ইনসাইড বাংলাদেশ

বায়তুল মোকাররমে বঙ্গবন্ধুর নামে ডিজিটাল লাইব্রেরী করবেন বসুন্ধরার এমডি

প্রকাশ: ০৫:৫৮ পিএম, ০৪ জুন, ২০২২


Thumbnail বায়তুল মোকাররমে বঙ্গবন্ধুর নামে ডিজিটাল লাইব্রেরী করবেন বসুন্ধরার এমডি

দেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ডিজিটাল ইসলামী লাইব্রেরি নির্মিত হবে। নিজ অর্থায়নে এই লাইব্রেরী নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের মুসল্লি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সায়েম সোবহান আনভীর।

গত বৃহস্পতিবার রাতে কমিটির সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া চলতি বছরে ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০ জন সামর্থহীন মানুষকে ওমরাহ হজে পাঠানোর কথাও জানান তিনি।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ মুসল্লি কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সায়েম সোবহান আনভীরের সাথে মতবিনিময় সভায় মসজিদ ভবনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বেশকিছু অফিস থাকলেও দীর্ঘদিনেও এখানে অত্যাধুনিক কোনো লাইব্রেরী না হওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের সংকটের কথা তুলে ধরেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম, মুসল্লি কমিটির সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টরা। এসব দাবি শুনে ইসলামী ফাউন্ডেশনের অনুমতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর নামে ডিজিটাল ইসলামী লাইব্রেরি নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণা দেন সায়েম সোবহান আনভীর। এ উদ্যোগের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান উপস্থিত মুসল্লিরা।

মত বিনিময় সভায় সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, বায়তুল মোকাররমের সঙ্গে আমরা অনেক আগে থেকেই যুক্ত। আমাদের নিউজটুয়েন্টিফোর চ্যানেলেও প্রতি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদের জুমার নামাজের খুতবা সরাসরি সম্প্রচার করি। যা একমাত্র বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের মধ্যে আমরাই করে থাকি। আর আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বলি। কিন্তু আমাদের জাতীয় মসজিদেই  ডিজিটালের লাইব্রেরী নেই। তাই  ইসলামী ফাউন্ডেশনের অনুমতিক্রমে এই মসজিদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইসলামিক লাইব্রেরী করার জন্য যত টাকা লাগবে আমি দেব। আপনারা কাজ শুরু করেন। এছাড়া অন্যান্য বিষয়গুলো মুসল্লি কমিটির সঙ্গে আলাপ সঙ্গে সমাধান করবো।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন আমাদের কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রতিদিন ইসলামিক  পাতা বের করি। আমরা সব সময় ইসলামের সঙ্গে আছি। গত ২১ বছর ধরে তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থপনা পরিচালক আছেন জানিয়ে আনভীর আরো বলেন, এ সময়ে আমার হাত দিয়ে হাজারের বেশী মসজিদ তৈরি হয়েছে। আমার কাছে আজ পর্যন্ত যাঁরা মসজিদের জন্য এসেছে কাউকে খালি হাতে ফিরে যেতে দেয়নি। সেটা মসজিদ,মাদরাসা ইসলামের সঙ্গে যুক্ত যে কোন প্রতিষ্ঠানই হোক।  আগামী যতদিন আমি থাকবো কেউ খালি হাতে যাবে না ইনশাল্লাহ। এছাড়া আমি যতদিন বেঁচে থাকবো প্রতি রমজান মাসে বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিদের ইফতার খাওয়াবো। আপনার সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

সভায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গোল্ডেন স্টার ইলেকট্রনিকের চেয়ারম্যান আলী আসগর টগর এমপি, জে.সি.এক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেন চৌধুরী জুয়েল, মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক খাঁন, নিপ্পন গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহববত উল্লাহ,বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি এহসানুল হক, পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহ বাকী, পেশ ইমাম মুফতি এহসানুল হক, পেশ ইমাম মুফতি মহিউদ্দীন কাশেম,মুসল্লি কমিটির সহ সভাপতি গুলজার আহমেদ। এছাড়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ বসুন্ধরা-এর মহা পরিচালক মুফতি আরশাদ রহমানিও বায়তুল মোকাররম মার্কেট ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক মোল্লা প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বায়তুল মোকাররম মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৮ সালে। সময়ের পরিক্রমায় এটিকে ঘোষণা করা হয় জাতীয় মসজিদ। এখানে একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন ৩০ হাজার মুসল্লি, জুমার দিনে মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০ হাজারে।

বসুন্ধরা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা কি করবেন?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail শেখ হাসিনা কি করবেন?

১৩ বছরের বেশি সময় ধরে টানা ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এই দীর্ঘ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে কখনো এরকম সমস্যায় পড়েনি, কখনো জনগণ আওয়ামী লীগ সরকারকে নিয়ে এত অস্বস্তিকর এবং সমালোচনামূলক কথাবার্তাও বলেনি। গত ছয় মাসে সরকার নানারকম চাপ এবং অস্বস্তিতে রয়েছে। বিশেষ করে গত তিনমাসে এই চাপ যেন ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মোট চারবার দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সফলভাবে দেশ পরিচালনা করেছিলো এবং সেই সময় কিছু কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিলো। আর এ কারণেই ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও আওয়ামী লীগের ভোট বাড়ে, ওই সময় ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলো আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ তিন-চতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে, তারপর থেকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেই অর্থনৈতিক দুর্যোগ সামাল দেয়, খাদ্য সংকট সামাল দেয়। আস্তে আস্তে বাংলাদেশের খাদ্য সংকট মোকাবেলা করে এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে তৈরি করে। ২০১৩-১৪ সালে বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে রাজনৈতিক সহিংসতা করেছিলো সেই সহিংসতাও শেখ হাসিনা ভালোভাবেই সামাল দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলেও ওই নির্বাচন পরবর্তী সরকার মেয়াদ পূর্ণ করে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করে এবং সেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে। এই সময়ে আওয়ামী লীগ অনেকগুলো অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে, জনগণের জীবনমানের উন্নতি, মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, শিক্ষার হার বেড়েছে, খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে, কৃষি উৎপাদন বেড়েছে, একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও বাংলাদেশ বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কিন্তু এর মধ্যেই হঠাৎ ঝড়ের মত সবকিছু যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।

সরকারের পক্ষ থেকে যদিও বলা হচ্ছে যে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণ এই পরিস্থিতি কিন্তু অর্থনীতিবিদ এবং বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সংকট গোপন রাখার ফলে এখন উপসর্গগুলো প্রকাশ্য হয়েছে। আর এই সংকটের সময় সকলেই তাকিয়ে আছেন শেখ হাসিনার দিকে। গত ১৩ বছরে শেখ হাসিনা প্রায় একাই দেশ চালাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে জনগণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং জনগণের দুঃখ-কষ্ট গুলো তিনি বোঝেন। এ কারণে তার বিপুল জনপ্রিয়তাও রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের মধ্যে একমাত্র শেখ হাসিনাকেই মানুষ বিশ্বাস করেন এবং তাঁর কথায় আস্থা রাখতে পারেন। এরকম পরিস্থিতিতে এখন যে ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক সঙ্কট বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণের জীবনযাত্রার ওপর যে ভয়াবহ চাপ পড়বে সেই চাপ মোকাবেলার ক্ষেত্রে সরকার কি করবে?

সরকারের যে এখন সহায়তা কর্মসূচি গুলো রয়েছে- টিসিবির খাদ্যশস্য বিতরণ, ফ্যামিলি কার্ড ইত্যাদি সবই দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি। কিন্তু এবার যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে যা ঘটবে তাতে মধ্যবিত্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মধ্যবিত্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী কি করবেন? এই অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলার জন্য শেখ হাসিনা কি উদ্যোগ গ্রহণ করবেন? সকলেই এখন তাকিয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রীর দিকে। কারণ, বাংলাদেশে গত ১৩ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যখনই কোনো সংকট এসেছে তখনই শেখ হাসিনা সাহসের সঙ্গে সামনে দাঁড়িয়েছেন, উদ্ভাবনী সমাধান নিয়ে এসেছেন এবং সংকট মোকাবিলা করেছেন। তাই এই সংকটেও সকলে শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে। তারা মনে করছেন, নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ-দুর্দশা প্রধানমন্ত্রী দেখবেন এবং সমাধানের জন্য কিছু একটা উদ্যোগ নেবেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৯:১৬ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশে করেছে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলো। এ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ করেছে বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলো।

রোববার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ‘প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন’গুলোর ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা থেকে বাম সংগঠনগুলোর বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শাহবাগ ও কাঁটাবন মোড় ঘুরে ফের শাহবাগ মোড়ে ফিরে এসে মোড়ের মূল সড়ক সংলগ্ন ফুটপাতে সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে পুলিশ বাম সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হঠাৎ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে বাম সংগঠনগুলো।

সমাবেশে অংশ নেওয়া ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অনিক রায় বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ডাকা সমাবেশে বিনা উসকানিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এতে আমাদের অন্তত ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি আছেন। হামলা করে আমাদের আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।

এই হামলার প্রতিবাদে সোমবার (৮ আগস্ট) বেলা ১২টায় মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। মিছিল-পরবর্তী সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি তেল   মূল্যবৃদ্ধি   বিক্ষোভ   লাঠিচার্জ  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কিশোরী হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদন্ড

প্রকাশ: ০৮:৫৪ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail কিশোরী হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদন্ড

রংপুরের মিঠাপুকুরে এক কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার অপরাধে নাহিদ হাসান নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ওই কিশোরীর সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

ওই কিশোরীর সঙ্গে উপজেলার ডলসিংপুর বাউড়া কোর্ট গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে নাহিদ হাসানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এক পর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েন। এতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তরুণীর স্বজনরা নাহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু প্রেমিক নাহিদ বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান।

রোববার (৭ আগস্ট) বিকেলে রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক তারিখ হোসেন এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি নাহিদ হাসান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। 

এ ঘটনার কিছু দিন পর ২০২১ সালের ২২ এপ্রিল নাহিদ হাসান কৌশলে ওই কিশোরীকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে শ্বাসরোধ হত্যা করেন। দুদিন পর ভুট্টাক্ষেতে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

পরে কিশোরীর বাবা মতলুব হোসেন বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামি নাহিদ হাসানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন।

এরপর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্য ও জেরা শেষে বিচারক আসামি নাহিদ হাসানকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।

রায়ের ব্যাপারে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হক প্রামাণিক বলেন, রায়ের কপি হাতে পেলে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।


কিশোরী হত্যা   যুবকের মৃত্যুদন্ড   রংপুর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

কৃষিমন্ত্রী বললেন ,যুদ্ধ বন্ধ না হলে আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব

প্রকাশ: ০৮:৩৬ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail কৃষিমন্ত্রী বললেন ,যুদ্ধ বন্ধ না হলে আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব

রোববার (৭ আগস্ট) সকালে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট একটি কর্মশালার আয়োজন করে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। সেই অনুষ্ঠানে  তিনি বলেন যে  চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ না হলে আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব । 

শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ভারত কিংবা চীন কিংবা যুক্তরাষ্ট্র এদের অর্থনীতি অনেক বড়। তাদের সহ্য করার ক্ষমতা আছে। আমাদের অর্থনীতি ছোট। মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলার। এই টাকা যদি শেষ হয়ে যায় আপনি ওষুধ কোথায় পাবেন? প্রয়োজনীয় যে কাঁচামাল, সেগুলো কোথায় পাবেন? কাজেই সেটাকে সেভিংসের জন্য, দেশটাকে একটা স্বস্তিতে রাখার জন্য এই পদক্ষেপ (জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি) নেওয়া হয়েছে। 

সারের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা সারের দাম তেমন বৃদ্ধি করিনি। শুধু ইউরিয়ার কম ব্যবহারের জন্য ডিএপি ১৬ টাকা করেছি, ডিএপির মধ্যে ১৮ ভাগ ইউরিয়া আছে। সেটা হলেও আমনের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। বৃষ্টি হলে আমন উৎপাদন সঠিক থাকবে, সবজিতেও প্রভাব পড়বে না। সবজি বহনে ট্রাকের ভাড়া বাড়বে। কিন্তু উৎপাদনে আমার মনে হয় না তেমন একটা প্রভাব পড়বে। আমরা চিন্তিত বোরো নিয়ে।



কৃষিমন্ত্রী   আব্দুর রাজ্জাক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড বাংলাদেশ

অর্থপাচার দুর্নীতিসহ সংকটের ৫ কারণ

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail অর্থপাচার দুর্নীতিসহ সংকটের ৫ কারণ

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অর্থনৈতিক সংকট ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। সরকার মুখে যাই বলুক না কেন, অর্থনৈতিক সংকট যে বাড়ছে এবং সরকার যে অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে চিন্তিত তার প্রমাণ পাওয়া যায় জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে। আর এই অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সরকার বৈশ্বিক পরিস্থিতিকে মূলত চিহ্নিত করছে। সরকার বলছে যে, করোনা এবং করানোর পরপরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং সে কারণেই বাংলাদেশও সংকট মোকাবেলায় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এজন্যই সরকার লোডশেডিং দিয়েছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে এবং সর্বশেষ জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি হলো।

তবে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি বর্তমান সঙ্কটের একমাত্র কারণ নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যে অব্যবস্থাপনা এবং অনিয়মগুলো হচ্ছে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ের সংকটে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে অর্থনৈতিক সঙ্কট তার পিছনে ৫টি কারণকে চিহ্নিত করছেন রাজনীতিবিদ এবং অর্থনীতিবিদরা। তার মধ্যে রয়েছে-

১. অর্থপাচার: গত ১২ বছরে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে এবং সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের রক্ষিত অর্থ গত এক বছরে ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। তা এখন প্রায় ১০০ কোটি সুইস ফ্রাঙ্কের কাছাকাছি। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অর্থপাচার কি পরিমাণ হয়েছে তার কোনো আনুষ্ঠানিক হিসেব নেই এবং এটি প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থাও নেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, সরকার যদি অর্থপাচার রোধ করতে না পারে তাহলে অর্থনৈতিক সংকটের এই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পারবে না। কারণ, বাংলাদেশের বিনিয়োগের একটি বিপুল অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, বাস্তবে এই উদ্যোগ সফল হওয়া সম্ভবও নয়।

২. দুর্নীতি: বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতিগুলোর কোনো বিচারও হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির মামলাগুলো পড়ে আছে। পিকে হালদার হাজার হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে পালিয়ে গেছে, তাকে আইনের আওতায় আনতে পারেনি। এরকম অনেক দুর্নীতির ঘটনারই শেষ পর্যন্ত কোনো যুক্তিসংগত বিচার হয়নি। ফলে দুর্নীতি আমাদের অর্থনীতিকে ক্ষয়িষ্ণু করে দিচ্ছে বলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।

৩. ব্যাংকিং খাতে লুটপাট: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকটের একটি বড় কারণ হলো ব্যাংকিং খাতে বিপুল পরিমাণ লুটপাট হচ্ছে। হলমার্কের ঘটনা, বিসমিল্লাহ গ্রুপের ঘটনা, বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি; ব্যাংকিং খাতের এই সমস্ত কোনো অনিয়ম লুটপাটের বিচার হয়নি এবং এই টাকাগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। যে কারণে সরকার এখন সংকটে পড়েছে। ব্যাংকিং খাতে যদি সু-ব্যবস্থাপনা হতো, ব্যাংকিং খাতে যদি লুটপাট বন্ধ হতো তাহলে পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো থাকতো বলে অনেকেই মনে করেন।

৪. আমলাদের ভুল সিদ্ধান্ত: অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে উন্নয়ন পরিকল্পনা নীতিতে এবং যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে আমলারা। এই সমস্ত ভুল সিদ্ধান্তের কারণে প্রকল্প ব্যয় বারবার করে বেড়েছে, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেই সমস্ত প্রকল্পগুলোতে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। যেটি সরকারকে এখন সংকটের মধ্যে ঠেলেছে।

৫. একসাথে অনেকগুলো মেগা প্রকল্প গ্রহণ: সরকারের পক্ষ থেকে একসাথে অনেকগুলো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যদি একটির পর একটি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হতো তাহলে হয়তো বাংলাদেশ এত চাপে পড়তো না। আগামী বছর থেকে বাংলাদেশকে মোটা অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। একইসাথে বাংলাদেশ পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্প গুলো একসাথে গ্রহণ করার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটা চাপ পড়েছে বলে অনেকে মনে করেন।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন