্ড চে‌য়ে আসামিদের আদাল‌তে পাঠা‌নো হবে।

র‍্যাব  জানায়, বাসের হেলপারের ছদ্মবেশে ২০১৮ সাল থেকে যাত্রীবাহী বাসসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি করে আসছিল রতন হোসেন (২১)। তিনি এ চক্রের দলনেতা। তার অধীনে ১৩ থেকে ১৫ জন সদস্য রয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় দুই দফা কারাভোগও করেছেন তিনি। দ্বিতীয় দফায় ৯ মাস কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে আসেন এবং পুনরায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি করে দলনেতা হন রতন হোসেন।

টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ এর ৩ নম্বর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, সোমবার (৮ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে রতনসহ গ্রেপ্তার ১০ জনকে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলে আনা হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাদের ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে রোববার (৭ আগস্ট) তাদের ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার র‌্যাব-১২ ও ১৪।

এদিকে ঈগল এক্সপ্রেস বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রতনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার কুড়ালিয়া ইউনিয়নের ধলপুর গ্রামে। ময়মন‌সিংহ-টাঙ্গাইল আঞ্চ‌লিক মহাসড়‌কের রক্তিপাড়ায় দুর্ঘটনার পর বাস থে‌কে নে‌মে ডাকাতরা ঘটনাস্থল থে‌কে পাঁচ কি‌লো‌মিটার দূ‌রে রত‌নের নানা বে‌লো মিয়ার বা‌ড়ি‌তে যায় ব‌লে জানা গে‌ছে। এরপর সকা‌লেই সেখান থেকে বেরিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে বা‌ড়ির গৃহবধূ জেরিন তিনটি মোবাইলের কভার এবং একটি ছুরি দেখতে পান।

টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ডাকা‌তি ও ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতারকৃত ১০ জনকে সোমবার ঢাকায় সংবাদ স‌ম্মেলন শে‌ষে রা‌তে ডি‌বির কাছে হস্তান্তর করেছে র‌্যাব। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আসামিদের দুপু‌রের দি‌কে রিমান্ড চে‌য়ে আদালতে তোলা হবে। এর আগে গ্রেপ্তারকৃত তিনজন কারাগারে রয়েছে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।


টাঙ্গাইল   বাস ডাকাতি   আদালত  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

মৃত ব্যক্তির নামে ঋণ

প্রকাশ: ১১:২৫ এএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail মৃত ব্যক্তির নামে ঋণ

মৃত ব্যক্তির নামেও ঋণ দিয়েছে কৃষি ব্যংক। তাদের রাজবাড়ী শাখায় ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনা ধরা  পড়েছে। আবার একজনের কাগজপত্র ব্যবহার করে ঋণ নিয়েছেন আরেকজন।

২০১৫/১৬ বছরে ব্যাংকটির রাজবাড়ী শাখা থেকে ১ হাজার ৬০১ জনকে ঋণ দেওয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। তাঁদের মধ্যে ৪৫৮ জনের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের জন্য বিশেষভাবে উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশনা দেয় ব্যাংকের অডিট কমিটি। ওই ঘটনায় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ব্যাংকের শাখা সূত্রে জানা যায়, ধান, পেঁপে, কলাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের জন্য এসব ঋণ দেওয়া হয়। ঋণের পরিমাণ সর্বনিম্ন ৭ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। তবে বেশির ভাগ ঋণ ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে। ১ হাজার ৬০১ জনকে ঋণ দেওয়া হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। এক বছরের মধ্যে পরিশোধ করার কথা ছিল। ইতিমধ্যে ৮৬৭ জন ঋণ পরিশোধ করেছেন। বকেয়া টাকার পরিমাণ তিন কোটি টাকার কিছু বেশি। আর ব্যাংকের ওই শাখায় মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন রহিম ধাবক। তিনি বার্ধক্যের কারণে ২০০৫ সালে মারা যান। অথচ তাঁর নামে ২০১৫ সালের ২ আগস্ট ৬০ হাজার টাকা কৃষিঋণ নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা এই ঋণের বিষয়ে জানতেন না। গত বছর বাড়িতে নোটিশ আসার পর তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।

ব্যাংকঋণের জন্য আবেদনকারীকে সশরীর ব্যাংকে উপস্থিত হতে হয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, পাসপোর্ট আকারের ছবি, বাড়ির জমির খাজনা প্রদানের রশিদ, জমিজমার পরচা বা দলিল দিতে হয়। এরপর ব্যাংক কর্মকর্তা বা মাঠকর্মীরা তা সরেজমিনে যাচাইবাছাই করেন। তথ্যের সত্যতা পাওয়ার পর ব্যাংক ব্যবস্থাপকের কাছে প্রতিবেদন আকারে জমা দেন। এরপর ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোন ধরণের নিয়ম না মেনেই যাকে খুশি তাকে ঋণ দেয়া হয়েছে।

 


কৃষি ব্যংক   ঋণ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রেলের ডিজিটালাইজেশনে নিয়ে জয়ের সঙ্গে রেলওয়ের বৈঠক

প্রকাশ: ১১:০৬ এএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail রেলের ডিজিটালাইজেশনে নিয়ে জয়ের সঙ্গে রেলওয়ের বৈঠক

রেলের কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সোমবার (৮ আগস্ট) অনলাইন প্লাটফর্মে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনলাইন প্লাটফর্মে এ আলোচনা সভায় আইসিটি বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এ তথ্য জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বৈঠকে রেলকে ট্রাকিং সিস্টেমে আনা, টিকিট কেনায় আধুনিকায়ন, রেলের সিগন্যাল ডিজিটালাইজড করা ও রেল সেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

রেল   ডিজিটালাইজেশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

রাজধানীতে নিরাপত্তার চাদরে তাজিয়া মিছিল

প্রকাশ: ১০:৪৫ এএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail রাজধানীতে নিরাপত্তার চাদরে তাজিয়া মিছিল

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর ইমামবাড়া থেকে তাজিয়া মিছিল বের হয় সকাল সাড়ে আটটায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দিচ্ছে এই তাজিয়া মিছিলে।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টায় রাজধানীর হোসেনি দালান থেকে এ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি আজিমপুর-নিউমার্কেট হয়েছে ধানমন্ডি লেকে গিয়ে শেষ হবে। তাজিয়া মিছিল শুরুর আগে মহড়া দিয়েছে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন।

মহররম মাসের ১০ তারিখ ইসলামের ইতিহাসে শোকের। যা মুসলমানরা আশুরার দিন হিসেবে পালন করে। মহররমের ১০ তারিখে ইমাম হোসেন (রা.) কারবালার ময়দানে শহীদ হয়েছেন। মুসলমানদের মধ্যে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন ইমাম হোসেন (রা.) এর শোক স্মরণে রাস্তায় ঘুরে মিছিল বা মাতম করে। রাজধানীর ইমামবাড়া হোসেনী দালান থেকে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও শিয়া মুসলমানরা তাজিয়া মিছিল শুরু করেছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, মিছিলে উপস্থিত বেশিরভাগই কালো পাঞ্জাবি পরে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম করছে। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারও দেখা গেছে মিছিলে। মূল আয়োজনের রয়েছে হোসেনি দালান ইমামবাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটি।

এদিকে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর হোসেনি দালান ইমামবাড়া, বড় কাটারা ইমামবাড়া এবং এর আশেপাশের শিয়া সম্প্রদায় কেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া (শোক) মিছিলকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর এই নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

সকালে রাজধানীর হোসানী দালান ইমামবাড়া, বড় কাটারা ইমামবাড়া ও এর আশেপাশের শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সতর্কাবস্থানে রয়েছেন। নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন র‌্যাব সদস্যরাও।

অন্যদিকে, সুষ্ঠুভাবে তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন করতে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি বহন নিষিদ্ধ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাব।

নিরাপত্তা   তাজিয়া মিছিল   পবিত্র আশুরা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের স্বীকৃতিহীন ‘উপজাতি’

প্রকাশ: ১০:৩১ এএম, ০৯ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের স্বীকৃতিহীন ‘উপজাতি’

আজ ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। আমাদের দেশে দিবসটি আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। বিশ্বব্যাপী পৃথিবীর প্রায় ৯০টি দেশে ৩৭০ মিলিয়ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী এ দিবসটিকে তাদের নিজেদের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি উপস্থাপনের পাশাপাশি তাদের নানান দাবি-দাওয়া নিজ নিজ রাষ্ট্রের সামনে এবং বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে ‘আদিবাসী বলতে কাদেরকে বোঝায় এখনো পর্যন্ত সে বিতর্ক অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আদিবাসী শব্দটির প্রকৃত সংজ্ঞা ও তাদের জাতীয় পরিচয় ও অধিকার নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে।

সাধারণত কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অনুপ্রবেশকারী বা দখলদার জনগোষ্ঠীর আগমনের পূর্বে যারা বসবাস করত , যাদের নিজস্ব ও আলাদা সংস্কৃতি, রীতিনীতি ও মূল্যবোধ রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যারা সমাজে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিগণিত তারাই আদিবাসী।

জাতিসংঘ ১৯৯৩ সালকে আদিবাসী বর্ষ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আদিবাসীর সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে, “Indigenous people are such population groups as we are, who from old age times have inhabited the lands when we live, who are awere of having a characters of our own, with social tradition and means of expression that are linked to the country inhabited from our ancesters, with a language or our own and having certain essential and unique characteristics which confer upon us the strong conviction of belonging to a people,who have an identity in ourselves and should be thus regarded by others (1993)”

সাংবিধানিক কাঠামোতে বাঙালি ছাড়া অন্য কোনও জাতিসত্তার মানুষকে বাংলাদেশের নাগরিক বলে স্বীকার করে না, কারণটা হলো বাংলাদেশের সংবিধানের আর্টিক্যাল ৬(২)-এ উল্লেখ আছে, ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালি এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন

তবে, সংবিধানের আটিক্যাল ২৩-এ গিয়ে এসব জাতিগোষ্ঠীকে জাতি হিসাবে নয় বরং অন্য নামে এক ধরনের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

বাঙালি ছাড়া ভিন্ন জাতিসত্তার যেসব মানুষ বাংলাদেশে বাস করে তারা রাষ্ট্রের ভাষায় ‘বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী, এবং সম্প্রদায় (বাংলাদেশ সংবিধান ২৩/ক) হিসাবে পরিচিত।

 প্রতিবছর আদিবাসী দিবস  উপলক্ষে একটি প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। তবে এসব প্রতিপাদ্যের  আলোকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনমানের কতটুকু উন্নতি হয়েছে, তা পরিমাপের কি কোনো সূচক আছে?

পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রিসোর্ট, ইকো পার্ক, পর্যটনসহ বিভিন্ন উন্নয়নের নামে আদিবাসীদের ভূমি বেদখল করে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উগ্র ইসলামি সম্প্রসারণবাদের মাধ্যমে আদিবাসীদের ধর্মান্তরিত করে জাতিগতভাবে নিমূলীকরণ করা হচ্ছে। লাভ জিহাদের ফাঁদে ফেলে আদিবাসী নারীদের ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। আদিবাসী নারীদের উপর যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের মত ঘটনা প্রতিনিয়ত সংঘটিত করা হচ্ছে। বিহার-মন্দিরে হামলা, আদিবাসী গ্রামে হামলা করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে আদিবাসীরা দেশান্তরী হতে বাধ্য হচ্ছে।

দেশ স্বাধীনের পর জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই চার মূল নীতির উপর ভিত্তি করে সংবিধান রচনা করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে নির্বাচিত তৎকালীন নির্বাচিত গণ পরিষদ সদস্য মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা প্রশ্ন করেছিলেন, “এই চার মূল নীতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষ ও সমতলের বাঙালি ভিন্ন অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর অবস্থান কোথায় হবে। সে সময়ও আদিবাসীদের কথা, নারীদের কথা, পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে চলে আসা শাসন ব্যবস্থার কথা, কৃষক, শ্রমিক, রিক্সাওয়ালা, মেথর, কুলিদের কথা সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয়নি। যার কারণে সেদিন তিনি প্রতিবাদস্বরুপ সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন। গণতান্ত্রিক পন্থায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের গণ মানুষকে সাথে নিয়ে সশস্ত্র আন্দোলনের পথে পা বাড়ান মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিরর মধ্যে সম্পাদিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য চুক্তি। যা আজ ২৩ বছর অতিক্রান্ত হলেও চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো আজো অবাস্তবায়িত। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে দিন দিন অস্থিতিশীল করে তুলছে।

ভূমি আদিবাসীদের প্রাণ, প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকে বলেই তাদেরকে প্রকৃতির সন্তান বলতেও অসুবিধা নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল সমস্যা ভূমি সমস্যা।

জিয়াউর রহমান ও এরশাদ সরকারের আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের জাতিগতভাবে নির্মূলীকরণের উদ্দেশ্যে সমতল থেকে ৪-৫ লাখ ছিন্নমূল বাঙালিকে পাহাড়ে এনে আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ও আদিবাসীদের ভূমিতে তাদের বসতি গড়ে দেয়। ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমি সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। যার ফলাফল এখনো ভোগ করতে হচ্ছে আদিবাসীদের।

বাংলাদেশে অবস্থানরত যাদের আমরা এখন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী বলি তাদের ভূমি সমস্যা সমাধান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন তো দূরে থাক, ‘আদিবাসী হিসাবে নিজেদের এখনও স্বীকৃতি পর্যন্ত মেলেনি।

 


আদিবাসী দিবস   বাংলাদেশ   উপজাতি  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন